পদ্মা নদীর মাঝির অন্তিম কাহিনী

কুবের কপিলাকে নিয়ে রওনা দিয়েছে ময়না দ্বীপের উদ্দেশ্যে। সমাজের সকল শৃঙ্খল ভেঙ্গে ভালোবাসা নামক ব্যাধিকে প্রশ্রয় দিয়ে স্ত্রী-সন্তান সহ সকল কাছের মানুষকে রাতের আঁধারে ছুঁড়ে ফেলে কুবের কপিলাকে পেতে চায়।

পদ্মার ঢেউ কেটে কেটে কুবেরের নৌকা এগিয়ে যায় নতুন জীবনের দিকে। এটাই তো চেয়েছিল কুবের। যে নারীর তনু-মন সে স্বপ্নের মাঝেও পেতে চাইতো, সেই নারী যে আজ তার হাত ধরে নির্জন পথের পথিক। তবে কেন তার মনে আনন্দ হচ্ছে না…! কেন তার মনে হচ্ছে কিছু একটা সে ভুল করেছে!

কুবের আনমনা দাঁড় বাইতে থাকে।

কপিলা বুঝতে পারে, কুবেরের মনে দ্বিধা চলছে।

-মাঝি? তুমি কি ফিইরা যাইতে চাও?
-ফিইরা যাইবার লাইগা তোর হাত ধইরা বাইর হইসি?
-তবে তোমার মন তো অন্য কথা কয়!
-বেশি বুঝিস না। ক্ষুদা লাগছে। কিছু আনসস খাইবার লাইগা?
-আনসি। ঘরে খালি এই কয়ডা বাতাসা মুড়ি ই ছিল।
-পোলা মাইয়া গুলান সকালে কি খাইবো?
-কি করমু! আর কিছু ছিল না।

কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ পড়ে কুবেরের। দাঁড় বাওয়াটা ঠিক কবে বন্ধ করেছে, সে নিজেও বুঝতে পারে নি। কপিলা কুবেরের ছলছল করা চোখ গুলোর দিকে একমনে তাকিয়ে থাকে।

-বাতাসা মুড়ি খাইবা না, মাঝি?
-না । তুই খা।
-তোমার না ক্ষুদা লাগসে?

কুবেরের দিকে এগিয়ে এসে পাশে বসে কপিলা। কুবের এতক্ষণের সব চিন্তা যেন সঙ্গে সঙ্গে-ই ভুলে গেলো। কপিলার ঘামের ঘ্রাণ যেনো কুবেরের ভেতরের পশুকে জাগিয়ে দিলো। দুলতে দুলতে নৌকা এগিয়ে যেতে থাকে ময়না দ্বীপের দিকে।

৩০ বছর পর,

কুবের ঘরের উঠানে বসে বেত দিয়ে মাথাল তৈরি করছে। ৩টা বাচ্চা কুবেরকে ঘিরে বসেছে। ইলিশের মওসুম এখন তাজা। দ্বীপের সকল সমর্থবান পুরুষ গুলো পদ্মায় গিয়েছে।

কুবের-কপিলার দুই ছেলে বাপের মাথা উঁচা করেছে। দ্বীপে সবচাইতে বড় নৌকা কিনেছে তারা।

কুবের এখন গ্রামের মোড়ল। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়ে এখন সে শান্তির অপরিসীম আনন্দ ভোগ করছে। কপিলা রান্না চাপিয়েছে। বড় ছেলের বৌ টা বাচ্চা বিয়োবে। কপিলার তাই অনেক কাজ।

উঠান থেকে কপিলার দিকে বারবার তাকায় কুবের। আজও কপিলা খুব টানে কুবেরকে। সে জোর আর নেই কুবেরের। তাও সে মাতাল হয়।

০৩-১২-২০১৪ এ লেখা।
অপরিপক্ক বাজে লেখা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

47 − 37 =