বুর্জোয়া রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের কিসের এতো বড়াই?

কিউবা বিপ্লবের মহান নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো সদ্যই প্রয়াত। সারা দুনিয়াজুড়ে সমাজতান্ত্রিক আদর্শে অটুট থাকা এই ছোট্ট দ্বীপদেশ বর্তমান পুজিবাদী বিশ্বায়নের যুগে লড়াই আর সাম্যের উদাহরণ তৈরি করেছে। ঘরের পাশে বিশ্বের সবচাইতে ক্ষমতাধর আগ্রাসী এক রাষ্ট্রের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও নিজের অস্তিত্ত্ব আর মর্যাদায় কখনো আপোষ করে নি কিউবা। রুশ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে উদ্ভূত সোভিয়েত অতঃপর পতনের প্রেক্ষিতে নৈতিকতার সাহস নিয়ে কিউবা সটান হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো কমরেড ফিদেলের নেতৃত্বে।
?oh=f8cbc6b2e49ef536660bb461cb378fbc&oe=58F34DD4″ width=”512″ />

সারা পৃথিবীর বুকে স্ব স্ব নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের যোগান দিতে গিয়ে যখন রাষ্ট্রগুলো ব্যর্থ ঠিক এর বিপরীতে দাঁড়িয়ে ফিদেলের কিউবাতে তিনি মানুষকে দিয়েছিলেন অন্ন , বস্ত্র আর চিকিৎসার নিশ্চয়তা শুধুমাত্র সমাজতন্ত্রের আদর্শের বদৌলতে। ডেমোক্রেটিক , স্যোশাল ডেমোক্রেটিক যেকোন প্রকরণের রাষ্ট্রকাঠামোর কথাই বলি না কেন একথা নিঃসন্দেহে সত্য যে ঐসব রাষ্ট্র কখনই নাগরিকদের বেচে থাকার এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ অধিকার দিতে পারে না কারন এই হঠকারি অর্থনীতির দুনিয়ায় তাদের প্রত্যেককেই কখনো সাম্রাজ্যবাদের সাথে আপোষ করতে হচ্ছে কখনো দেশি বিদেশি বুর্জোয়াদের সাথে আপোষরফা করতে হচ্ছে।

সংবিধান, আইন , আদালতের নাম করে বুর্জোয়া রাষ্ট্র নাগরিক অধিকারের নাটক করছে যা আজ দিবালকের মতো স্পষ্ট।সারাবিশ্বের হাতেগোনা দুই একটা রাষ্ট্র ছাড়া প্রায় সকল দেশই মার্কিনদের গণতন্ত্রের নীলনকশায় পরিচালিত। কিন্তু এসব তথাকথিত গনতন্ত্রওয়ালারা কি পেরেছে ১০০ ভাগ জনগনের অন্ন , বস্ত্র , চিকিৎসার মত মানবিক চাহিদা নিশ্চিত করতে? আফ্রিকা, এশিয়ার দরিদ্র দেশগুলোর দিকে তাকালেই এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। মার্কিনীদের প্রেস্ক্রিপ্সনে পরিচালিত গণতন্ত্রের নাটকের একমাত্র অলঙ্কার ঐ পাঁচ কিংবা চার বছরের ভোটাভুটির নাটক। জনগনের ক্ষমতার অন্তরালে চিরাচরিত অর্থনৈতিক নিয়মে ক্ষমতা ঐ মুনাফাখোর পুজিপতিদের দখলেই থেকে যায়।

উপরন্তু বিশ্বায়নের নাম করে দুনিয়াব্যাপী বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর পুজিপতি গোষ্ঠীর বাণিজ্যিক সম্প্রসারন ঘটছে। অপেক্ষাকৃত অনুন্নত দেশগুলোর স্ব স্ব অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙ্গে দিয়ে , কৃষি – দেশজ শিল্পকে ধ্বংস করে চলছে বহুজাতিকদের আগ্রাসী ও রমরমা বাণিজ্য। বহুজাতিকের অর্থনৈতিক আগ্রাসনের সাথে সাথে চলছে বৃহৎ শক্তি তথা ইঙ্গ – মার্কিন মিত্রদের সামরিক অর্থনীতির ভয়ানক রক্তারক্তির বাণিজ্য। এসকল সাম্রাজ্যবাদীর আগ্রাসনে ইরাক জ্বলছে, লিবিয়া জ্বলছে ; জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। যার ফলাফল স্বরূপ চলছে অস্ত্রবাণিজ্যের রমরমা ব্যাবসা আর তেলসম্পদের হরিলুট। মৌলবাদের ফ্রাঙ্কেস্টাইনের উপর ভর করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সম্পদ লুণ্ঠন আর আইএস-আল কায়েদা দমনের নামে কোটি কোটি টাকার অস্ত্র ব্যাবসা সামরিক অর্থনীতিকে হৃষ্টপুষ্ট করছে। তাদের প্রেস্ক্রাইব করা অর্থনীতির ফন্দিতে গোটা ইউরোপীয় মোড়ল- দক্ষিন এশীয় মোড়ল- এশীয় মোড়লরা একই কায়দায় অস্ত্র-অর্থনীতি নিয়ন্ত্রনবাদ আরোপের মাধ্যমে পুজিবাদি দুঃশাসনের ত্রাহিসঙ্কুল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। মৌলিক অধিকার বঞ্চিত বিশ্বের ২৫০ কোটি মানুষ,বিশ্বায়ন বাণিজ্য- সাম্রাজ্যবাদ -পুজিবাদের মিলিত নির্যাস মাত্র । এই বিশাল বিশ্বনাগরিককে অভুক্ত রেখে পশ্চিমারা ভোগবাদের অমানবিক রাজত্ব কায়েম করেছে।

তবে কেমন গণতন্ত্র এটা? নির্বাচনী গণতন্ত্র তবে যুগের পর যুগ কি দিলো মানুষকে? ভোটের অধিকারের শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে প্রহসন ছাড়া এসব আর কি? মাথাপিছু উন্নতির প্রতারণাপূর্ণ তত্ত্ব ঝুলিয়ে আর পার ক্যাপিটা ইনকামের গল্প শুনিয়ে আর কত দিন?

ভোটের নাটকে এ কেমন জনপ্রতিনিধিত্বের বালখিল্যতা?
বিশ্বের বুকে নিজেদের ব্যাবসায়ী পণ্যের একচ্ছত্র বাজার তৈরিতে পুজিবাদী সমাজ একই সাথে যেমন বাজার দখলের প্রতিযোগীতায় নেমেছে সেইসাথে মানুষের মগজ, মনন দখল করে চলছে পণ্য বাজারজাতকরনের আয়োজন। পণ্যায়ন বিস্তার করে এক অমানবিক ভোগবাদী আয়োজন করে নারীকে করেছে পুজিবাদের সৌরস কাঠামোর যন্ত্রবিশেষ। মেধা মননে পুজিবাদী আধিপত্যবাদ যেকে বসে প্রতিটি মানুষকে মুনাফা অর্জনের কারখানা বানিয়ে ফেলা হয়েছে। যার ফলেই কর্পোরেট গোষ্ঠী রমনীর সন্ধানে প্রতিযোগীতার পসরা সাজিয়ে বসে , সিনেমা চলচ্চিত্রের তথাকথিত বিনোদনের মাধ্যমে যৌনতার ফেরি করে বেড়ায় ,পণ্য প্রসারে মেকি সংস্কৃতির ভাবাবেগ তৈরি করে, ভোগবাদী লালসার বাতাবরনে যেকোন মূল্যে ভোগ-মাদকের মত্ততা ছড়িয়ে দেয়।- এই তো বিশ্ব! হঠকারী বিশ্ব!

পক্ষান্তরে, আফ্রিকা – এশিয়ায় নিরন্ন মানুষের আহাজারি বাতাসে ভেসে বেড়ায়, ইবোলারূপী মহামারীর আক্রমনে মনুষ্য সত্ত্বা ধুকে মরে চিকিৎসা – ভ্যাকসিনের অভাবে , খাদ্যাভাবে হাড্ডিসার হয়ে অকালে মরে। অথচ, বিশ্বমোড়লদের সামরিক ব্যায় যা তার মাত্র চার ভাগের একভাগ হলে এইসব নিরন্ন চিকিৎসাহীন মানুষদের অন্ন -বস্ত্র-চিকিৎসার ব্যাবস্থা হয়ে যেত। কিন্তু গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী এইসব মোড়ল কেন দেয় না কিংবা দিতে পারছে না মৌলিক ও মানবিক অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে? উত্তর খুবই সোজা – মুনাফার সমাজে পুজিবাদের দুঃশাসন টিকিয়ে রাখা । দুঃশাসন আয়োজনের যুদ্ধনীতি যেন হয়ে দাড়িয়েছে বাণিজ্যনীতির রোডম্যাপ। এইসব জাতিগত-গোষ্ঠিগত দ্বন্দ,যুদ্ধের বেনিফিসিয়ারি হয়ে খনিজ সম্পদ লুটের আয়োজক এই এরাই।

