পার্বত্য চুক্তির ১৯ বছরেও শান্তি আসেনি পাহাড়ে

পার্বত্য শান্তি চুক্তির দীর্ঘ ১৯ বছরেও শান্তি আসেনি পাহাড়ে। ১৯৯৭ সালের (২রা ডিসেম্বর) পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার চুক্তি করলেও পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি আসেনি।

পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাতিল ও চুক্তি সংশোধনের দাবিতে সমঅধিকার আন্দোলন, ইউপিডিএফ অপরদিকে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) পাল্টাপাল্টি আন্দোলন আর সংঘাতে উত্তাল পাহাড়ী জনপথ।

বাঙালি শাসকগ‌োষ্টীরা স‌েই সুযোগে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করে চলেছে । চাঁদাবাজি,ন‌িপীরন,ন‌ির্যাতন,হত্যা, আদ‌িবাসী নারীদ‌ের উপর ধর্ষণ ও অপহরণসহ আদ‌িবাসীদে‌র জীবনে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদনকারী আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বললেও সময় ক্ষেপণের টালবাহানা করছ‌ে। ভূমি সমস্যার সমাধান ছাড়া শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ভূমি সমস্যা সমাধানে গঠিত ভূমি কমিশনকে কার্যকর এবং শান্তি চুক্তির সাংঘর্ষিক ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন জেএসএস নেতারা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু আদিবাসীদের উপর ধারাবাহিক হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, শোষণ, উৎখাত ও বঞ্চনাজনিত মানবাধিকার লংঘনের সমস্যা বহুমাত্রিক। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ ছাড়াও এই সমস্যার রয়েছে প্রশাসনিক, সামরিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, কূটনৈতিক দিক এবং এর প্রত্যকটি একে অপরের সঙ্গে এমন নিবিড়ভাবে যুক্ত যে কোনটিকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা সম্ভব নয়। ইতিহাসের দিকে তাকালে দৃষ্টি হয় আজকের এই সমস্যা সৃষ্টি করেছে রাষ্ট্র, সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল ,দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং সুবিধাপ্রাপ্ত বহিরাগত বাঙালি সম্প্রদায়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পাকিস্তান আমল থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়।

রাষ্ট্রের এই নির্যাতন,শোষণ ও আগ্রাসন বাংলাদেশের পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের অস্তিত্ব ক্রমশঃ বিপন্ন করে তুলছে। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, জ্ঞান ও ইতিহাস। যদি আদিবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রের বৈরি মনোভাব পরিবর্তিত না হয় তাহলে হয়তো কয়েক বছর পর বাংলাদেশে আদিবাসী পরিচয়ের কারও অস্তিত্ব থাকবে না। মুক্তিযুদ্ধে সময় আদিবাসীরাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।এই কথা বাঙালী জাতি অস্বীকার করতে পারে না। এমনকি বৃটিশ ভারত স্বাধীনতার সংগ্রামেও আদিবাসীদের অবদান রেখেছে।অথচ,উগ্র মৌলবাদী রাষ্ট্র আজ আদিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা কেড়ে নিচ্ছে।যা বৃহত্তর সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জাতি কোনও প্রতিবাদ করে না। যে বাঙালি পাকিস্তানের শাসন নিপীরনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে তিরিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে, সেই বাঙালি আজ তাদের নিজ দেশের আদিবাসীদের প্রতি পাঞ্জাবিদের মতো ঔপনিবেশিক নিষ্ঠুর আচরণ করছে।

সেই পার্বত্য চট্টগ্রামে বহিরাগত বাঙালি সেটেলার স্থাপন এখনো অব্যাহত রয়েছে। অপারেশন উত্তরণ সহ সেনাশাসন চলমান রয়েছে। প্রতিনিয়ত সেনা উপস্থিতিতে সেটেলার বাঙালীরা আদিবাসীদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে।এমনকি সেনাবাহিনীরাও সেটেলারদের সাথে সক্রিয় ভুমিকা পালন করছে।

চলমান সমস্যা যদি সরকার অচিরেই সমাধান না করে আদিবাসীদের জীবন আরো নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে। সরকার যদি পাহাড়িদের প্রতি আজই আন্তরিক না হয় ত‌াহল‌ে এটাই কি একটা অসাম্প্রদায়িক চ‌েতনার বাংলাদ‌েশ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 3 =