কল্পনাঃ সৃজনশীলতা ও আবিষ্কার

কল্পনা আবিষ্কারের জননী। যা আপনি কল্পনা করতে পারবেননা তা আপনার পক্ষে আবিষ্কার করাও সম্ভব নয়। আগে সৃজনশীল কল্পনা তারপর আবিষ্কার। মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা আছে বলেই সে কল্পনা করতে পারে। যেখানে বুদ্ধির সীমা আবদ্ধ সেখানে কল্পনার বিস্তার সীমাহীন। বিজ্ঞানের কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তার নিযমই আমাদের কল্পনার স্বাধীনতা তথা ইচ্ছার স্বাধীনতার অমুমোদন দেয়। দৃঢ নিয়ন্ত্রনবাদ কিংবা কার্যকারনবাদ যেখানে আমাদের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে সেখানে কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তার নীতি আমাদের স্বাীনতাকে স্বীকার করে।

কল্পনাঃ
কল্পনা আবিষ্কারের জননী। যা আপনি কল্পনা করতে পারবেননা তা আপনার পক্ষে আবিষ্কার করাও সম্ভব নয়। আগে সৃজনশীল কল্পনা তারপর আবিষ্কার। মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা আছে বলেই সে কল্পনা করতে পারে। যেখানে বুদ্ধির সীমা আবদ্ধ সেখানে কল্পনার বিস্তার সীমাহীন। বিজ্ঞানের কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তার নিযমই আমাদের কল্পনার স্বাধীনতা তথা ইচ্ছার স্বাধীনতার অমুমোদন দেয়। দৃঢ নিয়ন্ত্রনবাদ কিংবা কার্যকারনবাদ যেখানে আমাদের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে সেখানে কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তার নীতি আমাদের স্বাীনতাকে স্বীকার করে।

আমাদের শরীরের বস্তুগত অংশ অবশ্যই কার্যকারন নিয়মের অধীন। কোয়ান্টাম জগত থেকে দৃশ্যমান রস্তু জগতের নিয়ম তৈরি হয। অন্যভাবে বলা যায় বস্তুজগত কোয়ান্টাম ঘটনারই ফল। মন, চিন্তা ও কল্পনার সঙ্গে কোয়ান্টাম জগতের যোগসূত্র রয়েছে। আমাদের মস্তিষ্করুপ কম্পিউটারটি চিন্তা ও কল্পনার মাধ্যমে কোয়ান্টাম জগতের মধ্যে কোয়ান্টাম তথ্যের বিনিময় ঘটে। আর এভাবেই অনন্য মস্তিষ্ক গুলো কোয়ান্টাম জগতে পরোক্ষ প্রভাব খাটিয়ে জগতের নিয়ম তৈরিতে সহযোগিতা করে ঈশ্বরের ভূমিকায় অবতীর্ন হয়।

কল্পনা এবং সৃজনশীলতাঃ
কল্পনা করতে না পারলে সৃজনশীল হওয়া যায়না। জ্ঞানের পূর্ব শর্ত কল্পনা।যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেননা তা আপনি আবিষ্কারও করতে পারবেননা। মানুষ পাখি কিংবা ফড়িং এর মত উড়ার কল্পনা করছিল বলেই সে হেলিকপ্টার আবিষ্কার করতে পেরেছে। কল্পনার যুক্তিগয়নই জ্ঞান। যৌক্তিক কল্পনার গানিতিক রূপায়নই তাত্ত্বিক পাদার্থবিজ্ঞানের গানিতিক সমীকরন কিংবা রাশিমালা। আর এই গানিতিক সমীকরনের ভৌত রূপায়নই তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান। যাদের কল্পনা শক্তি প্রখর, গানিতিক বুদ্ধিমত্তা যাদের প্রখর তাদের যৌক্তিক কল্পনাই পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রের উৎস। যৌক্তিক কল্পনার সঙ্গে বাস্তব পর্যবেক্ষণেই পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র/তত্ত্ব গুলোর উদ্ভব ঘটে। বাস্তব পর্যবেক্ষণে চাই দৃষ্টি ও অবস্থানগত বুদ্ধি। কল্পনার সঙ্গে ভাষাগত বুদ্ধিমত্তার সংযোগ ঘটলে কাব্য প্রতিভার আবির্ভাব ঘটে। কবিতা বা কাব্য হলো কবির কল্পনা ও ভাষাগত বুদ্ধিমত্তার সম্মিলন। কল্পনার সঙ্গে ছন্দ ও সঙ্গিতগত বুদ্ধিমত্তার সংযোগে সৃষ্ট হয় গায়ক এবং তার গান। কল্পনার সঙ্গে দেহ ও শরীরবৃত্তীয় বুদ্ধিমত্তার সম্মিলনে সৃষ্টি হয় একজন খেলোয়াড় (ফুটবলার, ক্রিকেটার ইত্যাদি). তদ্রূপ একজন নৃত্য শিল্পীর মধ্যে ছন্দ-সঙ্গীতগত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে শারীরবৃত্তীয় বুদ্ধিমত্তার বহি:প্রকাশ ঘটে। এখানেও কল্পনার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

অতএব, যৌক্তিক কল্পনাই সকল প্রকার সৃজনশীলতার উৎস! Imagination is the mother of invention.

