এমডিজির লক্ষ্য অর্জন বাংলাদেশের জন্য গৌরবজনক

এমডিজির লক্ষ্য অর্জন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য গৌরবজনক। কেননা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ বেশ ভালো করেছে। এর ফলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনেও শক্ত অবস্থানের ওপর দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। আটটি লক্ষ্যের ২১টি টার্গেটের মধ্যে ১৩টি নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন সম্ভব হয়েছে। বনায়ন ছাড়া অবশিষ্ট টার্গেট অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নতি করেছে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সার্কভুক্ত ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও আফগানিস্তানকেও ছাড়িয়ে গেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস : অ্যান্ড-পিরিয়ড স্টকটেকিং অ্যান্ড ফাইনাল ইভাল্যুয়েশন রিপোর্ট (২০০০-২০১৫)’ শীর্ষক চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। এমডিজির আটটি লক্ষ্য হলো অতিদারিদ্র্য নিরসন ও ক্ষুধা নির্মূল; সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা; লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়ন; শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস; মাতৃস্বাস্থ্য উন্নতি; এইডস, ম্যালেরিয়া এবং অন্যান্য ছোঁয়াচে রোগ প্রতিরোধ; টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতকরণ; বৈশ্বিক সম্পর্ক জোরদার। এমডিজির অন্যতম প্রধান দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যটি অর্জিত হয়েছে। ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ২৯ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল, বাংলাদেশ এ সময়ে দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। অপুষ্টির কারণে ওজন কম থাকবে এমন পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর হার ৩৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যটিও অর্জন হয়েছে। তবে দৈনিক ১৮০৫ ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করা জনগোষ্ঠী ১৪ শতাংশ নামিয়ে আনার লক্ষ্য থাকলেও তা অর্জিত হয়নি। দেশে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী এখনো দিনে ১৮০৫ ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না। এ ছাড়া শিক্ষা, লিঙ্গবৈষম্য, শিশুমৃত্যু, মাতৃস্বাস্থ্য, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা, টেকসই পরিবেশ এসব মূল লক্ষ্যের বেশির ভাগ উপসূচকই লক্ষ্য অর্জন করেছে। লক্ষ্য ছিল সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষায় শতভাগ নিবন্ধন করা। বাংলাদেশে ৯৮ শতাংশ নিবন্ধন হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে বলে মনে করে জিইডি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ছেলে-মেয়ের নিবন্ধনের অনুপাতে সমতা আনার লক্ষ্য ছিল। এ দেশে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নিবন্ধনের অনুপাত বেশি। শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতি ১ হাজার জীবিত শিশুর মধ্যে ৩৬টি মারা যায়। এমডিজিতে এ লক্ষ্য ছিল প্রতি হাজারে ৪৮টিতে নামিয়ে আনা। একইভাবে ১ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার হাজারে ২৯-এ নেমে এসেছে। এমডিজির লক্ষ্য ছিল ৩১। এ দুটি সূচকেই লক্ষ্য অর্জিত। রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এইডস নির্মূলের সূচকটি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য হয়নি। প্রতি ১ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল। বাংলাদেশে প্রতি লাখ জনসংখ্যায় ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা এখন দশমিক ৩৪ শতাংশ। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৯২ শতাংশের বেশি মশারির নিচে ঘুমায়। এমডিজিতে এ লক্ষ্য ছিল ৯০ শতাংশ। আর বাংলাদেশে ১০০ জন যক্ষ্মা রোগীর মধ্যে সেরে ওঠেন ৯২ শতাংশ। এমডিজিতে তা ৯০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল। এমডিজিতে আরেকটি লক্ষ্য ছিল শতভাগ মানুষকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়া। দেশে প্রায় ৯৮ শতাংশ জনগোষ্ঠীর বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “এমডিজির লক্ষ্য অর্জন বাংলাদেশের জন্য গৌরবজনক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 5