জন্মভূমিতে এখন আমি অতিথি । হায় স্বাধীনতা !

জন্মভূমিতে এখন আমি অতিথি । হায় স্বাধীনতা !


“চাষাদের মোটেদের মজুরের
গরিবের নিঃস্বের ফকিরের
আমার এ দেশ, সব মানুষের, সব মানুষের।”

এটা বাংলাদেশের দেশ ভক্তির গা ন । গানটা আমার গীটারে তোলা ছিল । আমি আর একটা দেশভক্তির গান খুর বাজাতাম ।

“প্রতিদিন তোমায় দেখি সূর্যের আগে
প্রতিদিন তোমায় দেখে হৃদয় জাগে
সে আমার দেশ প্রিয় বাংলাদেশ ।”

গানটা এখনও গীটার নিয়ে বসলে বাজানোর চেষ্টা করি কিন্তু বাজাতে পারি না । কান্নায় মনটা ভেঙ্গে পরে । আমি গানটা বাজাবার সময় যখন কান্না করি মা আমার ঘর থেকে বেরিয়ে জান । মা জানে কাজল কেন কাঁদছে । গানটার সাথে জীবনের বাস্তব পরিস্থিতি পাল্টে গেছে । জীবনের মানেটাও এখন আর এক নেই । আমাকে কেও জীঞ্জেস করলে এই বলতে হয় ,“আমি পশ্চিমবঙ্গবাসি” । এটা আমরা পরিচয় না । আমার পরিচয় দোঁয়াশ মাঠির মত হয়ে গিয়েছে । কি মর্মি বেদনা । যে পেয়েছে সেই জানে ।দেশ আর মা সমান ।যাই হোক ।

এবার বাবার কথায় আসি ।দেশ ত্যাগ করে আমার বাবা পাঁচ বছর বেঁচে ছিলেন । মানে কারু সাথে কথা বলতেন না । সব সময় একটা উদাসীনতা লক্ষ করতাম। তিনি এখানে এসে বোবা হয়ে গিয়েছিলেন । দেশ ত্যাগের কষ্টটা চেপে রাখতে রাখতে হঠাৎ একদিন স্টোক হয়ে বিছানায় পরে যান । তারপর বোঝা গেল বাবার এততাড়াতাড়ি চলে যাবার কারণটা । বাবা যখন বিছানায় পরে যান তখন আমাকে বলতেন , আমি মারা গেলে আমার দেশের উত্তরবাহী শ্মশানে নিয়ে গিয়ে পোড়াবী । তার দেশের বাড়ির কথা অসুখের ঘোরে বলে উঠতেন । এই টানের নাম জন্মভূমি ।এটান জন্মগত । বড়ই বেদনার । বাংলাদেশের লোক এসব ইতিহাস জানেন না দেশ ত্যাগিদের দিনগুলোর কথা । তাদের দুঃখের দিনের কথাও জানেন না । যেখানটায় নিরাপদ থাকা শুরু সেখান থেকেই বেদনা ,ক্ষুধা আর মানসিক যন্ত্রণা শুরু । দুয়ের মিশ্রনে তৈরী হয় এক বিকৃত মানুষ ।
আমাকেও কষ্ট দেয় । যে দেশটাকে প্রিয় ও জন্মভূমি ভেবেছিলাম সে দেশ নাকি আমার এখন পরদেশ ভাবতে হয় । ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 1 =