বুদ্ধিজীবী-হত্যাকারীদের এখনও নির্মূল করা হয়নি

বুদ্ধিজীবী-হত্যাকারীদের এখনও নির্মূল করা হয়নি
সাইয়িদ রফিকুল হক

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবীদিবস। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে একদল নরপিশাচের হাতে ‘বাংলার সূর্যসন্তানরা’ প্রাণবিসর্জন দিয়েছিলেন। সেই থেকে প্রতিবছর ১৪ই ডিসেম্বর ‘শহীদ-বুদ্ধিজীবীদিবস’ হিসাবে পালিত হচ্ছে। বাংলার বুদ্ধিজীবী-হত্যাকারী-নরপশুরা আজও বেঁচে আছে। এদের মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। বাংলার মাটিতে এই নরপশুদের কোনো ক্ষমা নাই। আর অতিদ্রুত এদের সরাসরি মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা করতে না পারলে এই রাষ্ট্রের ভিত কখনও মজবুত হবে না।

১৯৭১ সালে, আমাদের বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী-হত্যাকারীরা ছিল সরাসরি পাকিস্তানের ঔরসজাত। এরা বাংলাদেশরাষ্ট্রকে ভালোবাসেনি। এরা বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবাসেনি। তাই, পাকিস্তান নামক একটি শয়তানরাষ্ট্রের কথায় বাঙালি-জাতির বিরুদ্ধে ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করতে দ্বিধাবোধ করেনি। মূলত ১৯৭১ সালে, পাকিস্তানের অনাসৃষ্টি এদেশীয় রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তিকমিটি নামক সর্বস্তরের পাকিস্তানের দালালদের সমন্বয়ে সংগঠিত ঘাতক-জল্লাদরাই জাতির শ্রেষ্ঠসন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। কিন্তু এই নরপশুদের আজও আমরা চূড়ান্ত শাস্তি দিতে পারিনি। তাই, বাংলার বুদ্ধিজীবী-হত্যাকারীরা এখনও দেশের ভিতরে নানারকম আস্ফালন করছে। আর এই নরপশুরা এখন প্রতিদিন ইসলামের নামে নিজেদের স্বার্থের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। এদের ভাবসাব দেখে মনে হয়: এরাই যেন এখন ধর্মের বাপ-মা। আর এদের হাতেই যেন ধর্মের সমস্ত কলকাঠি।

মানুষহত্যাকারীগোষ্ঠী ১৯৭১ সালের মতোই এখনও বেপরোয়া। এরা সেই পাকিস্তানীআমলের মতো পবিত্র ইসলামধর্মের নাম-ভাঙ্গিয়ে রাতদিন নিজেদের স্বার্থের রাজনীতি নিয়ে মেতে রয়েছে। আর এরা রাজনীতিতে সফলতার জন্য সবসময় এদেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ-মুসলমানকে ছলে-বলে-কলে-কৌশলে ধোঁকা দিচ্ছে। এদের ভণ্ডামি, শয়তানী ও স্বার্থের রাজনীতি এখনও বন্ধ হয়নি। আর এগুলো বন্ধ করার জন্য রাষ্ট্রের কোনো আগ্রহও নাই। আর এতেই তারা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আর প্রতিনিয়ত মানুষহত্যায় মেতে উঠেছে। কিন্তু এদের এবার থামাতে হবে।

দেশে ইসলামের নামে মানুষহত্যাকে এখন সওয়াবের কাজ মনে করা হয়। পবিত্র ধর্ম আজ একশ্রেণীর অপবিত্র-লোকের হাতে বিপর্যস্ত হচ্ছে। আর কলংকিত হচ্ছে। এদের আমরা চিনি। এরা সবসময় মুখোশধারী। আর মানুষকে ধোঁকা দিয়েই চলছে এদের রাজনীতি-ব্যবসা। রাজনীতিতে এদের প্রধান পুঁজি হলো: ধর্ম। একমাত্র পবিত্র ধর্মকে অপব্যাখ্যা করেই তারা সেই ১৯৪৭ সাল থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে নিজেদের ধান্দাবাজি, রাজনীতি, আর রাষ্ট্রক্ষমতাদখলের শয়তানী-কর্মকাণ্ডসহ স্বার্থবিস্তারের যাবতীয় অপকাণ্ড-পরিচালনা করছে।