যৌক্তিক কল্পনা বনাম উচ্চতর পদার্থ বিজ্ঞানের গানিতিক সিদ্ধান্তঃ
১.১ পরীক্ষা-নিরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ ও পদ্ধতিগত ভাবে লব্ধ সুশৃংখল জ্ঞান এবং এই জ্ঞানার্জনের প্রক্রিয়াই হলো বিজ্ঞান। বিজ্ঞান মানে বিশেষ জ্ঞান আর এই জ্ঞানই হলো বিশুদ্ধতম জ্ঞান। এ জ্ঞানকে বিশ্বাস করতে হয়না ; এই জ্ঞানকে আমাদের মেনে নিতে হয়। যাকে বিশ্বাস করতে হয় তা সত্য, মিথ্যা যেকোনটি হতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানের জ্ঞান সত্য। ইহা প্রমানিত সত্য জ্ঞান। এই জ্ঞানকে আমরা সত্য হিসেবে জানি এবং মানি।

১.২ গনিত বিজ্ঞান নয়। গনিত হলো যুক্তি। সত্য-মিথ্যা নির্ধানে গনিত ব্যবহার করা হয়। গনিত মূলত বিজ্ঞানের ভাষা। গনিত যেহেতু বিজ্ঞান নয় যুক্তি, সেহেতু গানিতিক সকল সিদ্ধান্তই বিজ্ঞান নয়। কারন সকল গানিতিক সিদ্ধান্তই সত্য নয়। কারন গনিত থেকে আমরা অনেক সময় কাল্পনিক ও অবাস্তব সিদ্ধান্তও পেয়ে থাকি। কাল্পনিক ও অবাস্তব সিদ্ধান্তকে আমরা বিজ্ঞান বলতে পারিনা। গানিতিক সিদ্ধান্ত গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভৌত রুপায়ন করা সম্ভব না হলে তা বিজ্ঞান হতে পারেনা।

১.৩ বহু মহাবিশ্বের ধারনা মূলত যৌক্তিক কল্পনা যা আমরা উচ্চতর তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের গানিতিক সিদ্ধান্ত থেকে পেয়ে থাকি। অনূরূপভাবে, ব্ল্যাকহোল, হোয়াইটহোল ইত্যাদির ধারনাও উচ্চতর পদার্থবিজ্ঞানের ধারনাও উচ্চতর তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের গানিতিক সিদ্ধান্তের ফল। তেমনি স্ট্রীং তত্ত্বও উচ্চতর তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের গানিতিক সিদ্ধান্ত। এই সকল গানিতিক সিদ্ধান্ত সমূহের যেটি বা যেগুলোর পরিপূর্ন ভাবে ভৌত রূপায়ন করা সম্ভব হবে সেগুলোই কেবল এবং কেবল মাত্র বিজ্ঞানের মর্যাদা পাবে। অন্যগুলো কাল্পনিক ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই স্থান পাবে যা দর্শনের পর্যায়ভূক্ত বিষয়। আমাদের বুঝতে হবে যা যৌক্তিক তাই বিজ্ঞান নয়। বিজ্ঞান হতে হলে যৌক্তিকতার সঙ্গে ভৌত রুপায়ন সম্ভপর হতে হবে।

১.৪ উচ্চতর পদার্থ বিজ্ঞানের অনেক গানিতিক সিদ্ধান্তই এখনও দর্শনের পর্যায়ভূক্ত, বিজ্ঞানের পর্যায়ভূক্ত নয়। আমাদের বুঝতে হবে গনিত শুধু বিজ্ঞান ব্যবহার করেনা, দর্শনও গনিত ব্যবহার করে।

১.৫ যৌক্তিক কল্পনা আবিষ্কারের জননী। কল্পনার উপযোগিতার বিষয়টি আইনস্টাইন ঠিকই উপলব্দি করতে পেরেছিলেন। আর তাইতো তিনি বলেছেন, “Imagination is more important than knowledge “. অনেক যৌক্তিক কল্পনাই তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানে গানিতিক সমীকরনে প্রতিবাদন করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু সকল গানিতিক সিদ্ধান্তই এখন পর্যন্তও বিজ্ঞানের পর্যায়ভূক্ত নয়।

১.৬ অতএব, তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এর উক্তি, ” দর্শন এখন মৃত” কথাটি সঠিক নয়। বরং ইহাই সঠিক যে, তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের অনেক কিছুই এখনও দর্শনের পর্যায়ভূক্ত বিষয়, বিজ্ঞান নয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

63 − 62 =