আয়নাবাজিঃ সুপারহিরো আয়নায় ‘রুচিশীল’ মিডলক্লাসের ফান্টাসি

এক
‘আয়নাবাজি’ নিয়ে শুরুতে কিছু বলার বা কোন পোস্ট দেয়ার ইচ্ছে ছিল না … অমিতাভ রেজাকে নিয়েও না … এমনকি অমিতাভ রেজা যখন বাঙালি মুসলমানের পরিচালক হিসাবে নিজেকে পরিচয় দিতে চাইলেন বা পরে সমালোচনার মুখে নিজেকে সকল শ্রেণীর সকল মানুষের পরিচালক হিসাবেও দেখাতে চাইলেন- তখনও খুব বেশি গা করিনি …

ফেসবুক জুড়ে আমার নাস্তিক বন্ধুদের সমালোচনাগুলো দেখেছি … সমালোচনার কিছু জায়গায় আমি একমত- কেননা “আমি বাঙালি মুসলমানের পরিচালক”- এইরকম বক্তব্যটি সমস্যাজনক, সরাসরি বললে সাম্প্রদায়িকতাদোষেও দুষ্ট … কেন জানি মনে হচ্ছিল- অমিতাভ রেজা হয়তো এমনটা বলতে চাননি বা বলেননি, কিংবা তিনি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছেন। কথাটা হতে পারতো- “আমার সিনেমায় বাঙালি মুসলমানকে তুলে ধরতে চাই”, এমন কিছু বললে আপত্তি দেখিনা- কেননা বাংলাদেশের সিনেমায়- সাহিত্যে- শিল্পে বাঙালি-মুসলমানকে সঠিকভাবে রিপ্রেজেন্ট করা হোক- সেটি আমিও চাই। যেটার একটা অভাববোধ সবসময়ই আমি অনুভব করি। যাহোক- সেটি ভিন্ন আলাপ … অমিতাভ রেজার সেই সাক্ষাৎকারের পর থেকে অমিতাভ রেজাতে ক্ষিপ্ত আমার ফেসবুকীয় বন্ধুদের আয়নাবাজি নিয়ে অভিযোগের ডালি বিষয়ে দুটো কথা বলার তাগিদবোধ করছি … এক সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকার কারণে, বা এখনও নিজেকে একজন চলচ্চিত্র কর্মী মনে করি বলে আয়নাবাজি নিয়ে এই ধরণের সমালোচনার ডালিগুলো দেখে বিরক্তিই তৈরি হচ্ছে। এরকম বেঢপ- বেখাপ্পা – ঢালাও এবং মিথ্যা কিংবা অজ্ঞানপ্রসুত সমালোচনাগুলো যে এইসব সমালোচকদের নিজেদের গোয়ার্তুমি প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু করতে পারছে তা মনে করি না। কিন্তু, মুশকিল হচ্ছে, আমার এই সব নাস্তিক- প্রগতিশীল কথিত বন্ধুদের বন্ধু ও অনুসারীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন …

দুই
এই সমালোচনার মূল জায়গা দেখছি- কথিত নকলবাজির অভিযোগ। তার প্রমাণ, কিছু সিনেমার পোস্টার আর কোরিয়ান এক মুভির ট্রেইলার! সেই কথিত কোরিয়ান মুভি না দেখে, সেই মুভির কাহিনী- সিনোপসিস- রিভিউ না জেনেই- আন্ধাজনের মতো সবাই কিভাবে এই অভিযোগ পাড়তে পারে- তা দেখে অবাকই লাগছে … এমন আচরণ মোল্লাদের আচরণের মতই লাগে … কোরআন হাদীস না পড়েই না জেনেই যেভাবে তারা অন্ধ বিশ্বাসের জায়গা থেকে কুটতর্ক করে- এ যেন সেই একই রকম আচরণ … আয়নাবাজির পোস্টার আর সেইসব কথিত সিনেমাগুলোর পোস্টারের মিল কোন জায়গায়? আয়নাবাজিতে আয়না নামের চরিত্রের নানা ক্যারেক্টার পাশাপাশি ভাঙা আয়না জোড়া লাগিয়ে যে পোস্টার- সেটা সিনেমার থিমের সাথে যায় বলেই- এই পোস্টার এভাবে করা, অন্য পোস্টারে কি একই ক্যারেক্টারের টুকরো ইমেজ যুক্ত করার কোন বিষয় আছে? কেবল ভাঙ্গা আয়নার মিল- বা একই ক্যারেক্টারের বিভিন্ন সত্ত্বার সংযোগ- এতটুকু দেখেই যদি নকল বলা হয়- তাইলে দুনিয়ার ৯০% সিনেমারেই অন্য কোন না কোন সিনেমার নকল বলতে হয় … আসল নকল জানতে গেলে- ঢালিউডের নকল সিনেমার পোস্টার, গান … এসবও একটু দেখতে পারেন।

তিন
একটি অনলাইন পোর্টালের বিনোদন পাতায় তো “আয়নাবাজির নকল পোস্টার” শীর্ষক নিউজও ছাপা হয়েছেঃ “দেখা যাচ্ছে ‘আয়নাবাজি’র পোস্টার একাধিক হলিউড চলচ্চিত্র ও একটি তেলেগু ছবির পোস্টারের সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে। হলিউড চলচ্চিত্র ‘হাউজ অফ স্যান্ড এন্ড ফগ’‘রাইজিং কেইন’ এবং তেলেগু ছবি ‘রাঘব’-এর পোস্টারের সঙ্গে মিলে গেছে”। [সূত্রঃ http://shadhinbangla24.com/bn/news/456451]

আসুন পোস্টারগুলো এক নজরে দেখে নেয়া যাক। প্রথমেই আয়নাবাজির সেই আলোচিত পোস্টারঃ
/ALTERNATES/w640/aynabazi.jpg” width=”500″ />

সেন্ট্রাল ক্যারেক্টার আয়নার নানা চরিত্র ভাঙা আয়নার টুকরো ফ্রেম জোড়া দেয়া এই পোস্টারের পাশে অন্যান্য পোস্টারগুলো দেখা যাক- প্রথমেই ‘হাউজ অফ স্যান্ড এন্ড ফগ’:

এই পোস্টারের সাথে কোন জায়গায় মিল? House of Sand and Fog মুভিটির দুই সেন্ট্রাল ক্যারেক্টারের ছবি- যেটি একটি ভাঙ্গা আয়নায় রিফ্লেক্টেড হয়েছে, তার সাথে আয়নাবাজির পোস্টারের মিল কতটুকু?
‘রাইজিং কেইন’ আর ‘রাঘব’এর পোস্টারগুলোও তাহলে দেখা যাকঃ

হ্যাঁ, রাইজিং কেইন বা রাঘবে কেন্দ্রীয় চরিত্রের দুই সত্ত্বাকে পোস্টারে স্থান দেয়া হয়েছে। আয়নাবাজিতে কেন্দ্রীয় চরিত্র আয়না অনেকগুলো চরিত্র বা সত্ত্বায় অভিনয় করে। সেদিক দিয়ে কিছু মিল বের করতেই পারেন, এগুলোর দুটো সত্ত্বা জোড়া লেগে একটা চরিত্রকেই প্রকাশ করেছে, আয়নাবাজির পোস্টারে চার টুকরো মুখ মিলেই এক আয়নাকেই প্রকাশ করেছে। কিন্তু একে কি নকল বলা যায়? নকল বলা হয়? অবাক এবং মজার প্রশ্নটি মাথায় আসে- যে তিনটি সিনেমার পোস্টারকে নকল বলা হলো- তাদের নিজেদের পরষ্পরের ব্যাপারে কি নকলের অভিযোগ আছে? যেমন রাইজিং কেইন আর হাউজ অব স্যান্ড এণ্ড ফগ কি একটি আরেকটির নকল? কিংবা রাঘব কি রাইজিং কেইন এর বা উল্টোটা (যে সিনেমা পরে রিলিজ হয়েছে- সেটি আগেরটির)? কিংবা ‘রাইজিং কেইন’- ‘রাঘব’ কি ‘ডঃ জেকিল এণ্ড মিস্টার হাইড’ সিনেমার পোস্টারের নকল?


যাহোক, নকল পোস্টার সম্পর্কে আপনাদের যদি ধারণা কম থাকে- তাহলে চলুন সেসবের নমুনাও কিছু দেখা যাকঃ

তামিল ছবির নায়িকা কাজল আগারওয়ালের ছবির মাথা কেটে সেখানে বসানো হয়েছে পরীমনির মাথা- সিনেমার নাম ধুমকেতু।

ইনসারজেন্ট আর অগ্নি-২ এর পোস্টারঃ

‘নিয়তি’ আর ‘চালো ড্রাইভার’ সিনেমার পোস্টারঃ

রিদওয়ান রনির নতুন ছবি্ ‘আইসক্রিম; এর পোস্টার নিয়েও বিতর্ক হচ্ছে- অভিযোগ দ্য ফিলাডেলফিয়া স্টোরি আর হ্যালো ব্রাদার সিনেমাদুটোর পোস্টারের নকলঃ

শাহরুখ খান- কাজল জুটির জনপ্রিয় মুভি ‘দিলওয়ালে’র পোস্টারের সাথে The best of me মুভির পোস্টার মিলিয়ে দেখিঃ