বিশ্বব্যাপী এই মৌলিক অধিকারহীন ব্যাবস্থা তবে কিসের গণতন্ত্র?
গণতন্ত্রের নাটকবাজদের সবচাইতে স্ববিরোধীতা ধরা পরে বাকস্বাধীনতার হাহাকার দেখলে। বুর্জোয়া ডেমোক্রেটদের ভাব দেখলে মনে হয় দুনিয়ার বুকে প্রতিক্রিয়ার মোকাবেলায় ওরাই নিচুস্বরের। প্রতিক্রিয়ার শক্তিকে আদর্শিক লড়াইয়ে পরাস্ত করার পরিবর্তে নিজেদের ক্ষমতার আখের গোছাতে আপসরফা লিখে চলে। নিজেদের ক্ষমতার মসনদ আর সাম্রাজ্যবাদের নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য তারাই বাকস্বাধীনতা হরন করে চলে। গণমানুষের অধিকার কিংবা ন্যায্য অধিকারের সংগ্রামে শক্তি প্রয়োগের নমুনা সারাবিশ্বে বুর্জোয়া সরকাররা সফলতার সাথে দেখিয়ে যাচ্ছে। প্রাণ-প্রকৃতি বিনাশ করে মানুষের উন্নয়নের নাম করে প্রকৃতি- মানুষের সহাবস্থানকে ভণ্ডুল করার মাধ্যমে যেকোন প্রতিবাদকে সাম্রাজ্যবাদের দালালি করে জনআকাঙ্খাকে পদদলিত করে। পুজিপতির মুনাফাবাজির শিল্পবিলাসের বিরুদ্ধে শ্রমিক-জনগনের উন্মেষকে অমানবিক কৌশলে ধ্বংস করে বুর্জোয়া গণতন্ত্রওয়ালারা।প্রলেতশ্রেনীকে উপর্যুপরি শোষণ করে পৃথিবীতে বুর্জোয়াশ্রেনী সংখ্যালঘিষ্ঠ কর্তৃক সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন জারি রাখে স্বৈরাচারি কায়দায়। সমগ্র দুনিয়ার গণমাধ্যম জগতের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণবাদ আরোপ করে মত প্রকাশের অধিকার খর্ব করার কুশীলব যেমন তারা আবার গণমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে বুর্জোয়াদের সাংস্কৃতিক -রাজনৈতিক আধিপত্য প্রলম্বিত করার সিস্টেমমেকারও তাঁরা।এসব কি অস্বীকার করার উপায় আছে? বিশ্ববাস্তবতায় অস্বীকার করার জো নেই।

তাহলে কিসের এত বড়াই?

কাজেই, বাকস্বাধীনতা দেয়ার গালগল্প বুর্জোয়া রঙ্গমঞ্চে আরেক ধাপ্পাবাজি।
কিন্তু এসব কিছুর বিপরীতে কিউবা কি দিয়েছে জনগণকে ? – এই মৌলিক প্রশ্নটি মূল বিবেচ্য। কিউবাজুড়ে সকল মানুষের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়ে ফিদেল এই প্রাথমিক কাজটি করেছিলো। অন্ন- চিকিৎসার মানবিক অধিকার নিশ্চিত করে কিউবা বিপ্লব ঘটিয়েছে। কিন্তু এর পরিবর্তে কিউবা ঐসকল মেকি বাকস্বাধীনতাকে ছুড়ে ফেলেছে যেসব কি না মার্কিন মুল্লুকের দালাল হয়ে কিংবা স্যাবোটেজ করার উপকরণ হয়ে কিউবায় ঢুকেছিলো। মানবিক কিউবায় যে কোন জাতীয়নীতি প্রণয়নে জনগণকে তাদের মতামত প্রয়োগের নীতি তো গৃহীত হয়েছিলো তবে কেমন সে বাকস্বাধীনতার ধরন? স্বভাবতই হঠকারী এমন কোন মত প্রকাশ করা যেতই না যা কি না ঐ বুর্জোয়াশ্রেনীর স্বার্থ সংরক্ষন করে। যে বুর্জোয়া রাষ্ট্র কিংবা যেসকল ব্যাক্তিবিশেষ কিউবার বাকস্বাধীনতা নিয়ে তথাকথিত প্রশ্ন উত্থাপন করেন তাদের কে কে বুর্জোয়া রাষ্ট্রের বাকস্বাধীনতা পেয়েছেন? ষোলয়ানায় আটআনাও কী পেয়েছেন? পারেন নি।অন্যদিকে বাকস্বাধীনতার যথার্থতা প্রয়োগ করে দুনিয়াকে দেখিয়েছেন কেমন করে মানবিক সমাজ গড়া যায়। আর এ জায়গাতেই বুর্জোয়া ডেমোক্রেসি বোল্ড আউট।

