চেকপয়েন্টঃ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তের ঘটনাপ্রবাহ (পর্ব ১/৪)


৩রা ডিসেম্বর, ১৯৭১, নয়াদিল্লী, ভারত
অন্ধকার হয়ে আসছিলো ভারতের রাজধানী শহরে, এর মধ্যেই হুট করে এয়ার রেইড সাইরেন বেজে উঠলো। ভারত সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর কনফারেন্সরুমে বেশ অনেকজন দেশী বিদেশী সাংবাদিক উপস্থিত হয়েছিলেন সন্ধ্যা ৬ টার ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ব পাকিস্তান বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির জন্য। চতুর্দিক অন্ধকার হয়ে এলো সাইরেন বাজার কিছুক্ষণ পরেই, সকল বাতি নিভে গেলো। সবাই ধারণা করছিলো যে এটা বিমান হামলার মোকাবিলায় সতর্কতামুলক মহড়ার জন্যই করা হচ্ছে।

ঠিক ছয়টায় যখন ভারতীয় সরকারের মুখপাত্র তার ব্রিফিং টিম সহ এসে হাজির হলেন, তখন উপস্থিত সাংবাদিকরা অভিযোগ করলেন, আলোর অভাবে তারা কিছু দেখতে পাচ্ছেন না যে প্রেস রিলিজের বক্তব্য লিখে রাখবেন। সাংবাদিকেরা তাকে বাতি জ্বালিয়ে দেবার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করলেন।

তবে জবাবে ব্রিফিং প্রদানকারী অফিসারদের প্রধান বললেন,

– “জেন্টলমেন, আমি আপনাদের নিশ্চিত করছি এটা কোন মহড়া নয়। পাকিস্তান বিমান বাহিনী ভারতের নানা স্থানে একযোগে হামলা শুরু করেছে। আমরা সম্ভবত পূর্ণ সমরের দিকে এগিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছি।“


৩রা ডিসেম্বর, ১৯৭১, নয়াদিল্লী, ভারত
অন্ধকার হয়ে আসছিলো ভারতের রাজধানী শহরে, এর মধ্যেই হুট করে এয়ার রেইড সাইরেন বেজে উঠলো। ভারত সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর কনফারেন্সরুমে বেশ অনেকজন দেশী বিদেশী সাংবাদিক উপস্থিত হয়েছিলেন সন্ধ্যা ৬ টার ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ব পাকিস্তান বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির জন্য। চতুর্দিক অন্ধকার হয়ে এলো সাইরেন বাজার কিছুক্ষণ পরেই, সকল বাতি নিভে গেলো। সবাই ধারণা করছিলো যে এটা বিমান হামলার মোকাবিলায় সতর্কতামুলক মহড়ার জন্যই করা হচ্ছে।

ঠিক ছয়টায় যখন ভারতীয় সরকারের মুখপাত্র তার ব্রিফিং টিম সহ এসে হাজির হলেন, তখন উপস্থিত সাংবাদিকরা অভিযোগ করলেন, আলোর অভাবে তারা কিছু দেখতে পাচ্ছেন না যে প্রেস রিলিজের বক্তব্য লিখে রাখবেন। সাংবাদিকেরা তাকে বাতি জ্বালিয়ে দেবার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করলেন।

তবে জবাবে ব্রিফিং প্রদানকারী অফিসারদের প্রধান বললেন,

– “জেন্টলমেন, আমি আপনাদের নিশ্চিত করছি এটা কোন মহড়া নয়। পাকিস্তান বিমান বাহিনী ভারতের নানা স্থানে একযোগে হামলা শুরু করেছে। আমরা সম্ভবত পূর্ণ সমরের দিকে এগিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছি।“

সন্ধ্যার পরপরই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া বেতার ভাষনে ঘোষণা করলেন,

– “এই বিমান আক্রমণের মাধ্যমে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সূচনা করেছে এবং ভারত তার সমুচিত জবাব দেবে।“

