কড়াইল বস্তিঃ যে নিষ্ঠুরতার গল্পের শেষ নেই

কড়াইল বস্তি এই শহরের সবচে বড়ো বস্তি। নদীভাঙনের শিকার লাখো মানুষের নিবাস এই বস্তি। তাঁরা এখানে থাকেন।

বস্তি আর বসতির মধ্যে ফারাক খুব সামান্যই, আবার সামান্যও না, ভাষিক ফারাক সামান্য হলেও স্থানিক-সামাজিক ফারাক বিস্তর।

বসতিতে থাকে আপনার এবং আমার মতো ভদ্দরনোকেরা। যারা নামী ও দামী ইশকুলকলেজবিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। চাকরিতে বাকরিতে ব্যবসায় বাণিজ্যে সবকিছুতে এগিয়ে থাকে। যাদের একাংশ এইদেশের হর্তা এবং কর্তা হয়। আরেকাংশ সমরে ও শান্তিতে থাকে দেশের তরে। অর্থাৎ ধনী এবং গণিরা বসতিতে থাকে। ধন একটু কম থাকলে নিজেরে মধ্যবিত্ত বলে, এবং হাহুঁতাশ করে, এরাও বসতিতে থাকে।

বস্তিতে থাকে ‘ওরা’। যারা ভদ্দরনোক না। যারা ‘দেখতে ছবির মতো সুন্দর’ ক্যান্টনমেন্টে নাই। মিন্টো রোডে থাকার তো প্রশ্নই আসে না। যারা শিল্পকলা একাডেমি বা বেইলি রোডেও নাই। তবে তারা আছে। ছায়ার মতো যারা এই শহরে ঘোরাফেরা করে।

ওদের বিরুদ্ধে আমাদের নগরকত্তাদের এত্তোগুলা, এত্তোগুলা, অভিযোগ। ওরা খুব খারাপ। ওরা সব ক্রিমিনাল। ওরা সব ড্রাগসডিলার। সবচে বড়ো অভিযোগ, ওরা ‘বৈধ’ না, ওরা এই শহরে আছে অবৈধ ‘দখলদারির’ মাধ্যমে। যেন তাঁদেরকে বৈধ আবাসনের সুবিধা দেয়া হয়েছিলো। যেন এই রাষ্ট্রের তাঁদেরকে নিয়ে মাথাব্যথা আছে।

তবে মাথাব্যথা হয়, ডিএনসিসির ভদ্দরনোকদের যখন এঁদের দেখলে রাগ হয়, তখন মাথাব্যথা হয়। গুলশান লেকের দুই পাশে বস্তিটা অবস্থিত তো। ভদ্দরনোকদের এইসব ‘বস্তি’ আবার সহ্য হয় না (এইটা আমার একেবারে ব্যক্তিগত একটা পর্যবেক্ষণ, মধ্যবিত্ত পরিবারের সুশিক্ষিত ছেলেমেয়েরা আরএমজি সেক্টরে কর্মরত পোষাকশ্রমিকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ডাকেন ‘গার্মেন্টস’ বলে, আর যাঁরা বস্তিতে থাকেন তাঁদেরকে ‘বস্তি’ বলে)।

২০১২র ৪ এপ্রিল কড়াইল বস্তিতে উচ্ছেদাভিযান চালানো হয়েছিলো, কয়েক হাজার মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছিলো, কয়েক হাজার মানুষকে। সেই উচ্ছেদাভিযান ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছিলো। ইতিহাস খুঁড়ে সামান্য একটু বেদনা জাগানো যাক, মানে ধরে নিচ্ছি, আমার পাঠিকাপাঠক যাঁরা এখনো হৃদয় আছে তাঁদের।

“…বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক, যারা কড়াইল বস্তিতে কল্যাণমুলক কর্মকান্ড চালান, জানিয়েছে তাদের হিসেবে চারশোর মত পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, এবং তার ফলে হাজার দুয়েকের মত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বস্তিবাসীরা দাবি করেছে উচ্ছেদকৃত পরিবারের সংখ্যা হবে অন্তত হাজার-খানেক। কড়াইল বস্তিতে গিয়ে দেখা গেছে অনেক পরিবার তাদের তৈজস, আসবাবপত্র নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঢিবি করে রেখে বসে আছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন, এ ধরণের উচ্ছেদ অভিযানের কথা জানতেনই না। ফলে তারা অনেক জিনিসপত্র সরাতে পারেননি। একজন গার্মেন্টস শ্রমিক বিবিসির কাছে বলেন, বুধবার অনেক রাতে কাজ থেকে ফিরে তিনি দেখেন তার ঘর ভাঙ্গা এবং সমস্ত জিনিসপত্র উধাও। “সারাদিন কিছু খাইনি, কাজে যেতে পারিনি।…”

