পিসিজেএসএস’র তোষন নীতি ও সন্তু লারমার গলাবাজি

আন্তর্জাতিক কোনো শক্তি বা জাতীয় ক্ষেত্রে,ক্ষমতাসীন কোনো সরকারের অন্যায় বা গণবিরোধী ভূমিকা সত্ত্বেও তাকে তোষণ করার মাধ্যমে অবস্থা পরিবর্তনের ভ্রান্ত আশামূলক নীতিই হলো তোষণনীতি(Policy of Appeasement)।দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে ব্রিটেন ও ফ্রান্স এই নীতি গ্রহণ করার মাধ্যমে সমালোচিত হয়।

আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামেও জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এই তোষণ নীতির পথে হেটে চলেছে সেই নব্বই দশক থেকে।সরকারের সাথে আপস করে জুম্মদের প্রাণের দাবি আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন থেকে যোজন যোজন দূ্রত্বে চলে যায়। পাহাড়ে পুশ করা হাজার হাজার সেটলার বাঙ্গালিদের ফেরানোর কোন কথাই নেই।অস্ত্র সমর্পনের দিন হাসিনা সন্তু লারমার সামনে যখন ঘোষণা দিলো কাউকে কোথাও যেতে হবে না, তখন তার কি কোন অনুশোচনা জেগেছিল ? জনগণের সাথে প্রতারণা,বিশ্বাসঘাতকতা করে এতদিনের আন্দোলন সংগ্রামকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করায়!? একটা মূলা চুক্তি করে নিজেদের সর্বেসর্বা মনে করেছিল তখন।ফলে চুক্তি অসারতা দেখে যারাই প্রতিবাদ করেছে তাদের চুক্তি বিরোধী,শান্তি বিরোধী কতই তকমা লাগিয়ে দিয়েছিল সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে।১৯৯৭ সালে চুক্তির পর পরই জেএসএস সরকারের আজ্ঞাবহ, গৃহপালিত হয়ে পড়ে।আঞ্চলিক পরিষদের মূল্যহীন গদি নিয়ে তারা একপ্রকার পোষা তোতা পাখিতে পরিণত হয়েছে।সেটা সময়ের সাথে সাথে প্রমাণিত হয়েছে।বিএনপি প্রথম দিকে চুক্তির বিরোধীতা করেছিল জনগণকে উত্তেজিত করে নির্বাচনে জেতার জন্য।তারা জেনেছে চুক্তির অসারতা,দূর্বলতা, ফলে তারা সেটা বাতিল বা সেটা নিয়ে আর নাড়াচাড়া করেনি।

চুক্তি বাস্তবায়নের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সময় ক্ষেপন করে সরকার পাহাড়ে যা যা করা দরকার করে যাচ্ছে নিজের মতো করে।এখন বাঙ্গালি আর জুম্মদের মধ্যে পার্থক্য মাত্র কয়েক শতাংশের।বান্দরবান তো প্রায় হাতছাড়া।নতুন পন্থায় শোষন-নিপিড়ন-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।১১ নির্দেশনা জারি করে অঘোষিত সেনাশাসনকে বৈধতা দিয়েছে।আগের মতোই রাতের অাধারে চলে তল্লাশির নামে হয়রানি,আটকের ঘটনা। কিন্তু জেএসএস ৯৭ এ যে ফাঁদে পা দিয়েছিল সেই ফাঁদ থেকে আর বার হতে পারেনি।প্রতিবছর ২ ডিসেম্বর আছে,আর তাদের মরা কান্না অল্প কয়েকদিনের জন্য শোনা যায়।সময়ের সাথে সেইটাও ক্ষীণ হয়ে যায়।প্রতিবছরই হাকডাক দিয়ে জনগণকে অশেষ বিনোদনের যোগান দিয়ে যাচ্ছে তারা।যা বলা হয়,করা হয় তার বিপরীত।দেখুন সন্তু লারমার চুক্তি পরবর্তী দেয়া কয়েকটি মায়া কান্নার উক্তি!

