খৎনাঃ আল্লাহর সৃষ্টির ত্রুটি দূরীকরণ।

মুসলমানদের পরিচয় হলো খৎনা। বাঙলায় একে সুন্নতে খৎনা কিংবা মুসলমানী নামেও অবহিত করা হয়। আগা কাটা বিহীন মুসলমান হবার কোন সম্ভাবনাই নাই কারণ মুসলিম পরিবারে জন্ম হবার সুবাদে শিশু কালেই পরিবারের সদস্যরা নবসদস্যকে নিজেদের ধর্ম পরিচয় জাহির করতে তা করিয়ে রাখে, যেখানে শিশুর মতামতের কোন দরকারই পড়েনা।

স্বাস্থ্য সংগঠন গুলো খৎনাকে উপকারিতা বিহীন, ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের প্রতি বিরূপ প্রভাবকারী হিসেবে চিহ্নিত করলেও মুসলমান মাত্রই এটা করা বাধ্যতামূলক। কারো মতে সুন্নতে মুয়াক্কাদা, কারো মতে ওয়াজিব।
কুরানে খৎনার বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা না থাকলেও বিভিন্ন হাদিসে এটাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
“তুমি তোমার দেহ থেকে কুফরীর চিহ্ন দূর কর এবং খৎনা কর।”
আবু দাউদঃ 356

এছাড়াও বুখারী, মুসলিম হাদিসেও এসেছে খৎনার কথা, মুসলমানরা নিজেদের পরিচয়ের চিহ্ন হিসেবে এটি বহন করে চলছে। কিন্তু এ চিহ্ন তাদের একার নয় ইহুদিরাও একই চিহ্ন বহন করে।
খৎনা প্রথা শুরু হয় প্রাচীন মিশরে 2300 খ্রিষ্টপূর্বে। অনেকের মতে বন্ধী দাসদের খোঁজা করার জন্য তাদের শিশ্নের অগ্রভাগ কেটে দেয়া হতো। পরবর্তীতে ইহুদিরা তাদের ধর্মে অন্তর্ভূক্ত করে নেয়।
“শিশু পুত্রের বয়স আটদিন হলে তুমি তাকে খৎনা করবে।
খৎনা করা হয়নি এমন কোন পুরুষ থাকলে সে হবে তার নিজের লোকদের স্বজাতির থেকে বিচ্ছিন্ন।”
আদি পুস্তক, 17: 12 এবং 14

নিয়মটা কপ্টিক খ্রিষ্টান ছাড়া বাকি খ্রিষ্টানরা গ্রহণ না করলেও মুসলমানরা নিয়েছে কারণ মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহীম 80 বছর বয়সে খৎনা সেরেছিলেন এজন্য। সে প্রথার বলে আজ অবধি তা চালিয়ে যাচ্ছে কোমলমতি শিশুদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা দেয়ার জন্য।

ইসলামী পন্ডিতরা খৎনাকে পুরুষের জন্য উপকারী বলে প্রচার করে চলছে,
কিন্তু পৃথিবীর 30% পুরুষের খৎনা করা হয়েছে, তাহলে বাকি 70% কি কঠিন শিশ্ন রোগে আক্রান্ত?
অসুস্থতা বিহীন শিশুর খৎনা পুরোপুরি অমানবিক এবং অবৈজ্ঞানিক। এটা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের অন্তরায়। অনাকাঙ্ক্ষিত অস্ত্রপাচারে শিশুর মনে যে পরিমাণ ভয়ের সৃষ্টি হয় তা থেকে শিশু আর্টিজমের স্বীকার হতে পারে এবং পাঁচ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে তা দ্বিগুণ মাত্রায় দেখা যায়। এছাড়াও অস্ত্র পাচারের পরবর্তীতে জটিলতা তো আছেই, রক্ত ক্ষরণ, প্রদাহ, অনভিজ্ঞ হাজেম কতৃক অপরিশোধিত-অপরিচ্ছন্ন অস্ত্রের ব্যবহারে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত বা কম পরিমান চামড়া অপসারণের কারণে জটিলতার সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এসব জটিলতা শিশু মৃত্যুর কারণও হতে পারে!
এতো গেলো পুরুষ খৎনা, নারী খৎনার বিষয়তো আরো ভয়াবহ। ইসলাম তার অনুমোদনও দিয়ে রেখেছে যদিও বাঙলার সাচ্চা মুসলমান এসব এড়িয়ে যায়। নারীর খৎনার বিষয়ে নবী বলেছে, “খৎনা স্থানের অংশ বেশী কাটিওনা। কেননা এটা নারীর জন্য অধিক তৃপ্তিদায়ক এবং স্বামীর কাছে খুবই প্রিয়।”
আবু দাউদ

এবং খৎনার গুরুত্ব কতটুকু তা বোঝাতে নবী অন্য এক হাদিসে বলেন, “খৎনা পুরুষের জন্য সুন্নত ও নারীর জন্য সম্মান।”
মুসনাদে আহমাদ

তবে কি আল্লা আদমকে বানানোর সময় ত্রুটি পূর্ণ ভাবে বানিয়েছে বা একটু বেশিই দিয়েছে যা পরবর্তীতে হাজেমকে দিয়ে কেটে ফেলতে হয়?
যদি এটা ত্রুটি হয় তবে সে কিসের বিধাতা যে তার আশরাফুল মাখলুকাত কে সঠিকভাবে বানাতে পারেনি!
আর যদি ত্রুটি না হয় তাহলে কেন কোমলমতি শিশুদের খৎনা নামক অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে তাদের সুন্দর শৈশবকে করে তোলা হয় ভীতিকর, যন্ত্রণাদায়ক?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =