আমি আসবই

এলো মেলো সবুজ আর আস্তিক নাস্তিক দ্বন্দ্ব
রক্ত রঙ্গা পলাশ আর কোকিল কালো বসন্ত ।
জল হয়ে যায় মাছরাঙ্গা বাসন্তী মালা ফ্যাকাসে
কোকিলের কান্না আজ আকাশে বাতাসে ।

বিভ্রান্ত কোকিল ঘুরে বেড়ায় বসন্তদেশে
সুর করে কাঁদে কেউ কি আছ?
কেউ কি শুনছো?
সবুজ আকশে যে অশনি সংকেত ভাসে ।

কিন্তু কে শোনে কার কথা;
আকশে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয় সে ডাক,
সবুজের গালিচায় উড়ে বেড়ায় সে সুর,
দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙ্গে যায় পল্লীবধূর ।
ছটফটানি আর আজানা আক্রোশে ফাটে তাঁর বুক ।

আর এদিকে –
হতভম্ভ মেঠো পথিক ক্ষুদ্ধ হয়ে থমকে দাড়ায়,
নিরীহ রাখালের বাঁশী স্তব্ধ হয়ে যায় শতবর্ষী বটের ছায়ায় ,
বন্ধ হয়ে যায় যুবতীর উচ্ছল হাঁসি ,
রঙ্গিন চুড়ি জায়গা নেয় ঘরের কোনায় ।

খরদিপ্ত দুপুরে যথারীতি হাওড়া বয় ,
কোকিলের কান্না শুনতে শুনতে খোকনেরা ঘুমায়,
পিতার মনে প্রশ্ন জাগে –
কেন বার বার সবুজের স্বপ্ন গড়াগড়ি খাবে?
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া প্রতিধ্বনিত হয়,
কিন্তু উত্তর পায় না কেউ খুঁজে ।

এমনি করেই বিকেল হয় গড়িয়ে যায় দুপুর
ধীরলয়ে সন্ধ্যা নামে হয় গভীর আরও গভীর ,
বৃদ্ধ দৃষ্টিহীন চৌকিদার এখনো ডাক দেয় –
হোশিয়ার-র-র-র… সাবধান –ন-ন-ন…।

কিন্তু কে শোনে কার কথা;
বাঁকা মেঠোপথ দিয়ে দূরে কোঁথাও মিলিয়ে যায় সে ডাক ,
তারস্বরে ডেকে উঠে পরিযায়ী পাখী,
কাছেই কোঁথাও ধূর্ত শেয়াল ,
আটলান্টিকের ওপার থেকে প্রতিধ্বনিত হয় সে ডাক,
আর অন্ধকারে চূর্ণ বিচূর্ণ হয় সবুজের দেয়াল ।

এই ধ্বংসলীলায়, এই মিশকালো অন্ধকারে –
বেদে পাড়ার মুখরা রমণীরা মেতে ওঠে সাপখেলায়,
আর বুদ্ধি বেশ্যারা মদিরায় মাতাল হয়ে হাততালি দেয় ।

আজ কিবা ভালো কিবা মন্দ
মনের ভিতর আস্তিক-নাস্তিক দ্বন্দ্ব,
আশা-নিরাশার দোলচালে ;
রঙ্গিন স্বপ্ন শুকিয়ে কাঠ হয় লাল শিমুলের ডালে ।

পাতায় পাতায় আলোর নাচন হয়ে যায় জোনাকি,
শ্যামা সুন্দরি বন্দী হয় ডাকে কোকিল একাকী ।
এলোমেলো সবুজ সন্ধ্যা নামে জোর করে খুলে সঙ্গিন,
আর দূরদেশে জ্বলে ঝাড়বাতি নাচে বাইজী রঙ্গিন ।
বুদ্ধিবেশ্যারা প্রক্সি ওয়্যারের ছক কেটে যায় তারই গোল টেবিলে ,
এদিকে মুখরা রমনিরা ভয় পাইয়ে দেয় ধ্বংসের কথা বলে ।

জেনে রেখ তবে-
কত রজনী প্রভাত হয়েছে,
কত কুড়ি মুকুলেই গেছে ঝরে,
গান তবুও যাইনি থেমে ,
যদিও কোকিল একাকী বনে ।
গলায় শিকল পরাতে চাও তো !

তবে শোন—
ভয় পাইনা অমানিশার অন্ধকারে,
মনে আছে স্বর্গ-মর্ত্য কাঁপিয়ে তুলেছিলাম একাত্মরে ।

তুমি স্তব্ধ করে দিলে কণ্ঠ হঠাৎ
আমি বাড়িয়ে দিলাম বজ্রমুষ্টি হাত ,
তুমি কেটে দিয়াছিলে সে হাত ,
বাড়িয়ে দিয়েছিলাম পা ,
তুমি তাও কেটে নিয়েছিলে,
তখনও কিন্তু দেখেছিলাম এ বাংলার রূপ এ দুনয়ন ভরে ।
তারপর তুমি উপড়ে ফেলেছিলে আমার এ দু চোখ ,
থেমে যাইনি অসীম সাহসে পেতে দিয়াছিলাম বুক ।

পারবে, পারবে কি শিকল পরাতে এ হ্রিদয়কে?
পারবে সূর্যোদয় কিংবা উম্মত্ত সুমুদ্রের ঢেউ থামাতে?
যদি পার তবে এসো ,
দেখা হবে মিরপুরে কিংবা নতুন কোন বধ্যভূমিতে ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “আমি আসবই

  1. কিন্তু কে শোনে কার কথা;
    আকশে

    কিন্তু কে শোনে কার কথা;
    আকশে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয় সে ডাক,
    সবুজের গালিচায় উড়ে বেড়ায় সে সুর,
    দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙ্গে যায় পল্লীবধূর ।
    ছটফটানি আর আজানা আক্রোশে ফাটে তাঁর বুক ।

    :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

29 + = 31