(সূত্রঃ http://www.bbc.com/bengali/news/2012/04/120405_sadhakaslum.shtml)

“খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটছে কড়াইল বস্তি থেকে সদ্য উচ্ছেদ হওয়া শ’ চারেক পরিবারের। চাল হারিয়ে চুলোর জোগাড়টাও আর হচ্ছে না। উপায়ান্তর না দেখে ঢাকায় জীবিকা নির্বাহের হাল ছেড়ে গাঁয়ের পথ ধরেছেন কেউ কেউ। কেউবা ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টি মাথায় নিয়ে টিকে আছেন কোনোমতে। সবচেয়ে দুর্ভোগ পেহাচ্ছে বৃদ্ধ, গর্ভবতী আর শিশুরা। এর ভেতরই নতুন জীবনের গান শোনাচ্ছে সদ্যজাতকের কান্না। আসছে মৃত্যুর ডাকও। সব মিলিয়ে রাজধানীর গুলশান এলাকার কড়াইল বস্তি যেন বিখ্যাত কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের সেই কেতুপুর গ্রাম। কেতুপুরের দুর্দশাগ্রস্ত জীবনের সঙ্গে পাঠকের পরিচয় ঘটাতে তিনি লিখেছেন, ‘ঘরে ঘরে স্রোতহীন কর্দমাক্ত জলরাশি থইথই করিতেছে।’ বুধবার উচ্ছেদের পর উপন্যাসের সেই প্রতিচ্ছবিই যেন ফুটে উঠেছে কড়াইল বস্তিতে। চালা-মাটির ঘরের পরিবর্তে কেবল ভাঙা ইট আর টিন-বেড়ার ছড়াছড়ি এই যা। উপরন্তু উচ্ছেদ হওয়া বস্তিবাসীর সঙ্গে যেন বৈরি আচরণ শুরু করেছে প্রকৃতিও। গত চার দিন ধরে ছাদহীন জীবনে লেগেই আছে বৃষ্টি। ভেতর আর বাইরের পানি যেন মিশে একাকার হয়ে প্রতিনিয়তই জীবনের পরাজয় ঘোষণা করছে। টলোমলো চোখে বস্তিবাসী জাহাঙ্গীর আলম বাংলানিউজকে বলেন, ‘লুঙ্গি ভেজা, শাডও (জামা) ভেজা, আকাশের যত পানি শরীলের ওপর পড়ে, যাওনের জায়গা নাই। মালছামানা (জিনিসপত্র) সব এলোমেলো করে দিছে। এখন খোলা আকাশের নিচে আমাদের ঠিকানা।’ গ্রামের বাড়ির কথা জিজ্ঞাসা করতেই বললেন, ‘নামেই দেশ (জেলা) শরিয়তপুর। সেখানে কিছুই নেই, যামু কই।’ ৮০ বছয়ের বৃদ্ধা জামেনা খাতুন বলেন, ‘আমি ৩৫ বছর থাইক্কা এইহানে বসবাস করতাছি। এখানকার খোলা মাটি ছাড়া কোনো জায়গা নাই। কি খামু, কি করুম, যাওনের কোনো জায়গা নাই। তার ওপরে বৃষ্টি, খোলা আকাশও আমাদের দেখে না।’ এক নবজাতকের মা স্বপ্না খাতুন বলেন, ‘আমার দুই দিনের বাচ্চা নিয়ে কি করুম? বৃষ্টিতে ভিজে বাচ্চার নিউমনিয়া হয়ে গেছে, কেমন ফেতর ফেতর (খক খক) করে কাশে। আমার জামাইয়ের ভ্যান গাড়িটাও ছুরমুর (ভাঙচুর) করে দিছে।’ গর্ভবতী রিতা খাতুন বলেন, ‘পেটে বাচ্চা নিয়ে কি করুম, কই যামু। আমার কোনো সমস্যা নাই, কিন্তু আমার পেটের বাচ্চার জন্য যত সমস্যা।’ বস্তি উচ্ছেদের পর তার মতোই অথৈ সাগরে পড়েছেন নতুন সন্তানের প্রহর গুণতে থাকা মোছা. মিনারা খাতুন, লাভলী আরা, আসমা খাতুন, সুফিয়া খাতুনসহ অনেক গর্ভবতী। এদিকে বিভিন্ন সমিতির কাছ থেকে লোন নিয়ে বস্তিতে যারা ছোটখাট ব্যবসা বা দোকান চালিয়ে আসছিরেন তাদের অবস্থা তো আরো খারাপ। একদিকে সর্বস্ব হারানোর বেদনা, তারওপর লোন শোধের আতঙ্ক আরো অস্থির করে তুলেছে তাদের। এমনই একজন আক্কাস আরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘সমিতির কাছ থিনে (থেকে) ৩০ হাজার টাকা নুন (লোন) নিয়েছিনু। কিন্তু সব ভেঙ্গে দিয়েছে, এখন নুন দেবো কিভাবে? কয়েক দিন পরে তো নুন আলারা গলাই পা দেবো।’…”

