আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-১৭

এভাবে ইসলামের জন্য যুদ্ধ করা সকল মুসলিমের জন্য অবশ্যপালনীয় কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায় । মোহাম্মদ মুহাজিরদের তাদের ফেলে আসা স্বজনদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়, যারা তাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে বলে মোহাম্মদ দাবী করে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ।

“আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন। “ (কোরান ৮ : ৩৯)

যখন তার কিছু অনুসারী যুদ্ধ করতে ইতস্তত বোধ করে তখনি সে সুযোগমত আল্লাহর কাছ থেকে নতুন নতুন হুমকি নিয়ে আসে । আল্লাহ তাদের অবাধ্যতার বিরুদ্ধে বিভিন্নরকমের হুশিয়ারীর আয়াত পাঠাতে থাকেন ।

“যারা মুমিন, তারা বলেঃ একটি সূরা নাযিল হয় না কেন? অতঃপর যখন কোন দ্ব্যর্থহীন সূরা নাযিল হয় এবং তাতে জেহাদের উল্লেখ করা হয়, তখন যাদের অন্তরে রোগ আছে, আপনি তাদেরকে মৃত্যুভয়ে মূর্ছাপ্রাপ্ত মানুষের মত আপনার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখবেন। সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্যে।” (কোরান ৪৭ : ২০ )

এই আয়াতগুলো থেকে আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি ইসলাম একটি যুদ্ধবাজ ধর্ম । যতদিন পর্যন্ত মানুষ ইসলামে বিশ্বাস করবে এবং কোরানকে আল্লাহর বাণী বলে মনে করবে , ততদিন পর্যন্ত ইসলামি সন্ত্রাস চলতে থাকবে । ইসলামের ভিতরে থেকে যারা সংস্কার, সহনশীলতা এবং সভ্য আলোচনার কথা বলে তাদেরকে খুব সহজেই কোরান দিয়ে চুপ করিয়ে দেয়া যায় কারণ এই কোরানেরই অনেক অনেক আয়াত আছে যেগুলো বিশ্বাসীদের নির্দেশ দেয় অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য ।

“আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করতে থাকুন, আপনি নিজের সত্তা ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ের যিম্মাদার নন! আর আপনি মুসলমানদেরকে উৎসাহিত করতে থাকুন। শীঘ্রই আল্লাহ কাফেরদের শক্তি-সামর্থ খর্ব করে দেবেন। আর আল্লাহ শক্তি-সামর্থের দিক দিয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং কঠিন শাস্তিদাতা। “ (কোরান ৪ : ৮৪)

এবং এই যুদ্ধে তাদের সফলতার নিশ্চয়তা দেয় :

“কিছুতেই আল্লাহ কাফেরদেরকে মুসলমানদের উপর বিজয় দান করবেন না। “ (কোরান ৪ : ১৪১ শেষাংশ )

আর বেহেশতি পুরষ্কারের প্রতিশ্রুতি দেয় :

“যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে এবং আল্লাহর রাহে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করেছে, তাদের বড় মর্যাদা রয়েছে আল্লাহর কাছে আর তারাই সফলকাম। “ (কোরান ৯ : ২০) (টীকা – ৪২ )

সব জায়গার তথাকথিত ইসলামি চিন্তাবিদরা সন্ত্রাসের দিকে ধাবিত করার এই কথার প্রতিধ্বনি করে । সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু , গ্রান্ড মুফতি , জিহাদের স্পৃহাকে বলে খোদার দেয়া অধিকার বলে । সৌদির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা SPA তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শেখ আবদুল আজিজ আল শেখ বলে, “ ইসলামের প্রচার অনেকগুলো ধাপের মধ্য দিয়ে গেছে, প্রথমে গোপনে পরে প্রকাশ্যে , মক্কায় ও মদীনাতে, ইসলামের সবচে পবিত্র স্থানদ্বয়ে” । আল্লাহ এর পরে বিশ্বাসীদের অনুমতি দেন যুদ্ধ করার জন্য, যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, এটা খোদাপ্রদত্ত অধিকার । এটা খুবই যৌক্তিক এবং আল্লাহর কাছে এটা অপছন্দনীয় নয়” (টীকা -৪৩)

সৌদি আরবের সবচে বয়োজেষ্ঠ্য ধর্মীয় গুরু ব্যাখ্যা দেয় এইভাবে , “যুদ্ধ মোহাম্মদের একমাত্র পথ ছিলো না, সে অবিশ্বাসীদের তিনটি অপশন দিয়েছিলো : হয় ইসলাম গ্রহণ কর, না হয় আত্নসমর্পণ করে জিযিয়া কর দাও । এই কর দিলে তারা তাদের নিজের জায়গাতে মুসলিমদের অধীনে থেকে নিজেদের ধর্মপালন করার সুযোগ পেত(টীকা-৪৪) । তৃতীয় অপশন ছিলো যুদ্ধ” ।

গ্রান্ড মুফতির কথা ঠিকই আছে । অমুসলিমদের উপর সহিংসতা আসলেই শেষ অপশন ছিলো, যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করতে অথবা ইসলামের সৈনিকদের চাঁদা দিতে অস্বীকার করতো । এটা মোহাম্মদের এমন কোন মহানুভবতা না । লোকজন যদি শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের সম্পদ দিয়ে দেয় তাহলে খুব কম সংখ্যক ডাকাত লুটেরাই রক্তপাত পর্যন্ত যায় । অপরাধী সাধারণত বাধা পেলেই সহিংসতার অপশন বেছে নেয় । পাকিস্তানের সবচে খ্যাতিমান ইসলামি চিন্তাবিদ জাভেদ আহমেদ গামদির সাথে এক ইন্টারনেট বিতর্কে সে তার ছাত্র খালিদ জহিরের মাধ্যমে বলে, “ কোরানে যাদের হত্যার কথা বলা হয়েছে তাদের যারা খুনের দায়ে দোষী অথবা সমাজে হানাহানি রাহাজানি করার দোষে দোষী অথবা যাদের এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোন অধিকার নাই কারণ তারা আল্লাহর কাছ থেকে পরিষ্কার বাণী পেয়েও ইসলামে দীক্ষিত হয়নি ।” গামদি একজন মডারেট মুসলিম । কিন্তু সে তার ধর্ম সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানে । সে জানে যে যারা ইসলামকে অস্বীকার করে তাদের “পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোন অধিকার নাই” , তাই তাদের অবশ্যই খুন করতে হবে । (টীকা -৪৫ )
*****************************************************************************
টীকা -৪২ – এবিষয়ে আরো দেখা যেতে পারে কোরান (৮ ৭২), (৮-৭৪)
টীকা ৪৩,৪৪ – ইন্টারনেট সংবাদমাধ্য metimes ডট কম
টীকা ৪৫ – faithfreedom.org

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-১৭

  1. “মোহাম্মদের এমন কোন মহানুভবতা
    “মোহাম্মদের এমন কোন মহানুভবতা না । লোকজন যদি শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের সম্পদ দিয়ে দেয় তাহলে খুব কম সংখ্যক ডাকাত লুটেরাই রক্তপাত পর্যন্ত যায় । অপরাধী সাধারণত বাধা পেলেই সহিংসতার অপশন বেছে নেয়” – যতার্থ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 89 = 95