অবস্থা ও অবস্থান এবং অতঃপর – পর্ব -১

অবস্থা : সাভারে রানা প্লাজা ধ্বস – ভয়াবহ অপরাধময় বিপর্যয় ।

অবস্থান :
সরকার বা সরকারীদলের কেউ জড়িত নয় মুলক সতর্কতা গ্রহন, অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা এবং আত্মপক্ষ সাফাই সহ দায়মুক্তির ব্যাপক আয়োজন ও প্রচেষ্টা । -সরকারী দলের বিব্রতকর অবস্থান ।
বিরোধীদলের বেকারত্বমোচন ও দাবীর নুতন ক্ষেত্র তৈরী , এবং সেই সুবাদে চুপমেরে থাকা নেতাদের নুতন পোষাকে মাইকের পেছনে অবস্থান –ঘটনায় সরকারী দলের সম্পৃক্ততা প্রমানের প্রয়াস এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের ব্যার্থতা প্রমান করবার প্রানান্তকর চেষ্টা । – বিরোধীদলের সুবিধাজনক রাজনৈতিক অবস্থান ।

অতীতে সরকার বা বিরোধীদলে থাকা শকুন স্বভাবের নেতারা, যারা শুধুমাত্র লাশে পঁচন ধরলে এসে হাজির হন – বাকী সময় দেশ বা মানুষের জন্য তাদের কিছুই করনীয় থাকে না , শুধুমাত্র নিজ নিজ বানিজ্য নিয়ে ব্যাস্ত থাকেন – তারা হাস্যকর, উস্কানীমূলক ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ছড়ানোর চেষ্টা করেন । – অনিশ্চিত ভ্রান্ত অবস্থান ।
জনতার উদ্যোগী অংশ – পরিপূর্ন আবেগ সামর্থ এবং প্রচেষ্টা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া ও বিপর্যয় উত্তোরনের চেষ্টা । – উদ্যোগী এবং সহায়ক অবস্থান ।
জনতার দ্বিধাগ্রস্থ ও অপেক্ষাকৃত ভুমিকাহীন অংশ – অত্যন্তগুরুত্ব ও ব্যাস্ততার সাথে প্রতি মুহুর্তের সংবাদ সংগ্রহ এবং তা নিয়ে পরস্পর বিতর্ক এবং ফেসবুক প্রদর্শন যু্দ্ধে অবতীর্ন হওয়াই মুখ্য উদ্যেশ্য । – সুবিধাভোগী অবস্থান ।

জ্ঞানী ও কথিত বু্দ্ধিজীবি অংশ – যাদের প্রায় কখনোই কোনো কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করতে হয় না, অর্জিত জ্ঞান সঠিক পথে ব্যায় করতে হয় না । শুধুমাত্র নানারকম মতামত ব্যাক্ত করা এবং বিবিধ রেফারেন্স প্রদানের মাধ্যমে নিজের জ্ঞানের পরিধি কতটা বড় তা বুঝিয়ে দেয়াই যাদের কাজ, তারা – কি ঘটলো, কেন ঘটলো, অন্যথায় কি হতে পারত, কি করনীয় ছিল ইত্যাদি পরিসংখান তৈরী করত পেশ করায় ব্যাস্ত । – গোলমেলে জটিল অবস্থান ।

