গনিত যখন ঈশ্বর

১.১ কেউ বলে জগত গনিতময়, কেউ বলে জগত শূন্যময়, আবার কেউ বলে জগত ঈশ্বরময় কিংবা ঈশ্বর ব্যতীত কিছু নেই কিংবা জগতই ঈশ্বর, ঈশ্বরই জগত।

১.২ আপনারা পীথাগোরাস এবং তাঁর অনুসারী পীথাগোরানীয়দের নাম শুনে থাকবেন। তাঁরা জগতকে গনিতের মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করতেন। ২,৪,৬…..জোড় সংখ্যা গুলোকে তারা নর এবং ১,৩,৫…. বিজোড় সংখ্যাগুলোকে তারা নারী ভাবতেন। এদের সম্মিলনের ফল ১,২,৩,৪………..অসীম সংখ্যাকেই তারা ঈশ্বর ভাবতেন। গনিত ও ধর্মকে তারা একরূপে বিশ্বাস করতেন। গানিতিক সৌন্দর্য্যের ভেতরেই তারা ধর্মকে খোজে পেতেন। যে বা যারা গনিতের অসৌন্দর্যের কথা বলতেন তাকে বা তাদেরকেই তারা অধার্মিক মনে করতেন। তাদের ধর্মবোধ ও বিশ্বাস ছিল গনিতের সৌন্দর্য্য কেন্দ্রিক। গনিতের প্রতি অন্ধবিশ্বাস তাদেরকে তাড়িত করতো। তারা গনিতকেই ঈশ্বর ভাবতেন।

১.২ এখন আসা যাক আধুনিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান কি বলে? আধুনিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে যা পাই, জগত কিংবা প্রকৃতির ভাষা বিজ্ঞান, আর বিজ্ঞানের ভাষা গনিত। জগত হলো শূন্য জ্যামিতিতে গনিতেরই লীলা-খেলা! আইনস্টাইন বলেন দেশ-কালের বিকৃতির ফল পরা ভর-শক্তি এবং অপরা মহাকর্ষ বল। কিন্তু পরা ভর-শক্তি ও মহাকর্ষ বল ব্যতীত দেশ-কাল কোথায়? স্টিফেন হকিং গানিতিক ইকুয়েশনে কল্পনা করলেন অবাস্তব/কাল্পনিক দেশ-কাল। আর ইহাই শূন্য জ্যামিতি! পীথাগোরীয়ানদের গনিত কেন্দ্রিক অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মবোধকে যুক্তিগয়ন করেছে আধুনিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান।

১.৩ পরা ভর-শক্তি এবং অপরা মহাকর্ষ বলের লব্দি শূন্য যা শূন্য জ্যামিতিতে যৌক্তিক গানিতিক রাশিমালার বাস্তব প্রতিফলন!

১.৪ গনিতই জগত! গনিতই ঈশ্বর! নয় কি?!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “গনিত যখন ঈশ্বর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 23 = 31