প্রসঙ্গ: পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন ইস্যুর হিসাব-নিকাশ

পার্বত্য চট্টগ্রামে এখন অনেক ইস্যু। ইস্যু আর ইস্যু। কল্পনা চাকমার অপহরণ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন ইস্যু, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন বিল আইন আকারে সংশোধনসহ ভূমি সমস্যার সমাধান করে দেওয়া নিশ্চয়তার ইস্যু, তারও আগে পাহাড়ের অবিসংবাদিত নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার জন্য সংসদে শোক প্রস্তাবের ইস্যু, আলুটিলার ৭০০ একর ভূমি নিয়ে পর্যটন ইস্যু, ইউপিডিএফ সংগঠনের কেন্দ্রীয় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপুল চাকমা’র অনাকাঙ্খিত গ্রেপ্তারসহ তার মায়ের করুন মৃত্যুবরণ করার ইস্যু। আর সর্বশেষ ইস্যু পার্বত্য চুক্তির ১৯ বছর অতিবাহিত হওয়ার ইস্যু। কিন্তু এতসব ইস্যু থাকার পরও একটা ইস্যু করুনভাবে ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। সেটা হলো পর্দার আড়ালে এবং অনেকটা কৌশলে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের অবহেলিত মানুষের সম্পদের পুকুর চুরি করতে যাচ্ছে তার ইস্যু। অনেকগুলো কৃত্রিম ইস্যু তৈরি ও অন্যান্য ইস্যুর অন্তরালে সরকারের মূল লক্ষ্য পার্বত্যের তেল গ্যাসের খনিজ সম্পদের উপাদান যেভাবে হোক আদায় করা। আর যদি পার্বত্য চট্টগ্রামে একবার এই #তেল #গ্যাস সম্পদ উত্তোলন করা শুরু হয়, তাহলে কাপ্তাই বাঁধের ফলে পার্বত্য জুম্ম আদিবাসীরা যে ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষয়-ক্ষতির শিকার হবেন। তাই সময় থাকতেই একে অপরে সোচ্ছার হয়ে জুম্ম আদিবাসীদের গর্জে উঠতে হবে। ভূমি ও খনিজ সম্পদ রক্ষা তথা নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াইয়ে জনমত গড়ে তুলতে হবে এবং পাহাড়ের সম্পদ #তেলগ্যাস, অনুসন্ধান ও উত্তোলন সর্বশেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও বন্ধ করতে হবে। না হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড়ের অস্তিত্ব বিলীনসহ পার্বত্য জুম্ম আদিবাসী সত্ত্বার চরম ক্ষতি হবে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স রাঙ্গামাটির কাপ্তাই ও বাঘাইছড়ি উপজেলার ১ হাজার ৬৪৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এ লক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কোম্পানিরর সাথে বাপেক্সের চুক্তি হয়েছে। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে আদিবাসী পাহাড়িদের মতামত কোনমতে নেওয়া হয়নি এবং কি ধরনের চুক্তি হয়েছে তাও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। উল্লেখ্য পার্বত্য চট্টগ্রামে যতগুলো উন্নয়নের নাম দিয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো থেকে পাহাড়ি জনগণ সবসময় বঞ্চিত হয়েছে। ১৯৬০ সালের কাপ্তাই বাঁধের ফলে পাহাড়িদের শুধু জায়গাজমি কেড়ে নেয়া হয়নি, বিদ্যুতের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

35 − = 34