প্রসঙ্গ জঙ্গিবাদ ও কিছু গোষ্ঠী

দাস যুগ থেকে শুরু করে এই আধুনিক যুগ পর্যন্ত সবখানেই শাসক ও শোষক শ্রেণী নিজেদের শ্রেণী স্বার্থে কোন না কোনভাবে ধর্মকে ব্যবহার করেছে, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেছে। ধর্মের রাজনৈতিকরণ কিংবা রাজনীতির ধর্মীয়করণ শাসক শ্রেণীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এক প্রথা গন মানুষের চিন্তা – চেতনা শাসনের জন্যে। বর্তমান সময়ের জঙ্গিবাদ রাজনীতিতে সেই ধর্মের ব্যবহারের সর্বোচ্চ জঘন্যতম প্রক্রিয়া যার নির্মমতার বলি হতে হচ্ছে পৃথিবীর সাধারণ জনগণ।

এখানে, মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ বিষয় দুটোকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা উচিত। মৌলবাদ হচ্ছে যে কোন মতাদর্শের উগ্রতা এবং সেটার উৎপত্তি ও বিকাশ স্থান কাল পাত্র ভেদে ভিন্ন ভিন্ন কারণে হতে পারে। বর্তমানে মৌলবাদ মানে ধর্মীয় উগ্রতাকেই বোঝানো হয়। আর এই মৌলবাদের সর্বোচ্চ পরিণতি হচ্ছে জঙ্গিবাদ – অর্থাৎ যখন উগ্র মতাদর্শ অন্যের ক্ষতিসাধনে অস্ত্র হাতে সন্ত্রাসীমূলক কার্যকলাপে লিপ্ত হতে বাধ্য করে তখন সেটাকে বলা যেতে পারে জঙ্গিবাদ। আফগান – ইরাক- সিরিয়া’র ঘটনাসমূহের বিশ্লেষণ করে তাত্ত্বিক বিশ্লেষক সবাই মোটামুটি এ বিষয়ে একমত যে, মৌলবাদের উপর ভর করে সাম্রাজ্যবাদীদের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ প্ররোচনাতেই জঙ্গিবাদের উৎপত্তি এবং বিকাশ। এখানেও মূলত সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো নিজেদের প্রয়োজনেই ধর্মের এই উগ্র রূপটাকে ব্যাবহার করছে।

জঙ্গিবাদের উৎপত্তির ও বিকাশের সাথে সাম্রাজ্যবাদীদের এই যে রাজনৈতিক সম্পর্ক সেটা এখন দিবালোকের মতোই স্পষ্ট। আশি দশকের আফগানিস্তানে সোভিয়েত বিরোধী আন্দোলনের সময় – যাকে এই জঙ্গিবাদের ভিত্তি স্থাপনকাল হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে – সৃষ্ট তালেবান ও আল কায়েদা যে আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদেই কার্যক্রম শুরু করেছিল এর প্রমাণ খোদ হিলারি ক্লিনটনের কথাতেই পাওয়া যায়, ‘আজকে আমরা যে আল কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি কুড়ি বছর আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমরাই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তাদেরকে অর্থ যুগিয়েছি”। [১ জুন ২০১৪] এই সশস্ত্র বাহিনী তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র নাকি সেখানে প্রায় ৫৩ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল।

সম্প্রতি ইসলামিক স্টেটের উত্থান সম্পর্কেও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকসই উন্নয়নের অধ্যাপক জেফরি ডি স্যাক্স এক প্রবন্ধে একই ধরণের কথা বলেছেন, ‘সিআইএ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের গোপন অর্থায়নে সুন্নি জিহাদিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এর বিপরীতে দেখা গেল, এই সুন্নি জিহাদিরা আইএসের জন্ম দিয়েছে। সিআইএ ও সৌদি আরবের নীতির প্রত্যক্ষ ফলাফল হিসেবে এটা হয়েছে।’

সাম্রাজ্যবাদী শক্তির স্বার্থেই গঠিত জঙ্গি দলগুলোর কাজকর্মের ধরন ও প্রকৃতি আলোচনার দাবি রাখে কেননা যে যুব সমাজ ব্রেইনওয়াশড হয়ে সেখানে যোগ দিচ্ছে তারা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে থেকে যায় সম্পূর্ণ অজ্ঞ। তাদের রিক্রুটমেন্ট প্রসেসটাও ভিন্ন – সেখানে যুবকদের মন মানসিকতাকে প্রভাবিত করাটাই হয়ে থাকে মূল কৌশল। এটা বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন, একজন জঙ্গি ও একজন সন্ত্রাসীর মধ্যে বিস্তর ফারাক; দুজনকে এক করে ফেললে মূল সমস্যার সুরাহা হবেনা। যে কোন জঙ্গি আক্রমণকে সন্ত্রাসী আক্রমণ বলে গুলিয়ে ফেলাটা ঠিক হবে না, কেননা সন্ত্রাসী কাজকর্মের পিছনে বিশেষত রাজনৈতিক অথবা ধর্মীয় মতাদর্শ অনুপস্থিত থাকে; কেবল আতঙ্ক ছড়ানোর মাঝেই সেটা সীমাবদ্ধ। কিন্তু জঙ্গি হামলার পিছনে সবসময়ই কিছু রাজনৈতিক অথবা ধর্মীয় মতাদর্শ উপস্থিত থাকে। তাই একে শুধুই সন্ত্রাসী ঘটনা বলা উচিৎ না এবং এটা করলে এর প্রভাব বুঝতে ব্যর্থ হবো আমরা। বলা যেতে পারে, প্রত্যেক জঙ্গিই সন্ত্রাসী, কিন্তু প্রত্যেক সন্ত্রাসী জঙ্গি না।

