টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

পৃথিবীর কোথাও অশান্তি নিয়ে কোনো টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না এবং টেকসই উন্নয়ন ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সব নাগরিক, অংশীদার ও রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এগুচ্ছে। বিশ্বে এখনও ৮৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ চরমভাবে দরিদ্র; যাদের দৈনিক আয় মাত্র ১ ডলার ২৫ সেন্টেরও কম। অর্থাৎ, এসব মানুষ প্রতিদিন গড়ে বাংলাদেশের ১০০ টাকারও কম আয় দিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীতে এ ধরনের মানুষ আর থাকবে না। কারণ তাদের চরম দারিদ্র্য অবস্থা থেকে বের করে আনতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাতিসংঘ। পৃথিবীকে রক্ষা ও সবার জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ যে ১৭টি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য (এসডিজি) অনুমোদন করেছে, তার প্রথমটিই হলো চরম দারিদ্র্যকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের নিশ্চয়তায় আগামী দিনে বাংলাদেশের জন্য যে দক্ষ শ্রমশক্তির প্রয়োজন রয়েছে সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। কর্মসংস্থান শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত উন্নতির সম্ভাবনা, পরিবাররে সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে ডিসেন্ট জব বা শোভন কাজ যা বাংলাদেশে লক্ষ্যণীয়। শোভন কাজের মাধ্যমে শ্রম বৈষম্য কমিয়ে অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসজিডি)’র অর্জনে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে শ্রম অধিকার ও কর্ম পরিবেশ আগের থেকে উন্নত হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির ৮ নং লক্ষ্যমাত্রাটি বাংলাদেশ সহজেই অর্জন করতে পারবে বলে ধারনা করা যায়। বাংলাদেশে ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক’ বা শোভন কাজের কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে সরকার, নিয়োগকারী ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা কার্যকর পদক্ষপে গ্রহণ করেছে। এতে আগামী দিনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারবে বলে আশা করা যায়। সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে সোস্যাল ডায়ালগের সফলতা আনয়নের লক্ষ্যে ডেনমার্ক ও সুইডেনের সহায়তায় একটি যৌথ প্রকল্প গ্রহণ করা করেছে। এছাড়া দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতির আধুনিকায়নসহ দক্ষতা উন্নয়নে ‘স্কিল-২১ এম্পাওয়ারিং সিটিজেন্স ফর ইনক্লুসিভ এন্ড সাসটেইনেবল গ্রোথ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প শুরুর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। একটি দক্ষ ও উৎপাদনশীল শ্রমশক্তি ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

82 + = 88