‘মাস্তানি’ সিনেমার পোস্টারে দুইটা গলাকাটা নকলঃ

আরো কিছু নকলের উদাহরণঃ

চার
শুরুর পোস্টার নকলের অভিযোগ কিছুটা মিইয়ে আসতেই আরেকটি অভিযোগের কথা জোরেশোরে শোনা গেল! কোরিয়ান মুভি Tumbleweed, 2013 এর নকল নাকি এই আয়নাবাজি। পোস্টার নকলের চাইতেও এই অভিযোগ বেশ গুরুতর। কিন্তু, যারা এরকম অভিযোগ দিয়ে পুরো ফেসবুক সয়লাব করে দিলেন তাদের কাউকে বিস্তারিত কিছু বলতে দেখলাম না। প্রমাণ হিসেবে হাজির করলেন- টাম্বলউইডের এক ট্রেলার। যেটি দেখি বুঝা মুশকিল- কোন জায়গায় কিসে মিল বা কোথায় নকল! ফলে টাম্বলউইড সিনেমাটিও দেখে ফেলতে হলো। সুব্রত শুভর কল্যাণে একটি লিংক পাওয়াতে তা সম্ভব হলো, কিন্তু এতে কোন ইংলিশ সাবটাইটেল নাই- কোরিয়ান ভাষাটাও বুঝি না- ফলে শুধু দেখে যেতে হলো। তারপরেও বলা যায়, সিনেমাটি বুঝতে খুব একটা অসুবিধে হয়নি। সিনেমাটি বুঝতে এই অসুবিধে না হওয়া আবার আরেক অসুবিধের জন্ম দিলো- কেননা, এটুকু খুব ভালো করেই বুঝতে পারলাম যে- টাম্বলউইড আর আয়নাবাজি- সিনেমাদুটোর মাঝে বিন্দুমাত্র মিল নেই- একটিকে আরেকটির নকল বলা তো দূরের কথা।

না মেকিং এর দিক থেকে, না স্টোরি টেলিং এর দিক থেকে, না টেকনিকের দিক থেকে (যেগুলো দিয়ে দূরবর্তী মিল খুজে বের করা সম্ভব হতো)- না গল্প বা কাহিনীর দিক থেকে … কোথাও কোন মিল নেই। হ্যাঁ, একটা মিল আছে অবশ্য, এই টাম্বলউইডের প্রধান চরিত্রও ভাড়ায় জেল খাটে- আয়নাবাজির আয়নার মত- কিন্তু টাম্বলউইডে- ভাড়ায় জেল খাটার বিষয়টির কোন চিত্রায়ন নেই- সেটি গল্প বা কাহিনীর কোন গুরুত্বপূর্ণ অংশ নয়- বরং এটা একদম শুরুর দিকে একবারই তথ্য হিসেবে আসে- এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির কিছুটা ভ্যাগাবন্ডের মত জীবন যাপন সম্পর্কে ধারণাই কেবল আমরা পাই এর মধ্য দিয়ে, স্রেফ একটি পেশা- সে অভিনেতাও নয়- এই ভাড়ায় জেল খাটার মধ্য দিয়ে সে কোনরকম চ্যালেঞ্জ খুজে নেয় না কি- অভিনয়ের আনন্দ পায় না কি- এসবের কোনকিছুই আমরা জানতে পারি না, কেননা- এই বিষয়টি পুরো সিনেমার কাহিনীর জন্যে কোন বিশেষ ঘটনাই নয়। উল্টোদিকে আয়নাবাজির পুরো ঘটনাই আবর্তিত হয়েছে- আয়নার এরকম নানা চরিত্রে আবর্তিত হয়ে অন্যের জেল খাটাকে কেন্দ্র করে। আরেকটি মিল হচ্ছে- সেখানেও কেন্দ্রীয় চরিত্র একজনের (নায়িকার) প্রেমে পড়ে- সেই নায়িকা তার ছাদের বাসায় যায়। আয়নাবাজিতেও আয়না ছাদের বাসায় থাকে ও সেখানে নায়িকা যায়। এছাড়া আর কিছু মিল আছে কি না, খুজেও বের করতে পারলাম না।

