পশ্চিমবাঙলার এক দিদি

পশ্চিমবাঙলায় এক দিদি আছে। আর সেই দিদির অনেক ক্ষমতা। এবং যেহেতু দিদির অনেক ক্ষমতা আছে সুতরাং দিদির অনেক উম্মত, চ্যালাচামুণ্ডা, চাটুকার, চামচা, অনুরাগীও আছে স্বাভাবিকভাবেই। দিদি পেশায়, নেশায়, শয়নে-স্বপনে একজন রাজনীতিবিদ। দিদির পূর্ণ নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে দিদি। চাটার দলেরা ভালোবেসে যেমন দিদি বলে ডাকে, তেমনই ভয় পেয়ে সাধারণ মানুষও দিদি বলতে বাধ্য হয়।

দিদি কিন্তু অনেক গুণের অধিকারী। তিনি যেমন রাজনীতি করেন, ঠিক তেমনই অভিনয়। রাজনীতি যেহেতু অভিনয়মঞ্চের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সেখানে প্রায়ই তিনি শৈল্পিক অভিনয় উপহার দিয়ে কোটি কোটি মানুষকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলে দেন। তিনি যখন অভিনয় করেন, তখন বলিউডের মাধুরী দীক্ষিতও তার অভিনয়ে হিংসাকাতর হয়ে পড়েন। তিনি অভিনয়কে এমন এক নান্দনিক স্থানে নিয়ে গেছেন যে বলিউডের শাহরুখ খান বা অমিতাভ বচ্চনও তার অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে দিদি দিদি বলে ডাকতে বাধ্য হয়েছেন।

দিদি মূলত দুটি চরিত্রের কারণে জনপ্রিয়তা লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রথমত, তিনি যেকোনো সময় যেকোনো মুহূর্তে মুসলমান হয়ে যাওয়ার অভিনয় করতে পারেন, দোয়া পড়তে পারেন, মাথায় কাপড় দিয়ে সূরা পড়ার অভিনয় করতে পারেন, প্রতিদ্বন্দ্বীকে ভয়ভীতির মাধ্যমে, সুবিধা আদান-প্রদানের মাধ্যমে, শত্রুপক্ষের চোখে ধুলো দিয়ে নতুন কাহিনী রচনা করে বাস্তবিক চরিত্রে রূপ দেওয়াতে পারেন। এবং আরেকটি চরিত্র হচ্ছে ঠিক বিপরীত। তিনি প্রয়োজনে হিন্দু হয়ে যান, পশ্চিম বাঙলায় মদকে বছরব্যাপী বৈধতা দেন, দুর্গাপূজায় চাটুকারদের দ্বারা নিজের প্রতিমা স্থাপন করেন ইত্যাদি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনীত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছবিঃ

– ১৯৯৩ সালে খেলাধূলার প্রতি সরকারি ঔদাসিন্যের প্রতিবাদে পদত্যাগ।
– ১৯৯৬ সালে নিজ দলের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে সিপিআই(এম)-কে সহায়তা করার অভিযোগ আনেন।
– নিজেকে দলের একমাত্র সোচ্চার, প্রতিবাদী কণ্ঠ বলে উল্লেখ করে তিনি “পরিচ্ছন্ন কংগ্রেস”-এর দাবি জানান।
– ১৯৯৬ সালে পেট্রোলিয়ামের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে লোকসভার ওয়েলে বসে পড়েন।
– ১৯৯৬ সালে সমাজবাদী পার্টি সাংসদ অমর সিংহের জামার কলার ধরে তার সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
– ১৯৯৭ সালে লোকসভায় রেল বাজেট পেশের দিন পশ্চিমবঙ্গের প্রতি বঞ্চনার প্রতিবাদে রেল বাজেট পেশ চলাকালীনই তদনীন্তন রেলমন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ানের দিকে নিজের শাল নিক্ষেপ করেন।
– ১৯৯৮ সালে কলকাতার আলিপুরে একটি জনসভায় গলায় শাল পেঁচিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।

দিদি বাস্তবিক চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সাহিত্য চর্চাও করে থাকেন। আহ, কী অসাধারণ কাব্য রচনাই না করেন তিনি! দিদির কাব্যে কখনো খুঁজে পাওয়া যায় জীবনানন্দ দাশের ‘কার্তিক মাঠের চাঁদ’, আবার কখনো রবীন্দ্রনাথের ‘প্রশ্ন’,‘বসন্ত’,‘প্রার্থনা’,‘বোঝাপড়া’র রেফারেন্স! ছড়া লেখায় তো তিনি পুরো বাঙলায় অদ্বিতীয়। কী নান্দনিক ছন্দমালা! কবিতা ও আবৃত্তির প্রসারের লক্ষ্যে তিনি কবিতা একাডেমিও খুলেছেন। সাহিত্য সমালোচকেরা বলেন, মমতার ‘কথাঞ্জলি’ বইটি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দাবি রাখে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে দিদির অসাধারণ ও প্রাণবন্ত দুটি ছড়াঃ

হামবা- মমতা দিদি

হরে কর কমবা
গরু ডাকে হামবা
গর্জন করে অম্বা
মা ডাকে বুম্বা।।
হরে কর কমবা
ডব্বা ডব্বা রব্বা
হুড়হুড় করে হুম্বা
তোবা তোবা আব্বা।।
——————————
থ্যাঙ্ক ইউ—মমতা দিদি

কেমন আছো? থ্যাঙ্ক ইউ
অভিনন্দন- থ্যাঙ্ক ইউ
মা কোথায়- ঘেউ ঘেউ
মানেটা কী? সাথে ফেউ
ভর্তি হয়েছো-কলেজ কিউ
ফর্ম তুলেছো-ফর্মটা ডিউ
ধন্যবাদ- সি ইউ
সাথে কে? বন্ধু পিউ
ভালো থেকো- বাই বাই
হরে কৃষ্ণা- হ্যালো হাই।

এতদ্বারা প্রমাণিত হল দিদির গুণাবলী আসলেই পৃথিবীতে বেজোড়। তার প্রতিভা নিঃসন্দেহে অতুলনীয়, অকল্পনীয়। তার অভিনয় ক্ষমতা অভাবনীয়, ঠিক তার কাব্যিক চেতনার মতই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

38 − 29 =