নারী আজ হয়ত হোমো-স্যাপিয়েন্স থেকে আলাদা কিছু

কৃষিসভ্যতার পর থেকে যখন নারীরা ক্রমেই বন্ধী হতে লাগল তখন থেকেই তাদের ব্যক্তিস্বত্বা আর স্বকীয়তা ভুলন্ডিত হয়ে অবিরত রবীঠাকুরের হৈমন্তীর মত শোপিস এবং সম্পদের সত্ত্বায় বিকশিত হতে থাকল।

এর আগে নারীরা পুরুষের সাথে সমান কর্মক্ষম আর কর্মচঞ্চল ছিল। কৃষিসভ্যতার পর নারীরা ঘরে ক্রমেই বন্ধী হতে থাকে। তাদের মূল কাজ হয়ে পরে গৃহস্থলী কাজ আর সন্তান লালন-পালন। এরপর যেহেতু মেয়েরা অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পরল তাই তাঁকে প্রত্যাশিতভাবেই ঘরের পুরুষের উপর নির্ভরশীল হতে হল। এমন কি ধর্মগুলো এসে এই ব্যাপারটা প্রতিষ্ঠিত করা হল যে পুরুষেরা নারীর অবলম্বন বা পুরুষদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে অথবা নারীরা পুরুষের উপার্জন খরচ করে অর্থাৎ পরনির্ভরশীল।

আর প্রাসঙ্গিক এবং অতি-প্রাসঙ্গিকভাবেই নারীরা আজও যদি অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল থাকে তবেই ধর্ম ব্যবসায়িদের লাভ আর তাই আজ বাংলার নারীরা কর্মক্ষেত্র, রাজনীতি আর ব্যবসা সবদিকেই সর্বত্র ছড়িয়ে পরছে বলেই হিফাজতিরা তাদের অস্তিত্বের সংকট অনুধাবন করতে পেরে নারীর বিরোদ্ধে নিমেছে। যেকোনভাবেই হোক যেকোন মুল্যেই হোক নারীদের আবার অন্ধকারে নিক্ষেপ করতে হবে তার জন্যে তারা শান্তির ধর্ম ইসলামকে ব্যবহার করতেও পিছপা হয় নাই কখনও হবেও না।

অতিব দুঃখের বিষয় আমাদের নারীরাই অনেকে এইসব বুঝতে পারে না। তারা বুঝতেই পারে না অর্থনৈতিক মুক্তিই হচ্ছে তার ব্যক্তিস্বত্বার মূল চেতনা। এই মুক্তি ছাড়া তার স্বাধীনতা নিশ্চিত হওয়া তো দূরের কথা স্বাধীনতা কি তাই বুঝতে পারবেন না কস্মিনকালেও। কোন মানুষকে আজ্ঞবহ পশু করতে চাইলে তার সব উপার্জনক্ষমতা ধ্বংস করে দাও তাহলেই সে একমাত্র গৃহপালিত পশুর ন্যায় আচারন করবে।

প্রথম প্যারার বিশ্লেষণে কি দাঁড়াল? কৃষিসভ্যতার পর পরিবার আর সমাজ নিয়ন্ত্রণের ঝাণ্ডা পুরুষের হাতে যেতে শুরু করে। এই হাজার হাজার বছরের পটপরিক্রমায় আজ এই পুরুষতন্ত্র নারিকে শুধু গৃহে বন্ধী করে নি,বন্ধী করেছে তার স্বাবলম্বী স্বত্বাকেও আজ উন্নত বিশ্বসহ বিশ্বের প্রায় সবকটি দেশেই নারী স্রেফ একটা খেলার পুতুল আর মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী (মুক্ত মানসিকতা আর স্বাধীনতার অর্থে); আজ কোন মেয়েকে ১ মিলিয়ন টাকা দিলে দেশে বা, বহির্বিশ্বে যেকোন স্থানেরই হোক না কেন তারা রুপ চর্চায় এর সিংহভাগ অপচয় করবে অথচ সম-পরিস্থিতিতে একজন পুরুষ তার সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যেই এই অর্থ ব্যয় করবে সার্থকভাবে (উভয় ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম আছে)! এর মুলেই রয়েছে তার নিজেক শোপিস আর সম্পদ করে সাজায় রাখার তীব্র মনবাসনা। কেন আজ নারী নিজ থেকেই টা করে, এইটাই এখন যথার্থ প্রশ্ন। দেখুন যখন আমাদের সমাজে কোন মানব সন্তান জন্ম নেয় তখন তার মধ্যে কোন মানসিক লিঙ্গ বৈষম্য থাকে না থাকে শাররীক লিঙ্গ বৈষম্য। আর সম্প্রতি আপনি লক্ষ্য করবেন ছেলে সন্তান মাঠে গিয়ে দুরন্তপনা করতে শুরু করেছে আর মেয়ে সন্তান আয়নার সামনে বসে বউ সাজার অনুশীলনে মত্ত। সম্প্রতি মানে অতি সম্প্রতিই এইসব হয়, মাত্র ৪-৫ বছর বয়সেই কন্যা সন্তানের এইরুপ বিকশিত করে আরেক নারী হয় তার মা বা, নানি আথবা দাদি এমন তা বড় বোনও হতে পারে।

