ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী নরেন্দ্র মোদী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যতটা না মানুষ তারচেয়ে বেশি ধর্মান্ধ। এবং একজন ধর্মান্ধ কখনোই মানুষ হতে পারে না। কারণ তার চিন্তাধারা, কর্মকাণ্ড একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই লুকোচুরি করতে থাকে। সীমাবদ্ধতার মধ্যে যেহেতু তাদের বসবাস; সেই কারণে তারা নতুন কোনকিছুকে স্বাগত বা গ্রহণ করতে পারে না। পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধ, ভিন্ন মতবাদ, মানুষের মুক্তির উপায়কে অগ্রাহ্য করে এককেন্দ্রিক চিন্তাকেই এরা সর্বউৎকৃষ্ট বোধ করে।

যার ফলে সমাজে অবস্থানরত সকল মানুষের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়ন হয় না। শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট চিন্তাধারার মানুষেরই উন্নয়ন ঘটে। এবং বাদবাকির জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

নরেন্দ্র মোদী আরএসএস’এর সদস্য। শুধু সদস্য নন, তিনি এই সংগঠনের একজন প্রচারকও বটে। আরএসএস কী? সংক্ষেপে, আরএসএস উগ্র ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদ, মুসলিম বিরোধী, নারীবিদ্বেষী মতাদর্শে বিশ্বাসী। ভারতে এই আরএসএস সংগঠনটি মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করার সময়, ১৯৭৫-৭৮ জরুরী অবস্থার সময়, বাবরি মসজিদ ভাঙার সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল।

২০০২ সালে গুজরাটে দাঙ্গা লাগানোর পেছনে এই সংগঠনটির ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য এবং মোদী ছিল এই ঘটনায় অভিযুক্ত। যদিও পরবর্তীতে প্রমাণের অভাবে তাকে নির্দোষ সাব্যস্ত করা হয় কারণ বিজেপি-শাসিত গুজরাটে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদীর বিপক্ষে প্রমাণ লোপ করা সহজ ছিল। এইরকম একটি জঙ্গিবাদী সংগঠনের সদস্য বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রী!

ভারতের কয়েকটি রাজ্যে এই সংগঠনের মানুষেরা ভিন্ন ধর্মাবলম্বী এবং আদিবাসীদের উপর নির্যাতন চালিয়ে থাকে। শুধু নির্যাতনই নয়, এরা জড়িত থাকে অস্ত্রপাচার, শিশু ও নারী পাচারের মত অপরাধের সাথেও। ‘একল বিদ্যালয়’ বা ‘হিন্দু করিডোর’ তৈরীর মাধ্যমে অপরাধ ছড়াতে তৎপর এই সংগঠন। এদের অপরাধের কোন দিন বিচার হয় না। যেমনটা বাঙলাদেশেও হয় না। এক্ষেত্রে মোদীর কোন বিবৃতি থাকে না। বাঙলাদেশে যেমন দশকের পর দশক ধরে হিন্দু, বৌদ্ধ, আদিবাসীদের উপর নির্যাতন, নিপীড়ন হয়, সেভাবে ওখানেও হয়।

ধর্ম মানুষকে কখনো একত্র করে না, বরং বিভক্ত করে। শুধু তাই নয়, ধর্মীয় সংগঠন ও তাদের পেছনে রাষ্ট্রের সাহায্য অপরাধকে স্বাভাবিক করে তোলে, অন্যায়কে প্রাধান্য দেয়। ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে মানুষের কল্যাণ সাধন, মানুষ হত্যা করে ধর্মের জয়গান গাওয়া, বিভক্তি করে ‘ভারতমাতা কি জয়’ কিংবা ‘জয় বাঙলা’ বলে দেশপ্রেমের নাটক সাজানো হয়তো সম্ভব কিন্তু মানুষ হওয়া সম্ভব নয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

92 − 86 =