মৃত্যু

কাগজে দেখলাম খবরের শিরোণাম,
“গৃহবঁধুর অস্বাভাবিক মৃত্যু”
এখন খবর খুঁটিয়ে পড়িনা আর,
সব খবরই কেমন চেনা জানা হয়ে উঠেছে ।
তবে শিরোণাম দেখে পড়লাম এ খবরটা ।
কারণটা এই নয় যে মৃত্যুটা ‘অস্বাভাবিক’
বরং উদ্দেশ্য এই যে, স্বাভাবিক মৃত্যু বলেও
আছে কিনা কিছু একটা, তা জানা ।

আগুনে পুড়ে মারা গেছেন গৃহবঁধু – অস্বাভাবিক এটা ।
আর আমার ঠাম্মা, আমাকে নিয়ে খেলতে খেলতে,
হাসতে হাসতে, কাঁথা সেলাই করতে করতে
হঠাৎ একদিন বিছানায় পড়ে থেকে মারা গেলেন ।
– সে কি স্বাভাবিক খুব ?
যদি স্বাভাবিকই হয়, তবে কেন এখনও আমার ইচ্ছে হয়,
তাঁর সাথে গেলা করি, গান শুনি তাঁর কন্ঠে ?

মৃত্যুকে অস্বাভাবিক বলে খবর ছাপার কী আছে,
যারা রোজ বাঁচে, মরে মাত্র একদিন,
তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুইতো অস্বাভাবিক ?

খবরের কাগজ বোধহয় তুলনা করেছে
আমার বান্ধবী অঞ্জনার মৃত্যুর সাথে,
সে রোজ চেষ্টা করে মরে যাওয়ার –
কখনো হাত কাঁটে, কখনো বিষ তুলে নেয় ঠোটে,
কখনো সারা রাত কাটিয়ে দেয়
ইশ্বরের কাছে মৃত্যু প্রার্থনা করতে করতে…
মরতে চেয়েও ঠিক পারেনা মরতে,আর এভাবেই
মৃত্যু হয়ে উঠেছে ওর স্বাভাবিক । জীবনের মত
মৃত্যুও ওর রোজই আসে ।
সে মরে গেলে অবাক হবোনা । তবুও মনে জাগবেই ইচ্ছা –
কখনো ওর সাথে কথা বলার, ওর ‘ফিলিং’
আরো ভাল করে বুঝে নেওয়ার, এমনকি ওর
চোখের জল দেখারও ।

তবে আর স্বাভাবিক রইল কই ?
মৃত্যু অস্বাভাবিক, স্বাভাবিক হয়না ।
মৃত্যুকে তাই কেবলই
মৃত্যু রাখা ভাল, নিঃসঙ্গ করে ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

85 − 78 =