এতে নারীর কোন প্রকার দোষ বা দুর্বলতা দেখি না। কারণ, এই পুরুষতন্ত্র বোধহয় হাজার বছরের নৃশংস নির্যাতনে নারীর জেনেটিক কোডই পরিবর্তন করে দিয়েছে।
নারী আজ হয়ত হোমো-স্যাপিয়েন্স থেকে আলাদা কিছু…

এখন প্রশ্ন আপনি কি আপনার মা-বউ-মেয়েকে মানুষ ভাবেন আপনার মত, নাকি নারীদের আপনি একটা কৃতদাসী বা অধিকারভুক্ত ভৃত্য ভাবেন? যদি আপনার মত মানুষ ভাবেন তবে তাঁকে তাঁর মত চলতে দিন। আপনি যেমনটি মানুষ আপনার ছোট্ট মেয়েটিও তাই, আপনার প্রেয়সী বউ আর, মহীয়সী মা কিন্তু এর ব্যতিক্রম নয়! ইনারা সবাই মানুষ আমার মতই একটা স্বত্বা তারও আমারমত সব অনুভূতি সংবেদনশীল। নিজেকে শ্রদ্ধা করলে তাকেও করুণ।

মনে রাখবেন আমরা কেউ পুরুষ বা নারী হয়ে জন্মগ্রহণ করি নি।
বা, আমরা কেউ হিন্দু-মুসলিম-ক্রিস্টান হয়েও জন্মায় নাই…
আমরা জন্ম নিয়েছি মানব সন্তান হিসেবে।

প্রিয় মানব সন্তানেরা স্বপ্ন দেখুনঃ-জানেনতো ‘স্বপ্নে কোন নিয়ম নেই…’
স্বপ্নই যথার্থ স্বাধীন…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “নারী আজ হয়ত হোমো-স্যাপিয়েন্স থেকে আলাদা কিছু

  1. আমরা কেউ পুরুষ বা নারী হয়ে

    আমরা কেউ পুরুষ বা নারী হয়ে জন্মগ্রহণ করি নি।
    বা, আমরা কেউ হিন্দু-মুসলিম-ক্রিস্টান হয়েও জন্মায় নাই…
    আমরা জন্ম নিয়েছি মানব সন্তান হিসেবে।

    :থাম্বসআপ:

    1. আমার বড় দুই ভাইয়ের দুই
      আমার বড় দুই ভাইয়ের দুই বাচ্চাকে এইভাবে ছেলে ও মেয়ে হতে দেখিছি, মানব শিশু থেকে…
      সভ্যতা আজও সুদূরপরাহত…

  2. প্রিয় মানব সন্তানেরা স্বপ্ন

    প্রিয় মানব সন্তানেরা স্বপ্ন দেখুনঃ-জানেনতো ‘স্বপ্নে কোন নিয়ম নেই…’
    স্বপ্নই যথার্থ স্বাধীন…

    :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

    1. আমার কাছে, সত্যি বলছি ভাই আর
      আমার কাছে, সত্যি বলছি ভাই আর সবকিছুই সমাজ আর পারিপার্শ্বিক দ্বারা প্রভাবিত মনে হয়… তাই শুধু স্বপ্ন দেখি!
      আজব সব স্বপ্ন…

  3. আসলেই অধুনা নারীরা নিজেরাই
    আসলেই অধুনা নারীরা নিজেরাই বুজেনা স্বাধিনতা কি? জৌবন বিক্রতা সিনেমার মাগী হওয়ার জন্য সবাই লাইন দিয়ে দাড়িয়ে থাকে আর কেও বাপা মা নিষেধ করলেই আধুনিক সমাজের নারী স্বাধিনতার অধিকারের উদাহরণ দেয়। বিক্ষাত সেই candle in the wind গানটার কথা মনেহলেই গা শিউরে উঠে।।।।।
    আর হেফাজতে সমাজের কথা বাদ ই দেন। রিলিজন ইজ ডার্কনেস।

    1. যা বলছেন তা তারা হতে চাই আমিও
      যা বলছেন তা তারা হতে চাই আমিও স্বীকার করি! এইতো সেইদিন কি ফুটফুটে মানব সন্তান ‘রাখি’ এর বলি হল…
      আসলে যে নিজের জীবনের মুল্য বুঝে না সে এমনিতেই বাঁচার অধিকার হারিয়ে ফেলে!
      একটাই কথা “অনুপযুক্তদের জন্যে না, এই দুনিয়া!!”

  4. পাশে থাকার জন্যে সবাইকে
    পাশে থাকার জন্যে সবাইকে ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 1 =