মু্হম্মদের ঐতিহাসিকতা ও ঐতিহাসিক মুহম্মদ, পর্ব-৬

হাদিস গবেষনা প্রসঙ্গে যার নাম না করলেই চলে না তিনি হলেন হাঙ্গেরীয়ান স্কলার ইগনাচ গোল্ডজিহের (22 June 1850 – 13 November 1921)। তার ধ্রুপদী গবেষনার উপর দাঁড়িয়েই পরবর্তী গবেষকরা ইসলামী বিবরণের বিপরীতে ভিন্নভাবে ভাবতে পেরেছেন। আগ্রহী ব্যক্তিরা গোল্ডজিহেরের Muslim Studies গ্রন্থটি পড়ে দেখবেন। এবার মূল কথায় আসি হাদিসগুলি ঐতিহাসিক বিবরণ হিসাবে ঐতিহাসিকদের কাছে গ্রহনযোগ্য না হলেও ১৬০ কোটি মুসলিম এগুলীতে বিশ্বাস করেন। এত মানুষের বিশ্বাসের শক্তি বিরাট; তাই আমাদেরও হাদিস নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করতে হবে। এত বিপুল সংখ্যক হাদিস রয়েছে, আর এই হাদিসের মধ্যে পরস্পরবিরোধী হাদিসের সংখ্যা এত বেশী যে আলেম-উলেমারাও হাদিস নিয়ে সমস্যায় পরে যান। এই কারণে মুসলিম পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় প্রায় সমস্ত বিতর্কিত ও অস্বস্তিকর হাদিসকে জাল ও জইফ হাদিস হিাসবে বাতিল করার চেষ্টা হয়েছে। চলেন এবার হাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ভাতের গল্প না করে হাত ঢুকিয়ে দু-চারটে ভাত টিপে দেখি। যেমন ধরেন:

হাদিসের হদিস

এই পর্বে আমাদের মূল আলোচ্য বিষয় হল হাদিস। হাদিসগুলির যে ঐতিহাসিক আলোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বহীন সে বিষয়ে বহু আগে থেকেই নিয়ে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে স্কলাররা একমত। মুসলিম স্কলাররা সাধারণত প্রচলিত ষটি হাদিস সংকলনকে সসীহ বা অথেনটিক হিসাবে গ্রহন করেন, এগুলী হল- ইমাম বুখারীর (৮১০-৮৭০)সহী বুখারী, মুসলিম ইবনে আল-হা্জ্জাজের (৮২১-৮৮৭) সহী মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ (৮১৮-৮৮৯), সুনানে ইবনে মাজাহ (৮২৪-৮৮৭) তিরমিসির (৮২৪-৮৯২) জামি , ইবনে নাসাই (৮২৯-৯১৫) এর আস-সুনান আস সুঘ্রা। অবশ্য এর বাইরেও বহু সংখ্যক হাদিস সংকলন রয়েছে। স্পস্টতই দেখা যাচ্ছে যে সহী হাদিস সংকলকরা সবাই প্রায় মুহম্মদের কথিত সময়কালের দু শতক পরের মানুষ। ইসলামিক সূত্র প্রথম হাদিস সংকলক হিসাবে মালিক ইবনে আনাস (৭১৭-৭৯৫) নাম উল্লেখ করে, যার সংকলিত মুয়েত্তা এখনও ইসলামী আইনের-কানুনের প্রামান্য গ্রন্থ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুর (৭৫৪-৭৭৫) এর আমলে সংকলিত এই মুয়েত্তা মুহম্মদের কথিত মৃত্যুর অন্তত চোদ্দ দশক পরে রচিত হয়েছিল। এর অর্থ হাদিসগুলি এর আগে কোন লিখিত আকারে প্রচলিত ছিল না, মানুষের মুখে মুখে হয়ত বা প্রচলিত ছিল। যে কোন ঐতিহাসিক ঘটনা পৌরাণিক রূপ পরিগ্রহ করার পক্ষে দেড় শতাদ্বী যথেষ্ট ভাল সময়। ফলে মুহম্মদ যদি ঐতিহাসিক চরিত্র হয়েও থাকেন, দেড় শতাব্দী পরে লোকমুখে প্রচারিত গল্পের মাধ্যমে পৌরাণিক নবী হিসাবে পরিগণিত হতে তার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হয়নি। এই গাল-গল্পগুলিই পরবর্তীকালে হাদিস হিসাবে স্থান পেয়েছে।

