আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-১৮

ডাকাতি অভিযানসমূহ

মুসলিমরা সাধারণত মোহাম্মদের যুদ্ধগুলো নিয়ে গর্ব অনুভব করে । আদতে এই গৌরব ভুলের উপর দাঁড়ানো । মোহাম্মদ পারতপক্ষে সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে চলতো । তার পছন্দ ছিলো ওঁৎ পেতে থেকে আক্রমণ অথবা ডাকাতি ধরণের অভিযান । এসব ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষতে আচমকা অপ্রস্তুত অবস্থায় পেয়ে কচুকাটা করতে সুবিধা হত তার জন্য ।

মদীনা পলায়নের পর মোটামুটি শক্তিশালী একটা অনুসারীদের দল পেয়ে মোহাম্মদ জীবনে শেষ দশ বছরে ৭৪ টি অভিযান পরিচালনা করে । (টীকা-৪৬) । এর মধ্যে কিছু ছিলো গুপ্তহত্যা বা এধরনের ছোটখাট ঘটনা আর কয়েকটি ছিলো হাজার হাজার সৈন্য-সামন্ত সহ যুদ্ধ । মোহাম্মদ নিজের এগুলোর মধ্যে ২৭ টিতে অংশগ্রহণ করেছিলো বলে জানা যায় । এই ২৭ টিকে বলা হয় ghazwa আর যেগুলোতে মোহাম্মদ নিজে অংশগ্রহণ করেনি সেগুলোকে বলা হয় sariyyah । দুইটি শব্দের অর্থই অভিযান, এমবুশ, অতর্কিত আক্রমণ ।

বুখারির হাদীসে আবদুল্লাহ বিন কা’ব এর বর্ণনায় পাওয়া যায়, “আল্লাহর রাসূল যখনি কোন অভিযানের পরিকল্পণা করতেন তখন তিনি অন্য কোন অভিযানের পরিকল্পণার কথা বলে নিজের আসল ইচ্ছাকে লুকানোর চেষ্টা করতেন” । (টীকা-৪৭)

মোহাম্মদ যখন যুদ্ধে যেত তখনো সে সবসময় পিছনে থাকতো, নিজের দেহরক্ষী পরিবেষ্টিত হয়ে । তার অথেনটিক জীবনিগুলার কোথাও মোহাম্মদ সরাসরি যুদ্ধ করেছিলো এমন বর্ণনা পাওয়া যায় না ।

নবুয়তের দাবীর আগে মোহাম্মদের বিশ বছর বয়সে হারব-উল-ফিজার বা অধর্মের যুদ্ধ নামে পরিচিত যুদ্ধে মোহাম্মদ তার চাচাদের সহযোগীতা করেছিলো বলে জানা যায় । অবশ্য তার সহযোগীতা বলতে যুদ্ধ যখন থেমে থাকতো তখন পড়ে থাকা তীর কুড়িয়ে তার চাচাদের কাছে নিয়ে আসা পর্যন্তই সীমিত ছিলো । Muir লিখেন , “শারীরিক সাহস ও যুদ্ধক্ষেত্রে সাহস জাতীয় গুনগুলার তেমন কোন উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি নবীর জীবনের কোন পর্যায়েই ছিলো না” (টীকা-৪৮)

মোহাম্মদ ও তার দলবল বিনা হুঁশিয়ারিতে ও বিনা আশেপাশের শহর ও গ্রামে আক্রমণ করে নিরস্ত্র জনগনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তো । হত্যা এবং খুনাখুনি শেষে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া জনগোষ্ঠীর ফেলে যাওয়া সম্পদ ও গবাদিপশু, অস্ত্রশস্ত্র এমনকি তাদের নারী ও শিশুদেরকে পর্যন্ত লুটের মাল হিসাবে নিয়ে নিতো । মাঝেমাঝে নারী ও শিশুদের মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দিতো মাঝে মাঝে দাস হিসাবে বিক্রি করে দিতো । এরকম একটি অভিযানের বর্ণনা এরকম ।

“নবী কোনপ্রকার হুঁশিয়ারি ছাড়াই আচমকা বানু মুসতালিকে আক্রমণ করেন । তারা অসতর্ক অবস্থায় ছিলো , তাদের গৃহপালিত পশুগুলো ঝরনার কাছে পানি খাচ্ছিলো । যারা বাধা দিয়েছে তাদের সবাইকে হত্যা করা হয় এবং নারী ও শিশুদের বন্দী করা হয় । নবী এদিন জুবাইরাকে পান গনিমতের মাল হিসাবে । নাফি বলেন, ইবনে ওমর তাকে এই যুদ্ধের ঘটনা বলেছে এবং ইবনে ওমর নিজে ঐ অভিযানে অংশ নিয়েছিলো” । (টীকা-৪৯)

উপরের ঘটনার বর্ণকারী মুসলিম ইতিহাসবিদ বলেন, “এই যুদ্ধে মুসলিমরা ৬০০ জনকে বন্দী করে । গনিমতের মালের মধ্যে ছিলো ২০০০ উট এবং ৫০০০ ছাগল” ।

মুসলিম সন্ত্রাসীরা যখন কোন আক্রমণে শিশুহত্যা করে তখন পুরো বিশ্ব চমকে উঠে, আর মডারেট মুসলিমরা সাথে সাথে বলে উঠে ইসলামে শিশুহত্যা নিষেধ । সত্য হচ্ছে মোহাম্মদ রাত্রিকালিন অভিযানে শিশুহত্যাকে বৈধ বলে ঘোষণা করেছিলো ।

