জানার অধিকার, জনগণের মৌলিক অধিকার


বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে ৫-জন কর্মকর্তার নাম এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০-লক্ষ ডলার চুরির তদন্ত প্রতিবেদন, গত মে মাসে অর্থমন্ত্রনালয়ে জমা হয়েছে। অথচ অদ্যাবদি সেই তদন্ত রিপোর্ট মন্ত্রনালয় জনগনের সামনে প্রকাশ করছে না। এটি জনগনের সম্পদ, জনগনের জানার শতভাগ অধিকার রাখে। তবে নাকি কর্তাবাবু বলেছেন, “দেশের স্বার্থেই তদন্ত প্রতিবেদন জনগনের সামনে প্রকাশ করা যাবে না”। খুবই অস্বাভাবিক এবং সন্দেহজনক বক্তব্য। জনগণের স্বার্থ ও দেশের স্বার্থ যে তখনই রক্ষা হবে যখন প্রমাণিত অভিযুক্তরা প্রজাতন্ত্রের এসব গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে বহিষ্কার হবে। এদেশ এদেশে বসবাসকারী সকল জনগণের। প্রতিবেদন জানার অধিকার তাদের আছে তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই।

আমাদের দেশে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ নামে একটি আইন থাকলেও সচেতনতা ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনার অভাবে মানুষ আইনটি দুর্নীতি বন্ধে একটি ফলপ্রসূ অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করেত পারছে না। কিছু সরকারী ও বেসরকারী সংস্থাও তাদের জবাবদিহিতা জনগণের কাছে যাতে নিশ্চিত না হয়, সেজন্য আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা না করে নানা ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশের মহান সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অধ্যায়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদে ৩৯-এ স্পষ্টভাবে মতপ্রকাশের অধিকার এবং চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল করা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকারের উদ্যোগে ২০০৯ সালের মার্চ মাসে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ নামে একটি আইন মহান জাতীয় সংসদে পাস করে। এটি ছিল একটি কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, সরকার দুর্নীতি দমনে অঙ্গীকারাবদ্ধ বলেই এরকম একটি জনস্বার্থমূলক সাহসী আইন প্রণয়ন করেছিল।

তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ আইনের আওতায় দেশের প্রতিটি জনগণ সকল সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পেতে পারে। এটি তার আইন স্বীকৃত নাগরিক অধিকার। দুর্নীতি বন্ধ করতে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণকে এই আইনী অধিকার দেয়া হয়েছে।

তথ্য অধিকার আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, যেহেতু জনগণ প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক ও জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক এবং যেহেতু জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা হলে সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি হ্রাস পাবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, সেজন্য এই আইনটি প্রণীত হলো।

বর্তমান সরকার দুর্নীতিরোধের জন্যই মূলত তথ্য অধিকার আইনের মতো একটি জনকল্যাণমূলক আইন প্রণয়ন করেছে। তাই এই আইনের সঠিক প্রয়োগের জন্য সরকারকে তথ্য কমিশনকে আরও বেশি বেশি সহযোগিতা করাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা ও আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ- ‘আপনার হাতে প্রণীত তথ্য অধিকার আইনের সফল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল করে জনগণের প্রত্যাশিত সুশাসন উপহার দিন।’

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক
ই-মেইলঃ [email protected]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 2 =