আমরা সবাই কমবেশি আস্তিক কিংবা বিশ্বাসী

“শূন্য” এবং “অসীম” হলো বিজ্ঞান ও গনিতের ঈশ্বর। শূন্য ও অসীমের রুপ ভেদেই জগতের সৃষ্টি। কোয়ান্টাম শূন্যতায় কোয়ান্টাম ঘটনা প্রবাহে কোয়ান্টাম ফ্লেক্সুয়েশনের মাধ্যমে জগতের সকল ভর-শক্তি-কনা-তরঙ্গের সৃষ্টি। শূন্যই জগতের মূল এবং উৎস। শূন্য যখন অসীম রুপে মুক্তি পায় তখনই জগতের সৃষ্টি! শূন্য ও অসীমকে বুঝতে পারা মানে ঈশ্বরের মনকে বুঝতে পারা। ধর্মীয় ঈশ্বরের সাপেক্ষে যাঁরা নাস্তিক তারাই মূলত শূন্য নামীয় ঈশ্বরের সাপেক্ষে আস্তিক। ধর্মবিরোধী সকল বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী আস্তিক( ধর্ম সাপেক্ষে নাস্তিক)গন এই দলভূক্ত আস্তিক! হাঁ এই প্রকারের আস্তিকগন বিশ্বাস করেন যে, শূন্যই জগতের উৎস।


//আমরা সবাই কমবেশী আস্তিক কিংবা বিশ্বাসী//

১.১ আমরা সবাই কমবেশী আস্তিক। মানুষ হিসেবে বেঁচে থেকে পূর্ন নাস্তিক হওয়ার সুযোগ নেই।

১.২ পৃথিবীতে যদি ৪,০০০ টি ধর্ম থাকে ঈশ্বরের স্বরূপও তার চেয়ে অধিক প্রকারে বর্নিত আছে।

১.৩ প্রকৃত পক্ষে পৃথিবীতে যত সংখ্যক মানুষ আছে ঈশ্বরের স্বরুপ তত রকম। অর্থাৎ প্রতিটি মানুষের ঈশ্বর ভাবনাও পৃথক_হুবহু এক নয়।

১.৪ ঈশ্বরের একটা সাধারন সংজ্ঞা দেয়া যেতে পারে। জগতের সৃষ্টির মূলে যে কাল্পনিক কিংবা বাস্তব সত্তা ক্রিয়াশীল তাই ঈশ্বর। ইহা ঈশ্বরের ধর্ম নিরপেক্ষ সংজ্ঞা।

বিভিন্ন প্রকারের ঈশ্বর এবং আস্তিকতাঃ

১.৫ বিজ্ঞান ও গনিতের ঈশ্বরঃ
“শূন্য” এবং “অসীম” হলো বিজ্ঞান ও গনিতের ঈশ্বর। শূন্য ও অসীমের রুপ ভেদেই জগতের সৃষ্টি। কোয়ান্টাম শূন্যতায় কোয়ান্টাম ঘটনা প্রবাহে কোয়ান্টাম ফ্লেক্সুয়েশনের মাধ্যমে জগতের সকল ভর-শক্তি-কনা-তরঙ্গের সৃষ্টি। শূন্যই জগতের মূল এবং উৎস। শূন্য যখন অসীম রুপে মুক্তি পায় তখনই জগতের সৃষ্টি! শূন্য ও অসীমকে বুঝতে পারা মানে ঈশ্বরের মনকে বুঝতে পারা। ধর্মীয় ঈশ্বরের সাপেক্ষে যাঁরা নাস্তিক তারাই মূলত শূন্য নামীয় ঈশ্বরের সাপেক্ষে আস্তিক। ধর্মবিরোধী সকল বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী আস্তিক( ধর্ম সাপেক্ষে নাস্তিক)গন এই দলভূক্ত আস্তিক! হাঁ এই প্রকারের আস্তিকগন বিশ্বাস করেন যে, শূন্যই জগতের উৎস।

“শূন্য মাঝে আছে বসে হরেক শূন্য
শূন্য থেকেই হতে পারে আরেক শূন্য
শূন্য থেকে শূন্য গেলে শূন্য থাকে
শূন্য শূন্য যুক্ত হয়ে শূন্য রাখে
শূন্য যখন অসীম রূপে মুক্তি পায়
একই ধর্ম এসে মেশে তাহার গায়
অসীম থেকে অসীম গেলে অসীম থাকে
অসীম সঙ্গে অসীম এসে অসীম রাখে
নির্ভাবে তাই বলছে শোনো সহজ কথা
শূন্য. অসীম রূপভেদেই. রয় পূর্ণতা।

0 + 0 = 0.
0 – 0 = 0

∞ + ∞ = ∞

∞ – ∞ = অসংজ্ঞায়িত অনন্য ( singularity?)”