টাম্বলউইড মূলত একটি মাফিয়া সিনেমা। একটি প্রতিশোধের সিনেমা। হুট করেই নায়িকার সাথে পরিচয়। মেয়েটি এক মাফিয়ার প্রেমিকা বা বাগদত্তা বা বউ- কিছু একটা ছিল। একরাতে মেয়েটিকে টাম্বলউইডের মূল চরিত্রের (চাং সু না কি জানি নাম) সামনেই রাস্তায় লাঞ্ছিত করছিল- সেখান থেকেই মেয়েটির সাথে পরিচয়- একসাথে রেস্টুরেন্টে খাওয়া, ড্রিংক করা, মাতাল হওয়া, চাং সু এর আস্তানা- ছাদের চিলেকোঠায় মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া। তারপরে- তাদের মধ্যে প্রেম- ভালোবাসা। এবং তারপরে চাং সু বাজার করে এসে আবিস্কার করে মেয়েটি খুন হয়ে গেছে। পরিচয়- প্রেম- ভালোবাসা- খুন সবই হুট করে ঘটে যায়, চাং সু কিছু টের পাওয়ার আগেই। এরপরে, চাং সুকেই খুনের অভিযোগ থেকে পালিয়ে বাচতে হচ্ছে, মাফিয়াদের হাত থেকেও পালিয়ে বাচতে হয়েছে। একসময় মাফিয়ারা তাকে ধরে ফেলে, ভয়ানক নির্যাতন ভোগ করে- পুলিশের জেলও খাটে। তারপরে বের হয়ে সে প্রাণপণ বা মরিয়া হয়ে প্রতিশোধ নিতে যায়। নিজের জানের আর পরোয়া করে না- প্রতিশোধটাই তার শেষ কথা। মোটাদাগে এই হচ্ছে কাহিনী! এই কাহিনীর সাথে কোথা থেকে ও কিভাবে আয়নাবাজির মিল পাওয়া সম্ভব, বা আয়নাবাজির বিরুদ্ধে নকলের অভিযোগ তোলা সম্ভব একেবারেই বুঝতে পারি না।

পাঁচ
ভাই, অমিতাভ রেজার সমালোচনা থাকলে- তার সেই বক্তব্যের সমালোচনাই করুন। যারা ঐ সাম্প্রদায়িক বক্তব্যের জন্যে সিনেমাকে বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছেন- তাদের পক্ষেও আছি। যারা, আয়নাবাজির সমালোচনা করতে চান- তারাও সিনেমাটা দেখুন ও সমালোচনা করুন। এই সিনেমাটা যতই বক্স অফিসে ঝড় তুলুক, মোটেও ত্রুটিহীন সিনেমা নয়। যেহেতু বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে, সেহেতু মনে করি- এই সিনেমার সিনেমাটিক রিভিউ হওয়া উচিৎ, (মনপুরা- বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না- এই সিনেমাগুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা জরুরিই মনে করি)- কিন্তু ওসব বাদ দিয়ে এরকম গড়ে বড়ে নকলবাজি বলে চিৎকার করার মধ্যে আপনাদের নিজেদের নকলগিরিকেই প্রকাশ করছেন কেবল মনে হচ্ছে …

ছয়
বাঙালি মুসলমানকে রিপ্রেজেন্ট করার মত সিনেমা আমিও চাই- এমনটা বলার মধ্য দিয়ে যা বুঝাতে চেয়েছি, অল্প কথায় একটু ব্যাখ্যা করি। বঙ্কিম, শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, মানিক … এ আমরা বাঙালি হিন্দু সমাজকে যেভাবে পাই, এমনকি বাঙালি ব্রাহ্মসমাজকেও যেভাবে পাই – সত্যজিৎ- মৃণাল সহ হালের সৃজিত- কৌশিকদের সিনেমাগুলোতে যেভাবে পাই- তাদের সোশাল ক্রাইসিস থেকে তাদের জীবন যাপন, সেরকম কিছু বাংলাদেশের সাহিত্যে, সিনেমায় বাঙালি মুসলমানকে নিয়ে কি পেয়েছি? অমিতাভ রেজা যতই যে ঘোষণাই দেক- আয়নাবাজিতেও তো বাঙালি মুসলমানকে আলাদা করে পেলাম না … সত্যজিতের দেবী সিনেমাটা দেখেন- বাঙালি হিন্দুর প্রেজেন্টেশনটা দেখেন … রবীন্দ্রনাথের গোড়া পড়েন- শরত সাহিত্য পড়েন .. এমন কিছু কি খুব বেশি কিছু আছে? হ্যাঁ আমরা বাংলাদেশের সাহিত্যে- নাটকে- সিনেমায় কিছু জিনিস পাই- এখানকার ক্যারেক্টারগুলোর নাম ‘মুসলমান’ ঘরানার, এরা কিছু সংলাপে আল্লা বিল্লার নাম নেয়, ভোরবেলার দৃশ্যায়নে আযানের ধ্বনি থাকে, বয়স্ক জনেরা নামাজ পড়ে, জায়নামাজে বসে তসবি গোনে, কিছু কমার্শিয়াল সিনেমায় দেখা যায়- মাজারে গিয়ে আল্লার কাছে কান্দাকাটি সমেত গান গাইলে একসিডেন্ট করা মৃতপ্রায় নায়ক বা নায়িকা বেঁচে ওঠে কিংবা মায়ের দোয়া সম্বলিত তাবিজের কল্যানে গুলি খেয়েও নায়ক মরে না … এর বাইরে তেমন কিছু আছে (মাটির ময়না, ঘেটু পুত্র কমলাকে ব্যতিক্রম ধরলে)? ইলিয়াস- আহমেদ ছফার সাহিত্যের বাইরে বাঙালি মুসলমানকে সামগ্রিকতায় ও ক্রিটিকালি প্রেজেন্টেশন তেমন তো দেখি না … আয়নাবাজিতেও তো নাই- আয়নাবাজিরে তো হুমায়ুন আহমেদের তুলনায় এই দিক দিয়া কম নাম্বার দিতে হবে … হুমায়ুন আহমেদের অনেক নাটকে (বিটিভি আমলের নাটকের কথা বলছি- পরের আমলের নুহাশ চলচ্চিত্রের ভাড়ামু নাটক না)- বাঙালি মিডলক্লাস মুসলমানকে সৎভাবে রিপ্রেজেন্টের চেস্টা দেখতে পাই … যদিও সেভাবে ক্রিটিকালি তুলে ধরতে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ, তারপরেও হুমায়ুন আহমেদের একটা চেস্টা ছিল (অমিতাভের মত এইরকম লোক দেখানি ঘোষণা না দিলেও ছিল) … এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলাপচারিতা পাবেন এখানেঃ https://www.facebook.com/notes/nastiker-dharmakatha/360550880976987