এই ডেমোক্রেসির চরিত্র বুঝতে খুব বেশি ভাবার দরকার নাই । বুর্জোয়া সিস্টেম কেমন ভোটাধিকারের নাটক করে , কেমন বাকস্বাধীনতা প্রদান করে তা বুঝতে ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের ফ্যানাটিক চরিত্র আর সাদ্দাম হোসেনের ফাসির ঘটনা মনে করলেই বুঝা যায়।

পুজিবাদি- সাম্রাজ্যবাদী দুঃশাসনের এমন কাপুরুষোচিত বড়াই অর্থহীন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “বুর্জোয়া রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের কিসের এতো বড়াই?

  1. এটা খুব প্রচলিত ধারনা যে, যখন
    এটা খুব প্রচলিত ধারনা যে, যখন সারা বিশ্বব্যাপী সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সমূহ একের পর এক বিলুপ্ত হয়ে গেছে তখন বিশ্ব পুঁজিবাদের নেতা আমেরিকার পাশেই কিউবা সমাজতন্ত্রের পতাকা তুলে ধরে ছিল বা আছে। ছিল বলার পেছনে কারন হচ্ছে যে কিছুকাল থেকেই ছোট ব্যাক্তিগত পুঁজির অনুমোদন দেয়া শুরু হয়ে গেছে। এ যে অনুমোদন, এটা যে ক্যান্সারের জন্ম দেয় তা সমাজতন্ত্র বিলুপ্তির জন্য প্রথম পদক্ষেপ ও সর্বহারার একনায়ক্তন্ত্রের মৌলিক নীতির সম্পুর্ন বিপরীত। চীনের দিকে তাকালেই এটা বুজা যায়। আপনার পুজিবাদ ও গণতন্ত্র বিষয়ক সমালোচনা ঠিক আছে, কিন্তু সমাজতান্ত্রিক সমাজেরো কি গর্ব করার মত কিছু আছে?

      1. No, I do not mean only
        No, I do not mean only Chinese Society at all. Socialist countries failed to fulfill the expectation and not only that socialist counties failed to exist. I do not want to mean that the conception of socialism is bad or worse than capitalism but there must be something to look at. Self-Criticism is one of the most effective strength for a socialist but forgetting that, we praise all the leader like “PIR MURSHID’. Thanks

  2. আপনি বলছেন there must be
    আপনি বলছেন there must be something to look at. কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো এই খোজার প্রক্রিয়া কি পুজিবাদী আধিপত্য মেনে নিয়ে জীবনভর ধ্যান করা??
    সসমাজতন্ত্রের লড়াইয়ে থেকেই এর সীমাবদ্ধতা বের করাই যুক্তিযুক্ত, বৈজ্ঞানিক।
    আর পীর মুর্শিদ – এসব অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক

    1. I agree with you that
      I agree with you that continuous uncompromising struggle against the capitalism is the way to find out and solve the problems and short comings of socialist movement but with all due respect I disagree with the line you wrote,”আর পীর মুর্শিদ – এসব অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক”. The reason behind that the development of personality trait that we have been observing in different communist parties (CPSSR or CPC) is one of the most decisive reason of developing revisionism in those parties.

  3. চীন ,কিউবা বাঁ সোভিয়েতের মত
    চীন ,কিউবা বাঁ সোভিয়েতের মত করেই সমাজতন্ত্র হতে হবে এমন কথা ঠিক নয়। আবার ঐ সমস্ত দেশগুলোরও যে বিচ্যুতি ঘটেছে তাতে সন্দেহ নাই। কিন্তু সমাজতন্ত্র গর্ব করার মত দুনিয়াকে অনেক কিছু দিয়েছে। লেনিন স্ট্যালিনের সোভিয়েত এর দিকে তাকান ,উত্তর পাবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

63 + = 72