প্রকৃতপক্ষেই পাকিস্তান বিমান বাহিনী একযোগে ভারতের পশ্চিম সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত প্রায় এগারটি ভারতীয় বিমান ঘাঁটিতে আক্রমণ করে বসেছিলো সন্ধ্যে ৫ টা ৪০ মিনিটে। এই বিমান হামলার পরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাম্ব সেক্টরে বড়মাত্রার আক্রমণ শুরু করে। ভারতীয় সেনাবাহিনী পশ্চিম সীমান্তে কোন ধরনের আক্রমণের জবাব না দিয়ে প্রতিরক্ষামুলক অবস্থান গ্রহণ করলো। তবে পূর্ব পাকিস্তানে তাদের সেনাবাহিনী এর পরপরই পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করবে। আর ইতিহাসে প্রথমবারের মত ভারত পাকিস্তান একসাথে দুইটি ফ্রন্টে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। এই পূর্ব পরিকল্পিত আক্রমণের কোডনেম ছিলো “অপারেশন চেঙ্গিস খান”। এই আক্রমণে ১৯৬৭ সালের ইসরায়েলী বিমান বাহিনীর ‘অপারেশান ফোকাসের’ মত অকর্স্মাৎ আক্রমণ চালিয়ে সেই সময়ের আরব বিমান বাহিনীর মত ভারতীয় বিমান বাহিনিকেও ভুমিতেই ধ্বংস করে দেবার কৌশল নেয়া হয়। তবে তাতে মাত্র ৫০ টির মত বিমান অংশগ্রহণ করলো, পূর্ণ শক্তি নিয়ে আক্রমণ করলো না। পাকিস্তান তাদের শেষ চালটিও ভুল দিলো। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের সময় কেবল এগিয়েই আসবে।

সেদিন গভীর রাত থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের অভ্যন্তরের নানা সামরিক স্থাপনায় বিমান আক্রমণ শুরু করা হলো। ভারতীয়রা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এমন কিছুর আশংকা করছিলো এবং জবাব দিতে প্রস্তুত হয়েই ছিলো। পরদিন সকাল থেকে এই বিমান আক্রমণ প্রচন্ডতর হবে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সূচনা হলো। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনীকে পূর্ব পাকিস্তানে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিলেন। ভারতীয় সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনী সমন্বিতভাবে আক্রমণ শুরু করলো পূর্ব পাকিস্তানে। পুর্বের ফ্রন্টে ভারতের প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো ঢাকাকে যথাশীঘ্রই দখলমুক্ত করা এবং পশ্চিম ফ্রন্টে পাকিস্তানী সেনাদের থমকে রাখা। পশ্চিম সীমান্তে ভারতীয়রা বড় ধরনের কোন আক্রমণে যায়নি।

পশ্চিমে সামরিক আক্রমণের সূচনা করে পাকিস্তানীরাই। সেখানে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী আর্মার্ড এবং আর্টিলারীর শক্তিতে ভারতের সমপর্যায়ের ছিলো, যদিও পদাতিক সেনা শক্তিতে পাকিস্তান পিছিয়ে ছিলো। পাকিস্তানীরা চাম্ব সেক্টরে কিছুটা সাফল্য লাভ করলো প্রাথমিক আক্রমণে। সেখানে ২৩তম আর্মার্ড ডিভিশন দুটি পদাতিক ব্রিগেড এবং অতিরিক্ত একটি করে আর্মার্ড এবং আর্টিলারী ব্রিগেডের সহযোগিতায় ভারতীয় বাহিনীর দশম ডিভিশনকে হটিয়ে চাম্ব গ্রামের দখল নিতে সক্ষম হয় এবং জম্মু-কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী জম্মুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। প্রায় সপ্তাহখানেক এখানে তুমুল যুদ্ধ চললো। ভারতীয় সেনাদের পাল্টা আক্রমণের মুখে পাকিস্তানী সেনারা প্রাথমিক সাফল্যের পরেও পিছু হটতে বাধ্য হয়। এর পেছনে একটি কারণ ছিলো ২৩তম ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেঃ ইফতিখার খান ১০ ডিসেম্বর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে মারা যান এবং আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা সামরিক পরিকল্পনায় ছেদ পড়ে।

