ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুবাদী মোদী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি দেশকে এতোটাই ভালোবাসেন যে বিয়ে করার সময়ই পান নি। অথচ তার বক্তব্যটি মিথ্যে। তিনি বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সম্পর্কের ইতি ঘটে। তিনি বলেন, ‘এতো কাজের চাপ এবং দেশকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে বিয়ে করা হয়ে উঠে নি’।

আড়াই শো বছর আগে ডক্টর জনসন বলে গেছেন, দেশপ্রেম বদমাশদের শেষ আশ্রয়স্থল। মোদীও সেক্ষেত্রে ভিন্ন নন। অন্য সব রাজনীতিবিদদের মতোই ক্ষমতার লোভ মোদীকে অনেক আগেই নষ্টভ্রষ্টে পরিণত করেছিল।

তিনি ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুবাদকে সমর্থন করে রাজনীতি করেন। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির ভেতরেই যার চিন্তাধারা ঘুরপাক খায়। স্পষ্টভাবে বললে, তিনি একজন হিন্দু মৌলবাদী। তিনি দেশকে কতোটা ভালোবাসেন? তিনি দেশকে এতোটাই ভালোবাসেন যে ২০০২ সালে গুজরাটে হিন্দু মুসলিমের মধ্যে দাঙ্গা লাগিয়ে তার গদি শক্তি করেছিলেন। অভিযুক্তকে তালিকায় তার নাম থাকা সত্ত্বেও তিনি আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী! এটাই দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি! যার হাতে যত রক্তের ছাপ, সে ততো বড় রাজনীতিবিদ!

বদমাশ মানুষেরা খুব ভালো করেই জানে ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়া যায়। বাঙলাদেশে যেমন মুসলমান বদমাশেরা ধর্মানুভূতি অজুহাতে মানুষ মারে, মন্দির ভাঙে। তেমনই মোদীর ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুবাদ সংখ্যালঘিষ্ঠ মুসলমানদের উপর নির্যাতন করে। যদিও ভারতে বাঙলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত প্রার্থনালয় ভাঙা হয় না। কিন্তু কোন এক উদ্ভট পদ্ধতিতে মুসলমানদের ধর্মান্তরিত করা হয়। সেই সাথে ভারতের কিছু কিছু রাজ্যে ধর্মীয় অনুভূতির প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে কখনো আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়, আবার কখনো পিটিয়ে মারা হয়। এসব বিষয়ে মোদীর কোন বক্তব্য থাকে না। যেসব এলাকায় হিন্দুসংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা ব্রাহ্মণদের এলাকা হিসেবে পরিচিত, সেখানে কোন মুসলমান পরিবার থাকলে তাকে বাড়ি বদল করার হুমকি দেয়। পুলিশ প্রশাসন প্রথমে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে বাঙলাদেশের মতোই অবস্থা হয়। ক্ষমতাসীনদের নির্দেশে- পুলিশ আর পুলিশ থাকে না, পুলিশ হিন্দু মৌলবাদীরূপ ধারণ করেন।

কিছুদিন আগে মোদী ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট নিয়ে একটি নতুন নাটক সাজিয়েছিলেন। নাটকটা ভালো হলেও রূপায়ণটা জঘন্য। দুর্নীতিবাজ ধরতে গিয়ে নিজ দলের নেতানেত্রীদের নাম বের হলে তিনি খুব দক্ষতার সাথে মিডিয়া থেকে নেতানেত্রীদের সংবাদ প্রচার করা বন্ধ করে দিলেন। আরও হাস্যকর বিষয় হল, দুর্নীতিবাজ ধরার ঘোষণা দেবার অনেক আগেই তিনি ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের ধনী ব্যক্তিবর্গদের ৪০ শতাংশ ট্যাক্স মকুব করে দিয়েছিলেন। তার এই জঘন্য রূপায়ণের কারণে বিভিন্ন রাজ্যে বিনিময় প্রথার চালু হয়ে গেছে। গ্রামগঞ্জে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা দরিদ্র মানুষেরা খাবে কী, চলবে কীভাবে তা বিবেচ্য নয়। দীর্ঘ সময় ধরে রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অনেক মানুষ মারা গেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রের টনক নড়ে নি। টনক নড়বেই বা কীভাবে! যেখানে রাষ্ট্র দুর্নীতিবাজদের সহযোগী, সেই রাষ্ট্র কখনোই মানুষের নয়।

এমন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ এ-সময়ে পাওয়া আসলেই অনেক দুষ্কর ব্যাপার!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুবাদী মোদী

  1. “তিনি একটি সাক্ষাৎকারে বলেন,
    “তিনি একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি দেশকে এতোটাই ভালোবাসেন যে বিয়ে করার সময়ই পান নি। অথচ তার বক্তব্যটি মিথ্যে।”-এই কথাগুলো মোদীজি কখনই বলেনি । তুমি আমাকে লিংক দাও ।। তিনি বলেছেন , দেশের জন্য আতীয় পরিজনকে ছেড়েছি । তুমি হয়তো জান মোদীজির এক ভাই এখনও পাবলিক গাড়ি চালান । তার মা তার ভাইদের কাছে থাকেন ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

50 + = 59