স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রস্তাবক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ স্বপন চৌধুরী

?oh=470a4d980ad5ab9458ef802e5a00ebda&oe=58F5F086″ width=”300″ />

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম সংগঠক। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের আগের কমিটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ছিলেন চট্টগ্রামের স্বপন চৌধুরী।ছিলেন সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী। শুধু স্বাধীনতাই নয়, স্বপ্ন দেখতেন একটি শ্রেণী বৈষম্যহীন ‘স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার।

পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনগণ যখন থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তার অনেক পূর্বে, এমনকি পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবী ওঠার পূর্বেই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে একটি ছোট্ট এবং গোপন গ্রুপ। গোপন সেই গ্রুপে ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল আলম খান, প্রয়াত জাসদ নেতা জাতীয় বীর শহীদ কাজী আরেফ আহমেদ এবং প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক। এই ছোট্ট গ্রুপই হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের সূতিকাগার “নিউক্লিয়াস” বা স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ।যারা বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রাথমিক পর্যায়ে বাঙ্গালী জাতিসত্তার উন্মেষ ঘটিয়ে প্রচার ধর্মী আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন । পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগকে বাঙ্গালীজাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ একটি প্রগতিশীল সংগঠনে রূপান্তরিত করে তারই ছত্রছায়ায় বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী কর্মী সৃষ্টি করে বাংলার ন্যায়সঙ্গত দাবি-দাওয়া ভিত্তিক আন্দোলন কে ধাপে ধাপে বাঙ্গালির স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপান্তরের লক্ষ্যে গোপনে সংগঠিত হচ্ছিলেন। যার মূল লক্ষ্য হবে সশস্ত্রসংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করা। স্বপন চৌধুরী ছিলেন সেই নিউক্লিয়াসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
?oh=a3f02d659467640d9df65fac784fc9c2&oe=58F7D280″ width=”500″ />
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে শহীদ স্বপন চৌধুরীর নাম অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে গেছে। যদিও
পরবর্তীতে বার বার বিকৃত আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে স্বপন চৌধুরী একটি অপরিচিত নাম।যে লক্ষ্যে নিউক্লিয়াস কাজ করে যাচ্ছিল তাঁর অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে ১৯৭০’র ১২ আগস্ট তারিখে পুর্ব-পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় ‘স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উপস্থাপন করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা, চট্টগ্রাম অঞ্চলে নিউক্লিয়াসের অন্যতম সংগঠক স্বপন চৌধুরী। তাঁর এই প্রস্তাবের পক্ষে বিপক্ষে ভোটাভুটি হলে দুই তৃতীয়াংশ ভোটে স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রস্তাব পাশ হয়ে যায়। তখন থেকেই ছাত্রলীগ একটি সংগঠন হিসেবে সরাসরি স্বাধীন বাংলাদেশের দাবী উত্থাপন করে।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার চৌধুরী ৭১’র আগস্ট মাসের শেষের দিকে বিএলএফ ট্রেনিং শেষে আগরতলা থেকে তার অনুগামী বাহিনী নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে গমন করেন,পরে হানাদার বাহিনীর হাতে আটক হন মুক্তি যুদ্ধের শেষের দিকে। তাঁর কাছ থেকে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে এই কথা মাথায় রেখে পাক বাহিনী তাঁকে হত্যা না করে রাঙ্গামাটি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সেখানেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা।

এর মধ্যেই চলে আসে ঐতিহাসিক সেই দিন ১৬ডিসেম্বর। স্বাধীন হয় বাংলাদেশ।কিন্তু যে স্বপন চৌধুরী ১৬ডিসেম্বর সকাল নয়টা পর্যন্ত রাঙ্গামাটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, যে স্বপন চৌধুরী ‘স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন তাঁর কোন খোঁজ পাওয়া গেলো না। আজ অবধি তাঁর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

“উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ভয় নাই ওরে ভয় নাই ,
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান , ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই”

তথ্যসূত্রঃ

১.মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামঃ ডাঃ মাহফুজুর রহমান
২.ঋদ্ধর বাংলা ব্লগ

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

83 − 77 =