পাকিস্তানী আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিলো পশ্চিমের ফ্রন্টে যতটা সম্ভব ভারতীয় ভূখন্ড দখল করা। এ সময় পুঞ্জ সেক্টরেও বড় মাত্রার আক্রমণ করা হয়, তবে ভারতীয়রা তা সম্পূর্ণরূপে প্রতিহত করে। পাঞ্জাব সীমান্তের ফাজিলকা এবং হুসেইনিওয়ালায়ও আক্রমণ করা হয়। প্রাথমিক সাফল্যের পর তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তানীরা। এর বাইরে সবচেয়ে বড় মাত্রায় আর্মার্ড আক্রমণ করা হয় রাজস্তানের মরুভুমি দিয়ে। লঙ্গেওয়ালার বিখ্যাত ট্যাঙ্ক যুদ্ধের মাধ্যমে এখানেও এসে থমকে যায় পাকিস্তানী প্রচেষ্টা। সবকিছু দেখে এমন মনে হচ্ছিলো যে পাকিস্তানীরা দ্বিধায় ভুগছিলো যে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চেষ্টা করবে নাকি শক্তি জমিয়ে রাখবে শেষ পর্যন্ত। এসব কিছু বুঝে ওঠার আগেই অবশ্য একটু বেশি দেরী হয়ে যাবে।

ভারতীয় সেনাপ্রধান জেঃ শ্যাম মানেকশর এ ব্যাপারে সমস্ত পরিকল্পনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে এ ব্যাপারে অনেক আগে থেকেই আলোচনা করে কৌশল নির্ধারন করেন। উনি এর আগে বর্ষাকাল পেরিয়ে যাবার অপেক্ষায় ছিলেন, কারণ, পূর্ব পাকিস্তানে বর্ষাকালে সামরিক ভারী যান এবং অস্ত্র নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা খুবই দুরুহ কাজ হতো। এ সময় পার হবার পর পাকিস্তানীরা আক্রমণ করে তাকে চমৎকার একটি সুযোগ এনে দিলো। মুক্তিবাহিনী এ সময়ের মধ্যে প্রায় পুরোপুরি সক্ষম একটি শক্তিতে পরিনত হয় এবং ভারতীয় বাহিনীও বেশ অনেকদিন ধরেই এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। তবে উনি চীনা সেনাবাহিনীর থেকেও আক্রমণের ভয় করছিলেন যাদের হাতে মাত্র নয় বছর আগে ভারতীয়রা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। চীন ছিলো পাকিস্তানের মিত্র দেশ এবং পূর্ব পাকিস্তান ইস্যুতে ভারতে নানা হুমকী ধামকি দিয়ে যাচ্ছিলো সময়ে সময়ে। তাই অন্যান্য সামরিক কমান্ডাররা অসন্তুষ্ট হলেও পশ্চিম সীমান্তে কোন ধরনের পাল্টা আক্রমণে যাওয়া থেকে বিরত থাকলেন। চীনের সাথে দীর্ঘ্য এবং ঝুকিপূর্ণ সীমান্তে তার হাতে থাকা সামরিক শক্তির একটা অংশ মোতায়েন করে রাখলেন তিনি। উনার প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের বড় একটা অংশের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এর মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের বড় একটা অংশে যুদ্ধ বিরতির আগেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠা করা যেতো কোন ধরনের আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আগেই। তিনি এ লক্ষ্যে সামরিক বাহিনীর তিনটি কোরকে (সর্বমোট ১২টি ডিভিশন) পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং ত্রিপুরা থেকে ত্রিমুখী আক্রমণের নির্দেশ দিলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শক্তি ছিলো প্রায় ৪৫ হাজার সেনার তিনটি খর্বশক্তির ডিভিশন এবং অন্যান্য প্যারা মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্যরা যাদের পশ্চিম পাকিস্তান থেকে উড়িয়ে নিয়ে আসা হয়েছিলো। এর বাইরে রাজাকার বাহিনীর প্রায় পঞ্চাশ হাজার সশস্ত্র বাঙ্গালী দোসর তাদের সাহায্যকারী হিসেবে মজুদ ছিলো। তাদের বলা হয় সকল বাঁধা যথাসম্ভব এড়িয়ে গিয়ে যতটা সম্ভব ভুখন্ড দখলে নিতে। মাত্র ১২ দিনের যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে ভারতীয় বাহিনীর আনুমানিক পাঁচ হাজার সেনা নিহত হন। প্রথমদিকে ভারতীয় বাহিনী কিংবা মিত্র বাহিনীর কেউই ধারণা করতে পারেনি যে এতো দ্রুত তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করে ফেলবে, তবে খুব দ্রুতই মিত্র বাহিনী চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যেতে থাকবে।

৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১
ভারতীয় পার্লামেন্ট, দিল্লী

আজকে ভারতীয় পার্লামেন্ট ভবনে এক অন্যরকম আমেজ দেখা যাচ্ছে। পার্লামেন্টের সকল সদস্য, সকল মন্ত্রী উপস্থিত। আজকে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী একটা বিশেষ ঘোষণা দেবেন আর এ ব্যাপারে সকল দলকে অবগত করা হয়েছে ইতিমধ্যে এবং সকল দলের সম্মতিও পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সংসদে ঘোষণা করলেন,

“I am glad to inform the House that in the light of the existing situation and in response to the repeated requests of the Government of Bangladesh, the Government of India have after the most careful consideration, decided to grant recognition to the people’s republic of Bangladesh…

…I’m confident that in future the government and the people of India and Bangladesh, who share common ideals and sacrifices, will forge a relationship based on the principles of mutual respect for each other’s sovereignty and territorial integrity, non-interference in internal affairs, equality and mutual benefit. Thus working together for freedom and democracy we shall set an example of good neighbourliness which alone can ensure peace, stability and progress in this region. Our good wishes to Bangladesh.”

১২ ডিসেম্বর, ১৯৭১
তেজগাও বিমানবন্দর, ঢাকা
সকাল ১১ টা


টাইগার নিয়াজী প্রেস কনফারেন্সে মুখেই তুড়ি ফুটাচ্ছেন। ঢাকাও পতনের মুখে রয়েছে নাকি এমন এক প্রশ্নের জবাবে উনি সাংবাদিকদের উনার বুকের দিকে ইশারা করলেন এবং বললেন,

– “এজন্য তাদের আগে এর উপর দিয়ে ট্যাঙ্ক চালিয়ে যেতে হবে।“
উনি আরো প্রতিজ্ঞা করলেন যে শেষপর্যন্ত উনি লড়ে যাবেন। আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন,

– “কতক্ষণ?”

জোর গলায় উনি উচ্চারণ করলেন,

– “last man, last round”.

হয়তো উনার চখে ভেসে উঠেছিলো সপ্তম নৌবহর এগিয়ে আসার কাল্পনিক এবং আশাবাদী দৃশ্য। তাই তিনি এভাবে বলার সাহস পেলেন। আরো বললেন,

– “Dhaka will fall only over my dead body.”

আত্মসমর্পনের দলিল স্বাক্ষরের মাত্র ৪ দিন আগে!

১২ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা

কিছুক্ষণ আগে প্রেস কনফারেন্স শেষ হয়েছে জেনারেল নিয়াজীর। এসে শুনলেন মেজর জেনারেল রহিম চাঁদপুর থেকে জীবন হাতে নিয়ে পালিয়ে এসেছেন। আসবার পথে কিছুটা আহতও হয়েছেন। উনি বর্তমানে জেঃ ফরমানের বাসভবনের একটি অংশে অবস্থান করছেন প্রাথমিক চিকিৎসার পর। আজ পুরদস্তুর যুদ্ধের নবম দিন চলছে। তাদের মনে এখন এই ভাবনাই কাজ করছে যে ঢাকা আসলেই সুরক্ষিত কিনা। জেঃ ফরমান এবং জেঃ রহিমের মধ্যে কথাবার্তা চলছিলো। জেঃ রহিম বললেন যে যুদ্ধবিরতিই একমাত্র পথ। জেঃ ফরমান এই কথা শুনে একটূ অবাক হলেন। উনি সবসময় ভারতের বিরুদ্ধে লম্বা এবং ফলপ্রসু যুদ্ধের কথা বলতেন। জেঃ ফরমান একটু কঠিন গলায়ই বললেন,

– “ব্যাস দানে মক গায়ে- ইতনি জালদি! (Have you lost your nerve – so soon!)”