(সূত্রঃ http://m.banglanews24.com/national/news/102897/%E0%A6%95%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B2-%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE)

মানুষ তবু বাঁচে। বাঁচার ইচ্ছা যদি প্রবল হয় সে বাঁচে। মানবেতর পরিস্থিতিতেও সে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জানে।

তাই মার-খাওয়া-মানুষেরা জমিন থেকে উঠে দাঁড়ায়, যারা চলে গেছিলো ফিরে আসে, মাসখানেকের মধ্যে ঘর ওঠে কড়াইল বস্তিতে।

“…শুক্রবার সরেজমিনে কড়াইল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বস্তিটির একাংশ ভাঙা হলেও একই স্থানে আবার গড়ে উঠছে বসতঘর কিংবা দোকান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উচ্ছেদ হয়ে অনেকে বস্তি ছেড়ে চলে গেলেও কিছুদিন পরে আবার তারা ফিরে এসেছেন। একই স্থানে আবারও ঘর তুলছেন। কেউ কেউ স্থায়ী ঘর না বানিয়ে কোনো রকমে ছাপড়া তুলে বসবাস শুরু করে দিয়েছেন। বস্তি উচ্ছেদের দিন বসতঘর ও দোকান হারানো ধনু মিয়াকে দেখা গেছে, খুঁটি দিয়ে দোকানের সীমানা আন্দাজ করে আবারও মালামাল সাজাতে। ভাঙার পরও একই জায়গায় ঘর তুলছেন কেন জানতে চাইলে ধনু বলেন, ‌‌‌‌‌‌‌‘রাস্তা বাড়াইবার কথা কইয়েই ঘর ভাঙছিল। কিন্তু ২০-২৫ দিন হয়ে গেল, রাস্তা বানাতে কেউ আসে না দেইখ্যা আবার ঘর বানতাছি। মনে হয় না রাস্তা আর বাড়াইবো।’ এর পাশেই নিজেদের ঘর তুলতে ব্যস্ত সাবিনা বেগম ও তার স্বামী ওসমান মিয়া। তারা জানান, বস্তির ভেতরে অন্য স্থানে একটা ঘরও ভাড়া নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ৩ সন্তান নিয়ে তাদের যে আয় তাতে ঘর ভাড়া করে থাকা সম্ভব না দেখে অন্যান্যদের মতো আবারো আগের স্থানে ফিরে এসেছেন তারা। জানা গেছে, অনেকে পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে বস্তিতে একাই বাস করছেন। কিছুদিন পর এখানকার অবস্থা বুঝে আবার নিয়ে আসবেন পরিবারকে। তাদের মধ্যে একজন রিকশাচালক সোলায়মান। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘ঘর ভাঙার পর নিজের পোয়াতি বউটারে তার বাপের বাড়ি ফরিদপুরে পাঠাইছি। বাচ্চাডা হওনের পর গিয়ে নিয়ে আসুম। ততদিনে এদিককার অবস্থা ঠাণ্ডা হইয়া যাইবো।’”

(সূত্রঃ http://m.banglanews24.com/index.php/national/news/107499/%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%98%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%A0%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B2-%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87)

রাষ্ট্র আরেকটা সময় এঁদের ব্যাপারে মাথা ঘামায়। সেটা ভোটের সময়। তখন হঠাৎ এঁরা খুব মূল্যবান হয়ে ওঠেন।

আর এর মাঝখানে একটু একটু ‘ডেভেলাপমেন্ট’ হয়। তাও বেসরকারি উদ্যোগে। কারণ এই দেশে সরকার বলে কিছু নাই, মানে লুটপাটে আছে, আর কিছুতে নাই।

