একটি স্বাধীন দেশ, বিজয় দিবস এবং আমরা ……

হয়তো’বা ইতিহাসে তোমাদের নাম লেখা রবে না ,বড় বড় লোকেদের ভীড়ে জ্ঞানী আর গুনীদের আসরে
তোমাদের কথা কেউ কবে না। তবু হে বিজয়ী বীর মুক্তিসেনা
তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবে না।
থাক ওরা পড়ে থাক ইতিহাস নিয়ে,জীবনের দীনতা হীনতা নিয়ে
তোমাদের কথা রবে,সাধারণ মানুষের ভীড়ে
মাঠে মাঠে কিষাণের মুখে
ঘরে ঘরে কিষাণীর বুকে
স্মৃতি বেদনার আঁখি নীড়ে।
তবু হে বিজয়ী বীর মুক্তিসেনা
তোমাদের এই ঋণ কোন
দিন শোধ হবে না।
আমার খুব প্রিয় একটা দেশের গান। আব্বা অনেক শুনত…… এখনও পুরো গানটা মনে বাজে……তখন গানের লাইন গুলো শুনে চিন্তা করতাম ……ধুর এইটা কখনো সম্ভব নাকি?? “তোমাদের কথা রবে সাধারণ মানুষের ভীড়ে, তোমাদের কথা কেউ কবে না” এইসব কি কথা?? কখনো কি এতো অকৃতজ্ঞ কোন জাতি হতে পারবে নাকি??…গানের কথা যিনি লিখে গেছেন উনি মনে হয় অনেক দূরদর্শী ছিলেন। এই কারণেই আজ স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও আমরা তিরিশ লক্ষ শহীদ নাকি তিন লক্ষ এইটা নিয়ে বাকবিতণ্ডা চালাই। তিরিশ লক্ষ্য হোক কিংবা তিন লক্ষ্য ,মানুষ মরছে ভাই মানুষ , পশুপাখি না। আমরা সিদ্ধান্তহিনতায় ভুগি কে আসল স্বাধীনতার ঘোষক!হায় রে আমাদের কাছে স্বাধীনতাটা গুরুত্বপূর্ণ না, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কে ঘোষক। কোন আড্ডায় মুক্তিযুদ্ধের কথা উঠলে অনেকেই কেমন জানি চুপ হই যায়, অনেকেই সরু চোখে তাকাই, বিরক্ত হয়…অনেকে মনে মনে বলে চলে আসছে চেতনাধারী নয়া মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকার প্রসঙ্গ তো বাদই দিলাম আবার এমন ও শুনছি একপক্ষ বলে মুক্তিযুদ্ধ নাকি ভুল ছিল।স্বাধীন দেশে বসে পায়ের উপরে পা তুলে যখন এই কথা কেউ বলে তখনই উচিৎ কানের নিচে দুইটা চটকানা দেওয়া। যে জাতি স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরে এসেও এক হতে পারে না তাদের আবার বিজয় দিবস কি?? আমাদের সবচেয়ে বড় গৌরবের ইতিহাসকে বিকৃত করার যে ঘৃণ্য খেলায় আমরা মেতে উঠছি এর পরিনাম কি হবে তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখছি??আমাদের গৌরবের ইতিহাস কেন এখনো প্রশ্নবিদ্ধ?? এই একটা ক্ষেত্রে আমরা কি সবাই এক হতে পারি না?? আমরা তো আবার এখন সবকিছুতেই রেকর্ড করতে পছন্দ করি জাতীয় সঙ্গীতে রেকর্ড, জাতীয় পতাকায় রেকর্ড, ফেবুতে রেকর্ড, কিন্তু নিজেদের অজান্তে আমরা যে সবচেয়ে বড় হিপক্রেট জাতির রেকর্ড করে বসে আছি এইটাই আমরা জানি না। যেই অবস্থা দেখা যাচ্ছে আগামী ১০ বছর পর হইত দেখবো বন্ধু বন্ধুকে প্রশ্ন করবে – ডুড কালকে নাকি কি বিজয় দিবস সরকারি ছুটি? বন্ধু বলবে জানি না কি জিনিষ কালকে ছুটি এইটাই হল কথা কাম অন জাস্ট চিল এবং এই সবের নমুনা অলরেডি শুরু হই গেছে এখনকার হাইস্কুলের ছেলেরা নাকি বিজয় দিবস এর স্বাধীনতা দিবসের পার্থক্য জানেনা অন্যগুলো তো বাদই দিলাম। ভাইজানেরা আমরাও কম কুল ডুড না, আমাদের ডুডগিরির কাছে তোমরা হইলা দুগ্ধপোষ্য শিশু কিন্তু যতই কিছু করি না ক্যান দেশের গৌরবের ইতিহাস বুকের মধ্যেই রাখি এবং গর্বের সাথেই সবাইকে বলি।
মুক্তিযোদ্ধারা কোন দলের জন্য যুদ্ধ করে নাই ওরা যুদ্ধ করছে একটা জাতির জন্য একটা স্বাধীন দেশের জন্য। আজকে ওদের ত্যাগের কারণেই আমরা , একটা স্বাধীন জাতি। কিন্তু আজকে ওরাই সবচেয়ে অবহেলিত আমাদের তথাকথিত ভণ্ড সমাজে। আসলেই বড় বড় লোকেদের ভীড়ে জ্ঞানী আর গুনীদের আসরে তোমাদের কথা কেউ কবে না। তোমাদের কথা রবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ভীড়ে ।গানের কথাগুলো আজ অনেকাংশেই সত্য। আহারে বাঙালী, আহারে বাংলাদেশ।
একটি স্বাধীন দেশ…… একটা স্বাধীন পতাকার মালিক অনেক অনেক অনেক বড় ব্যাপার।
সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা (ভণ্ড বাঙ্গালী ছাড়া) সবাই মিলে গৌরবের ইতিহাসকে গৌরবময় করে রাখি আজীবন এই আশাই ।।
“মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সাত কোটি মানুষের জীবনের সন্ধান আনলে যারা সেই দানের মহিমা কোন দিন ম্লান হবেনা’, কথা দিলাম ।স্যালুট তোমাদের।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 25 = 33