চলতি মাসেই প্রকাশ করবে নতুন বাজেটের আকার

একটি উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতিতে প্রয়োজন বিনিয়োগ বান্ধব বাজেট, যাতে দেশীয় ক্ষুদ্র-মাঝারি ও বৃহৎ উদ্যোক্তারা উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে প্রণোদনা পায়। একটি দেশের আর আয় তখনই বাড়বে ব্যয়ের তুলনায়- যখন দেশের রপ্তানি আমদানির তুলনায় বেশি হবে, বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পাবে, রিজার্ভ বাড়বে, বাড়বে শিল্পায়ন ও উৎপাদন এবং সবশেষে বাড়বে কর্মসংস্থান। এভাবে কর্মসংস্থান বাড়ার মধ্য দিয়ে বাড়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান। সবকিছুকে বিবেচনায় রেখে সরকার একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করে চলছে। আসছে বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে ৬টি খাতে আর তা হলো-স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিদ্যুত, জ্বালানি, সড়ক, রেলপথ ও বন্দরসহ ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন ও কর্মসৃজন প্রকল্প, সরকারী সেবা প্রদানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন, জলবায়ু মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জন এবং বহির্বিশ্বের অর্থনৈতিক সুযোগ অধিকতর ব্যবহার ও প্রবাস আয় বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন রফতানি বাজার অনুসন্ধান। এছাড়া নতুন বাজেটে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে তা হচ্ছে-চল্লিশটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জেন্ডার বাজেট রিপোর্ট প্রণয়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও এ সংক্রান্ত একটি নতুন ধারণাপত্র প্রণয়ন এবং শিশু বাজেট ও ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা হালনাগাদ করা। রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নে যে প্রস্তুতি রয়েছে তাতে আগামী অর্থবছরে সোয়া চার লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। বাজেটের আকার এবং আয়-ব্যয় নিয়ে অর্থ বিভাগ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রায় চার লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়ে আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নে বাজেটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হবে দারিদ্র্য বিমোচনে। অবকাঠামো উন্নয়নে পদ্মা সেতুর পাশাপাশি আরও ৯ মেগা প্রকল্প দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ থাকবে নতুন বাজেটে। এজন্য বরাদ্দও বাড়ানো হবে। চলতি ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ নাগাদ দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সেখানে তিনি আগামী বাজেটের সম্ভাব্য একটি রূপরেখা তুলে ধরবেন। এর পর জাতীয় সংসদে প্রকাশ করা হবে অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত চলতি বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি রিপোর্ট। সেখানে প্রকাশ করা হবে নতুন বাজেটের আকার। ভবিষ্যত প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে এবারের মতো শিশুদের জন্য আলাদা বাজেট প্রণয়ন করা হবে। নারী অধিকার রক্ষা এবং অর্থনীতির মূল ধারায় নারীকে নিয়ে আসতে আবারও জেন্ডার বাজেট ঘোষণা করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। পদ্মা সেতুসহ দ্রুত সময়ে বাস্তবায়িত করা হবে মোট ১০টি প্রকল্প। ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ থেকে রক্ষায় যন্ত্রপাতি ক্রয়ে বাজেটে বাড়তি বরাদ্দ রাখা হবে। এজন্য বিল্ডিং কোড পরিবর্তন করবে সরকার। ঘাটতি কমিয়ে আনতে সব ধরনের ভর্তুকি ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে আগামী বাজেটে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “চলতি মাসেই প্রকাশ করবে নতুন বাজেটের আকার

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 11 = 19