“…৯০ একরের বেশি জায়গাজুড়ে থাকা কড়াইল বস্তির জনসংখ্যা লক্ষাধিক। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৩ হাজার ভোটারের মধ্যে ২৬ হাজারই বাস করেন এ বস্তিতে। প্রার্থী ও ভোটারদের অনেকেই একমত, কড়াইল বস্তির ভোট যাঁর, এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদও তাঁর। এ কারণেই প্রার্থীদের নজর এ বস্তিতে।… বউবাজারের একটি দোকানে টেলিভিশন দেখছিলেন কয়েকজন। তাঁদের আলাপচারিতায় বোঝা গেল, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে তাঁদের মনে শঙ্কা আছে। একজন বললেন, ‘সেনাবাহিনীর তো পাওয়ার নাই, তাদের থাকা না থাকা একই কথা।’ আরেকজন বলে উঠলেন, ‘যারা থাকব, হেরা অন্যরা কিছু করলে ধইরা লইয়া যাইব। আর ছাত্রলীগ-যুবলীগ কিছু করলে চা-বিস্কুট খাওয়াইব।’ ঢাকার অন্য বস্তির তুলনায় কড়াইল বস্তি কিছুটা পরিপাটি। এখানকার বাসিন্দারা কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার সুবাদে নিয়মিত খাওয়ার পানি পান কম খরচে। তবে বিদ্যুতের সংযোগ বৈধ না হওয়ায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার আতঙ্কে থাকেন। পয়োনিষ্কাশন আর মশার উপদ্রবের অস্বস্তি লেগে আছে। ১০ বছর ধরে এ বস্তিতে বাস করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রমিজউদ্দিন। তিনি বললেন, বস্তির অবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো। এখন সমস্যা হলো গ্যাস, বিদ্যুৎ-সংযোগ বৈধ নয়। বস্তি অপরিষ্কার থাকে।…”

(সূত্রঃ http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/512851/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B2-%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87)

তারপর একদিন এই উন্নয়নের মার্জিনে-থাকা-মানুষদের ঘরবাড়িতে আগুন লাগে। একদিন না, দুইদিন। নয় মাসের ব্যবধানে।

/ALTERNATES/w640/11_fire_korail+slum_14032016_0013.jpg” width=”500″ />

“রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে পুড়েছে অর্ধশত ঘর, এতে আহত হয়েছেন দুজন। সোমবার রাত ৮টার দিকে মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠের পূর্ব দিকের বিশাল এই বস্তির বেলতলা এলাকায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা ভজন কুমার সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন। আগুন থেকে স্বজনদের রক্ষা করতে গিয়ে একজন এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আরেকজন আহত হয়েছেন। আগুনে ৫০টি ঘর পুড়েছে বলে ঘটনাস্থল থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদক কামাল তালুকদার জানান। তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বা অগ্নিকাণ্ডের কারণের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি অগ্নি নির্বাপক বাহিনী। মহাখালীর বহুতল ভবনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কার্যালয় থেকে রাত ৮টার দিকে কড়াইল বস্তির একাংশে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।”

(সূত্রঃ http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article1119966.bdnews)

“নয় মাসের ব‌্যবধানে রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে আবারও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে; পুড়ে গেছে কয়েকশ ঘর। রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে পুড়েছে অর্ধশত ঘর ফায়ার সার্ভিসের ওসি এনায়েত হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বেলা আড়াইটার পর ওই বস্তিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাদের ১৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। পৌনে দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর বেলা ৪টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার পলাশ চন্দ্র মোদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মফিজুর রহমান মফিজ বলছেন, এ ঘটনায় পাঁচশর বেশি ঘর পুড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; গৃহহীন হয়েছে সহস্রাধিক মানুষ। বস্তি এলাকার একটি দোকান থেকে আগুনের উপত্তি হয় বলে স্থানীয়দের কাছে শুনেছেন তিনি। তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বা অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ‌্য জানাতে পারেনি অগ্নি নির্বাপক বাহিনী। প্রাথমিকভাবে হতাহতেরও কোনো খবর পাওয়া যায়নি।”

(সূত্রঃ http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article1252361.bdnews)

/ALTERNATES/w640/Korail-Slum-fire01.jpg” width=”500″ />

বারবার কেনো কড়াইল বস্তি জতুগৃহে পরিণত হয়? কখনো দৃশ্যমান আর কখনো অদৃশ্য আগুনে পোড়ে? বিচ্ছিন্ন ঘটনা কি?

বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্রে আমার পেশাগত প্রয়োজনে আমি ডেভিড হার্ভের একটি প্রবন্ধ অনুবাদ করেছিলাম। নিউ লেফট রিভিউয়ের (৫৩) ২০০৮এর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সংখ্যায় দি রাইট টু দি সিটি শিরোনামে সেই প্রবন্ধ বেরিয়েছিলো তাঁর। সেখানে তাত্ত্বিকভাবে তিনি দেখিয়েছেন গত কয়েকশ বছর ধরে সাধারণভাবে পুঁজিবাদ ও গত কয়েকদশক ধরে বিশেষভাবে নয়াউদারনীতিবাদের সাথেই জড়িয়ে আছে কেমন শহর আমরা পাই বা পেতে পারি সে-প্রশ্নটাও।

“আমরা এমন এক কালে বাস করছি যখন মানবাধিকারের আদর্শগুলো রাজনৈতিক ও নৈতিক উভয়ভাবেই মঞ্চের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়েছে। একটি উন্নততর পৃথিবী নির্মাণের জন্য তাদের গুরুত্বকে উর্ধবে তুলে ধরার কাজে প্রচুর শক্তি ব্যয় করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রবহমান ধারণাগুলো আধিপত্যশীল উদারনৈতিক ও নয়াউদারনৈতিক বাজার যুক্তিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনে না, আইনগততা ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপেও নয়। যে যাই বলুক, আমরা তো এমন একটা বিশ্বেই বাস করি, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার ও মুনাফার হার অন্য সব অধিকারকে ছাপিয়ে যায়। আমি এখানে অন্য এক ধরনের মানবাধিকার খতিয়ে দেখতে চাই, সেটা হচ্ছে, দা রাইট টু দা সিটি। … বিগত একশ বছরের নগরায়নের বিস্ময়কর গতি ও মাত্রা কি মানুষের ভালো থাকায় কোনো অবদান রাখতে পেরেছে? কি ধরনের শহর আমরা চাই এই প্রশ্নটা কি ধরনের সামাজিক সম্পর্ক, প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক, জীবনযাপনপদ্ধতি, প্রযুক্তি, এবং নন্দনতাত্ত্বিক মূল্যবোধ আমরা কামনা করি তার থেকে পৃথক করা যায় না।…”

“…আমরা ক্রমবর্ধমানভাবে বাস করছি বিভক্ত ও সহিংসতা-পরিপূর্ণ নাগরিক এলাকাগুলোতে। গত তিন দশকে, নিওলিবারাল ঝোঁক শ্রেণী ক্ষমতাকে ধনী অভিজাতদের হাতে নিয়ে এসেছে। তখন থেকে মেক্সিকোতে দেখা দিয়ে চৌদ্দজন ধনকুবের, এবং ২০০৬এ দেশটি অহংকার করেছে পৃথিবীর ধনীতম ব্যক্তি তাদের লোক হওয়ার, কার্লোস স্লিম, সেই সময়ে যখন গরিবদের আয় হয় স্থবির হয়ে গেছে আর না হয় হ্রাস পেয়েছে। ফলাফলটা আমাদের শহরসমূহের স্থানিক রূপের ওপর অনস্বীকার্য প্রভাব ফেলেছে, যা ক্রমবর্ধমানভাবে দূর্গীকৃত অংশ, আটকে পড়া সম্প্রদায়, আর ব্যক্তিগতকৃত গণ পরিসরগুলোকে নিরন্তর নজরদারিত ভেতরে রাখে। বিশিষ্টভাবে উন্নয়নশীল দুনিয়ায়, নগর “দুটো ভিন্ন স্বতন্ত্র অংশে ভাগ হয়ে গেছে, আপাতদৃষ্টিতে অসংখ্য ‘মাইক্রো-স্টেট’ গঠন করার মাধ্যমে। ধনী নেইবরহুড যেখানে প্রদত্ত হয়েছে সমস্ত সেবাসামগ্রী, যেমন বিশেষ স্কুল, গলফ খেলার মাঠ, টেনিস কোর্ট, এবং প্রাইভেট পুলিশ ঘড়ি ধরে টহল দিচ্ছে এলাকাটায়, এরই অপরপক্ষে থাকে অবৈধ বসতি যেখানে পানি পাওয়া যায় শুধু গণ ঝর্নায়, কোনো স্যানিটেশন সিস্টেমের অস্তিত্বই নেই, বিদ্যুৎ পাইরেট করা হয় সুবিধাপ্রাপ্ত সামান্যের জন্য, রাস্তাঘাট কর্দমাক্ত হয়ে যায় একটু বৃষ্টি হলেই, এবং যেখানে সাবলেট থাকা একটা প্রথা। প্রতিটি অংশ বাঁচে ও ক্রিয়া করে যেনো স্বয়ংক্রিয়ভাবে, অস্তিত্বের দৈনন্দিন লড়াইয়ে যতোটা সম্ভব কেড়ে নেয়া গেছে তার সাথে দৃঢ়ভাবে লেগে থেকে।” [9]…”