হাদিস গবেষনা প্রসঙ্গে যার নাম না করলেই চলে না তিনি হলেন হাঙ্গেরীয়ান স্কলার ইগনাচ গোল্ডজিহের (22 June 1850 – 13 November 1921)। তার ধ্রুপদী গবেষনার উপর দাঁড়িয়েই পরবর্তী গবেষকরা ইসলামী বিবরণের বিপরীতে ভিন্নভাবে ভাবতে পেরেছেন। আগ্রহী ব্যক্তিরা গোল্ডজিহেরের Muslim Studies গ্রন্থটি পড়ে দেখবেন। এবার মূল কথায় আসি হাদিসগুলি ঐতিহাসিক বিবরণ হিসাবে ঐতিহাসিকদের কাছে গ্রহনযোগ্য না হলেও ১৬০ কোটি মুসলিম এগুলীতে বিশ্বাস করেন। এত মানুষের বিশ্বাসের শক্তি বিরাট; তাই আমাদেরও হাদিস নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করতে হবে। এত বিপুল সংখ্যক হাদিস রয়েছে, আর এই হাদিসের মধ্যে পরস্পরবিরোধী হাদিসের সংখ্যা এত বেশী যে আলেম-উলেমারাও হাদিস নিয়ে সমস্যায় পরে যান। এই কারণে মুসলিম পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় প্রায় সমস্ত বিতর্কিত ও অস্বস্তিকর হাদিসকে জাল ও জইফ হাদিস হিাসবে বাতিল করার চেষ্টা হয়েছে। চলেন এবার হাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ভাতের গল্প না করে হাত ঢুকিয়ে দু-চারটে ভাত টিপে দেখি। যেমন ধরেন:
মুহম্মদ কি আল্লাহকে দেখেছেন?-
১.উত্তর না
(সহী বুখারী, তাওহীদ অধ্যায়, হাদিস ৭০৩১)
“আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় রবকে দেখেছেন, সে মিথ্যা বলল। কেননা আল্লাহ্ বলছেন, চক্ষু তাঁকে দেখতে পায় না। আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়েব জানেন, সেও মিথ্যা বলল। কেননা আল্লাহ্ বলেন, গায়িব জানেন একমাত্র আল্লাহ্। [৩২৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬৬)”

২.-উত্তর হ্যাঁ
(সহী মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, হাদিস নং ৩২৪)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ….. আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে “নিশ্চয়ই তিনি (মুহম্মদ) তাকে (আল্লাকে) আরেকবার দেখেছিলেন”-

চলেন এরকম আরো একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজি: মু্হম্মদ উযুতে কতবার করে ধুতেন?