__নির্ভাব শৌন্য

১.৬ দার্শনিক ঈশ্বরঃ
বিভিন্ন দার্শনিক ও ধর্মতাত্ত্বিকগন জগত সৃষ্টির মূলে কারনের কারন কারনহীনভাবে অস্তিত্বশীল রুপ-গুনহীন জগতের অন্তঃসার রূপ এক অনন্ত সত্তা স্বীকার করেন। উহাই দার্শনিক ঈশ্বর। বেদের ব্রহ্ম, দার্শনিক স্পিনোজার গড এবং ইসলামের সুফিবাদের ঈশ্বর হলো দার্শনিক ঈশ্বর। যাঁরা এই ঈশ্বরে বিশ্বাসী তারাও এক ধরনের আস্তিক।

১.৭ ধর্মীয় ঈশ্বরঃ
প্রচলিত ধর্ম সমূহে যে ঈশ্বরের স্বরূপ ব্যাখ্যা করা হয়েছে তাই ধর্মীয় ঈশ্বর। মূলত বিজ্ঞান ও গনিতের ঈশ্বর এবং দার্শনিক ঈশ্বরের সঙ্গে মানবীয় গুন যুক্ত করে যে ঈশ্বর কল্পনা করা হয় কিংবা ঈশ্বরের স্বরুপ ব্যাখ্যা করা হয় তাই ধর্মীয় ঈশ্বর।
অর্থাৎ,
বিজ্ঞান/গনিতের ঈশ্বর + মানবীয় গুন= ধর্মীয় ঈশ্বর।
অথবা,
দার্শনিক ঈশ্বর+মানবীয় গুন*= ধর্মীয় ঈশ্বর।

[* মানবীয় গুন= তিনি পরম দয়ালু, তিনি সর্ব শক্তিমান, তিনি মহাপরাক্রমশালী, তিনি নিষ্ঠুর, তিনি সর্বজ্ঞ ইত্যাদি গুন।]

১.৮ বিভিন্ন প্রকার ঈশ্বরের তুলনা মূলক আলোচনাঃ

শূন্য ও অসীম এর পারস্পারিক রূপভেদেই জগত অস্তিত্বশীল। বিজ্ঞানে বলা হয়, কোয়ান্টাম শূণ্যতা থেকে কোয়ান্টাম ঘটনা প্রবাহে কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তার নিয়মে কোয়ান্টাম ফ্লাক্সুয়েশনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সকল ভর ও শক্তির সৃষ্টি। বলা হয়ে থাকে যে, শূন্যের ভিতরে কসমিক সেকেন্ডের অসীম ক্ষুদ্র ভগ্নাংশের সময়ে জোড়ায় জোড়ায় ভরশূন্য কনিকা-প্রতিকনিকার আবির্ভাব ঘটে এবং ধ্বংস হয়। ফলে এ শূন্যতা চার্জবিহীন। অর্থাৎ শূন্যের ভেতরে একটি অনিশ্চয়তার নিয়ম স্বীকার্য্য। কিন্তু এই শূন্যতা প্রকৃত অর্থে যে কি তা এখনও ভালো ভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
বেদেও সৃষ্টির উৎস মূলে নির্গুন, রূপ-ভেদহীন ব্রহ্মকে স্বীকার করা হয় যা থেকে সমগ্র জগত সৃষ্টি। প্রায় অনুরূপ ভাবে দার্শনিক স্পিনোজা এবং সুফিবাদে ঈশ্বরকে বর্ননা করা হয়। অর্থাৎদার্শনিক ঈশ্বরে জগতটাকে ঈশ্বরের প্রকাশমান রুপ ধরা হয়।
অন্যদিকে ধর্মীয় ঈশ্বরের বর্ননায় মানবীয় গুনযুক্ত করা হয়েছে। দার্শনিক ঈশ্বর সাধারনে বোধগাম্য না হওয়ায় ধর্ম প্রবর্তকগন মানুষকে নিয়ন্ত্রন এবং নৈতিক নিয়ম প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্য কৌশলে গুনযুক্ত ধর্মীয় ঈশ্বরের সঙ্গে পাপ-পূন্য-পূজা-অর্চনা-স্বর্গ-নরকযুক্ত করে ধর্ম প্রচার করেন যা সহজেই সাধারন কিংবা কম বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ বুঝতে পারে।

মন্তব্যঃ স্বাভাবিক ভাবেই সকলের মনে প্রশ্ন উদয় হওয়া স্বাভাবিক যে, পোস্ট দাতা কোন ধরনের আস্তিক। উত্তর হলো আমি কোন নির্দিষ্ট বিশ্বাসে বিশ্বাসী নই বলেই আমার পক্ষে অন্যের বিশ্বাসকে নাড়াচাড়া করা সম্ভব হলো। সকলের উদ্ধেশ্যে আমার বক্তব্য হলো শুধু ঈশ্বরে বিশ্বাসী হওয়া নয়, ঈশ্বর হোন।
Not only believe in God but also be God.

[ আমার এই বর্ননা একান্তই আমার নিজস্ব। এ ব্যাপারে যে কেউ দ্বিমত কিংবা ভিন্ন মত পোষণ করতে পারেন। আমি আবার বেশি তর্ক পছন্দ করিনা]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 1 =