“…এই পরিস্থিতিতে, নাগরিক পরিচয়ের আদর্শ, নাগরিকত্ব, এবং বিলোংগিং-ইতোমধ্যেই যা হুমকির মুখে পড়েছে নয়াউদারনৈতিক নীতিশাস্ত্রের অসুখে আক্রান্ত হয়ে-টিকিয়ে রাখা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যক্তিগতকৃত পুনর্বিন্যাস, ব্যক্তি নিরাপত্তাকে হুমকির সম্মুখীন করে প্রতিটি বাঁকে, পুলিশী নিপীড়ণের জন্য জনপ্রিয় দাবীকে জোরদার করে। একটা সামষ্টিক বডি পলিটিক হিসেবে নগর যে ক্রিয়া করতে পারে এই চিন্তাটাও, একটা সাইট যার ভেতরে এবং যার ভেতর থেকে প্রগতিশীল সামাজিক আন্দোলন বিকশিত হতে পারে, অকল্পনীয় মনে হয়।…”

“…পুরনোর ধবংসস্তূপের ওপর নতুন নাগরিক দুনিয়া নির্মাণের জন্য সহিংসতার প্রয়োজন হয়। হাউজম্যান পুরনো প্যারিসিয়ান বস্তিগুলো ভেঙে ফেলেছেন, নাগরিক উন্নতি আর জীর্ণসংস্কারে নামে দখলচ্যুতির ক্ষমতা ব্যবহার করে। তিনি শ্রমিক শ্রেণীর উল্লেখযোগ্য অংশ এবং অন্যান্য শাসনঅযোগ্য উপাদানকে নগরকেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেয়ার দেখভাল করেছেন ধারাবাহিকভাবে, যেখানে তারা গণব্যবস্থা আর রাজনীতিক ক্ষমতাকে একটা হুমকির মুখে ফেলছিলো।…”

