মানবতা,নীতি-নৈতিকতা,আদর্শ ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ঃ নাস্তিক্য চিন্তা, মানবতাবাদ ও ধর্ম নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোনে একটি বস্তনিষ্ঠ আলোচনা

=>মানবতা কি?

১.১ মানবতা হলো মানুষ মানুষেরর জন্যে,মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে। ইহা মানবতার প্রথম মাত্রা।

১.২ মানুষ অন্য প্রানীকে ভালোবাসবে। ইহা মানবতার দ্বিতীয় মাত্রা।

১.৩ মানুষ সকল উদ্ভিদকে ভালোবাসবে। ইহা মানবতার চতুর্থ মাত্রা।

১.৪ মানুষ প্রকৃতির সকল জড়ীয়-অজড়ীয় সত্তাকে ভালোবাসবে। প্রকৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে_Respect for nature. ইহা মানবতার চতুর্থ মাত্রা।

মানুষের মনের উৎকর্ষতার সাথে সাথে তার মানবতাবোধ ও নৈতিকতার চেতনায় বিবর্তন ঘটেছে এবং ঘটতেই থাকবে।

আসুন আমরা নিজ প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখা এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় মানবতার চতুর্থ মাত্রা ধারন ও লালন করি।

=>নৈতিক কিংবা নৈতিকতা কি?

নৈতিকতা ও মানবতা পরস্পরের পরিপূরক ও সম্পর্কযুক্তঃ

১.১যে কাজ সকল/সর্বাধিক মানুষের জন্য সর্বাধিক হিতকর, সর্বাধিক সুখ আনয়নকারী এবং/অথবা সর্ব নিম্ন পরিমান বেদনা ও যন্ত্রনা উদ্রেককারী তাই নৈতিক। ইহা মানব কেন্দ্রিক নৈতিকতা এবং নৈতিকতার প্রথম মাত্রা।

১.২ যে কাজ মানব প্রজাতিসহ সকল প্রানী প্রজাতির সর্বাধিক সুখ উদ্রেককারী এবংঅথবা সর্ব নিম্ন বেদনা ও যন্ত্রনা উদ্রেককারী তাই নৈতিক। ইহা মানব ও প্রানী কেন্দ্রিক নৈতিকতা এবং নৈতিকতার দ্বিতীয় মাত্রা।

১.৩ যে কাজ বা কর্ম মানুষ সহ সকল প্রানী ও উদ্ভিদ প্রজাতির জীব বৈচিত্র সংরক্ষনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে তাই নৈতিক। ইহা জীব কেন্দ্রিক নৈতিকতা। ইহা নৈতিকতার তৃতীয় মাত্রা।

১.৪ যে কাজ বাস্তুতন্ত্রের ( Ecosystem) ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে এবং প্রকৃতির জড়-অজড় সকল সত্তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন শেখায় তাই নৈতিক। ইহা পরিবেশ নৈতিকতা এবং নৈতিকতার সর্বোচ্চ ধাপ।

মানুষের চিন্তার জগতে পরিবর্তনের সাথে সাথে নৈতিক চেতনায়ও পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এবং হচ্ছে। নৈতিকতা ও মানবিকতা পরস্পরের পরিপূরক ও সম্পর্কযুক্ত। আপনি যতটুকু নৈতিক ঠিক ততটুকুই মানবিক।

=>♣ইকোলজিক্যাল ব্যালান্স♣

আপনি ও আপনার পরিবেশ। এই হলো আপনার ইকোসিস্টেম।

আপনি আপনার ইকোসিস্টেমের অংশ কিংবা সদস্য।

আপনার ইকোসস্টেমের ভারসাম্যতা বুঝা এবং সেমোতাবেক কাজ করা আপনার নৈতিক দায়িত্ব। এটা বুঝার মধ্যেই নিহিত আছে আপনার নৈতিকতা ও মানবতাবোধ।

আপনি পাহাড়কে ভালোবাসেন, নদীকে ভালোবাসেন, বনের পশু-পাখিকে ভালোবাসেন, বৃক্ষ-লতা-গুল্ম-ফুলকে ভালোবাসেন_সর্বোপরি প্রকৃতিকে ভালোবাসেন। কিন্তু কেন?