জেনারেল রহিম জবাব দিলেন,

– “একটু বেশিই দেরী হয়ে গেছে।“

এই আলোচনার মধ্যে জেঃ নিয়াজী এবং জেঃ জামশেদ চলে আসলেন আহত জেঃ রহিমকে দেখতে। জেঃ রহিম তাদেরও একই কথা বললেন। কিন্তু জেঃ নিয়াজী কোন প্রতিক্রিয়া দেখালেননা। ততদিনে বিদেশী সাহায্য লাভের সকল আশাও দূর হয়ে গেছে। এই বিষয় এড়িয়ে গিয়ে জেঃ ফরমান পাশের কক্ষে চলে গেলেন।

কিছু সময় জেনারেল রহিমের সাথে কাটানোর পর জেঃ নিয়াজী পাশের কক্ষে জেঃ ফরমানকে গিয়ে বললেন,

– “তবে রাওয়ালপিন্ডিতে বার্তা পাঠাও!”।

মনে হচ্ছিলো জেঃ নিয়াজী জেঃ রহিমের পরামর্শ মেনে নিয়েছেন, যা স্বাভাবিক সময়েও উনি মেনে চলতেন। জেঃ নিয়াজী চাইছিলেন গভর্নর হাউজ থেকে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠানো হোক প্রেসিডেন্টের সম্মতির জন্য। কিন্তু জেঃ ফরমান মতো দিলেন যে এটা ইস্টার্ন কমান্ড হেডকোয়ার্টার থেকেই যাওয়া উচিত। জেঃ নিয়াজী বললেন,

– “কি আসে যায় কোথা থেকে পাঠানো হচ্ছে। আমার অন্য জায়গায় জরূরী কাজ আছে। তুমি এখান থেকেই পাঠাও। “

জেঃ ফরমান আবার আপত্তি জানাবার সুযোগ পাবার আগেই প্রধান সচিব মুজাফফর হুসেন কক্ষে প্রবেশ করলেন এবং কথাবার্তা শুনে বললেন যে এখান থেকেই তা পাঠানো যেতে পারে। বিতর্কের অবসান হলো এভাবেই।

জেনারেল ফরমান যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিলেন না, কিন্তু কোথা থেকে পাঠানো হবে এ ব্যাপারে ভিন্নমত দিয়েছিলেন। বেসামরিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে উনার আগের পাঠানো একই প্রস্তাব রাওয়ালপিন্ডি প্রত্যাখ্যান করেছিলো। একবার ধরা খেয়ে দ্বিতীয়বার আবার লজ্জিত হতে চাননি। জেঃ নিয়াজী তার তথাকথিত জরুরী কাজে চলে গেলেন এবং এরপর মুজাফফর হুসেন সেই ঐতিহাসিক নোটটির খসড়া তৈরী করেন। এটি জেঃ ফরমান আবার দেখেন এবং গভর্নরের কাছে প্রেরণ করেন, যা ওইদিন সন্ধ্যাতেই প্রেসিডেন্টের কাছে পৌছাবে।

এই নোট কিংবা সংক্ষিপ্ত বার্তায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে পূর্ব পাকিস্তানের “নিস্পাপ জীবন” রক্ষায় যা কিছু সম্ভব করবার অনুরোধ করা হলো!

১৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১
গভর্নরস অফিস, পূর্ব পাকিস্তান

এদিন সকলে রাওয়ালপিন্ডির নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্টকে কোন সিদ্ধান্ত দেবার ফুরসত করার জন্য খুব বেশিরকম ব্যস্ত মনে হচ্ছে। এদিন জেঃ ফরমানকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আজকে উনাকে পাকিস্তানপ্রেমী ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নিবেদিতপ্রান সামরিক শাখার নেতাদের সাথে ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। আলবদর, আল শামস উনার নিজের মস্তিস্কপ্রসুত বাহিনী। বাঙ্গালীকে শেষ শিক্ষা দিতে এদের কাজে লাগাবার শেষ সুযোগ এবং শেষ কিছু মুহুর্ত এখন আর হেলাফেলা করে নষ্ট করবার সময় নেই। আগে উনি বলেছিলেন বাঙ্গালীকে এমন শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে আগামী ২৫ বছর তারা মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারবে না। আর এবার এমন কিছু করে যাবেন যাতে আরো ৫০ বছর কোমড় সোজা করে দাঁড়াতে না পারে। দু-একদিনের মধ্যেই যা করবার করে ফেলতে হবে!

