আবার ফিরে এল বিজয়ের মাস

ডিসেম্বরের আজ প্রথম দিন। বছর ঘুরে আবার ফিরে এসেছে বিজয়ের মাস। আজকের দিনটিতেই সূচনা ঘটতে যাচ্ছে বাঙালীর কাক্সিক্ষত মুক্তি সংগ্রামের বিজয় অর্জনের মাস ডিসেম্বরের। পূর্তি হলো স্বাধীনতার ৪৫ বছর। ডিসেম্বর মাস রাষ্ট্র পাওয়ার মাস, কষ্ট পাওয়ার মাস। বাঙালী জাতির একটি নিজস্ব রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাস। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তার এ দেশীয় দোসরদের পরাস্ত করার মাস। আবার ৩০ লাখ মানুষ হারানোর দুঃসহ কষ্টের মাস।
একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াকু বাঙালীর মুক্তিযুদ্ধ এ মাসে বিজয়ের সুমহান মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছিল। এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসেছে বিজয়ের মাস। ইতোমধ্যে একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বেশিরভাগের বিচার কাজ শেষ হয়েছে, একাত্তরের বাঘা বাঘা গণহত্যাকারী যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দড়িতে ঝুড়িয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। কারাগারের ফাঁসির অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনছে একাত্তরের কয়েক ঘাতক যুদ্ধাপরাধী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সর্বোচ্চ দন্ডপ্রাপ্ত ছয় যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি এ পর্যন্ত কার্যকর করা হয়েছে। আরও অনেকের রায় কার্যকরের অপেক্ষায়। তাই এবারের বিজয়ের মাস শুরু হয়েছে ভিন্ন মাত্রায়। বহু কাঙ্ক্ষিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করার মাধ্যমে গত ৪৪ বছরের লজ্জা ঘোচানোয় সারা জাতি এখন উদ্বেলিত।মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিঝরা সেসব দিনে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র যুগিয়েছিল মুক্তির লড়াইয়ের অনিঃশেষ প্রেরণা। সে সময়ের গানে গানে বিধৃত আছে লাঞ্ছিত-নিপীড়িত, মুক্তিপাগল সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর প্রাণের উচ্ছ্বাস, ত্যাগ, লড়াই ও মুক্তির মন্ত্র। ১৯৭১ এ দীর্ঘ ৯ মাস পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালীর মৃত্যুপণ জনযুদ্ধ শেষে অর্জিত হয়েছিল প্রত্যাশিত বিজয়। লাখো শহীদের আত্মদান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসী অবদান, ত্যাগ এবং অসংখ্য মা-বোনের মহামূল্যবান সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ নিজের স্থায়ী আসন অর্জন করে নেয় বিশ্বমানচিত্রে। তাই কৃতজ্ঞ বাঙালী জাতি এই ডিসেম্বর মাসজুড়ে স্মরণ করবে লাখো শহীদানকে। তাঁদের অপূর্ণ স্বপ্ন এবং প্রত্যাশা বাস্তবায়নের শপথে নতুন করে উজ্জীবিত হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

95 − = 91