মুক্ত চিন্তাঃ ভবিষ্যৎ ও আত্মউন্নয়ন এবং যুক্তি জ্ঞান ও ভালোবাসা।

যুক্তির মাধ্যমে আমরা সত্যকে জানি, আর এই সত্যকে উপলব্ধিতে আনাই জ্ঞান। তবে যা যৌক্তিক তাই সত্য নয়। যৌক্তিক বিষয়কে অবশ্যই পর্যবেক্ষণ-অভিজ্ঞতায় প্রমানিত হতে হবে। যুক্তি আমাদের সাম্ভাব্য সত্যের কথা বলে। যুক্তি ও জ্ঞানের মাধ্যমে কোন প্রিয় বস্তু/জীব কিংবা মানুষকে নির্বাচন করতে চাইলে ভালোবাসাকে সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখতে হবে।

১) ভবিষ্যৎ ও আত্মউন্নয়ন
তুমি ভবিষ্যৎকে জানতে পারনা কারন ভবিষ্যৎ সুনির্ধারিত নয়। যুক্তি ও কল্পনার পাখায় তুমি তোমার অসংখ্য ভবিষ্যৎ দেখতে পার কিন্তু তুমি জাননা কোন ভবিষ্যৎটি বাস্তবায়িত হবে। মহাবিশ্বের যেমন অসংখ্য ইতিহাস রয়েছে ঠিক তেমনি রয়েছে মহাবিশ্বের অসংখ্য সাম্ভাব্য ভবিষ্যৎ। কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তার নিয়মে তোমার ভবিষ্যতও দুদুল্যমান। তোমার ভবিষ্যৎকে সুনির্ধারন করার ক্ষমতা তোমার রয়েছে। অসংখ্য সাম্ভাব্য ভবিষ্যতের মধ্যে অপেক্ষাকৃত সুন্দর ভবিষ্যতটি নির্ধারন করার ক্ষমতাতো তোমার মধ্যেই। তোমার মনের শক্তি ব্যবহার করেই তুমিই নির্ধারন করতে পার তোমার ভবিষ্যৎ। তোমার শরীর যেমন বস্তু জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত ঠিক তেমনি তোমার মনতো কোয়ান্টাম জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোয়ান্টাম জগতেইতো বস্তু জগতের নিয়ম নির্বাচিত হয়। আর কোয়ান্টাম জগতের অন্যতম সুইচ বোর্ডতো তোমার মস্তিষ্কেই রয়েছে। তুমি তোমার মনের দৃঢ় ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তোমার সোনালী ভবিষ্যৎ নির্মান করতেই পার। তাহল দেরী কেন? আজ থেকেই যাত্রা শুরু কর সোনালী ভবিষ্যৎ বিনির্মানের মনো-দৈহিক কর্ম পরিকল্পনা।

তুমি যা চাও তা তুমি পাবে_পাবেই যদি এবং কেবল যদি ১) তোমার চাওয়ার মধ্যে নিজের ও অন্যের মঙ্গল জড়িত থাকে ২) তোমার চাওয়ার মধ্যে যদি সুদৃঢ় ইচ্ছা শক্তি কাজ করে এবং ৩) তোমার মস্তিষ্ক রুপ জৈবিক কম্পিউটারে চাওয়াটি যথাযথভাবে প্রোগ্রামিত হয়_তখন তোমার চাওয়াটি কোয়ান্টাম জগতে নির্বাচিত হয়ে বাস্তবে রুপায়িত হবেই, হবে। ইহাই প্রাকৃতিক সার্বজনীন নৈতিক নিয়ম/বিধি।