এই ভালোবাসার মধ্যেই নিহিত আছে আপনার নৈতিকতা ও মানবতাবোধ।

Survival for the fittest. অর্থাৎ যোগ্যতমের বেঁচে থাকা। এটা প্রাকৃতিক নির্বাচন। কিন্তু মানুষ প্রাকৃতিক নির্বাচনের দাস হতে পারেনা। সে প্রকৃতির ক্রিড়নক নয়। সে প্রকৃতির নিয়ন্ত্রক। তাই ইকোলজিক্যাল ব্যালান্স রক্ষার দায়িত্ব তারই।

আপনাকে পরিবেশ নৈতিক হতে হবে। পরিবেশ নৈতিকতার মধ্যেই নিহিত আছে সার্বজনীন মানবতা ও নৈতিকতা।
আপনি কি খাবেন আর কি খাবেননা, আপনি কতটুকু খাবেন আর কতটুকু খাবেননা, আপনি কি করবেন আর কি করবেননা, আপনার কি করা উচিৎ আর কি করা উচিৎ নয় তা নির্ধারনের দায়িত্ব ও কর্তব্য আপনার।

আর্থ-সামাজিক ভারসাম্যতা রক্ষা করা পূর্বে আমাদের ইকোলজিক্যাল ভারসাম্য রক্ষা করাটা জরুরী।

পরিবেশ বাঁচলেই আপনি বাঁচবেন।

=>নৈতিকতা ও মানবিকতার আপেক্ষিতাঃ

১.১ পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রগুলোও সর্বকালে, সর্বদেশে একই ভাবে কার্যকর নয়। দেশ-কাল-মাত্রা ভেদে পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রগুলোও ভিন্ন হয়। বিগ ব্যাং এর শুরুকালীন অবস্থায় কার্য-কারন নিয়ম সহ পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রগুলো ভেঙ্গে পড়ে। জগতে অনন্ত সংখ্যক মহাবিশ্ব অনন্ত সংখ্যক নিয়মের প্রাকৃতিক আইন দ্বারা পরিচালিত। আমাদের এই মহাবিশ্বের প্রাকৃতিক আইন অন্য কোন মহাবিশ্বে অকার্যকর। এমনকি আমাদের এই মহাবিশ্বের পদার্থ বিজ্ঞানের নিয়ম-কানুন আমাদের মহাবিশ্বের অন্যকোন অঞ্চলে অকার্যকরের সম্ভনাকেও বাতিল করতে পারিনা!

১.২ পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রগুলোর মত নৈতিকতা ও মানবিকতার নিয়ম গুলোও আপেক্ষিক। নৈতিকতা ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠায় আপেক্ষিতার বিষয়টি আমাদের বিবেচ্য বিষয়। পদার্থ বিজ্ঞানের নিয়ম ও নৈতিকতা-মানবিকতার নিয়মের পার্থক্য হলো পদার্থ বিজ্ঞানের নিয়ম ও সূত্রগুলোর ব্যাপ্তি ও সীমা ব্যাপক এবং উহাকে গানিতিক সমীকরনে প্রতিবাদন করা সম্ভব, পক্ষান্তরে নৈতিক ও মানবিক নিয়মগুলো অধিকতর আপেক্ষিক এবং এখন পর্যন্তও আমরা গানিতিক সমীকরনবদ্ধ করতে পারিনি।

১.৩ নৈতিকতা ও মানবিকতার নীতি সমূহ প্রতিষ্ঠায় আমাদেরকে পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভাবে নীতিসমূহ বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রথমত: আত্ম রক্ষার নীতি, দ্বিতীয়ত প্রজাতি সংরক্ষণ নীতি, তৃতীয়ত প্রানী সংরক্ষণ নীতি এবং চতুর্থত উদ্ভিদ সংরক্ষণ নীতি এবং পঞ্চমত বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা নীতি।

১.৪ একটি বাঘ কিংবা সিংহ একটি হরিনকে খাবে এটা বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য শৃংখলের অংশ। বাঘ কিংবা সিংহের উপর মানব নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করা যায়না। কিন্তু আপনি যখন দেখবেন ঐ ইকোসিস্টেমের উচ্চতম খাদক বাঘ/সিংহ কর্তৃক ভক্ষণের কারনে হরিন প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। এমন পরিস্থিতিতে আপনি যদি নিজেই হরিন শিকার করে হরিনের মাংশ খাওয়া শুরু করেন সেটা কি নৈতিক হবে? ঐ ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব কি আপনার নয়? অধিকন্তু আপনি যদি ঐ ইকোস্টিটেমের অন্তর্গত বনভূমির বৃক্ষাদি কর্তন করে বনভূমি ধ্বংস করে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় নেতিবাচক ভূমিকায় নিয়োজিত হন তার জন্য আপনাকে অনৈতিক কাজের জন্য দায়ী করা যাবেনা কেন? আপনি যেহেতু মানুষ হিসেবে শ্রেষ্ঠ প্রানীর দাবীদার সেহেতু আপনাকে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা পালন করতে হবে। নিজেকে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বিনষ্টকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা অবশ্যই অনৈতিক।

১.৫ পদার্থ বিজ্ঞানের নিয়ম সমূহই যেহেতু আপেক্ষিক সেহেতে নৈতিক ও মানবিক বিধি সমূহ আপেক্ষিক হতে বাধ্য। নৈতিকতা প্রশ্নে সচেতনতা ও জানার বিষয়টিও জড়িত করতে হবে। কারও অসচেতনতা ও অজনা কারনে কোন কাজ বা কর্মের বিষয়টি স্বাভাবিক নৈতিক মানদন্ডে বিচার্য্য হবেনা। কোন চরম অবস্থায় স্বাভাবিক নৈতিক ও মানবিক নিয়মও ভেঙ্গে পড়তে পারে। ধরাযাক, প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা মানব সৃষ্ট কোন কারনে গোটা পৃথিবীর অধিকাংশ মানব প্রজাতির সদস্যের বিলুপ্ত ঘটলো। পৃথিবীর কোন অঞ্চলে কোন একটি বনে বিচ্ছিন্ন ভাবে একটি পরিবারের কতিপয় নারী ও পুরুষ সদস্য জীবীত আছে। তখনকার এই চরম অবস্থায় স্বাভাবিক বৈবাহিক নীতি কিংবা যৌন সঙ্গম নীতি কার্যকর হবেনা। তাদের আত্মরক্ষা ও প্রজাতি সংরক্ষণ নীতির জন্য যা যা করনীয় তাই হবে নৈতিক ও মানবিক।

১.৬ সময়ের প্রয়োজনেই মানব কেন্দ্রিক নৈতিকতা থেকে আমাদের অমানব কেন্দ্রিক নৈতিকতার দিকে ধাবিত হতে হচ্ছে এবং হবে। মানব কেন্দ্রিক নৈতিকতা যেখানে মানব প্রজাতি সংরক্ষণ নীতিকে প্রধান্য দেয় অমানব কেন্দ্রিক নৈতিকতা সেখানে মানব প্রজাতি সহ সকল প্রজাতির সংরক্ষণ নীতিকে সমর্থন করে।এমনকি উহা পাহাড়-পর্বত-নদী-নালা-ঝরনা ইত্যাদি অজড়ীয় প্রাকৃতিক সত্তা সংরক্ষনেও সমর্থন করে_যা চূড়ান্ত বিবেচনায় মানব কেন্দ্রিক নৈতিকতাকেই প্রতিষ্ঠা করে। মানুষ বাস্তুতন্ত্রের অংশ ও সদস্য। বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা এবং বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্ভূক্ত সকল জৈব-অজৈব সত্তার যথাযথ সংরক্ষণের দায়িত্ব ও কর্তব্য তার নিজের।

১.৭মানুষ কি করবে, কি করবেনা, তার কি করা উচিত, কি করা উচিত নয়, কি খাবে কিংবা কি খাবেনা, কতটুকু খাবে কিংবা কতটুকু খাবেনা তা নির্ধারনের দায়িত্ব ও কর্তব্য তার। সর্বোচ্চ নৈতিকতা ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠায় তাকে সুচিন্তিত ও সুবিবেচিত আইনও করতে হবে। সে আইন লালন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব হবে আমার, আপনার, সকলের।

=>সদৃশ সত্তার প্রাকৃতিক সংরক্ষণ নীতিঃ

১.১ প্রকৃতির জৈব-অজৈব কিংবা জড়-অজড় প্রতিটি সত্তা পরস্পরের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত। প্রতিটি সত্তা একে অপরের সঙ্গে এক অদৃশ্য সূতোর বন্ধনে আবদ্ধ।

১.২ প্রকৃতিতে হুবহু অনুরূপ দুটি সত্তার অস্তিত্ব না থাকলেও সদৃশ সত্তার অস্তিত্ব বিদ্যমান। যেমন ইলেকট্রন সমূহ পারস্পারিক ভাবে সদৃশ। তদ্রূপ প্রানীজগতের একই প্রজাতির অন্তর্ভূক্ত সদস্যসমূহ পারস্পারিকভাবে সদৃশ।

১.৩ দেশ-কাল, গুন-ধর্ম-বৈশিষ্ট্য ও উৎসমূল সত্তার সাদৃশ্যতায় বিবেচ্য।

১.৪ মহাবিশ্বের সকল কনিকা একই উৎস্থল (বিগ ব্যাং এ বিন্দু ভর) থেকে উৎসারিত। অতএব কনিকা সমূহের মধ্যে কোয়ান্টাম যুগ্ম সম্বন্ধ ক্রিয়াশীল। মহাবিশ্বের যেকোন কনিকার যেকোন পরিবর্তনে অন্য কনিকা গুলোও প্রভাবিত হয়।

১.৫ অনুরূপভাবে, মহাবিশ্বের সত্তা সমূহের মধ্যে পারস্পারিক সম্বন্ধ ক্রিয়াশীল।

১.৬ অধিকতর সদৃশ সত্তা সমূহে অধিকতরসম্বন্ধ ক্রিয়াশীল।

১.৭একই জীব/প্রানী প্রজাতির সদস্যদের মধ্যেও অধিকতর সক্রিয় সম্বন্ধ ক্রিয়াশীল।

১.৮ কোন অঞ্চলের কোন নির্দিষ্ট প্রজাতির সদস্যদের দেশ-কালিক-পারিপার্শ্বকতার কারনে/পরিবর্তনে আচরন-স্বভাব-অঙ্গসংস্থানগত পরিবর্তন সাধিত হলে ঐ প্রজাতির অন্য অঞ্চলের সকল সদস্যদের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। ইহা প্রকৃতির প্রজাতি সংরক্ষণ নীতি যা প্রকৃতির সদৃশ সত্তার সংরক্ষণ নীতির বহিঃপ্রকাশ।

১.৯ সদৃশ সত্তার প্রাকৃতিক সংরক্ষণ নীতির ব্যতয় ঘটলে পরিবর্ত-পরিবর্ধন-বিবর্তনের ধারায় নতুন সত্তার আবির্ভাব ঘটে। জীব প্রজাতিতে প্রজাতির প্রাকৃতিক সংরক্ষণ নীতির ব্যত্যয় ঘটে নতুন প্রজাতির আবির্ভাব ঘটে।

১.১০ পৃথিবীর কোন অঞ্চলে মানব প্রজাতির কোন সদস্যের মধ্যে কোন সৃজনশীল মৌলিক চিন্তার আবির্ভাব ঘটলে সমসাময়িক সময়ে পৃথিবীর অন্য কোথাও অন্য কোন সদস্যের মধ্যে একই মৌলিক চিন্তার আবির্ভাব হওয়ার সম্ভবনা থেকে যায়। প্রজাতির সংরক্ষণ নীতিতে চিন্তার জগতেও প্রজাতির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সার্বিকীকরন ঘটে। ইহাও প্রকৃতির সদৃশ সত্তার সংরক্ষণ নীতির বহিঃপ্রকাশ।

=>নিয়ম-নৈতিকতা, প্রথা, আইন ও বিধিঃ

১.১ এককের কোন নিয়ম নেই।অর্থাৎ একক সত্তার কোন নিয়ম নেই কিংবা কোন নিয়মের অধীন নয়_হোক সেটা প্রাকৃতিক বিধি কিংবা নৈতিক/সামাজিক বিধি। যখন একাধিক সত্তার উদ্ভব ঘটে তখনই সত্তা সমূহের পারস্পারিক মিথোষ্ক্রিয়ায় নিয়ম কিংবা বিধির সৃষ্টি হয়। জগতের সত্তাসমূহের মিথোষ্ক্রিয়ার ফল প্রাকৃতিক আইন কিংবা বিধি।

১.২ বিগ ব্যাং এর একদম প্রান্তিক পর্যায়ে মহাবিশ্বের সকল কনিকা কিংবা বস্তু ও বস্তুপুঞ্জ তথা জড়ীয়-অজড়ীয় সকল সত্তা একই বিন্দুতে কেন্দ্রিভূত ছিল। তখন একক সত্তা বিরাজমান ছিল। তখন কোন নিয়ম ছিলনা। তবে একটি মাত্র নিয়ম কার্যকর ছিল_কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তার নিয়ম। পরবর্তীতে কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তার নিয়মে একাধিক সত্তার আবির্ভাবে অন্যান্য প্রাকৃতিক নিয়ম ও বিধির আবির্ভাব ঘটে। আমরা জানিনা যে, প্রাকৃতিক নিয়ম গুলো প্রকৃতই কি! তবে পদার্থ বিজ্ঞানের আইন ও সূত্রগুলোর মাধ্যমে আমরা প্রাকৃতিক নিয়ম ও বিধিগুলো বুঝার চেষ্টা করি। অন্যভাবে বলা যায় আমাদের পদার্থ বিজ্ঞানের আইন-বিধি-নিয়ম গুলো প্রাকৃতিক আইন-বিধি-নিয়ম গুলোর প্রতিফলন এবং আমাদের ইন্দ্রিয়-পর্যবেক্ষণ-অভিজ্ঞতা দ্বারা প্রভাবিত। প্রাকৃতিক আইন ও পদার্থ বিজ্ঞানের আইন পৃথক যদিও আমরা একই মনে করি। অবশ্য একই মনে করা ছাড়া অন্যকোন উপায় কিংবা বিকল্প আমাদের জানা নেই।

১.৩ এবার সমাজ বিজ্ঞানে নিয়ম ও বিধি কিভাবে সৃষ্টি হয় তা দেখা যাক। ধরাযাক, কোন এক বিচ্ছিন্ন বনাঞ্চলে এক জন ব্যক্তি আটকে গেল। সে বনের হিংস্র জন্তুদের হাত থেকে রক্ষা কল্পে রাত্রে ঘুমানোর জন্য বনের বৃক্ষ-গুল্ম-লতা-পাতা ব্যবহার করে ছোট্ট একটি ঘর নির্মান করল। যেহেতু একজন মাত্র ব্যক্তি সেহেতু তার মধ্যে কোন সামাজিক নিয়ম-বিধি ক্রিয়াশীল নয়। অবশ্য এই সময় বনের অন্যকোন প্রানীয় সঙ্গে একত্রে বসবাসের নিয়ম-বিধি তৈরির সম্ভবনা থেকে যায়। আপনারা অব্যশ্যই দেখে থাকবেন অনেক বিধবা নারী যখন ঘনিষ্ঠজনের সংস্পর্শ না থাকায় একাকী বসবাস করেন তখন কোন পোষা বিড়াল কিংবা গৃহপালিত পশুর সঙ্গে মায়া-মমতার বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিষয়টি কোন নিঃসঙ্গ পুরুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বনের ঐ ব্যক্তিটির কথায় আসা যাক। ব্যক্তিটির মনে অনিশ্চয়তা নিয়ম ক্রিয়াশীল। সে তার ঘরটিতে যেদিক ইচ্ছে সেদিকে অবস্থান করে শুয়ে ঘুমাতে পারে। ধরাযাক, বনের মধ্যে তার মত আর একজন ব্যক্তির সন্ধান পেল। তখন তারা দুই ব্যক্তি একই ঘরে রাত্রি যাপন শুরু করল। একজন যদি ঘরের দক্ষিণাংশে শুয়ে ঘুমায়, অন্য জনকে উত্তারাংশে শুয়ে ঘুমাতে হয়। এক জন যখন ছিল তখন শুয়ার ক্ষেত্রে কোন নিয়ম ছিলনা। দুইজনের অবস্থানের কারনে একটি নিয়ম তৈরি হলো। একজন ঘরের উত্তরাংশে ঘুমালে অন্য জনকে দক্ষিণাংশে শুতে হবে। এখন যদি আর একজন আগন্তুক এসে যোগ দেয় তখন তিনজনকে একই ঘরে আবস্থান করতে হলে একজনকে অপর দুইজনের মাঝখানে শুয়ে ঘুমাতে হবে। দুইজনের মাঝখানে ঘুমানোটা অনেক সময় অসুবিধা জনক মনে হয়। সেক্ষেত্রে পারস্পারিক বুঝাপড়ার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সবাই সব অবস্থানে শুয়ে ঘুমাবে এরূপ নিয়ম সৃষ্টির সম্ভবনা সৃষ্টি হবে। এটা সাম্য ও সমান সুযোগের নিয়ম। এখন যদি ঐ তিনজন ব্যক্তির একজন নারী হয় তবে প্রজাতি সংরক্ষণ নীতিতে তাদের মধ্যে তৈরি হবে বৈবাহিক কিংবা যৌন সঙ্গম নীতি। দুইজন পুরুষ এবং একজন নারী। সঙ্গত কারনেই এখানে group marriage বা দলগত বিবাহতেই যৌন সঙ্গম নীতি প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষ যখন পশুস্তরে জীবন-যাপন করত তখন দলগত বিবাহ ব্যবস্থা প্রচলন ছিল। অনেক আদিবাসী সমাজে এখনও দলগত বিবাহ প্রচলন আছে। এখন যদি এই পরিবারে যদি শুধু কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করে তখন প্রজাতি সংরক্ষণ নীতিতে তাদের মধ্যে বৈবাহিক এবং যৌন সঙ্গম নীতি কি হতে পারে তা সহজেয় অনুমেয়। যেকোন চরম অবস্থায় পদার্থ বিজ্ঞানের নিয়ম গুলো যেমন ভেঙ্গে পড়ে ঠিক তেমনি চরম অবস্থায় মানব প্রজাতি টিকেয়ে রাখার স্বার্থে স্বাভাবিক নৈতিক নিয়মও কার্যকর থাকবেনা এটাই স্বাভাবিক।

=>কোয়ান্টামতত্ত্ব ও সমাজবিজ্ঞান:

পদার্থবিজ্ঞানের কোয়ান্টামতত্ত্বের কথা আমরা সবাই কমবেশি জেনে থাকব। নিউটন এবং আইনস্টাইনের চিরায়ত পদার্থব বিজ্ঞান দ্বারা পরমানুর অভ্যন্তরের ইলেকট্রনের মত অতিপারমানবিক কনা গুলোর আচরন কোন ক্রমেই ব্যাখ্যা করা যাচ্ছিলনা।
ইলেকট্রনের মত অতিপারমানবিক কনা গুলো অনিশ্চয়তার নীতি প্রদর্শন করে। একই সঙ্গে কনা সমূহের গতি ও অবস্থান জানা সম্ভব নয়। এ এক প্রকৃতির অলঙ্গনীয় নিয়ম। ইহাই অনিশ্চয়তার নিয়ম যার নাম কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তা বা কোয়ান্টামতত্ত্ব। একই সেলে অবস্থান রত দুইটি ইলেকট্রন যদি বের হয়ে আলোর বেগে পরস্পর বিপরীত দিকে ধাবিত হয়ে কয়েক লক্ষ আলোক বর্ষ দূরত্বে অবস্থান করে তবে তাদের যে কোন একটির যেকোন পরিবর্তনে অপরটিও সাথে সাথে প্রভাবিত হয়। এজন্য সময়ের কোন প্রয়োজন হয়না। ইহা কোয়ান্টাম জগতের এক অদ্ভুদ নিয়ম।
আমাদের শরীরের প্রতিটি পরমানুর ভেতর এক ধরনের মহাজাগতিক কোয়ান্টাম যুগ্মসম্বন্ধ কাজ করে। যেহেতু বিগ ব্যাঙের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সকল অনু-পরমানু সৃষ্টি হয়েছে, তাই এদের মধ্যে এক বিশেষ ধরনের ওয়েভ ফাংশন কাজ করছে এবং এই ওয়েফ ফাংশনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের প্রতিটি অনু-পরমানুর মধ্যে এক ধরনের কোয়ান্টাম যোগাযোগ বিদ্যমান আছে।
কোয়ান্টাম তথ্য আদান-প্রদানে কোন সময়ের প্রয়োজন নেই।

কোয়ান্টামতত্ত্ব থেকে নিম্ন লিখিত বিষয় অনুমিত বা নিঃসৃত হয়:

১) সত্তা (বা ঘটনা) যত সূক্ষ্ম, ক্ষুদ্র একক হবে তার আচরণ হবে তত অনিশ্চিত।[যেমন-ইলেট্রন একটি সত্তা]

২) একক সত্তার ভবিষ্যদ্বানী করা যায়না।

৩) একাধি একক সত্তা মিথষ্ক্রিয়ায় অংশ গ্রহন না করা পর্যন্ত তাদের ভবিষ্যদ্বানী করা যাবেনা।

৪) সত্তা যতক্ষণ পর্যন্তনা মানব মনের সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়ায় অংশগ্রহন না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা ঐ সত্তা সম্পর্কে জানতে পারবনা।

৫) সত্তাসমূহের পারষ্পারিক মিথষ্ক্রিয়ার কারনে প্রাকৃতিক নিয়ম/আইনের সৃষ্টি।[কার্য-কারন নিয়মসহ পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র কার্যকর হয়]

=>সমাজবিজ্ঞানে কোয়ান্টামতত্ত্বঃ

সমাজের একক মানুষ। সমাজের গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সমাজের ভবিষ্যতবানী করা যত সহজ ঠিক ততটাই কঠিন একজন মানুষের ভবিষ্যদ্বানী করা। একক একজন মাুনুষের আচবন অনিশ্চিত:

উদাহরন-১
ধরাযাক, জনমানব শূন্য একটি মরুভূমি। সেখানে শুধু বালু আর বালু_বৃক্ষ-লতা-গুল্ম-ঘাস শূন্য। ঐ খানে একজন মাুনুষকে ছেড়ে দেয়া হলো।
এখন আপনাকে প্রশ্ন করা হলো এই মানুষটি কোন দিকে যাবে? তার যাওয়ার গতি অবশ্যই অনিশ্চিত। সে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম কোন দিকে গমন করবে? এখানে মানুষটির মনেও কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তা বিরাজ করবে।
যদি এরুপ হতো ২ কিলো উত্তরে একটি বৃক্ষ বিদ্যমান আছে। সেক্ষেত্রে মানুষ একটি সত্তা ও বৃক্ষ একটি সত্তা_সে ক্ষেত্রে ২টি সত্তার মিথষ্ক্রিয়া ঘটতো এবং মানুষটি উত্তর দিকে বৃক্ষটির অভিমুখে যাত্রা শুরু করত। দুটি সত্তার উপস্থিতির কারনে আপনি সহজেই ভবিষ্যদ্বানী করতে পারেন যা একক মানুষ সত্তার ক্ষেত্রে ভবিষ্যদ্বানী করা অনিশ্চিত হয়ে যায়।
এভবেই সমাজের মানুষ এবং প্রাকৃতিক জীব ও জড় উপাদানের পারষ্পারিক মিথষ্ক্রিয়ার ফলেই সামাজিক নিয়ম ও বিধির সৃষ্টি। বাষ্ট্রীয় আইন ও বিধি-বিধান রাষ্ট্র মধ্যস্থ উপাদান সমূহের মিথষ্ক্রিয়ার ফল।

অর্থাত প্রাকৃতিক/সামাজিক সকল আইন-কানুন-নিয়ম-বিধি-বিধান সব কিছুই সত্তা সমূহের পারস্পারিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে সৃষ্টি।
কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তা নিয়মে কারনহীন ভাবে সবকিছুর সৃষ্টি। কার্য-কারন নিয়মও একাধিক সত্তার মিথষ্ক্রিয়ার ফল।

=>নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শঃ

১.১একটি বিন্দু থেকে অন্য একটি বিন্দুতে গমন করার অসংখ্য পথ রয়েছে। প্রত্যেকটি পথই বাস্তব এবং সত্য। তবে আমাদেরকে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথটি বেছে নেয়া উচিৎ। যেহেতু সময় আপেক্ষিক এবং স্থান-কালের বক্রতা রয়েছে সেহেতু কোন পথটি যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত তা নির্ধারন করাও খুবই কঠিন।

১.২ ধরুন, আপনি ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম যাবেন। ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম যাওয়ার অসংখ্য পথ রয়েছে। স্থল-জল-আকাশ পথ। একাধিক স্থল পথও রয়েছে। ট্রেন যোগেও যাওয়া যায়। আবার বিভিন্ন পথের মিশ্রন ঘটানো সম্ভব। আবার, ঢাকা থেকে যাত্রা করে বিভিন্ন শহর, এমন কি বিভিন্ন দেশ ঘুরেও আপনি সর্ব শেষ চট্রগ্রাম পৌঁছতে পারেন। আপনাকেই নির্ধারন করতে হব কোন পথটি আপনার জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী।
তদ্রুপ, প্রত্যেকটি সমস্যার অসংখ্য সমাধান রয়েছে। আপনি আপনার সামর্থ্য ও ক্ষমতা অনুযায়ী যে কোন সমাধান গ্রহন করতে পারেন। তবে আপনাকে এমন সমাধান বের করতে হবে যা একই সঙ্গে আপনার এবং অন্য সর্বাধিক লোকের কল্যান জড়িত থাকে।
১.৩ বিজ্ঞান আমাদের বহু পথের সন্ধান দেয় এবং কোনটি সংক্ষিপ্ততম তাও নির্ধারন করে দেয়। কিন্তু কোন পথটি সর্বাধিক মানুষের জন্য কল্যানকর কিংবা কোনটি করা উচিৎ কিংবা উচিৎ নয় তা বিজ্ঞান বলে দেয়না। কিংবা উহা বিজ্ঞানের আওতাভূক্ত নয়।
১.৪ সামাজিক কিংবা বাষ্ট্রীয় আইন-কানুন-বিধি-বিধান-প্রথা কিংবা নীতি-নৈতিকতা ইত্যাদি বিষয়ে আমরা কিভাবে সিদ্ধান্ত নেব? অনেকে বলবেন এ সকল কিছুর উৎস হবে বিজ্ঞান। বিজ্ঞানতো এখন পর্যন্তও সকল প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনা কিংবা “Theory of everything ” এখনও বিজ্ঞানের অজানা।

১.৫ এর দায়িত্ব অর্পিত হয় ধর্ম, দর্শন ও নীতি বিজ্ঞানের উপরে।
এমন একদিন হয়তো আসবে যেদিন নীতি বিদ্যার নিয়ম কিংবা সিদ্ধান্ত গুলো পদার্থ বিজ্ঞানের গানিতিক সমীকরন দ্বারা প্রতিবাদন যোগ্য হবে। কিন্তু তখনও সকল প্রশ্নের উত্তর না জানার কারনে বিভিন্ন দার্শনিক দৃষ্টিকোন থেকেই যাবে।
১.৬ বিজ্ঞান আদর্শের কথা বলেনা। কিন্তু মানুষতো বস্তু নয় তাহলে মানব জীবনের কেন কোন লক্ষ্য উদ্ধেশ্য থাকবেনা? কেন মানব জীবনে আদর্শের প্রবাহ থাকবেনা? না, তারমানে এই নয় যে, আপনাকে প্রচলিত কোন ধর্মের অনুসারী হতে হবে। তবে ধর্মের প্রয়োজনীয়তা থেকেই যাচ্ছে। একে আপনি ধর্ম না বলে অন্য কিছুও বলতে পারেন। আপনাকে সকলের কল্যানার্থে কিংবা সার্বজনীন কল্যানের নিমিত্ত একটা Applied philosophy কে গ্রহন করতেই হবে। আর সেটাও একটা ধর্ম। আপনি ঈশ্বরে বিশ্বাসী না হলেও শূন্য ও অসীম আপনাকে তাড়া করবেই! অসীমের মাঝে নিজেকে এবং নিজের মাঝে অসীমকে আপনি খুজতেই থাকবেন।

১.৭ পদর্থবিজ্ঞানের গানিতিক সমীকরনগুলো থেকে কিভাবে অসীমকে বিমুক্ত করা যায় সেই চেষ্টাই চলছে।

তবে, এটা সত্যি অসীমের উপর মানবিক গুন আরোপ করে কল্পিত ঈশ্বরকে ঘিরে তথাকথিত ধর্ম রচনা করার সুযোগ এখন আর নেই।

=>♥বিবাহ ও নৈতিকতাঃ আন্তঃধর্ম, আন্তঃজাতি বিবাহ।

১.১ বিবাহ মূলত একটি সামাজিক চুক্তি, নারী-পুরুষের একত্রে বসবাস এবং যৌন মিলনের বৈধ সামাজিক ও প্রথাগত চুক্তি।

১.২ প্রজাতির প্রাকৃতিক সংরক্ষণের নীতিতে বিবাহ একটি অত্যাবশক ও প্রয়োজনীয় প্রথা।

১.৩ মানব প্রজাতির সকল সদস্য পারস্পারিক সদৃশ। সদৃশ সত্তার প্রাকৃতিক সংরক্ষণ নীতি অনুযায়ী আন্তঃধর্ম, আন্তঃজাতি কিংবা আন্তঃরেস, আন্তঃবর্ন বিবাহের বিষয়টি সার্বজনীন নৈতিকতা ও মানবিকতা যুক্ত করে এবং প্রজাতির মধ্যকার সদস্যদের সাদৃশ্যতা বৃদ্ধি করে যা প্রজাতি টিকিয়ে রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রানীতেও বিপরীত লিঙ্গের দুইটি সদস্যের জুটি বাধার বিষয়টিও লক্ষণীয়।

১.৪ মানব প্রজাতির সদস্যবৃন্দ ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি, জাতি, অঞ্চল ও ভূগোলিক সেন্টিমেন্টে পৃথক চিন্তা-চেতনা-আদর্শ-মূল্যবোধ দ্বারা বিভক্ত। মানবতা বিভাজনকারী এই সকল সেন্টিমেন্ট “প্রকৃতির সদৃশ সত্তা সংরক্ষণ নীতি” তথা “প্রজাতির প্রাকৃতিক সংরক্ষণ নীতি”র পরিপন্থী। ধর্ম-ভাষা-সংস্কৃতি-জাতি-বর্ন-গোত্র-জিও সেন্টিমেন্টকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন ভাষা, রাষ্ট্র,জাতি,ধর্ম,বর্ন, গোত্রের সদস্যদের মধ্যে বিবাহ প্রথা চালুর বিষয়টি বিশ্ব মানবতা ও সার্বজনীন নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে যা প্রজাতির প্রাকৃতিক সংরক্ষণ নীতির অনুগামী।

১.৫ অতএব, হিন্দু-মুসলমান, মুসলমান-খ্রিস্টান, খ্রিস্টান-বৌদ্ধ, বৌদ্ধ-মুসলমান, হিন্দু-বৌদ্ধ, মুসলমান-বৌদ্ধ, খ্রিস্টান-হিন্দু ইত্যাদি সহ সকল প্রকার আন্তঃধর্ম, আন্তঃভাষিক, আন্তঃজাতি, আন্তঃবর্ন, আন্তঃগোত্র, আন্তঃরাষ্ট্রিক বিবাহ বিশ্বমানবতা ও সার্বজনীন নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় এবং প্রজাতির প্রাকৃতিক সংরক্ষণ নীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে এবং করবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

88 + = 98