সাত
যারা বলেছিলেন- এই সিনেমা দেখবো না- সেটাকে আমি সমর্থন করি। কেউ যদি বলে আমার সিনেমা কেবলমাত্র বাঙালি মুসলমানের জন্যে- তাহলে আমি নিজেকে বাঙালি মুসলমান মনে না করলে- কেমনে সেটা দেখতে যেতে পারি? আমি বাঙালি হয়েও চাকমাদের জীবন নিয়ে সিনেমা দেখতে আগ্রহী, মুসলমান- হিন্দু- বৌদ্ধ – খৃস্টান সবাইকে নিয়েই আমার আগ্রহ, ফলে তাদের নিয়ে সিনেমা হলেও দেখতে আগ্রহী- নাস্তিক বলে কেবল নাস্তিকদের নিয়ে সিনেমাই দেখবো শুধু- তেমন মনে করি না … কিন্তু দর্শকদের ধর্ম – বর্ণ- লিঙ্গ – জাতীয়তা যদি নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়- তাহলে তো সেই নির্দিষ্টদের বাইরে অন্যদের সেই সিনেমা বয়কট করার অধিকার আছে বলেই মনে করি …

হ্যাঁ, অমিতাভ রেজার এই সাক্ষাৎকারটি একটি অখ্যাত পোর্টালে বের হয়েছে এবং আদতে এমন কিছু অমিতাভ রেজা বলেছিলেন কি না- সে ব্যাপারে নিশ্চিত নই। সেকারণে আমি নিজে বয়কটের মত কোন কড়া আহবান জানাইনি … এমনকি অমিতাভ যদি ঐ কথা আসলেই বলে থাকতেন (এবং পরবর্তী সংশোধনী নাও দিতেন)- তারপরেও আমি যদি দেশে থাকতাম- সিনেমাটা দেখতেই যেতাম, কেননা আমি মনে করি, অমিতাভ রেজার সেই এখতিয়ারই নাই … আমার বা দর্শকের জাতীয়তা, ধর্ম, লিঙ্গ- এসব বেধে দেয়ার… কিন্তু, এটাও মনে করি- এই রকম সাম্প্রদায়িক বক্তব্যের (যদি আসলেই সেটা বলে থাকেন) সমালোচনা ও প্রতিবাদ হওয়াই উচিৎ। কেউ যদি বয়কটের মাধ্যমে সেই প্রতিবাদ করেন- সেটার প্রতিও আমার শ্রদ্ধা আছে সে কারণেই …

