শর্ষের মধ্যেই ভুত

ভুত তাড়াতে ওঝারা হন্টেড ব্যাক্তির নাকে মুখে বা হন্টেড বাড়ীঘরে কাঁচা হলুদ, মরিচ, সরিষার তেল বা আস্ত সরিষাই ডলে দেয় বা আগুনে পুড়ে দেয়। এই থেকেই হয়ত “শর্ষের মধ্যেই ভুত” কথাটার উৎপত্তি।
আর, শর্ষের মধ্যেই ভুত মনে হয় একেই বলে-

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির যে সে নয়, একেবারে প্রধানই একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তিনি আবার একজন এমপি; বগুড়া ৪ আসনের। নাম এ.কে.এম. রেজাউল করিম।

সংবাদ পত্রে, বিভিন্ন সভা সমিতির পোস্টার ও ব্যানারে, তার ভিজিটিং কার্ড ও প্যাডেও তার নামের আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখা থাকে।

আর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার দ্বারা কতটুকু সম্মান পেতে পারেন। তাই সে তার দল ভারি করবে এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া যত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ভর্তি করাতে পারবে ততজনের কাছ থেকে তো টাকাপয়সা নিচ্ছেই, তার ওপর সবার প্রতি মাসের ভাতা, রেশন, বোনাস ইত্যাদি থেকে কমিশন। পারতেসে না খালি “ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নিয়োগ চলছে” বা “ভর্তি চলছে ভর্তি চলছে” টাইপ বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদের ১৬ কোটি সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে দিতে। তার প্রমাণ, কেবলমাত্র গত তিন বছরেই মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা হয়ে গেছে প্রায় চারগুণ। স্বাভাবিক মৃত্যু হার হিসেব করলেও আগের চে কমবে, বাড়ে কেমনে?

কাল বিজয় দিবস।
বিজয়!! কোথায়? একঝাঁক পশুপাল নিয়ে সমাজ বিজয় দাবী করে কিভাবে? এরা আমাদেরই প্রতিবন্ধকতা, আমাদেরই দায়। কয়েক লাখ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আবার একসময়কার রাজাকার, পাতি রাজাকার। এই ভুয়ারা সব আপনার আমার আশপাশেই আছে। এদের কাছে আমাদের সত্যিকারের বীরেরা অনেকেই জিম্মি, কারণ এরা অনেক ক্ষমতাবান ও অধিকাংশই টাকা পয়সাওয়ালা। দেশকে যারা স্বাধীন করেছে, তারা থাকবে পরাধীন? তাও এদের হাতে?
এদের বিরুদ্ধে বিজয় হোক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 1 =