ছেঁকামূলক কবিতা এবং ভুয়া কিছু প্রেম-কাম দর্শন

ওরে শকুন পাখি
তোর লাগি যে রাত্রি বেলা তারার দিকে চেয়ে চেয়ে
দাঁড়কাকের পাশে বসে
ব্যাকুল আমি জাগি

পাখি তুই কই গেলি রে?
তন্দ্রা চোখে ছায়াপথে খুঁজে আসি
নিঃসঙ্গ অরন্য, বিস্তৃত বৃত্ত আর
তুচ্ছ অবয়বের অংশে খুজি।।
হাত দিয়ে ছুয়ে খুজি, আলিঙ্গন করে খুজি
আবার কখন নিজের স্বত্বায় নিজেই হারিয়ে খুজি
পাই না রে পাখি।

আমি তো ভালই ছিলাম
নিজের মাঝে নিজেই ছিলাম
গর্ব করে হাঁটতে শিখেছিলাম
পাশে কখন লাগেনি কাওকে।
হাত ছড়িয়ে স্বাধীনভাবে বেড়াজাল মুক্ত ছিলাম
শান্ত ছিলাম, ভালবাসা চ্যুত ছিলাম।
সুস্থ ছিলাম সুখি ছিলাম।

হাত যখন ছেড়েই দিবি তো ধরেছিলি কেন?
এসেছিলি কেন? বাধেনি বিবেকে?
কে বলেছিল অধিকার খাবলে নিতে?

কষ্ট কি একটু বেশীই হয়ে গেল না?
জীবনের বিস্বাদ কি বেশীই হয়ে গেল না?
দিবি ক্ষতিপূরণ?

*আসল চেহারা*

ওই ক ক্ষতিপূরণ ক্যামনে দিবি?
ব্যাটা আমার ভালবাসা তুই বাংলালিংক দামে পাইছস?
জানস তোর থিকা কত ভালা পোলারা ঘুরে আমার পাশে? [পিছে নয় পাশে]
ক কত দিবি ক্ষতিপূরণ?
প্রতেক চুম্বনের জন্যে যদি ১০ হাজারও দেস তাইলেই আমি কত ধনি হয়া জামু আইডিয়া আছে তোর?
শালা আবাল আমি তোরে আগেই কইসি না যে রিলেশনে না যাইতে?
তুই ব্যাটা তাও ভাল একটা বন্ধুত্বরে কাইটা কুইট্টা কি বালের রিলেশন বানাইলি যেইডা টিকলো না দুই দিনও?!
কেডা কইসিল আমার হার্ট নামক জায়গার শূন্যস্থানে নিজের রাজত্য বানাইতে?

আবার ক কইতেছি কত দিবি! সুদে আসলে না দিলে উপরের তেনার কসম, খাইছি তোরে।।

প্রেম আর এইসব বালছাল নিয়া দর্শনের কিছু অংশঃ

একটা ইংলিশ মুভির নাম “দি আগলি ট্রুথ”।
এখানে মানুষের সেক্সুয়াল ব্যাপার নিয়া আসল চেহারা দেখানো হইছে। মানুষ অন্য প্রাণী থেকে কতোটা চোদন খোর তা এইটায় হাল্কা তুলে ধরা হইছে।
তবে এখানে খালি সেক্সুয়াল আগলি ট্রুথ নিয়াই কথা বলা হইছে, মানুষের প্রনয়-প্রেম এগুলার ট্রুথ যে এর চেয় আগলিয়ার তা কিন্তু বলা হয় নাই।
সহজ কথায় প্রেম একধরনের জৈবিক চাহিদা। অবশ্যই এর সাথে ভালবাসা-অনুভুতি এইসবের ব্যাপারও আছে। তবে “প্রেম” জিনিসটায় সেক্সুয়াল ব্যাপার, বিপরীত লিঙ্গে আকর্ষণ এগুলা পুরা অন্তরঙ্গভাবে জড়িত।
প্রেমের প্রাথমিক কারণ সম্পূর্ণ কামজনিত ব্যাপার। “প্রথম দেখায় প্রেম” মানে বলতে পারেন?
আচ্ছা, প্রথম দেখায় তো সে খালি তার শরীরটাই দেখে। কারো শরীর দেখে কখন তাকে ভালবাসা যায় নাই, যাবে না। ভালবাসতে সময় লাগে, অনেক সময় লাগে। ঢাকায় ভাল একটা কমদামী ফ্লাট পাওয়া থেকেও কঠিন কারো মনে একটা ভাল জায়গা পাওয়া। তাই প্রথম দেখায় প্রেম কথা থেকেই বোঝা যায় প্রেম কি।

প্রেমের মূল উদ্দেশ্য কি? ভবিষ্যতে বিয়ে।
প্রেমের ধাপগুলো কি? প্রথমে লিপ কিস, তারপর বিভিন্ন ধাপ শেষে ফাইনাল ধাপ হল সেক্স।
আমি ভুলেও বলব না যে প্রেম করলে ভালবাসা হয় না। প্রেম থেকেও ভালোবাসা হতে পারে আবার ভালবাসাও প্রেমে রুপান্তরিত হতে পারে। তবে এটাও আমি বলব যে প্রেম জিনিসটার অস্তিত্ব কেবল জৈবিক চাহিদার ভদ্র বহিপ্রকাশ।