উত্তর- একবার “মুহম্মত ইবনে ইউসুফ(র)….. ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী এক উযুতে একবার করে ধুতেন”- (সহী বুখারী, উযু অধ্যায়, হাদিস ১৫৯)
উত্তর- দুবার “আবদুল্লাহ্ ইব্ন যায়দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ‘নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূতে দু’বার করে ধুয়েছেন।“ (সহী বুখারী, উযু অধ্যায় হাদিস (ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ) ১৬০)
উত্তর- তিনবার “হুমরান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘উসমান ইবনু আফ্ফান (রাযি.)-কে দেখেছেন যে, তিনি পানির পাত্র আনিয়ে উভয় হাতের তালুতে তিনবার ঢেলে তা ধুয়ে নিলেন। অতঃপর ডান হাত পাত্রের মধ্যে ঢুকালেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তাঁর মুখমন্ডল তিনবার ধুয়ে এবং দু’হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। অতঃপর মাথা মাসেহ করলেন। অতঃপর দুই পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। পরে বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘যে ব্যক্তি আমার মত এ রকম উযূ করবে, অতঃপর দু’রাক‘আত সালাত আদায় করবে, যাতে দুনিয়ার কোন খেয়াল করবে না, তার পূর্বের গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (সহী বুখারী, উযু অধ্যায় হাদিস (ইসলামী ফাউন্ডেশন) ১৬১)
এ হল মহাসমুদ্রের বিন্দু পরিমান নমুনা মাত্র।আর কেউ যদি শিয়া বিবরনের সঙ্গে সুন্নী বিবরণ মিলিয়ে দেখতে পারে তিনি বৈপরীত্যের পরিমান দেখে চমৎকৃত হয়ে যাবেন, তবে তার জন্য তার সুন্নী হাদিস সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকা প্রয়োজন। গবেষনুচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য শিয়া সাইটের লিঙ্ক দিলাম –al-islam.org

যে কোন রুচিশীল ভদ্রলোক যদি হাদিস পড়তে থাকেন, কিছুদূর গিয়েই ধাক্কা খাবেন। একটি হাদিসে দেখা যায় নবীজির দাসি উম আয়মান ভূলবশত নবীজির প্রস্রাব খেয়ে ফেলার পর নবীজিকে জানালে তিনি তাকে আস্বস্ত করেন:
Tabarani said: Hussain bin Is’haq al-Tustari informed us, who was informed by Uthman bin Abi Shaybah, who was informed by Shababah bin Sawwar, who was informed by Abu Malik al-Nakha’i who narrated from Aswad bin Qays, who narrated from Nubayh al-Anazi, who narrated from Umm Ayman, who said: ‘‘One night the Prophet got up and went to a side to urinate in the bowl. During the night, I rose and was thirsty so I drank whatever was in it and I did not even realize what it was. In the morning, He said, ‘Oh Umm Ayman! Throw away whatever is in the bowl’. I replied, ‘I drank what was in the bowl’. He thereafter smiled as such that His teeth appeared and said, ‘Beware! You will never have stomach pain’’.
(Tabarani Kabir 20740, Mustadrak al-Hakim 6912, Dalail al-Nubuwwah li-Isfahani 355)

আর একটি হাদিসে দেখা যায় মুহম্মদ তার পৌত্র হাসান ও হুসেনের লিঙ্গে চুমু খাচ্ছেন। (দ্রষ্টব্য- মাজমা আল জাওয়াইদ, ২৯৯/৯)। এরকম কুরুচিকর বর্ণনাসম্বলিত হাদিস গন্ডায় গন্ডায় পাওয়া যায়। রুচিশীল পাঠকদের আর ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে চাই না। একজন পৌরাণিক ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বাস্তব-অবাস্তব যত রকমের কল্পনা সম্ভব সবই স্থান পেয়েছে হাদিস গ্রন্থে। এখন এইপর্যন্ত্য আসার পরে প্রশ্ন আসতে বাধ্য এইরকম উদ্ধট হাদিসসমূহ ধর্মগ্রন্থ হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেল কি করে- আমরা এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করব।