★ ১. অসহযোগ আন্দোলনে সরকার যে ভাষায় কথা বলবে সে ভাষায় জবাব দেয়া হবে ।
২. সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে পাহাড়ের পরিস্থিতি বর্তমানের মত নাও থাকতে পারে ।

৩. স্থানীয় আওয়ামিলীগের নেতাদের কারণে চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে না ।

৪. দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে প্রয়োজনে আবার অস্ত্র ধরবো ।

৫. চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য মনে হয় আরেকটি চুক্তি করতে হবে ।
৬. পাহাড়ে এখনও সেনাশাসন চলছে ।
৭. অসহযোগ আন্দোলন করে সরকারকে চুক্তি বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে ।
৮. প্রয়োজনে চট্টগ্রাম জেলা সহ স্বাধীনতার ডাক দেবো ।

উপরের ফাকাবুলিগুলো দিয়ে সন্তবাবু অনর্থক নিজেকে হাস্যকরে পরিণত করেছেন।উনি অসহযোগ আন্দোলন করেন হাতে গোনা দু’য়েকটি হরতাল দিয়ে,আবার প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসে পার্বত্য কমপ্লেক্স উদ্ধোধন করে অসহযোগ আন্দোলনকে গৌরবান্বিত করেছেন!! এটা গর্বের বিষয় বটে।আবার বলেন,পাহাড়ে সেনাশাসন আছে,সেই তিনিই সেনাবাহিনীর ঢেরায় গিয়ে তাদের প্রশংসার সাগরে ভাসিয়ে দেন,আনন্দের সহিত কেক কাটেন।গত ২ ডিসেম্বর রাজধানীর সুন্দরবন হোটেলে আবারো মায়া কান্না জুড়ে দিয়েছিলেন।সরকার এই করছে না,ওই করছে না! আবার দীপংকর তালুকদার,কুজেন্দ্র তালুকদারদের বলেছিলেন তারা সরকারের দালালি করছেন।কিন্তু এক সপ্তাহ না যেতেই সেসব বেমালুম ভুলে গিয়ে আজ (৮ ডিসেম্বর) রাঙ্গামাটির মারি স্টেডিয়ামে সেনাবাহিনী কর্তৃক আয়োজিত “কনসার্ট ফর সলিডারিটি” তে সেই দালালদের সাথে একি মঞ্চে উঠলেন,পাশাপাশি বসে রঙ্গ উপভোগ করলেন! তাইলে সন্তু বাবু,উষাতন বাবুরা বড় দালাল নয় কি?অনেকেই বলতে চাইবে আঞ্চলিক পরিষদে আছেন,সংসদে আছেন যেতে হয়! আমার মতে এসব হচ্ছে একেকটা অজুহাত আর শিশুসূলভ যুক্তি।

আন্দোলনের স্বার্থে এসব বর্জন করতে বাধা কোথায়?
এম এন লারমা প্রতিবাদ হিসেবে সংসদ ওয়ার্ক আউট করেছিলেন,আর এনারা আরো কাছে গিয়ে গা মাখামাখি করেন।দেখতেছেন এতবছর পর কিছুই হচ্ছে না,তারপরও কেন সরকারের পদলেহি হয়ে আছেন?কেন নিজেদের ওজনহীন করছেন ফাঁকাবুলি ছুড়ে!
মাঝখানে ভূমি কমিশন নিয়ে কয়েকদিন জুম্ম জনগণকে ঘোরের মধ্যে রাখলেন।ভূমি কমিশন চেয়ার ম্যানের বক্তব্যে বলা কথাতেই তো বোঝা যায় আমাদের এত খুশি হওয়ার কিছুই নেই।অবৈধ সেটলাররা কোথাও যাবে না,বরং তাদের বৈধতা দেওয়া হবে পাহাড়ের খাস জমিগুলোতে সেটেল্ড করে।কোথায় প্রথাগত ভূমি অধিকার থাকছে? অর্থাৎ যেই লাউ সেই কদু!
জেএসএস যদি তার লেজুরবৃত্তিতা, তোষণ নীতি থেকে সরে না আছে তাহলে তারা জুম্ম জনগনের কপালে ব্যর্থতার যে তিলক বসিয়েছিল সেটা আরো বেশি পাকাপোক্ত হবে।
সন্তু লারমার প্রতি আহ্বান থাকবে,আপনি অতিসত্ত্বর ভেলকিবাজি,হাতে-পায়ে ধরে তোষন করার ভ্রান্ত নীতি থেকে সরে আসুন।নইলে পরবর্তী প্রজম্মের কাছে একজন ব্যর্থ, কমেডিয়ান হিসেবে পরিগণিত হবেন।
সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধা,গদির মোহ ত্যাগ করুন।প্রকৃত আন্দোলনে আবারো নিজেকে,জেএসএসকে সামিল করুন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “পিসিজেএসএস’র তোষন নীতি ও সন্তু লারমার গলাবাজি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 52 = 59