বাঙালির বিজয়ে পাকি সামরিক দস্যুদের অবদান!

আমাদের বিজয়ের মাস চলছে ।ইতিহাস বিকৃতির এই দেশ ও ইতিহাস বিস্মৃতিপ্রবণ এই জাতি হয়তো আগামী বছর পঞ্চাশের মধ্যে ভুলে যাবে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের কথা। যারা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানবে তারা হয়তো শুধু একাত্তর সালকেই জানবে, ভুলে যাবে পাকিস্তানি বঞ্চনা ও নির্যাতনের চব্বিশ বছর। সেই ইতিহাস দীর্ঘ। এক্ষনে আমি একাত্তরের কিছু পাকিস্তানি দানবের কথা বলবো….

প্রথমেই ঘৃণাভরে স্মরণ করি Scorched-Earth নীতির হোতা পাক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে। এই বলদে ২৫ মার্চ ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের পতনের পর কি বুঝে ক্ষমতা নিছিলো সেই জানে। হয়তো ভাবছিলো ডাণ্ডা মেরে বাঙালি আর বাঙালির নেতা শেখ মুজিবকে ঠান্ডা করে দেবে। গাধাটা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে কিছুই শিক্ষা নিতে পারেনি।

চরম ঘৃণার সাথে স্মরণ করছি অভাগা টিক্কা খানকে যাকে ইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর করে পাঠায় ঐতিহাসিক সাত মার্চে। ওই সময় পূর্ব পাকিস্তানে সবই চলছিল বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহনের জন্য টিক্কা খানকে শপথ নিতে হবে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতির কাছে। বিচারপতি বি এ সিদ্দিকী সাফ সাফ জানিয়ে দিলেন শেখ মুজিবের নির্দেশ ছাড়া তিনি টিক্কাকে শপথ পড়াবেন না। শপথ পড়া হলোনা টিক্কার। আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা নেওয়াও হলো না। তাতে কি?পাকিস্তানিদের আবার নিয়ম কানুনের বালাই আছে নাকি! পোড়া মাটি নীতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিলো।

আরো ঘৃণার সাথে স্মরণ করছি Operation Searchlight পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশদাতা, ইয়াহিয়ার ডেপুটি কমান্ডার ইন চিফ ল্যাফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হামিদ খানকে। এই জানোয়ারটা দায়িত্ব দিছিলো জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা আর জেনারেল রাও ফরমান আলীরে।জেনারেল রাও ফরমান তখন গভর্নর টিক্কা গানের সামরিক উপদেষ্টা। শয়তানের বাচ্চা দুটো এমনই ভয়ানক পরিকল্পনা করে যে তা ওরা নিজেরাই এক্সিকিউট করতে সাহস পাচ্ছিলো না। ফলে টিক্কা খান পশ্চিম পাকিস্তান থেকে জেনারেল জানজুয়া আর জেনারেল মিঠ্ঠারে ডেকে আনলো। এনে স্ট্যাণ্ডবাই করে রাখলো।

অপারেশন সার্চলাইট ইনফ্লিক্ট করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিলো ছাব্বিশে মার্চ জিরো আওয়ার অর্থাৎ রাত একটায়।সেটা অবশ্য রাত বারোটায় শুরু হয়ে যায়।অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনার মূল দায়িত্বব ছিলো সেদিন খাদিম হোসেন রাজার উপর।ঢাকা ধ্বংসের দায়িত্ব নিয়েছিলো রাও ফরমান আলী। যুদ্ধের শেষপাদে এসে পরাজয় নিশ্চিত জেনে বাঙালিদেরকে বুদ্ধিহীন করে দেওয়ার “বুদ্ধিজীবী” হত্যার মূল নকশা প্রণয়নকারী এই ফরামান আলী।