মিডিয়া ও প্রচারমাধ্যম : ব্রেকিং নিউজ খুঁজে বেড়ানোই যাদের কাজ , দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যথেষ্ট পরিমানে ব্রেকিং এলিমেন্ট পাওয়ায় তাদের ব্যাস্ততার কমতি নেই, তাদের ব্যাবসার ফুল সীজন । প্রচার ও বিক্রির সর্বোচ্চ কাটতি । – সফল অবস্থান ।
অতঃপরঃ-
উপরোক্ত ঘটনা সমূহ কিছুদিন চলবার পর বৈষয়িক গুরুত্বের তীব্রতা কমে আসে । ধীরে ধীরে সংশ্লিষ্ট সবাই ঘটনার সাথে কোনো না কোনো ভাবে নিজের সম্পৃক্ততা বা দায়বদ্বতা অনুভব করবার কারনে বিব্রত বোধ করেন এবং কম বেশী দ্বিধা আতন্ক এবং অপরাধবোধে ভুগতে থাকেন । কারন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রত্যেকেই কিছু না কিছু দায়ভার অনুভব করেন , যার ফলশ্রূতিতে মৌনতা ও নিরবতাপর্ব চলতে থাকে, সবাই অপেক্ষায় থাকে – দেখা যাক সামনে কি হয় – শুধুই অপেক্ষা আর পর্যবেক্ষন ।

উপসংহারঃ-

স্বাধীনতার পরবর্তী ৪২ বছরে বাংলাদেশে অনেকগুলো সরকার নিজ নিজ সাধ্য, সামর্থ ও বিবেচনা অনুযায়ী দেশের মঙ্গলসাধন ও উন্নয়ন করবার চেষ্টা করেছেন । এ ব্যাপারে সব সরকারেরই কম বেশী সাফল্য ও ব্যার্থতা রয়েছে, যদিও আমরা আলোচনা বা সমালোচনা করবার সময় একচেটিয়া বক্তব্যকেই প্রাধন্য দেই । আমার বিবেচনায় কিছু জরুরী কাজ কোন সরকারই যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে করেননি বা করতে চাননি, যার খেসারত আমাদের সবাইকে প্রতি পদে দিতে হচ্ছে । মুলতঃ যে দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ন তা হলো –

১. প্রশাসনিক কাঠামোর সার্বিক পরিবর্তন ( গঠন,কার্যবিধি, ফলাফল ও জবাবদিহিতা ) ।
২. আইন ও বিচার বিভাগের পরিপূর্ন সংস্কার ।
দেশের প্রতিটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিজেকে অন্যায়ের সাথে জড়িয়ে ফেলেন । কেউই সচেতন ভাবে ভুল বা অন্যায়ের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চান না বলেই আমার ধারনা, শুধুমাত্র কিছুসংখক অতিমাত্রায় সুবিধালোভী মানুষ ছাড়া । প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক ব্যাবস্থার কারনেই মূলতঃ অবস্থাগত ভুল বা অন্যায়ে অপরাধদুষ্ট হন সাধারন মানুষ । যার ফলশ্রুতিতে একটা নিদৃষ্ট সময় এবং অবস্থার পর অনেকেই নিস্ক্রীয় ভুমিকা গ্রহন করেন । খুব সহজ ভাবে দেখুন – নুতন গাড়ী রাস্তায় নামাতে হলে ট্রান্সপোর্ট অথরিটি, কর কর্তৃপক্ষ, ট্রাফিক পুলিশ, ব্যাংক কর্মকর্তা এবং গাড়ীর মালিক সহ সংশ্লিষ্ট সবাই কোনো না কোনো ভাবে ভুল অথবা অন্যায়ে জড়িয় যান । এভাবে সিষ্টেমের কারনে প্রত্যেকটা মনুষকে বিভিন্ন বিষয়ে অপরাধী হয়ে বেঁচে থাকতে হয় ।

আমরা সবাই এই অপরাধ বোধ থেকে মুক্তি পেতে চাই ।

ভাল যে কোনো উদ্যোগ গ্রহনের জন্য এটা মোটেও ভুল সময় নয় । এখনই সময় ।

“যতক্ষন বেঁচে আছি ততক্ষন থাকবে দায়বদ্বতার ঋন ।“

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “অবস্থা ও অবস্থান এবং অতঃপর – পর্ব -১

    1. “তোমার ছেলে জাগলে মাগো রাত
      “তোমার ছেলে জাগলে মাগো রাত পোহাবে তবে ।” – জেগে আছি জেগে থাকবো আমৃত্যু ।
      ——————————–

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 3