“…এটা এশিয়ার অধিকাংশে সাম্প্রতিক নাগরিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রয়োগতব্য- দিল্লি, সিউল, মুম্বাই- নিউ ইয়র্কের ভদ্রজনীকরণের ক্ষেত্রেও। একটা স্থানচ্যুতিকরণের প্রক্রিয়া, এবং আমি যেটাকে বলি ‘অধিকারচ্যুতিকরণের মাধ্যমে সঞ্চয়ন’ পুঁজিবাদের অধীনে নগরায়নের একেবারে কেন্দ্রে বিরাজ করে। (12) এটা নাগরিক পুনঃউন্নয়নের মাধ্যমে পুঁজি শোষণের আয়না প্রতিবিম্ব, এবং এটা নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে মূল্যবান জমি দখল করা নিয়ে অগুনতি সংঘাতের জন্ম দেয় যাঁরা হয়তো সেখানে দীর্ঘদিন ধরে থেকেছেন। বিবেচনা করেন ১৯৯০এর সিউলের কেসটাঃ কন্সট্রাকশন কোম্পানি আর ডেভলাপাররা সুমো-কুস্তিগীর টাইপের গুণ্ডার দল ভাড়া করে এনেছিলো নগরীর পাহাড়ঘেঁষা এলাকার নেইবরহুডগুলোতে আগ্রাসন চালাতে। তারা শুধু ভবনগুলোকে ভেঙে তছনছ করে দেয় নি, তারা সমূহ সম্পদের ক্ষতি করেছে সেইসব লোকদের যাঁরা পঞ্চাশের দশকে নিজেদের ঘরদোর নিজেরাই নির্মাণ করেছিলেন তার ওপর আজকে যা পরিণত হয়েছে প্রিমিয়াম ল্যান্ডে। আকাশচুম্বী টাওয়ার, যা আজকে কোনো নৃশংসতার চিহ্ন বহন করে না, তা এইসব এলাকার অধিকাংশ আচ্ছাদন করে আছে। এই সময়কালে, মুম্বাইয়ে, ৬০ লক্ষ লোককে অফিসিয়ালি বস্তিবাসী হিসেবে গণ্য করা হয়, যারা কোনোরূপ আইনী অধিকার ছাড়াই জমির ওপর বসতি নির্মাণ করেছেন; শহরের সকল মানচিত্র এই এলাকাগুলোকে খালি দেখায়। প্রতিদ্বন্দ্বী শাংহাইয়ের বিরুদ্ধে একটা বৈশ্বিক আর্থ কেন্দ্র রূপে মুম্বাইকে গড়ে তোলার একটি প্রচেষ্টায়, সম্পত্তি-উন্নয়ন জোয়ারের পানি ফুলে ফেঁপে উঠেছে, এবং বস্তিবাসীদের দখল করে থাকা জমিকে খুবই মূল্যবান মনে হচ্ছে। ধারাভি, মুম্বাইয়ের সবচেয়ে আলোচিত বস্তিগুলোর একটি, তার হিসেবকৃত মূল্য আনুমানিক ২ বিলিয়ন ডলারের মতো। এটাকে উচ্ছেদ করার চাপ- পরিবেশগত ও সামাজিক কারণে যা জমি দখলের ইচ্ছাকে মুখোশ পরিয়ে রাখে- প্রতিনিয়ত বাড়ছে। রাষ্ট্র কর্তৃক মদদপুষ্ট আর্থ ক্ষমতা জোরপূর্বক বস্তি উচ্ছেদের চেষ্টা করে, কিছু ক্ষেত্রে একটা পুরো প্রজন্ম দ্বারা দখলে নেয়া সবকিছু পুনর্দখল করায়। রিয়েল-এস্টেট কর্মকাণ্ড জোয়ারের মাধ্যমে পুঁজি সঞ্চয়ন, যেহেতু প্রায় বিনা মূল্যে জমি নিয়ে নেয়া হচ্ছে। যেসব লোক উচ্ছেদ হয় তাঁরা কি ক্ষতিপূরণ পান? ভাগ্যবানরা পান কিছুটা। কিন্তু যখন ভারতের সংবিধান এটা সুনির্দিষ্ট করেছে যে রাষ্ট্রের একটা দায় আছে জীবন রক্ষার এবং সমগ্র জনগণের ভালো থাকার ক্ষেত্রে, বর্ণ বা শ্রেণীনিরপেক্ষভাবে, এবং আবাসন ও সুরক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করার, সুপ্রীম কোর্ট এই সাংবিধানিক আবশ্যকতার পুনর্লিখনের রায় ইস্যু করেছে। যেহেতু বস্তিবাসীরা অবৈধ দখলদার, এবং অনেকেই নিশ্চিতভাবে তাঁদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান নিশ্চিত করতে পারবে না, তাঁদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো অধিকার নেই। এই অধিকার নিশ্চিত করা, সুপ্রীম কোর্টের মতে, পকেটমারদেরকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য পুরস্কৃত করার মতো। তাই বস্তিবাসীরা হয় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অথবা লড়াই করেন, অথবা তাঁদের সামান্য সম্পত্তি নিয়ে মহাসড়কের পাশে তাঁবু গাড়েন, অথবা যে কোনো জায়গায় তাঁরা একটি ছোট্ট পরিসর পান। [13] অধিকারচ্যুতিকরণের উদাহরণ পাওয়া যাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও, যদিও এগুলো কম নৃশংস এবং অনেক বেশি আইনসঙ্গতঃ কনডোমিনিয়াম বা বক্স স্টোরের মতো উচ্চ-ব্যবস্থার জমি ব্যবহারের স্বপক্ষে ন্যায়সঙ্গত আবাসন থেকে প্রতিষ্ঠিত বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করতে সরকারের এমিনেন্ট ডোমেইনের অধিকার অপব্যবহৃত হয়। যখন এটাকে ইউএস সুপ্রীম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিলো, বিচারপতি রুল জারি করেছিলেন এই বলে যে স্থানীয় জুরিসডিকশনের তাদের সম্পত্তি-কর ভিত্তি বৃদ্ধি করার জন্য এই পদ্ধতিতে ব্যবহার করা পুরোপুরি সাংবিধানিক। [14] চীনে লক্ষ লক্ষ মানুষ অধিকারচ্যুত হচ্ছে সেইসব পরিসর থেকে যা তারা দীর্ঘদিন যাবৎ দখল করে ছিলো- এক বেইজিংএই ৩ মিলিয়ন। যেহেতু তাঁদের ব্যক্তিগত-সম্পত্তি অধিকারের অভাব আছে, রাষ্ট্র তাঁদেরকে স্রেফ ভয় দেখিয়েই সরিয়ে দিতে পারে, উচ্চতর মুনাফার জন্য জমিটা ডেভলাপারের কাছে দিয়ে দেয়ার আগে তাঁদেরকে তাঁদের প্রস্থানে সহায়তা করার জন্য হাতে সামান্য কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে। কিছু ক্ষেত্রে, লোকজন নিজেরাই চায়, কিন্তু ব্যাপকভিত্তিক প্রতিরোধের খবরও আসে, যার প্রতি সাধারণ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টির নৃশংস নিপীড়ণ। গণপ্রজাতন্ত্রী চীনে স্থানচ্যুত হয় সবসময়ই সেইসব লোক যারা প্রান্তে থাকে, লেফেভরের যুক্তিটার গুরুত্বটাই তুলে ধরে, যা প্রাঞ্জলভাবে বর্ণিত হয়েছে ১৯৬০এ, যে আগে গ্রাম ও নগরের ভেতরে যে ফারাকটুকু ছিলো তা ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আসছে অসম ভৌগলিক উন্নয়নের একগুচ্ছ এলোমেলো পরিসরে, পুঁজি ও রাষ্ট্রের আধিপত্যশীল নিয়ন্ত্রণের অধীনে। এটা ভারতেরও কেস, যেখানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলো এখন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাকে উৎসাহিত করে- শিল্প উন্নয়নের লোকদ্যাখানো কারণে, যদিও অধিকাংশ জমি নগরায়নের জন্যই নকশাকৃত। এই নীতি কৃষি উৎপাদকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, যার সবচেয়ে ভয়াবহ রূপটা দেখা গেছিলো ২০০৭এর মার্চে পশ্চিমবঙ্গে নন্দীগ্রাম গণহত্যায়, রাষ্ট্রের মার্কসবাদী সরকার দ্বারা পরিচালিত। সলিম গ্রুপের জন্য ভূখণ্ড উন্মুক্তীকরণের জন্য, একটি ইন্দোনেশিয়ান কনগ্লোমারেট, শাসক সিপিআই(এম) প্রতিবাদরত গ্রামবাসীকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য সশস্ত্র পুলিশ পাঠিয়েছিলো; কমপক্ষে ১৪ জনকে গুলি করে মারা হয় আর আহত হয় অসংখ্য।…”