দেশস্বাধীনের এতো-এতো বছর-পরেও এদের কোনো বিচার হয়নি। এরা এখনও পাকিস্তান-কায়েমের দুঃস্বপ্ন দেখছে। এদের পেটে লাথি মারলে এখনই বেরিয়ে আসবে বাংলাদেশের ভাত, রুটি, শাকসবজি, ফলমূলসহ নানাপ্রকার খাদ্যদ্রব্য। আর এরাই কিনা এখনও বাংলাদেশের খেয়ে-পরে পাকিস্তানের গুণকীর্তনে ব্যস্ত। নিমকহারাম আর কাকে বলে? আসলে, এদের মতো নিমকহারাম এই পৃথিবীতে আর নাই। এদের মতো নির্লজ্জ, চশমখোর, পাষণ্ড, ভণ্ড, শণ্ঢ আর হিংস্র-নরপশু খুঁজলে এই পৃথিবীর আর-কোথাও পাওয়া যাবে না।

প্রতিবছর আমরা শুধু লোকদেখানো ‘শহীদ-বুদ্ধিজীবীদিবস’-পালন করে থাকি। আর তাদের স্মৃতিসৌধে ক্যামেরার সামনে পুষ্পঅর্পণ করে থাকি। আসলে, কাজের কাজ কিছুই করি না। এখনও পর্যন্ত একজন শহীদ-বুদ্ধিজীবীর হত্যাকারীকে আমরা শনাক্ত করতে পারিনি। অথচ, নানান বইয়ে ও পত্রপত্রিকায় এদের নাম রয়েছে। তারপরও আমরা নীরবে সময় পার করছি। আর বছরঘুরে ১৪ই ডিসেম্বর এলে ‘শহীদ-বুদ্ধিজীবী-স্মৃতিসৌধে’ গিয়ে ফুলের তোড়া উপহার দিচ্ছি! আমাদের সূর্যসন্তান ‘শহীদ-বুদ্ধিজীবীরা’ কি আমাদের কাছে এই চেয়েছিলেন?
এপর্যন্ত একসাপটা-বিচারে দেশে মাত্র কয়েকটা যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছে। আর মাত্র পাঁচটার ফাঁসি-কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু একাত্তরের ‘শহীদ-বুদ্ধিজীবীদের’ হাজার-হাজার খুনীকে এখনও শনাক্ত করা হয়নি। এটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার ও অপমানের একটি বিষয়। আর তাই, ১৯৭১ সালের বুদ্ধিজীবী-হত্যাকারী চিহ্নিত-কুলাঙ্গারদের এখনও বিচারের সম্মুখীন করা হয়নি। এরচেয়ে বড় লজ্জা জাতির জন্য আর কী হতে পারে?

বুদ্ধিজীবী-হত্যাকারীদের এখনও নির্মূল করা হয়নি। তাই, এদেশের বুকে এখনও ঘাতক-জল্লাদদের এতো বেশি দম্ভোক্তি আর আস্ফালন। আর ধর্মব্যবসায়ীদের এতো বেশি উত্থান। একাত্তরের ‘সর্বস্তরের ‘শহীদ-বুদ্ধিজীবীদের’ হত্যাকারীকে খুঁজে বের করে তাদের মৃত্যুদণ্ডপ্রদানের জন্য অবিলম্বে দেশে একটি ‘স্পেশাল-যুদ্ধাপরাধ-ট্রাইব্যুনাল’গঠন করা প্রয়োজন। তবেই আমাদের শহীদ-বুদ্ধিজীবীদের আত্মা প্রকৃতপক্ষে শান্তি পাবে।

জয়-বাংলা।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
১৪/১২/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

12 − 3 =