এর আগে একটু মাথা মোটা ভুট্টোরে ঘৃণা করে নিই। এই লোকটার কাছে আমাদের খানিকটা কৃতজ্ঞ থাকা দরকার। এই বদমায়েশের পাখনামির জন্যই বাঙালীরা চূড়ান্তভাবে সশস্ত্র যুদ্ধে যেতে বাধ্য হয়েছে। শয়তানটাই প্রথমে বললো সত্তর সালের নির্বাচন বর্জন করবে। তারপর বললো দাড়াতে পারি ভোটে, যদি নির্বাচনের ডেট পেছাও। ইয়াহিয়া পেছালো ডেট। ভোটে তো পিপলস পার্টি সারা পাকিস্তানের মধ্যে পাঞ্জাবের বিরাশিটি আসনের মধ্যে চৌষট্টিটি আর সিন্ধুর সাতাশটির মধ্যে আটারোটি মিলিয়ে মোট দুশো তিরানব্বইটি আসনের মধ্যে পাইল মাত্র তিরাশিটি। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ পাইল পূর্ব পাকিস্তানের একশো বাষট্টি আসনের মধ্যে একশো ষাটটি। পশ্চিম পাকিস্তানে কোন আসন পাইনি আওয়ামীলীগ। তাতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। কারণ আসন প্রাপ্তির হিসেব আওয়ামীলীগই সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েছে এবং রীতি অনুযায়ী আওয়ামীলীগেরই সরকার গঠন করার কথা। কিন্তুু গো ধরলো ভুট্টো। প্রেসিডেন্টের কাছে কাঁদতে কাঁদতে এসে বলে” আমিই তো পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যা গরিষ্ঠ আসনের মালিক। শেখ মুজিব তো পশ্চিম পাকিস্তানে কোন আসন পাইনি।সুতরাং আপনি ওরে পূর্ব পাকিস্তানের আর আমারে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বানায়া দেন ” । ছাগলটার আসলে মাথাটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ওর খেয়ালই নাই যে ইউনিট প্রথা বাতিল হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম পাকিস্তান বলে কিছু নেই, আছে চারটি প্রদেশ। এরপর আরো কান্ড করলো ছাগলে।কেন্দ্রীয় সরকারে আওয়ামীলীগের সমান মন্ত্রীত্ব চেয়ে বসলো। আরো করলো কি, নিজেই সাত সদস্যের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটি গঠন করে বসলো। অথচ ওর এসব করার কোন রাইটই নাই। আসন পাইছে মোটে কয়টা। এর কারনেই ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হয় এবং অপারেশন সার্চলাইটের খড়্গ নেমে আসে বাঙালির ওপর।

ঘৃণাভরে স্মরণে আনছি পাকিস্তানের তৎকালীন চিফ অব জেনারেল স্টাফ,যার উপর দায়িত্ব ছিলো মিলিটারি অপারেশন পরিচালনার, সেই গুল হাসান খানকে যে পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধ করার নামে বিদেশ থেকে অস্ত্র শস্ত্র এনে পশ্চিম পাকিস্তানের ক্যন্টনমেন্টে ভরে রাখছিলো। ধারণা করা হয়ে পূর্ব পাকিস্তান সমস্যার সামরিক সমাধান অর্থাৎ বাংলাদেশে মিলিটারি ক্র্যাকডাউন করার মূল বুদ্ধিটা এই শয়তানেই যোগায়ছিল ইয়াহিয়াকে। এবং আর্মি হেডকোয়ার্টারের মিলিটারি অপারেশন এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকার সূত্রে অপারেশন সার্চলাইটের অনুমোদনও তারই দেওয়া। ব্যাটা পূর্ব পাকিস্তানে ওর চ্যালাদের কি বেহাল দশা হইছে এইটা আন্দাজ করতে পারে নাই।

ঘৃণার সাথে মুখে আনছি নিয়াজীর নামটা।ব্যাচারা। শেষমেষ কিনা তারই ব্যাচমেট এবং যৌথ কমান্ডের প্রধান জগজিৎ সিং অরোরার কাছে নাকে খত দিলো।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

45 + = 48