(সূত্রঃ https://newleftreview.org/II/53/david-harvey-the-right-to-the-city)

কড়াইল থেকে ধারাভি, ঢাকা থেকে মুম্বাই, সারা দুনিয়ায় বঞ্চিত লাঞ্চিতদের মানবেতর জীবনযাপন তাই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিকতম অগ্নিকাণ্ডের মাত্র মাসখানেক আগে প্রকাশিত ঢাকা ট্রিবিউনের একটি রিপোর্ট সেই ইঙ্গিতই দেয়। সরকারের আইসিটি ডিভিশন কড়াইল বস্তির ১৯ একর জমির ওপর প্রাইভেট সেক্টর ডেভলাপমেন্ট সাপোর্ট প্রজেক্টের অধীনে একটা হাই-টেক পার্ক করার পরিকল্পনা করছে। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক আর ডিএফআইডি। (সূত্রঃ http://www.dhakatribune.com/bangladesh/2016/11/01/fear-eviction-haunts-korail-slum-residents/)। আগুন তো ‘লাগে’ না, আগুন ‘লাগানো’ হয়। এসব পুঁজিবাদ ও নয়াউদারনীতিবাদের নির্মানবিক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। সারা দুনিয়াতেই যদি এই পুঁজিবাদ ও নয়াউদারনীতিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনীতি দাঁড় করানো না যায়, মানুষের সমাজ নির্মাণের উদ্দেশ্যে, তাহলে এইসব জতুগৃহে পাণ্ডবকৌরবদের পারস্পরিক প্রতিহিংসায় পুড়ে যাওয়া নিষাদীদের দুঃখ কোনোদিনই দূর হবে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “কড়াইল বস্তিঃ যে নিষ্ঠুরতার গল্পের শেষ নেই

  1. উন্নয়নের আয়োজন করা হয়েছে।
    উন্নয়নের আয়োজন করা হয়েছে। তদন্ত করলে দেখা যাবে এই আয়োজনে রাষ্ট্রও জড়িত। আসলে এই ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় উন্নয়ন কর্মকান্ডে গরীবের ঘরে আগুন লাগে, ধনবানরা লাভবান হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 + = 20