হেফাজত আইসে ঢাকায়, সকাল থেইকা খালি ল্যাদায়

হেফাজতের ল্যাদানো দেখলাম টেলিভিশনে। নগরীর ৬ টি পয়েন্ট এ ল্যাদাইলো আজকে। সকালবেলা দেখলাম লাঠির মাথায় পতাকা বেঁধে তা নিয়ে মিছিল করছে। ভাবলাম অবশেষে হেফাজতের দেশপ্রেম জাগ্রত হয়েছে।কিন্তু পরেই তার ভুল বুঝতে পারলাম। যতই দিন বাড়তে থাকল, পতাকাও কমতে থাকল। অবশেষে দুপুরবেলা পতাকার মারে বাপ, লাঠি নিয়া ঝাপাইয়া পরল পুলিশের উপরে। চিরাচরিত ল্যাদানো শুরু করলো পল্টন এ। একে বলে ইসলাম হেফাজত!!! ইসলাম হেফাজতের নামে গণজাগরণ মঞ্চ দখলের চেষ্টা করলো। কিন্তু ভাই বুঝলাম না গণজাগরণ মঞ্চ কি দোষ করলো? গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হয়েছিলো রাজাকারদের ফাঁসির দাবীতে। ওই জায়গায় তো একবারের জন্যও ইসলাম অবমাননা করা হয় নাই। আমরা যারা মশাল মিছিল, প্রদীপ প্রজ্জলন করেছিলাম, জাগরণের গান গেয়েছিলাম, তারা সবাই কোন না কোন ধর্মের অনুসারী। আমরা ধর্মের সংজ্ঞা নিজেদের মধ্যে রেখে দেশ ও জাতি কে কলংকমুক্ত করার জন্য একত্রিত হয়েছিলাম। ইসলাম এ কি বলা আছে না নাই, দেশ ও জাতি উদ্ধারের জন্য তা জানার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। কারণ, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর নিয়ম কানুন কখনই গোটা মানবতার নিয়ম কানুন হতে পারে না, যেখানে সরাসরি বিধর্মীদের কাফের মুরতাদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একটি পরিপূর্ণ জাতি যদি তৈরি না হয়, যদি আমাদের কোন রাষ্ট্রীয় পরিচয় না থাকে, তাহলে নিজেকে যতই মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেই না কেন, দুনিয়ার অন্য কোন মুসলিম দেশও আমাদের থাকতে দেবে না। এই সহজ সাধারন কথাটা হেফাজতি ছাগল গুলা বুঝে না। ইসলাম আজ কোন দিক দিয়ে বিপন্ন?? একটা মসজিদ ও ভাঙছে? একটা ইমামকেও কি খুন করা হয়েছে? একটা কোরআন পোড়ানোর মত সাহস কারো হয়েছে? তাহলে ইসলাম নষ্ট হইলো কিভাবে? অথচ ইসলাম বিপন্ন বলে বলে সংখ্যালঘুদের ঘর বাড়ি জালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের নিজ ভুমি থেকে উৎখাত করা হচ্ছে। এগুলা কি সংখ্যালঘুদের অবমাননা নয়? এটা কি মানবতার বিরুদ্ধে অন্যায় নয়? ৭১ সালে ঠিক এভাবেই হাজার হাজার হিন্দু বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, হিন্দু মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়েছে। তার বিচার চাইতে গেলেই ইসলাম অবমাননা। এই মুসলিমরা কিভাবে সমর্থন করছে এটাকে? আজকে দেশে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করাই এর মূল উদ্দেশ্য। চায়ের দোকান, মোড়ের দোকান এ বসলেই শুনা যায় হেফাজতিদের গুণকীর্তন। লজ্জাও হয় না এই শুয়োরের বাচ্চাগুলার। যেই লোকটা আজ মসজিদে দাড়িয়ে নামাজ পড়ছে, কাল যদি সেই লোকটিকে দেখি রাস্তায় লাঠি হাতে হাঙ্গামা করতে, তাহলে ইসলামের মূল উদ্দেশ্য থাকল কই?? রাস্তায় রাস্তায় ল্যাদানো ছাড়া এই শুয়োর গুলার আর কোন কাজ নাই। অশিক্ষিত, মূর্খ গোষ্ঠীর জন্য ইসলাম এর উদ্দেশ্য কখনই ভূলুণ্ঠিত হতে দেওয়া যাবে না। তার আগে দরকার আমার বাকস্বাধীনতার বাংলাদেশ। কথায় কথায় উত্থিত ঈমান দণ্ড আর হাতে উত্থিত লাঠি নিয়ে দাঙ্গা হাঙ্গামা যারা করতে চায়, তাদের মুখে থুতু মারাও লজ্জার কারণ। এদের ১৩ দফা দাবী পোঁটলায় বাইন্ধা গোয়া র ভিতর দিয়া সিদ্ধ ডিমের সাথে ঢুকাই দিলে বুঝব হেফাজত কারে কয়। এদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্তত আমি মনে করি, রাবার বুলেট না ছুঁড়ে, ব্রাশফায়ার করা উচিত। শালার ছাগলের পোন্দে কুত্তার বাচ্চা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “হেফাজত আইসে ঢাকায়, সকাল থেইকা খালি ল্যাদায়