আট
শুরুতে জানিয়েছিলাম, আয়নাবাজি নিয়ে কথা বলার কোন আগ্রহই আমার ছিল না। কিন্তু সেই আয়নাবাজিকে কেন্দ্র করে যখন এত কিছু বলে ফেলছি- সিনেমাটি নিয়েও দু চারটি কথা না বললে নয়। আমি কেন – এই সিনেমা নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছিলাম না, কেন এই সিনেমাটি অনেক ‘রুচিশীল’ দর্শককে হলমুখী করতে পারার পরেও এর ব্যাপারে আগ্রহ পাচ্ছিলাম না, তার জবাবে বলতে হবে- এটি একটি গড়পরতা মানের বিনোদনমূলক সিনেমা। বলিউড- হলিউড- এমনকি টালিউডেও এরকম বিনোদন ভুরি ভুরি পয়দা হয়- বিনোদনমূলক তথা ‘চানাচুর’ সিনেমা (চানাচুর সিনেমা হচ্ছে- দেখার সময়ে দেখতে ভালোই লাগে- কিন্তু এরপরে মাথায় সেইটার আর কোন প্রভাব বজায় থাকে না। আহমেদ ছফার কাছ থেকে ধার করা, তিনি হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস সম্পর্কে এমনটা বলেছিলেন) নিয়ে তাই আলাদা করে বলার তেমন কিছু নেই। আয়নাবাজি নিয়ে বলতে গেলে এতটুকুই বলা যায়- বাংলাদেশে তো একটু ভালোমানের চানাচুর সিনেমাও তৈরি হয় না- সেই অর্থে আয়নাবাজিকে কিছু সাধুবাদ দেয়া যেতেই পারে।

গিয়াসুদ্দিন সেলিমের মনপুরাও আহামরি কিছু ছিল না- কিন্তু হইচই ফেলেছিল … পাবলিক পছন্দ করেছিল, কেননা মনপুরা- আয়নাবাজি দুটার মাঝেই পাবলিক, বিশেষ করে আমাদের ‘রুচিশীল’ মিডলক্লাস দর্শক এন্টারটেইনমেন্ট, বিনোদন পেয়েছে (মনপুরা সে তুলনায় শহুরে মিডলক্লাসের গন্ডি অতিক্রম করেছিল বলা যাবে) … বাংলাদেশের কমার্শিয়াল সিনেমাগুলোর যে অবস্থা- সেখানে বেশিরভাগ সিনেমাতে গতানুগতিক কাহিনী, গান, ক্যামেরা ওয়ার্ক- এবং নকলবাজি- তারপরেও মান্না, শাকিব খান – এদের নামেই অনেক সিনেমা পাবলিক টেনেছে … এরকম অবস্থায়- মনপুরা, আয়নাবাজির মত সিনেমার সফল হওয়া আমার ইতিবাচকই লাগে … অন্তত মধ্যবিত্ত শ্রেণী যাদেরকে ওভাবে মান্না- শাকিব খান টানতে পারে না- যারা একটু ভিন্ন গোছের সুস্থ- বিনোদন চান, তাদের জন্যে এই মনপুরা- আয়নাবাজি ইতিবাচকই বটে বলতে হবে। আর এই হইচই, দর্শকপ্রিয়তার কারণ যে সিনেমার মেকিং, কাহিনী, স্টোরিটেলিং, চঞ্চলের অভিনয় … কেবল এসব, তাও নয়- এর সাথে সফল মার্কেটিং প্লানের সংযোগও আছে বলতে হবে।

মনপুরার সাফল্যের পেছনের ফ্যাক্টরগুলো কি কি- এর জবাবে গিয়াসউদ্দিন সেলিম বিস্তারিত আকারে তার মার্কেটিং প্লান নিয়ে আলাপ করেছিলেন। সিনেমার মার্কেটিং এর জন্যে ভালো ইনভেস্ট করতে হয়েছিল, সিনেমা রিলিজের বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই এই উদ্যোগ ছিল … গানগুলো একটা ফ্যাক্টর ছিল- এবং সিনেমা রিলিজের আগেই গান রিলিজ দিয়েছিলেন – যার কয়েকটা গান সিনেমা রিলিজের আগেই অনেক হিট হয়েছিল … গ্রামীন গল্প, চঞ্চলের গ্রামে জনপ্রিয়তা, গল্পের সিম্পলিসিটি, প্রেমের গল্প, সেইটায় সাসপেন্স, এবং ট্রাজেডি- এইসব মিলে ক্লিক করে গেছে- এই শক্তির জায়গাগুলো জেনে সেলিম ও তার প্রোডিউসার মার্কেটিং প্লান সাজিয়েছিলেন … অমিতাভও এই ক্ষেত্রে কম যান না- বরং আজীবন বিজ্ঞাপন জগতের বাসিন্দা হওয়ায়- তিনিও জানেন মানুষরে তার পণ্য কিভাবে খাওয়াতে হবে …

নয়
আয়নাবাজির গল্পের সিলেকশনটা গ্রামীণ না- শহুরে … যে শহুরে জনগণ মাস্তান- সন্ত্রাসী – রাজনীতিবিদ – পুলিশ – প্রশাসন সবার কাছে জিম্মি … এই জিম্মি দশায় পড়ে শহুরে মধ্যবিত্তদের অবস্থা ঐ হতাশ সাংবাদিকের মতোই … মাঝে মধ্যে এরা নানা নৈতিক দাবিতে চিল্লাফাল্লা করে ঠিকই- কিন্তু ক্ষমতা এদের অতটুকুই- মানে ঘরে চিল্লাফাল্লা করে মদ খাওয়া আর মদের বোতল ভাঙা ছাড়া কিছু করার নাই- এমনকি নিজের সংসার পর্যন্ত টিকাতে পারে না- ডিভোর্স হওয়ার পর প্রিয় মেয়েটার সাথেও দেখা হয় না … ফলে- আমাদের শহুরে মধ্যবিত্তের পক্ষে ফান্টাসিই সই … আয়না তাই সুপারম্যান (সুপারহিরো) হিসেবে আবির্ভুত হয় … ঘটনা হচ্ছে এই।

অমিতাভ রেজা সেইটিই দারুনভাবে তার দর্শকদের মধ্য থেকে টার্গেট গ্রুপ ঠিক করে কাজে লাগান। সেইখানে প্রচারণা চালান … ফেসবুক- অনলাইন- ইয়াং জেনারেশন, ঢাকার লাইফ ক্যামেরায় ধারণ, সেই অনুযায়ি মিউজিক, এবং গল্পের মধ্যে গভীর জীবনবোধের চাইতেও কিছুটা থ্রিল- উত্তেজনা- টুইস্ট- এই সমস্ত মিলেই ক্লিক করে যায় …

দশ
তাই আয়নাবাজিকে ঢাকার কোটি মানুষের জীবনের গল্প বলা যায় না, এখানে কোন জীবনবোধ নেই, এখানে মানুষের জীবন সংগ্রাম নেই, ঢাকাইয়া কিংবা বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাপনের বিশ্বস্ত উপস্থাপন নেই, এমনকি- বাঙালি বা মুসলমান বা বাঙালি মুসলমান- কারোর রিপ্রেজেন্টেশনও নেই। ক্যামেরায় নানা এঙ্গেলে এবং মাঝে মধ্যেই ড্রোন ক্যামেরায় ঢাকার বাজার ঘাট- নানা রাস্তা- অলি গলি এসব দেখালেই- সেটাকে ঢাকা দেখানো বলা যায় না। এমনকি জেলখানার জীবনেরও কোন প্রতিফলন এতে নেই। এসব থাকতেই হবে- তা বলছি না, বিশেষ করে একটি চানাচুর সিনেমার জন্যে এসব অতি গুরুত্বপূর্ণ বস্তুও নয়। লোকে সিনেমাহলে যান মূলত বিনোদিত হতে- সেই লোকে যদি আবার এমন কিছুটা রুচিশীল হয় যাতে শাকিব খান- মান্না- অনন্ত জলিলদের মার্কামারা এবসার্ড জিনিস দেখে বিনোদিত হতে পারেন না, কিন্তু হলিউড-বলিউডের এবসার্ডিটিতে দারুন বিনোদন খুজে পেতে আপত্তিও দেখেন না- তাদের জন্যে- এইসমস্ত উপাদান – একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। এই লোকেদের বিনোদনের জন্যে যা প্রয়োজন- তা হচ্ছে, ফান্টাসি- কিছু থ্রিল আর হালকা বিশ্বাসযোগ্যতার মধ্যে থাকা এবসার্ডিটি। এগুলোর সব কিছুই আয়নাবাজিতে আছে।