হাতে সময় নেই, একেবারেই নেই!

১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
গভর্নরস হাউস, ঢাকা
সকাল ১১ টা ১৫ মিনিট

উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি সভা আহবান করা হয়েছে। কিন্তু তিনটি ভারতীয় মিগ জঙ্গী বিমান গভর্নরস হাউস আক্রমণ করে বসলো। গোয়েন্দাসুত্রে কিভাবে যেন ভারতীয়রা এ বৈঠকের কথা জেনে গিয়েছিলো, তাই মানসিকভাবে আরো ভেঙ্গে দিতে এই হামলা করা হলো। গভর্নর ডঃ মালেক সাহেব এয়ার রেইড শেল্টারে গিয়ে আশ্রয় নিলেন এবং তার ইস্তফাপত্র লিখে ফেললেন। প্রায় সব জীবিত প্রাণীই সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন, যদিও কিছু দুর্ভাগা একুরিয়াম ফিস সৌখিন কাঁচের পাত্র ভেঙ্গে মেঝেতে পরে দমবন্ধ হয়ে হাসফাঁস করতে করতে মারা গিয়েছিলো।

( এই ডঃ মালেক ছিলেন শান্তি নিকেতনের ছাত্র। নিপাট ভদ্রলোক, রবীন্দ্রপ্রেমী এবং সংস্কৃতিমনা বলেই পরিচিত চিলেন বলে জানা যায়। এভাবে মুখোশ ধরে থেকে একজন মানুষ কিভাবে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর অধীনে থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যায় সাহায্য করেছিলো এ এক অবাক ব্যাপার! মানুষ সব করতে পারে, একমাত্র মানুষই পারে!)

পূর্ব পাকিস্তান সরকারের সব কর্মকর্তা পরিবার সহ ঐদিনই হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হোটেলটি আন্তর্জাতিক রেডক্রস কর্তৃক নিরপেক্ষ অঞ্চল হিসেবে ঘোষিত হয়েছিলো। বেশ অনেকজন পশ্চিম পাকিস্তানী ভিআইপি যাদের মধ্যে মুখ্য সচিব, পুলিশের আইজি, কমিশনার ঢাকা ডিভিশন, প্রাদেশিক সচিবেরা সহ অনেকেই ছিলেন তারা পাকিস্তান সরকারের পদ থেকে লিখিত ইস্তফা দিয়ে এসেছিলেন যাতে এই নিরপেক্ষ অঞ্চলে ঢুকতে পারেন। কারণ, প্রাদেশিক সরকারের কোন কর্মকর্তা রেডক্রসের নিরাপত্তা পাবার যোগ্য ছিলেননা।

১৪ ডিসেম্বরই হয়ে থাকলো পূর্ব পাকিস্তান সরকারের শেষ দিন। সরকারের যা কিছু উচ্ছিষ্ট ছিলো এবং গভর্নর হাউস ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। পাকিস্তানের শত্রুদের এখন কেবলমাত্র টাইগার নিয়াজী এবং তার দিশেহারা বাহিনীকে কাবু করলেই চলবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় সম্পন্ন করবার জন্য। এরমধ্যে জেঃ নিয়াজী তার সকল উদ্যম হারিয়ে ফেলেছেন। উনার সুরক্ষিত বাঙ্কার থেকে কদাচিতই তিনি বের হচ্ছেন এবং সিদ্ধান্ত যা দেবার সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে দিচ্ছেন, যার উপর উনার এখন আর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই।

বাস্তবতা বুঝেই জেঃ নিয়াজী প্রেসিডেন্টোকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু জবাব না পেয়ে তিনি ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে চীফ অফ স্টাফ জেঃ হামিদকে ফোন করে তাকে জিজ্ঞেস করলেন,

– “Sir, I have sent certain proposals to the President. Could you kindly see that some action is taken on them soon.”

