লিবারেল বন্ধু

জগন্নাথ হলের সরস্বতী পুজো মানে এক এলাহী কাণ্ডকারখানা। বিশাল আয়োজন, বিশাল বাজেট, বিশাল আনন্দযজ্ঞ। পুজোর দিন সবাই রুম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে একেবারে ফকফকা করে ফেলে, কারন প্রত্যেকের বালিকা আসবে বেড়াতে।

বয়স হয়ে যাচ্ছে, যা লিখতে চাই তা লিখে অন্যকিছু লিখে ফেলছি। পুজোর রাত্রে সিনিয়র, জুনিয়র সবাই সেদিন মদ্যপান করে। আমার বন্ধু লুসিফেরাস কাফের একবার সকালবেলাতেই গ্লাস খানেক গঙ্গাজল গলায় ঢেলে, গোসল করে জীবন্ত প্রতিমা দেখতে বের হয়ে গেল। অনেক কেনাকাটা, বাজার সদাই করতে হবে।

কাফের তখন একটা বাম ছাত্রসংগঠন করত। সে শুনে এসেছে বামের পোলাপাইন খুব লিবারেল। পুজো, ফুজো, মাংশ, মদ্য পানীয়র হারাম হালাল পার্থক্য করে না। তখনই কাফের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো হয়ে যাক লিবারেল এসিড টেস্ট। সে ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের পিছন থেকে শুয়োরের মাংশ আর পলাশী বাজার থেকে গরুর মাংশ কিনে আনল। হাড় ছাড়া ছোট ছোট টুকরো করে কাটা শুয়োর আর গরু একেবারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে এক হাড়িতে চুলার উপর। গরু আর শুয়োর কেউই আরেকজনকে আক্রমন করে গুতো দিতে দেখা গেল না। ঝোল ছাড়া সুসিদ্ধ গরু শুয়োর। রান্নার সেন্টের গন্ধে ঘর ম ম করছে। কাফের আগে থেকেই জরিনা এনে রেখেছে গ্যালাক্সি থেকে।

অনেক বাম বন্ধুর দাওয়াত। পুজা নামের এক মেয়ের সাথে প্রেম করা, ধর্মকে ব্যবচ্ছেদ করে দেয়া লিবারেল বন্ধুও আছে। কাফের জরিনার বোতল খুলে, গরু শুয়োরের সহ অবস্থান ব্যাখ্যা করে সরস্বতী পুজো উদযাপন শুরু করে দিল। কিন্তু লিবারেল বন্ধু তো কিছুই খায় না। তার চোখে পানি চলে এসেছে। যাইহোক লিবারেল বন্ধুর বিপদ বুঝতে পেরে কাফের বিকল্প ব্যবস্থা করে দিলো।

ও হ্যাঁ, গল্প শেষ করার আগে বলে নিই, কাফেরের সেই লিবারেল বন্ধু কলেমা পড়িয়ে পুজাকে রোযা বানিয়ে বিয়ে করেছে। কাফের রোযাদের বাসায় বেড়াতে গেলে রোযাই অতি উত্সাহে ডাইনিংয়ের টেবিলে আগে গরুর ডিস এগিয়ে দেয়। খাবার টেবিলে কাফেরের পাশেই বসেছে লিবারেল বন্ধু আর রোযার প্রথম পুত্র সন্তান আযান।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 7