তাই খুব সহজেই নায়ক ও নায়িকার প্রেম হয় (অর্থাৎ এমনি এমনিই হয়, বা নায়কের সাথে নায়িকার প্রেম হওয়াটাই নিয়তি বা পরিণতি), সেই নায়িকা নায়কের সাথে কেবল পাড়ার টং হোটেলে খানা খেতে যায় না- একেবারে নায়কের ছাদের চিলেকোঠায় গোসল করারত অবস্থায় গিয়ে হাজির হয়ে যায়, নায়িকা যেচে গিয়ে চুমু খায় (চুমুর দৃশ্য রাখা কতখানি সাহসী, আমাদের সিনেমায় এটা কতটা মাইলফলক- এসব আলাপে না গিয়ে এতটুকু বলতে পারি- আমাদের প্রেম করতে না পারা বা প্রেম করার পরেও একটু শান্তিমত দেখা সাক্ষাৎ- একটু স্পর্শ – একটু চুমু করতে না পারা দর্শকদের ফ্যান্টাসি পূরণে এইরকম প্রেম- বাঁধাহীন মিলামিশা- চুমু সবই খুব গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই বটে) … এটা নায়ক প্রধান সিনেমা, আয়না প্রধান- ফলে আয়নাকে শুরু থেকেই সুপারহিরো হয়ে উঠতে হয়। কাহিনীর বিস্তার আয়নাকে কেন্দ্র করে যেহেতু- সেহেতু আয়না পথশিশু বাচ্চাদের অভিনয় শেখায়- যার কারণে তার প্রতি নায়িকার ও দর্শকের মুগ্ধতা তৈর হয়, তার মত চরিত্রের প্রেমে পড়তে নায়িকার কোন কারণ থাকার দরকার পড়ে না, তার ভাড়ায় জেল খাটার পেশাটিও অতিমানবীয়- কেননা আর্থিক প্রয়োজন নয়- অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা, অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ নেয়া- এসবই এখানে মুখ্য। এবং তার অভিনয় দক্ষতাও – একদম চেহারা পর্যন্ত পালটে ফেলা- দিনের পর দিন একই মেকাপ নিয়ে থাকতে পারা, কেবল কিছুক্ষণ একটা চরিত্রের সংস্পর্শে থাকার মধ্য দিয়েই সেই চরিত্রটি পুরোপুরি আয়ত্ব করা এবং ফাঁসীর মুখ থেকে বাঁচতে জেলখানার একজন গার্ডকে হিপনোটাইজ করে- গার্ড সেজে বের হওয়ার সেই ঐশ্বরিক অভিনয়- সবই তার অতিমানবিক গুনেরই অন্তর্ভুক্ত বলতে হবে। এসবের কোন কিছুর মধ্যে বাস্তব কোন চরিত্রের কোন সংশ্রব নেই- না কোন আসামির- না কোন ভাড়ায় জেল খাটা লোকের (অমিতাভ রেজা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন- পত্রিকায় এরকম একটি খবর পড়েই সিনেমার গল্পের আইডিয়াটি প্রথম তার মাথায় এসেছিল), না কোন ঢাকার বাসিন্দার, না কোন বাঙালি মুসলমানের। বাস্তব চরিত্রের সংশ্রব থাকার দরকারও নেই, কিংবা সব চরিত্রকে বাস্তবানুগ হতে হবে- এমন কোন বাধ্যবাধকতাও নেই। বিশেষ করে সুপারহিরো নির্ভর ফ্যান্টাসি- চানাচুর সিনেমায় এমন বাধ্যবাধকতা কোনকালেই ছিল না।

আবার অনেকে এই বলে প্রশংসায় পঞ্চমুখ যে- আয়নাবাজিতে আমাদের সমাজের রাজনীতির, আইন শৃংখলা পরিস্থিতির, দুর্নীতির, জেল ব্যবস্থার- ইত্যাদির উপস্থাপন আছে। হ্যাঁ, তা কিছু কিছু আছে। কিন্তু সবই অবাস্তব উপস্থাপন। দিনে দুপুরে বন্দীবদলের হাস্যকর চিত্রায়নকে নিশ্চয়ই নির্দেশ করছি না- অবাস্তব উপস্থাপন বলছি- কেননা এসব কিছুর উপস্থিতি আমাদের সমাজকে চিত্রায়িত করার জায়গা থেকে না- বরং এগুলোর উপস্থিতি নায়ক আয়না’র সুপারহিরো হওয়ার প্রয়োজনে, দর্শকদের ফান্টাসি নিবারণের লক্ষে। ঢালিউডের বিভিন্ন সিনেমার উদাহরণ দিলেও বুঝতে পারবেন। এইসব সিনেমাতেও দেখা যায়- ডিপজল- আহমেদ শরীফ- মিশা সওদাগর- হুমায়ুন ফরিদী- জাম্বু- জসীম- গোলাম মোস্তফা – বাংলা সিনেমার ভিলেইনরা নানা সময়েই রাজনীতিবিদ, দুই নাম্বার পুলিশ অফিসার, বিত্তশালী ব্যবসায়ী রাজনৈতিক নেতা হয়েছে- সেগুলো দেখিয়েও এরকম দাবি করা যায় কি যে, সেগুলোতে সমাজের নানা অন্ধকার দিকের প্রতিফলন আছে?

তারপরেও দর্শককে হলমুখো করতে পেরেছে- সেজন্যেই অমিতাভ রেজাকে অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশের ফিল্ম ইড্রাস্ট্রিতে একটি তুলনামূলক ভালো চানাচুর সিনেমা দিতে পেরেছেন এবং দর্শকদের অনেকের মধ্যেই এই বিশ্বাস আনতে পেরেছেন যে, এভাবে চললে একদিন নিশ্চয় বাংলাদেশেও বলিউড – হলিউড এর কাছাকাছি পর্যায়ের ও মানের চানাচুর সিনেমা নিয়মিত তৈরি হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 1 =