কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা

কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল হচ্ছে চা। দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বর্তমান সরকার তাই চা-শিল্পের উন্নয়নে ১৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘উন্নয়নের পথনকশা বাংলাদেশ চা শিল্প’ শিরোনামে প্রায় হাজার কোটি টাকার ১১টি কর্মসূচি ঠিক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এর মধ্যে প্রায় সাড়ে আট শ’ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ এবং ১৩৩ কোটি টাকা অনুদানের মাধ্যমে মেটানো হবে। সহসাই বিষয়টি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা কমিটিতে উঠবে। এ প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে ফিরে আসবে চা শিল্পের সুদিন। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং চা উৎপাদনকারী অন্যান্য দেশের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বর্তমানে দেশে চায়ের রপ্তানি কমছে। বর্তমানে বাংলাদেশের চা শিল্পে অপর্যাপ্ত অর্থায়ন, উৎপাদন উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং অনুন্নত অবকাঠামোসহ নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন। এ সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং চা শিল্পের উন্নয়নের জন্য একটি পথ নকশা প্রণয়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১১টি কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৫ সালের মধ্যে ১৪০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অতিরিক্ত আরও ৭২ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন করতে হবে। কর্মসূচিতে বলা হয়েছে, এজন্য নতুন ১০ হাজার হেক্টর জমি চা আবাদের আওতায় আনার পাশাপাশি আগের ১০ হাজার হেক্টর চা বাগানে অতিবয়স্ক ও অর্থনৈতিকভাবে অলাভজনক চা-গাছ উত্তোলন করে নতুন করে লাগিয়ে হেক্টর প্রতি জাতীয় গড় উৎপাদন ১২৭০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ কেজিতে উন্নীত করতে হবে। চা চাষে জমির গড় ব্যবহার ৫১.৪২% থেকে ৫৫% এ উন্নীত করতে হবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত উৎপাদিত চা প্রক্রিয়া করতে কারখানা সুবিধা উন্নয়নে ১৮৩৮টি চা প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে হবে। তাছাড়া চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ১৫ হাজার ইউনিট শ্রমিক বাসস্থান, ১৫ হাজার শৌচাগার, ৪০টি গভীর নলকূপ, ৪৫০০টি হস্তচালিত নলকূপ এবং ৩০০টি পাতকুয়া তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি চা বাগানের নারী শ্রমিকদের ক্ষমতায়নের জন্য শতাধিক মাদারস ক্লাব প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমিকের আইনগত অধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। চা উৎপাদন এলাকায় সেচ সুবিধা বাড়াতে পানির উৎস সৃষ্টির জন্য ৭৫টি বাঁধ/জলাধার নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ সেচ যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে হবে। একই সঙ্গে চা বাগান এলাকায় ৪৭ কিলোমিটার রাস্তা, ৫০টি কালভার্ট ও ৪টি সেতু নির্মাণ এবং আগামী ৫০ বছর সময়ের জন্য অতিরিক্ত ৩০ হাজার স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। চা-শিল্পের উন্নয়নে ১৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের চা-শিল্পে সুদিন ফিরে আসবে – এটাই সকলের প্রত্যাশা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা

  1. কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ
    কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল হচ্ছে চা । চা-শিল্পের উন্নয়নে ১৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের চা-শিল্পে সুদিন ফিরে আসবে – এটাই সকলের প্রত্যাশা।

  2. কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ
    কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল হচ্ছে চা । চা-শিল্পের উন্নয়নে ১৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের চা-শিল্পে সুদিন ফিরে আসবে – এটাই সকলের প্রত্যাশা।

  3. কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ
    কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল হচ্ছে চা। চা-শিল্পের উন্নয়নে ১৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের চা-শিল্পে সুদিন ফিরে আসবে – এটাই সকলের প্রত্যাশা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1