এবার ব্যস্ত প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান তার সময় বের করতে পারলেন জবাব দেবার জন্য। তিনি গভর্নর ও জেঃ নিয়াজীকে নির্দেশ দিলেন লড়াই বন্ধে এবং জীবন রক্ষায় সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার। উনি আন-ক্লাসিফাইড বার্তাপত্রে জানালেন,

“Governor’s flash message to me refers. You have fought a heroic battle against overwhelming odds. The nation is proud of you and the world full of admiration. I have done all that is humanly possible to find an acceptable solution to the problem. You have now reached a stage where further resistance is no longer humanly possible nor will it serve any useful purpose. It will only lead to further loss of lives and destruction. You should now take all necessary measures to stop the fighting and preserve the lives to armed forces personnel, all those from West Pakistan and all loyal elements. Meanwhile I have moved UN to urge India to stop hostilities in East Pakistan forthwith and to guarantee the safety of armed forces and all other people who may be the likely target of miscreants.”

বার্তাপত্রটি দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটে রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রেরণ করা হয় এবং বিকেল ৩ টা ৩০ মিনিটে পূর্ব পাকিস্তান সময়ানুসারে গ্রহণ করা হয়।

১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ইউএস এমব্যাসী, ঢাকা

জেঃ নিয়াজী যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিকেলেই ইউএস কনসাল জেনারেল মিঃ স্পাইভ্যাকের কাছে ছুটলেন জেঃ ফরমান সহ। এর আগে তিনি সৌভিয়েত এবং চাইনিজ কুটনৈতিকদের কথা ভেবেছিলেন কিন্তু আমেরিকাকেই শেষ ভরসা ধরে নিলেন। যখন উনারা মিঃ স্পাইভ্যাকের অফিসে পৌছালেন, জেঃ ফরমানকে এন্টিরুমে অপেক্ষায় রেখে জেঃ নিয়াজী ভেতরে ঢুকলেন। সেখান থেকেই জেঃ নিয়াজীকে আবেগী কন্ঠে কথা বলতে শুনলেন কনসাল জেনারেলের সমবেদনা আদায়ে। যখন বুঝলে যে কিছু নরম করা গেছে তখন তিনি মিঃ স্পাইভ্যাককে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভারতীয়দের সাথে তার পক্ষ হয়ে আলোচনার জন্য অনুরোধ করলেন। কিন্তু সকল আবেগ নিমিষে ভুলে গিয়ে মিঃ স্পাইভ্যাক বললেন,

– “আমি যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে পারবো না ভারতীয়দের সাথে। তবে যদি চান, আপনার হয়ে একটি বার্তা পাঠাতে পারি।“’

এরপরই জেঃ ফরমানকে ডেকে এনে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান জেঃ শ্যাম মানেকশর প্রতি যুদ্ধবিরতি বার্তার খসড়া করতে বলা হলো। জেঃ ফরমান পুরো এক পাতার একটি নোট প্রস্তুত করলেন অনতিবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহবান জানিয়ে, যাতে লেখা ছিলো যুদ্ধবিরতির সময় পাকিস্তানী সেনা এবং আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য সহ পাকিস্তানের প্রতি অনুগত বেসামরিক জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে মুক্তিবাহিনী থেকে। সেই সাথে আহতদের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করতে হবে।

খসড়া প্রস্তুত হবার সাথে সাথে মিঃ স্পাইভ্যাক বললেন,

– “২০ মিনিটের মধ্যে বার্তা প্রেরণ করা হবে!”

জেঃ নিয়াজী এবং জেঃ ফরমান ফিরে গেলেন জেঃ নিয়াজীর এডিসি ক্যাপ্টেন নিয়াজীকে সেখানে অপেক্ষমাণ রেখে বার্তার প্রতিউত্তরের আশায়। ক্যাপ্টেন নিয়াজী সেখানে রাত ১০ টা পর্যন্ত বসে রইলেন, কিন্তু কোন উত্তর তখনো আসেনি। জেঃ নিয়াজী ঘুমাতে যাবার আগে তাকে ফোনে আবার জিজ্ঞেস করলেন প্রতিউত্তর এসেছে নাকি খবর নিতে।

কোন উত্তর আসেনি সে রাতে!!