মানুষের ব্রেনেই আসলে এভাবে তৈরি হয়েছে ব্যাপারটা। মানুষ সভ্য। তারা হটাত করেই কারো অপর ঝাপিয়ে পরতে পারেনা। এখানে বিবেক কাজ করে। বিবেক কখনই মেনে নেয় না এটা। তাই তো প্রেম দিয়ে বিবেককে বুঝিয়ে নেয় মানুষ। নিজেও নিজেকে বুঝায়। এর থেকে বেশি কিছু না প্রেম।

ভালবাসা

এটায় কোন ভেজাল বা সেক্সুয়াল ব্যাপার নাই। মাকে ভালবাসা যায়, বাবাকে ভালবাসা যায়, প্রেমিককেও ভালবাসা যায়। মানুষের সাথে মানুষের ভালবাসার সম্পর্ক। কারো প্রতি কম ভালবাসা, আবার কারো প্রতি বেশি। তবে মানুষ হিসাবে অন্য মানুষের প্রতি স্বভাবতই ভালবাসা থাকে।

ভালবাসা জিনিসটা থেকে কোন মানুষের বঞ্ছিত হয়া উচিৎ নয়। আমাদেরও অধিকার নেই কাওকে ভালবাসা থেকে বঞ্ছিত করার। আমার মনে হয়, মানুষের সবচেয়ে সুন্দর দিক হল ভালোবাসা। যার মনে যত বেশি ভালোবাসা সে তত বেশি সুন্দর।
তবে আজকালের ব্যাপার হলে, যার ভালবাসা বেশি সেই বেশি বাঁশ খাবে। এমন খেতে খেতে একসময় সে ভালবাসাহিন পাথর হয়ে যাবে। নিষ্ঠুর হয়ে যাবে। তখন সমাজ তাকে বলবে সে নিষ্ঠুর।
আসলে সবাই ভালবাসা নিয়ে জন্মে। ছোটরা সহজেই কাওকে আপন করে নেয়। কিন্তু সমাজ অ পরিবেশ নির্ধারণ করে সে কতোটা ভালোবাসা নিজের মাঝে ধরে রাখতে পারবে।
কোন বৃধ্যা যদি আপনার সামনে হটাত পরে যায় আপনি তাকে তুলতে যাবেন। না গেলেও মনে হবে ইস হেল্প যদি করতাম। আর আপনি এর থেকে কুত্তার বাচ্চা হইলেও আপনার খারাপ লাগবে এট লিস্ট। এটা মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা। মায়া, করুনা এগুলাও ভালবাসার শাখা। তবে এগুলায় হাল্কা হইলেও ভেজাল আছে।

আসলে বলতে হয় মায়া হল প্রেম/ভালবাসা আর যতকিছু আছে এগুলার আসল ব্যাপার। মায়া থেকেই পরে ভালোবাসা হয়। করুনা হয়। কিন্তু তাও কেন জেনো ভালবাসাকেই আগে স্থান দিতে ইচ্ছা করে।
আজ আর এগুলা নিয়ে ভুয়া দর্শন শেয়ার নাইবা করলাম। আরও কথা ছিল, তবে ভুলে গেছি।
শেষ করলাম। খিদা লাগছে।

বিদ্রঃ এটা শুধুমাত্র আমার মনে হয় তাইল বললাম। কারো সাথে নাও মিলতে পারে। আবার কেউ বিরোধিতা করতে পারে। তাই আবারো বলছি, আমার এই বিষয়ে যা মনে হয় তা লিখছি। কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগলে দুঃখিত। লেখায় অনেক ভুল আছে। কবিতাটা বাজে হইছে। এগুলার জন্যেও দুঃখিত।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “ছেঁকামূলক কবিতা এবং ভুয়া কিছু প্রেম-কাম দর্শন

  1. কার অনুভুতির দিকে তাকালে আপনি
    কার অনুভুতির দিকে তাকালে আপনি লিখতে পারবেন না । আপনার টা প্রকাশ পেলেই সেটাই হচ্ছে উত্তম। যাই হোক ভাল লিখেছেন । শুভেচ্ছা রইল

  2. হুমম পড়লাম তোমার প্রেম
    হুমম পড়লাম তোমার প্রেম ভালোবাসা বিষয়ক দর্শনটাই বেশী ভালো লাগলো। প্রেম ভালোবাসা সম্পর্কে আমার টেইকও এইরকমই।

  3. বেশ পাঁচ মিশেলি পোস্ট। দারুন
    বেশ পাঁচ মিশেলি পোস্ট। দারুন তো। কবিতাটাও মন্দ লাগল না। আর প্রেম-ভালোবাসা বিষয়ক থিয়োরি যা দিয়েছেন মোটামুটি একমত। লেখা চালিয়ে যাবেন আশা করছি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 6 = 2