“সাব বিন জাথামা হতে বর্ণিত আছে যে আল্লাহর নবীকে যখন রাতের অভিযানে নিহত পৌত্তলিক নারী ও শিশুদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয় তখন তিনি বলেন : ওরাও পৌত্তলিকদেরই উত্তরসুরী (অতএব কোন সমস্যা নাই ওদের হত্যায়)” । (টীকা -৫১)

মোহাম্মদের অভিযানগুলোর প্রাথমিক ও প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো লুট করা । প্রায় সমস্ত মুসলিম যেসব তথ্যসূত্রকে সঠিক বলে মেনে নেয় এমনসব বেশ কিছু তথ্যসূত্র থেকে পাওয়া যাওয়া অভিযানে জিতার জন্য মোহাম্মদ প্রায়ই আচমকা আক্রমণের পদ্ধতি বেছে নিতো ।

“ইবনে আউন বর্ণনা করেন : আমি নাফির কাছে চিঠিতে জিজ্ঞেস করেছিলাম কাফিরদের আক্রমণ করার আগে কি তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের আহবান জানানো প্রয়োজনীয় কিনা । সে উত্তরে লিখে পাঠিয়েছিলো, ইসলামের প্রথম যুগে এটা প্রয়োজনীয় ছিলো (এখন আর প্রয়োজন নাই)। নবী কোনপ্রকার হুঁশিয়ারি ছাড়াই আচমকে বানু মুসতালিকে আক্রমণ করেন । তারা অসতর্ক অবস্থায় ছিলো , তাদের গৃহপালিত পশুগুলা পানির ঝরনার কাছে পানি খাচ্ছিলো । যারা বাধা দিয়েছে তাদের সবাইকে হত্যা করা হয় এবং নারী ও শিশুদের বন্দী করা হয় । নবী এদিন জুবাইরাকে পান গনিমতের মাল হিসাবে । নাফি বলেন, ইবনে ওমর তাকে এই যুদ্ধের ঘটনা বলেছে এবং ইবনে ওমন নিজে ঐ অভিযানে অংশ নিয়েছিলো” ।

নিরস্ত্র জনগণের উপর এধরণের ঘৃণ্য হামলাকে জায়েজ করতে মুসলিম ইতিহাসবিদরা প্রায়ই এসব লোকেরা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলো বলে দাবী করেন । কিন্তু তখন মুসলিমরা এতখানি শক্তিশালী ছিলো যে কোন গোত্রের পক্ষেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে গিয়ে সফল হতে পারার কোন সুযোগ ছিলো না । উল্টো সত্যি হচ্ছে অনেক গোত্রই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য মুসলিমতোষণ নীতি গ্রহণ করে ও মুসলিমদের সাথে বিভিন্ন রকম সন্ধিতে আবদ্ধ হয় । মোহাম্মদ যখন আরো শক্তিশালী হয়ে উঠে তখন সে হেলায় এইসব চুক্তি ভংগ করা শুরু করে ।

লুট এবং অভিযান থেকে মোহাম্মদের বাহিনীর জন্য কেবল সম্পদই আসতো তা নয়, সাথে আসতো যৌনদাসী । জুবাইরা ছিলো সুন্দরী এক তরুনী যার স্বামী মুসলিমদের হাতে খুন হয় । মোহাম্মদের সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী আয়েশা (মোহাম্মদ যাকে ছয় বছর বয়সের সময় বিয়ে করে ও নয় বছর বয়সের সময় যৌনমিলন করে) এই অভিযানে মোহাম্মদের সাথে ছিলো । সে পরে বর্ণনা করে,

“নবী যখন বানু আল মুসতালিখের অভিযান থেকে পাওয়া লুটের মাল ভাগ বাটোয়ারা করছিলেন , সে (জুবাইয়ারা) পড়ে যায় ছাবিত ইবনে কায়েসের ভাগে । জুবাইয়ার স্বামী ও কাজিন সে যুদ্ধে মারা পড়ে । সে ছাবিতকে কথা দেয় তার মুক্তির বিনিময়ে সে নয় স্বর্ণমোহর দিবে । সে ছিলো খুবই সুন্দরী । যারাই তাকে দেখেছিলো তারাই মুগ্ধ হয়ে যেতো । সে নবীর কাছে আসলো তার মুক্তির বিষয়ে ফায়সালার জন্য । আমার ঘরের দরজায় ওকে দেখামাত্র ওর উপর আমার ঘৃণা তৈরী হলো । কারণ আমি জানতাম তার যে রুপ আমি দেখেছি সেটা নবীও দেখবনে । সে নবীর কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় দিলো । সে ছিলো গোত্রপ্রধান আল-হারিছ ইবনে ধিরার এর মেয়ের । স বললো, “আমার অবস্থাটা বুঝুন । আমি ছাবিতের ভাগে পড়েছি । আমি তাকে ওয়াদা দিয়েছি মুক্তিপণের জন্য । আপনি কি আমাকে এ ব্যাপারে একটু সাহায্য করতে পারবেন ? “ নবী বললেন, “আমি এর চাইতেও ভালো একটা প্রস্তাব দিলে কি মানবে ? আমি যদি তোমার মুক্তিপণ শোধ করে দিই আমাকে বিয়ে করবে ?” সে বললো , “হ্যাঁ ।” আচ্ছা তাহলে তাই হোক , বললেন নবী ।” (টীকা-৫৩)
**********************************************************************************************
টীকা -৪৬ > Tabaqat Vol.2 p. 1-2
টীকা -৪৭ > Sahih Bukhari Volume 5, Book 59, Number 702
টীকা -৪৮ > Willium Muir, The Life of Muhammad Volume II Chapter 2 Page 6
টীকা ৪৯ > Sahih Bukhari Vol.3 Book 46, Number 717
টীকা ৫০ > টীকা ৪৯
টীকা ৫১ > Sahih Muslim Book 019, Number 4321, 4322, 4323

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 75 = 83