(আসলে মিঃ স্পাইভ্যাক বার্তাটি জে; মানেকশর কাছে পাঠাননি। তিনি সেটা ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছিলেন। সেখান থেকে আমেরিকান সরকার প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে কোন পদক্ষেপ নেবার আগে, কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। উনি খুব সম্ভবত তার ভারী মন অন্য কোথাও হালকা করবার জন্য ব্যস্ত ছিলেন। পরে জানা যায় যে, ডিসেম্বরের ৩ তারিখের পর থেকেই উনি যুদ্ধে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন ও পরিণতি বুঝে যান এবং অফিসেও আর আসেননি।)

১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১
দিল্লী, ভারত

জেঃ মানেকশ প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে কথা বলে এইমাত্র ফিরেছেন। তিনি হাতে হাতে বার্তা লিখে তার স্টাফ অফিসারকে দিলেন। বার্তাটি ছিলো পাকিস্তানীদের যুদ্ধবিরতির আহবানের জবাব যেটা অনেক ঘুরে আমেরিকান এম্বেসীর মাধ্যমে ভারতীয়দের কাছে এসে পৌছেছে।

জেঃ মানেকশ যুদ্ধবিরতির আহবানের জবাবে জানালেন, যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করা হবে এবং বার্তায় উল্ল্যেখ করা ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে যদি পাকিস্তান সেনাবাহিনী “আমার অগ্রবর্তী সেনাদের কাছে” আত্মসমর্পন করে। উনি বার্তায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সী উল্ল্যেখ করে দিলেন যাতে করে কলকাতায় পুর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের যোগাযোগ করে সবকিছু ঠিক করা যায়।

জেঃ মানেকশর বার্তা রাওয়ালপিন্ডি পাঠানো হলো। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধানের কাছ থেকেও সন্ধ্যার পরপরই জবাব এবং নির্দেশনা পৌছে গিয়েছিলো পুর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের কাছে,

– “Suggest you accept the cease-fire on these terms as they meet your requirements….. However, it will be a local arrangement between two commanders. If it conflicts with the solution being sought at the United Nations, it will be held null and void.”

বিকেল ৫ টা থেকে পরদিন সকাল ৯ টা পর্যন্ত সাময়িক যুদ্ধবিরতির জন্য সম্মতি জানানো হলো। পরে যা দুপুর ৩ টা পর্যন্ত বর্ধিত করা হবে যুদ্ধবিরতির পদক্ষেপ নেবার জন্য। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেঃ হামিদ “উপদেশ” দিলেন জেঃ নিয়াজীকে যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী মেনে নিতে। জেঃ নিয়াজী এটাকেই আত্মসমর্পনের অনুমতি বলে ধরে নিলেন এবং তার স্টাফ অফিসার ব্রিগেডিয়ার বাকারকে নির্দেশ দিলেন এ সম্পর্কিত নির্দেশনা সকল ফর্মেশনে পৌছে দিতে। পুরো একপৃষ্ঠার একটি নোটে সেনাদের “বীরোচিত লড়াইয়ের” প্রশংসা করা হয় এবং স্থানীয় কমান্ডারদের তাদের ভারতীয় প্রতিপক্ষের সাথে যুদ্ধবিরতির জন্য যোগাযোগ করতে বলা হয়।

এই নোটের কোথাও “আত্মসমর্পন” কথাটির উল্ল্যেখ ছিল না কেবলমাত্র একটি বাক্য ছাড়া, যেখানে লেখা ছিলো, “Unfortunately, it also involves the laying down of arms.”; যার অর্থ কেবলমাত্র আত্মসমর্পনই বোঝায়।

(চলবে…)

ইস্টিশনে পূর্বে প্রকাশিত, পরিমার্জিত
চেকপয়েন্টঃ আদর্শ, দেশপ্রেম, স্বপ্ন, সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার অল্প গল্প) – ষষ্ঠ অধ্যায় থেকে

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 59 = 63