ভাই কাম শ্বশুর কাম স্বামী

ছোটবেলা থেকেই হরিদাস ঈশ্বরাংশের মন খুব নরম। মানুষের সুখ দুঃখে তার প্রাণ হু হু করে কাঁদে। জীবের প্রতি প্রেমের কারণে তিনি সবার অতি প্রিয়ভাজন। তার চরিত্রের প্রশংসা লোকের মুখে মুখে। একদিন হরিদাস ঈশ্বরাংশ প্রার্থনালয়ে যাচ্ছিলেন। পথের ধারে দেখলেন এক অনাথ বালক কাঁদছে। তার কেউ নেই। অসীম দয়ালু হরিদাস ঈশ্বরাংশ বালকটিকে আদর করে কোলে তুলে নিলেন এবং পিতৃত্বের ভার গ্রহণ করলেন। তিনি বালকের নাম দিলেন হরিহর আত্মা। দিনে দিনে রাত গড়িয়ে সেই বালকের মুখে গোফের রেখা দেখা দিলো, হরিহর আত্মা যুবক হয়ে গেল। দেখতে অনিন্দ্য সুন্দর বীর্যবান সুপুরুষ।

হরিদাস ঈশ্বরাংশ পালিত পুত্রের বিয়ের কথা ভাবতে লাগলেন। হঠাৎ মনে পড়ল তার তো রেখা নামে একটা সুশ্রী দুঃসম্পর্কিত বোন আছে। রেখার রূপ যেন জ্বলন্ত কাঠকয়লা, ধিকি ধিকি জ্বলছে। আয়তচোখ দিয়ে সে যেন আহ্বান করে ‘ কনজিউম মি’। হরিদাস ঈশ্বরাংশ আর দেরি না করে রেখার সাথে হরিহর আত্মাকে বিয়ে দিলেন। বিয়েতে সে কি ধুম ধাম! তাদের কি সুন্দর সুখের সংসার! দেখলেই প্রাণটা জুড়িয়ে যায়।

একদিন কি মনে করে হরিদাস ঈশ্বরাংশ পুত্র হরিহর আত্মার বাড়িতে বেড়াতে এলেন। তখন বাড়িতে কেউ নেই, দরজা সামান্য খোলা, শুধু একাকি রেখা স্নান করছিল। হরিদাস ঈশ্বরাংশ স্নানরত রেখার যৌবনের ভরা নদী দেখে ডাঙায় থেকেই হাবুডুবু খেতে লাগলেন। কি সুন্দর রুপ এই নারীর শরীরে! স্নানের ভেজা কাপড়ে রেখার আদিম পাথর, পাহাড়, তৃণভূমি, নদী, ঝর্ণার রেখা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। রেখার জ্বলন্ত কাঠকয়লার প্রলোভনের মত শরীর হরিদাস ঈশ্বরাংশের মনে গভীর রেখাপাত করে গেল। সে কি ভোলা যায়! না কেউ ভুলতে পারে যার শরীরে রক্ত মাংশ আছে।

সারাদিন কাজে মন বসে না। নতুন প্রেমে পড়ার মত গা মাখা গা মাখা ঝোল ঝোল আবেগ মাখা সময় গোলাপি পাখনায় উড়ে যেত লাগল। সারারাত হরিদাস ঈশ্বরাংশের আর ঘুম আসে না। এদিকে টাঙানো তাবু আর নিচে নামে না। শুধু উসখুস, বিছানার এপাশ, ওপাশ। পাশ বালিশ জড়িয়ে ধরে হরিদাস ঈশ্বরাংশ ধপাশ করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন রেখাকে বিয়ে করতে হবে। কিন্তু কিভাবে? হরিহর আত্মা যে পুত্র! হোক সে পালিত, তবুও লৌকিক আচারে বিচারে তিনি তার পিতা। এরকম ত্রিশঙ্কু বিপদে হরিদাস ঈশ্বরাংশ সবসময় আরাধ্য চন্দ্রদেবীর শরণাপন্ন হয়ে থাকেন। দেবীই তার প্রিয় উপাসকের সব জাগতিক এবং পারলৌকিক সমস্যার সমাধান দেন। সেই রাতে হরিদাস ঈশ্বরাংশের আবারও সেই পুরনো মুর্ছা রোগ দেখা দিলো। মূর্ছিত হয়েই তিনি চন্দ্রদেবীর সাথে যোগাযোগ করলেন এবং দেবী কাঙ্ক্ষিত সমাধান দিয়ে দিলেন। তিনি পুত্র হরিহর আত্মাকে ডেকে পাঠালেন, একটা বিচিত্র স্বপ্নের কথা বলে নিজের কামনার কথা পুত্রকে জানালেন। পুত্র ভাবলেন সবই তার ইচ্ছা, যার ইচ্ছা ছাড়া গাছের একটা পাতা পর্যন্ত নড়ে না। প্রাচীনকালে যযাতি যেমন পুত্রের যৌবন ধার করে কামনার আগুনে ঘি ঢেলেছিল। হরিহর আত্মা পিতার মনের অতলে লুকায়িত বাসনা বুঝতে পারলেন। চন্দ্রদেবীর আদেশে রেখাকে পরিত্যাগ করলেন। তখন হরিহর আত্মার সাথে রেখার আইনগত কোন বন্ধন থাকল না।

এরপর রেখাকে হরিদাস ঈশ্বরাংশ বিয়ে করলেন। মহা ধুমধাম করে ছাগলের মাংশ দিয়ে অভ্যাগত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হলো। অবশ্য বিয়ের মাঙ্গলিক ক্রিয়ার সময় হরিহর আত্মা কোথায় ছিলেন কেউ টা বলতে পারে না। সেদিন বিয়ের পর একান্ত মুহুর্তে নব বধূকে জিজ্ঞাসা করলেন, রেখা কেমন লাগছে? ঘাড়ে, গলায়, অপ্রকাশিত স্থানে আদর খেতে খেতে রেখা তখল নতুন আনন্দে খলবল করে বলতে লাগলো, হে প্রিয় ভাই কাম শ্বশুর কাম স্বামী, তোমার শুলে বিদ্ধ হয়েই আমি প্রথম পুলক সুখ পেয়েছি, যেন ক্ষণিক মৃত্যুর স্বাদ পেয়েছি। তোমার ঠাপে আমার জি স্পট কেঁপে ওঠে। আমাকে কেউ এমনভাবে দলিত মথিত করতে পারেনি। তখন হরিদাস ঈশ্বরাংশ বিপুল উদ্যমে রেখার গভীরে মুক্তা প্রবাল দ্বীপের অনুসন্ধান করতে লাগলেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 8