  1. সরকার এখনো হেফাজতিদের সুযোগ
    সরকার এখনো হেফাজতিদের সুযোগ দিয়ে কি প্রমাণ করতে চায় ? এই কি ইসলামের হেফাজত ? দোকানে আগুন, সরকারি ভবনে আগুন, ফুটপাতের দোকানে আগুন দিয়ে চলেছে, পুলিশের সাতে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে, পক্ষান্তরে সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তারপরও সরকার কেন চুপ চাপ আছে? সরকারের কি এদের প্রতিহত করার ক্ষমতা নাই? যদি না থাকে তাহলে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে বাড়ীতে বসে থাক। অযথা সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে জনগণের সম্পদ ধ্বংস করা বন্ধ করুন….

  2. এলজিআরডি মন্ত্রী বলেছেন যে, “
    এলজিআরডি মন্ত্রী বলেছেন যে, ” আমাদের সহনশীলতা আমাদের দুর্বলতা নয়।”

    জনাব মন্ত্রী সাহেব, হেফাজতকে কিন্তু ঢাকাতে আপনারাই আসতে দিয়েছেন। আপনারা যদি তখন কঠোর হতেন, জনগণের এত সম্পত্তি নষ্ট হত না। জানমালের এত ক্ষয়ক্ষতি হত না, একজন নিরীহ পোশাক শ্রমিকও মারা যেত না। সরকার আসলে দুর্বলতা দেখাচ্ছে। সহনশীলতা নয়। কঠোর হাতে এসব বর্গীদের দমন করা উচিত। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রায় বাইরে। বল প্রয়োগ করতেই হবে। তাছাড়া শান্তিপূর্ণ আলোচনা করে কোন সমাধান আসবে বলেও আমি মনে করি না। হেফাজত যেসব মধ্যযুগীয় দাবি নিয়ে এসেছে তা নিতান্তই হাস্যকর।

    ছাগলকে অনেক আগলে রাখার পরও যখন সে বাগান নষ্ট করে তখন তাকে পিটিয়ে সাইজ করা ছাড়া উপায় থাকে না। হেফাজত অনেক সুযোগ পেয়েছে। আর কত? “সহনশীলতার” ব্যানারে আর কত দুর্বলতা দেখাবে সরকার?

  3. এদের ১৩ দফা দাবী পোঁটলায়

    এদের ১৩ দফা দাবী পোঁটলায় বাইন্ধা গোয়া র ভিতর দিয়া সিদ্ধ ডিমের সাথে ঢুকাই দিলে বুঝব হেফাজত কারে কয়। এদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্তত আমি মনে করি, রাবার বুলেট না ছুঁড়ে, ব্রাশফায়ার করা উচিত। শালার ছাগলের পোন্দে কুত্তার বাচ্চা।

    সহমত। এদের আর সহ্য হচ্ছে না। ফাতরামির একটা সীমা আছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 1 =