আল কায়েদা ও ISIS ছাড়াও আন্তর্জাতিক ভাবে আরো অনেকগুলো জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। আবার তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন দেশেও স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনের উদ্ভব ঘটে; উদাহরণস্বরূপ নাইজেরিয়ার বোকো হারাম, সোমালিয়ার আল শাবাব, বাংলাদেশে হরকাতুল জিহাদ, জে এম বি ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের কথা বলা যেতে পারে। শুধুমাত্র বাংলাদেশেই ২০০৯ সালে নিরাপত্তা এজেন্সিগুলো ৩৩টি জঙ্গি সংগঠন রয়েছে বলে সরকারকে রিপোর্ট দিয়েছিল। কোন কোন রিপোর্টে ৭০ টির কথাও উল্লেখ আছে। এখানে একটা বিষয় উল্লেখযোগ্য, আল কায়েদা কিংবা ISIS কে শুধুমাত্র সামরিকভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়, তাদেরকে পরাজিত করতে হলে তাদের মতাদর্শ ও কর্মপন্থাকেও পরাজিত করতে হবে। নাহলে, এক দল আরেক দলের উদ্ভব ঘটাতেই থাকবে।

জঙ্গি সংগঠন, বিশেষ করে আল কায়েদা ও ISIS এর উদ্ভবের কালে স্থানীয় যারা যোগ দেয় তারা স্থানীয় রাজনীতি ও সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ সহ আরো অনেক অনুঘটকের মাধ্যমেই প্রভাবিত হতে পারে। কিন্তু, পরবর্তীতে শুধুমাত্র তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যান্য দেশ থেকেও এক বিশাল সংখ্যক যুবক এসে যোগ দেয় জঙ্গি সংগঠনগুলোতে। কারা এসে যোগ দিচ্ছে? কেন দিচ্ছে? কিভাবেই তারা অনুপ্রাণিত হচ্ছে? এই প্রশ্নগুলো ও সমস্যাগুলোর সমাধান করা না গেলে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক ভাঙ্গা সহজ হবে না।

বর্তমান সময়ে অনলাইন মিডিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে জঙ্গি আদর্শ প্রচারের সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। তাদের লেকচার, বক্তৃতা, বিবৃতি, ট্রেনিং ছড়িয়ে আছে অনলাইনে যত্রতত্র, যে কেউ ইচ্ছে করলেই জেনে নিতে পারে তাঁদের সম্বন্ধে। মনে রাখা প্রয়োজন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে সদস্য রিক্রুট করা তাঁদের চেয়ে ভালো আর কোন সংগঠনই করতে পারে নি। জাওয়াহিরি ঘোষণা দিয়েছিলেন, More than half of this battle is taking place in the battlefield of media’। আল কায়েদার প্রধান প্রচারক (propagnadist) সালাদিন II সরাসরি অনলাইনের যুদ্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, Unite O Muslim Of the world… Set up squandron of media Jihad to break Zionist control over the media and terrorize enemies”। ২০০৭ সালে ৪৫০০ জিহাদি ওয়েবসাইটের অস্তিত্ব তাদের সে ঘোষণার সত্যতাকেই চিত্রিত করে।

জঙ্গিরা অনলাইন ও তাদের বই পুস্তকের মাধ্যমে এমন একটা জগৎ উঠতি বয়সী মুসলমানদের দেখানোর চেষ্টা করছে, যেখানে মুসলিমরা নির্যাতিত ও নিগৃহীত – এবং সেটার দায়ভার পুরো পশ্চিমাদের। পশ্চিমাদেরকে আখ্যায়িত করা হচ্ছে শেষ যুগের দাজ্জাল রূপে। গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ কিভাবে ইসলামের সেই স্বর্ণযুগ, খলিফাদের আমলে ফিরে যাওয়ার জন্যে বাধাস্বরূপ সেটা কোরআন হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মান্ধ ও ধর্ম সম্পর্কে উদাসীন কিন্তু প্রচণ্ড ধর্মানুভুতি সম্পন্ন ছেলেদেরকে মগজ দোলাই দিচ্ছে। লেবাননের টেলিভিশনে ‘শহীদ জননী’ ধরণের সাক্ষাৎকার ভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। তারা তাদের সন্তানদের মৃত্যুর মাধ্যমে মহিমা অর্জনের কথা এবং ধর্ম ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের চেতনার কথা বলে থাকেন। এই ভিডিওগুলো যখন ছড়িয়ে দেয়া হয় অনলাইনে কিংবা টেলিভিশনের মাধ্যমে যখন ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে তখন এর প্রভাবও পড়ে কিছু নির্দিষ্ট গ্রুপের উপর।