ইসলামী ধর্মতত্বে হাদিসের প্রথম কাজ হল কোরান ব্যাখ্যা করা। শনে নজুল নামক উপাদান হাদিসেই পাওয়া যায়, যার থেকে কোন পরিস্থিতিতে কোন আয়াত নাজিল হয়েছিল তা জানা যায়। কোরান অতিমাত্রায় দুর্বোধ্য, এলোমেলো একটি গ্রন্থ, তাফসিরের সাহায্য ছাড়া কোরান বুঝে পড়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। হাদিস যে বিবরণ দিচ্ছে তা যে সত্য তা আমরা বুঝব কি করে- প্রকৃতপক্ষে হাদিসের বর্ণনা ঐতিহাসিকভাবে যাচাই করার কোনই উপায় নেই। এর পরে কোরান আলোচনার সময় আমরা দেখব প্রকৃতপক্ষে ইসলামী স্কলাররা অনেক সময়ই বিভ্রান্ত হয়েছেন। কোরানের বহু সুরারই অনেক বেশী যৌক্তিক ব্যাখ্যা হাজির করা যদি আমরা ইসলামী বিবরণের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তাভাবনা করি। ইসলামের প্রথম চার খলিফা কোন হাদিস সংকলন করেন নি। ইসলামী সূত্র আমাদের জানায় যে খলিফা উমর খলিফা যাবতীয় হাদিসসংকলন পুড়িয়ে ফেলেছিলেন; কারন তার মনে হয়েছিল হাদিস কোরানের প্রতিযোগী হয়ে যেতে পারে। তা হলে পরবর্তী মুসলিমরা এত এত হাদিস পেলেন কোথা থেকে?

আগের পর্বে আমরা দেখেছি আবদ-আল মালিকের(৬৮৫-৭০৫) রাজত্বকালের আগে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসগুলি চালু হয়নি। উমাইয়া খলিফা আবদ-আল মালিক যার কথা আগের পর্বে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনাকারী বিদ্রোহীদের আল্লা ও নবীর সুন্নাহ মানতে আহ্বান করেছিলেন।(1) যেখানে পূর্ববর্তী খলিফা মুয়াবিয়া উমরের সুন্নাহের উল্লেখ করেছেন (আল-ইয়াকুবী ২:২৬৪)। এর থেকে মনে হতে পারে যে আবদ-আল মালিকের আমলে হাদিস প্রচারিত হয়ে গিয়েছিল এবং সেই সময় নবীর সুন্নাহ রাষ্ট্রের আইন হিসাবে সংকলিত ও প্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু দেখা যায় উমাইয়া শাসনের বিদ্রোহীরাও নবীর সুন্নতের প্রসঙ্গ তুলে নিজেদের অবস্থান কে শক্ত করছে। প্যাট্রিশিয়া ক্রোন এবং মার্টিন হিন্ডস সিদ্ধান্ত করেছেন যে পুরো সপ্তম শতাব্দী জুড়ে নবীজির সুন্নৎ শব্দবন্ধের কোনই অর্থ ছিল না। কেউ নবীর সুন্নৎ পালন করে এ কথার অর্থ সাধারণভাবে বোঝাত সেই ব্যক্তি খুব ভাল লোক, নির্দিষ্ট করে কিছুই বোঝাত না(Crone and Hinds, God’s Caliph)।কিন্তু এইভাবে বেশীদিন চলতে পারে না। অতি দ্রুত খিলাফৎকে সংহত করার প্রয়োজনে নবীর সুন্নাহ বলতে কি বোঝায় তা নির্দিষ্ট করার প্রয়োজন দেখা দিল, কারণ স্বঘোষিতভাবেই খিলাফৎ হল নবীর উত্তরাধিকারী। এই পদ্ধতিতে সমসাময়িক আরবের পৌরাণিক ধারণা, রীতি-নীতি, আচার-আচরণ আর্থ-সামায়িক পরিস্থিতিজনিত বাধ্যবাধকতা সবই হাদিস হিসাবে স্হায়ীভাবে ধর্মের অংশ হয়ে গেছে।

হাদিসকে গ্রহনযোগ্য করার জন্য এর সাথে সনদ অর্থ্যাৎ মুহম্মদের সমসাময়িক কাল থেকে হাদিস সংকলনের সময় পর্যন্ত বর্ণনাকারীদের নাম পরপর এর সাথে যুক্ত করা হয়ে থাকে। প্রকৃতপক্ষে ইসলামিক স্কলারদের কাছে এই সনদই হল হাদিসের সত্যতা নির্ণয়ের একমাত্র মাপকাঠি। এখানে দুটি বিষয় বিবেচনা করার প্রয়োজন- প্রথমত, যদি জাল হাদিস বানানো সম্ভব হতে পারে তাহলে জাল সনদ বানানো আরো বেশী সম্ভব। বাস্তবে এটি প্রথমটির থেকে অনেক সোজা। দ্বিতীয়ত, বহুক্ষেত্রে একি হাদিসের অনেক রকম সনদ পাওয়া গেছে। এমন হাদিসও পাওয়া যায় যার প্রায় ৭০০ রকম সনদ আছে২। সনদ যে জাল করা হত এটি তার বড় প্রমান। তারপরেও যদি এক মূ্হুর্তের জন্য মেনে নেই যে হাদিসের সনদে উল্লিখিত সাহাবী ও পরবর্তী বর্ণনাকারীরা কেউ কাল্পনিক নন, তারা আসলেই তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হাদিসগুলি পৌঁছে দিতেন, এটা আদপেই বিশ্বাস যোগ্য নয় যে এইভাবে কোন লিখিত নথি ছাড়াই এত বিপুল পরিমান তথ্য দুই শতাব্দী ধরে কোন বিকৃতি ছাড়াই টিকে ছিল। অনেকে হয়ত এ প্রসঙ্গে প্রাচীন আরবদের কিংবদন্তীসুলভ স্মৃতিশক্তির কথা তুলবেন। এর উত্তরে বলা যায় এটা কোন নির্দিষ্ট মানুষের স্মরণশক্তির সমস্যা নয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হাদিস প্রচলিত হতে থেকেছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পালটেছে, নতুন নতুন প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, সর্বোপরি যারা হাদিস বর্ণনা করছেন তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও রাজনৈতিক আনুগত্য হাদিস সংকলনে কোন প্রভাব ফেলেনি এটা সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য। পরের পর্বে আমরা যখন হাদিস সংকলনের ঐতিহাসিক বিশ্লেসন করব তখন বিষয়টি আরো পরিস্কার হয়ে যাবে। আর আরবদের অদ্ভুত স্মৃতিশক্তি মিথ ছাড়া কিছু না। ইসলামী বিবরণ থেকেই এটা অনায়াসে দেখানো যায়।
দেখা যায় মুহম্মদ নিজেই কোরানের আয়াত ভূলে যেতেন, যার উপর কিনা কোরান নাজিল হয়েছিল-
“আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে এক ব্যাক্তিকে কুরআন তিলাওয়াত করে শুনালেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন! সে আমাকে অমুক অমুক আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা অমুক সূরা থেকে আমি বাদ দিয়েলাম” (সহী মুসলিম, অধ্যায় ৭, হাদিস নং ১৭১০)

1. Ref. Patricia Crone and Martin Hinds: God’s Caliph: Religious Authority in the First Centuries of Islam.
2. বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কৃত বুখারী হাদিসের প্রথম খন্ডের ভূমিকা থেকে নেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “মু্হম্মদের ঐতিহাসিকতা ও ঐতিহাসিক মুহম্মদ, পর্ব-৬

  1. দারুন এক পোস্ট। আপনার পোস্টের
    দারুন এক পোস্ট। আপনার পোস্টের সাথে একমত। সকল হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস বানোয়াট গল্প ছাড়া আর কিছু নয়।

    আমার প্রশ্ন- এই সকল বানোয়াট হাদিসকে সত্য ভেবে ও তার উপরে ভিত্তি করে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষীরা যখন ইসলামের নবীর চরিত্র হনন করে ও ইসলামকে দোষারোপ করে , তখন এই সকল নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষীদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

73 + = 82