স্বপ্ন জেগেছে পদ্মায়

পদ্মা সেতু এখন চোখের সামনে দৃশ্যমান। আগে ওপার থেকে এপার আসতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগতো। কিছুদিন পরে চোখের নিমিষে এপার ওপার হওয়া যাবে। জীবনযাপনও পাল্টে যাবে। যে পদ্মা সেতু ছিল অলীক স্বপ্ন সেই পদ্মা সেতু এখন লাখো মানুষের স্বপ্ন পূরণের কেন্দ্রে। পদ্মার এপার-ওপারের সাধারণ মানুষদের যখনই পদ্মায় চোখ পড়ে তখনই তারা আশায় বুক বাঁধেন। এরই মধ্যে এই সেতুর ৩৮ ভাগ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ সম্পন্ন হলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই সেতু যানবাহন ও ট্রেন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা রয়েছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দ্বিতল পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে চলবে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন তার এ ঘোষণাকে অনেকেই অসম্ভবতার নিরিখে হিসেব করেছিলেন। কিন্তু পদ্মা সেতুকে নিয়ে বর্তমান সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অদম্য ইচ্ছা, চ্যালেঞ্জ ও দৃঢ়তায় তা এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। দ্বিতল এই সেতু তৈরিতে মোট ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ২০১৪ সালের জুন মাসে চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানিকে মূল সেতু নির্মাণের কাজ দেয়া হয়। একই সেতুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নদী শাসনের কাজ দেয়া হয় চায়নার সিনো হাইড্রো করপোরেশনকে। গত বছরের ১২ই ডিসেম্বর পদ্মা নদীর ওপর দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণের মূলকাজ যখন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তখনই স্বপ্নের ক্ষণ গণনা শুরু হয় তখন থেকেই। পদ্মা সেতু উন্মুক্ত করে দেয়ার নির্ধারিত সময় ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই কাজ সম্পন্ন করতে মাওয়া ও জাজিরা দু’প্রান্তেই চলছে দিন-রাতের কর্মযজ্ঞ। ইতিমধ্যে সেতুর ৩৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের সকল কাজকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পদ্মায় এখন স্প্যান তৈরির পাশাপাশি মূল সেতুর পাইল বসানোর কাজ চলছে। ৪১টি স্প্যান দিয়ে তৈরি হবে এই সেতু। মোট পিলার থাকবে ৪২টি। সেতুর মাওয়া প্রান্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেতুর ট্রানজিশন পিলারের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ২০১৭ সালের মধ্যে সবগুলো পাইল স্থাপন শেষ হবে ।ট্রানজিশন পিলারে মোট ১৬টি পাইল স্থাপন হচ্ছে ।মূল সেতুর শেষ প্রান্তের ৪২ নম্বর পিলারে চলছে পাইল স্থাপনের কাজ। জাজিরা প্রান্তের পদ্মা তীরের এই পাইলটিই মূল সেতু এবং সংযোগ সেতুর বন্ধন তৈরি করবে। মাওয়া প্রান্তের পদ্মা তীরে ওই পাইলের অনুরূপ পাইলে স্থাপন হবে সেতুর এক নম্বর পিলার। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, নদীর পাইলগুলোর গভীরতা গড়ে প্রায় ১২৮ মিটার। এছাড়া মূল সেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে ৪০টি পিলারের অবস্থান হবে নদীর মধ্যে। মাঝ নদীর পিলারগুলোতে ৬টি করে পাইল স্থাপন করা হলেও দু’তীরের দু’টি পিলারকে আরো মজবুত করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে নদী তীরবর্তী এলাকায় শুকনো স্থান হওয়ার কারণে এই পিলারগুলোতে হ্যামার ব্যবহার করা হবে না। এ জন্য আধুনিক মেশিনে মাটি খুঁড়ে ৮০ মিটার গভীর এবং তিন মিটার ব্যাসের ১৬টি পাইল স্থাপন করা হবে। এদিকে জাজিরা প্রান্তের পাইল স্থাপন হয়ে যাওয়ায় ৩৭ নম্বর পিলারকে কংক্রিটিং করা এবং পরবর্তী কাজ এগিয়ে নেয়ার কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। ইতিমধ্যে ৩৮ নম্বর পিলারে ছয়টি পাইল বসানো হয়েছে। আর ৩৯ নম্বর পিলারে বসেছে চারটি পাইল। পর্যায়ক্রমে সকল পাইলকে কংক্রিটিং করা

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “স্বপ্ন জেগেছে পদ্মায়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 − 72 =