২) যুক্তি,জ্ঞান ও ভালোবাসা
ভালোবাসার স্থান যুক্তির ঊর্ধ্বে। যুক্তি যুক্ত ভালোবাসাতে প্রচ্ছন্নভাবে ঘৃনার বীজও লুক্কায়িত থাকে।
তুমি সুন্দর তাই তোমাকে ভালেবাসি_বিষয়টি এমন হওয়া উচিত নয়। তোমাকে আমি ভালোবাসি এবং অতপর তুমি সুন্দর তাই তোমার সৌন্দর্যকে উপভোগ করি। ভালোবাসার সঙ্গে যুক্তি যুক্ত হলে তা শেষ পর্যন্ত স্বার্থপরতায় পর্যবসিত হয়।
শর্তহীন ভালোবাসায়ই সার্বজনীন ভালোবাসা। যুক্তি প্রয়োগে কখনও সার্বজনীন ভালোবাসায় উপনীত হওয়া যায়না। তুমি পৃথিবীর সকল মানুষের মঙ্গল কামনা করছ। ইহা পৃথিবীর সকল মানুষের প্রতি শর্তহীন ভালোবাসারই বহি:প্রকাশ।

যুক্তির মাধ্যমে আমরা সত্যকে জানি, আর এই সত্যকে উপলব্ধিতে আনাই জ্ঞান। তবে যা যৌক্তিক তাই সত্য নয়। যৌক্তিক বিষয়কে অবশ্যই পর্যবেক্ষণ-অভিজ্ঞতায় প্রমানিত হতে হবে। যুক্তি আমাদের সাম্ভাব্য সত্যের কথা বলে। যুক্তি ও জ্ঞানের মাধ্যমে কোন প্রিয় বস্তু/জীব কিংবা মানুষকে নির্বাচন করতে চাইলে ভালোবাসাকে সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখতে হবে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো আমরা কি যুক্তির মাধ্যমে প্রকৃত সত্যে উপনীত হতে পারি? যুক্তির চোখ দুইটি। কিন্তু যুক্তির চোখ সব সময় একটি খোলা থাকে। যেকোন এক চোখ খোলা থাকলে অন্যটি বন্ধ থাকে। ঠিক যেমন আমরা যখন মুদ্রার এক পিঠ দেখি অন্য পিঠটি আমাদের অগোচরেই থেকে যায়। মুদ্রার এক পিঠের শাপলা দেখলে অপর পিঠের বাঘের মাথাটি আমাদের দৃষ্টির বাইরে থেকে যায়।অথচ মুদ্রার দুই পিঠ মিলেই প্রকৃত বাস্তবতা। যুক্তির মাধ্যমে আমরা প্রকৃত বাস্তবতা জানতে পারিনা_আমরা জানতে পারি অর্ধবাস্তবতাকে। তবে এটাও সত্য যে, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও পূর্নবাস্তবতাকে জানার আকাঙ্খায় যুক্তির কোন বিকল্প নেই।

আপনার যুক্তি ও জ্ঞানের কোন মূল্য নেই যদিনা উহা অন্যের মধ্যে সঞ্চালিত হয়_ যুক্তি ও জ্ঞানের আলোকে অন্য কেউ আলোকিত হলেই তবেই জ্ঞানের সার্থকতা। তবে ভালোবাসাবিহীন জ্ঞানের কোন মূল্য নেই। যুক্তি ও জ্ঞানের মধ্যে ভালোবাসকে সম্পর্কিত করতে হব। অন্যথায় যুক্তি ও জ্ঞান অর্থহীনতায় পর্যবসিত হবে। আপনি যদি ♣প্রকৃতি♣কে ভালো না বাসেন তাহলে প্রকৃতির কোন জ্ঞানার্জন করা আপনার পক্ষে সম্ভব হবেনা। এইযে যে, আমি ভালবাসার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করছি তা আমার যুক্তি ও জ্ঞানের মাধ্যমেই_যার মূলে রয়েছে ♥ভালোবাসা♥। এক্ষণে প্রমাণিত হলো যে, জ্ঞান ও ভালোবাসা পরস্পরের পরিপূরক।

মন্তব্যঃ যুক্তি ও জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য্য। তবে সর্বাগ্যে প্রয়োজন ♥ভালোবাসা♥র।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + = 12