এই নির্দিষ্ট গ্রুপগুলোকে চিহ্নিত করা জরুরী কেননা, আল কায়েদা কিংবা ISIS যতটা না তাদেরকে রিক্রুট করে বরং তার চেয়ে বেশী তারা নিজেরাই খুঁজে নেয় এই সংগঠনগুলোকে। আল কায়েদা সম্পর্কে বলা হত, To defeat al-Qaeda, it is crucial to understand who seeks to join and why। এই কথাটা প্রত্যেক জঙ্গি সংগঠনের জন্যেই প্রযোজ্য।

আল কায়েদার এসকল ‘বিদেশী যোদ্ধা’ দের নিয়ে প্রকাশিত এক গবেষণামূলক রিপোর্টে তাদেরকে মোটা দাগে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
ক)Revenge seekers: Need an outlet for their Frustration
খ) Status seekers: Need recognition,
গ) Identity seekers: Need a group to join, and
ঘ) Thrill seekers: Need adventure.

প্রথম দলটা স্পষ্ট জানে না তাদের রাগ আসলে নির্দিষ্ট কিসের ওপর; নিজেকে ভিকটিম হিসেবেই চিহ্নিত করে এবং তার মানসিক কষ্ট ও নিরানন্দ জীবনের দায়ভার সে চাপিয়ে দেয় পুরো সমাজটার প্রতি যা থেকে তৈরি হয় ধরণের ক্ষোভ ও প্রতিশোধপরায়নতা। তাদের সে রাগের আগুনের উৎস বিভিন্ন রকম হতে পারে; Psychoanalyst Heinz Kohut এর মতে, “narcissistic rage . . . the need for revenge, for righting a wrong, for undoing a hurt by whatever means, and a deeply anchored, unrelenting compulsion in the pursuit of all of these aims.”

দ্বিতীয় গ্রুপটাতে মূলত মুসলমানদের মধ্যে যারা পশ্চিমা দেশ সমূহে বসবাস করে তাদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। “বিদেশী যোদ্ধা”দের প্রায় ২৫ ভাগই হচ্ছে এই গ্রুপে যারা কিনা নিজেদের কমিউনিটিতে তাদের অবস্থানকে আরো উন্নত করতে চায় এবং পৃথিবীকে তাদের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এবং, তৃতীয় গ্রুপটার কাছে al-Qaeda is more than just a legend—it is the best possible club to join। এই দুটো গ্রুপের অনুপ্রেরণার পিছনে জঙ্গিদের অনলাইন ভিত্তিক প্রচারণা বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

সর্বশেষ গ্রুপ, অর্থাৎ রোমাঞ্চ প্রিয়’দের অংশগ্রহণ সবচেয়ে কম, কিন্তু এই গ্রুপের সবাই মধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। উল্লেখ্য, জঙ্গিদের কাছে সন্ত্রাস কোন সামরিক যুদ্ধ কৌশল না, বরং এটা “genre of symbolic communications”।

এখানে একটা বিষয়, জঙ্গিদেরকে টাকার বিনিময়ে কিংবা আর্থিক অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে দলে ভেড়ানো হয় – এই তত্ত্ব প্রায় প্রতিটা রিপোর্টেই পরিষ্কারভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। আর সেটা থাকলেও খুবই নগণ্য। এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন, সম্প্রতি বাংলাদেশে সরকার থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে, জঙ্গিরা ফেরত আসলে ১০ লক্ষ টাকা পুরষ্কার দেয়া হবে। এগুলো ভ্রান্ত কথাবার্তা –এবং এ ধরণের প্রচার জঙ্গি সমস্যার মূল সমাধান থেকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ থেকে যারা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনে সাথে জড়িত হওয়ার জন্যে দেশ ছেড়ে গিয়েছিল তারা শুধুই যে ধর্মান্ধতার কারণেই গিয়েছে তা কিন্তু না, তাদেরও উপরোল্লিখিত মোটিভেশন গুলো ছিল এবং সেটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে তাদের প্রচণ্ড ধর্মানুভূতিকে পুঁজি করেই জঙ্গি বানানো হচ্ছে। জঙ্গিরা সংগঠনের মাধ্যমে রিক্রুট করে না, ব্যাক্তি মাধ্যমেই রিক্রুট করে থাকে। বাংলাদেশের জঙ্গি উত্থানের দিকে নজর দিলে এগুলোই চোখে পড়বে।

যখনই যে কোন স্থানে বেড়ে ওঠার জন্যে উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে যায় সেখানেই জঙ্গি সংগঠনগুলোর কার্যক্রম চালু হয়ে যায়। ৮০’র দশকে অনেক বাঙ্গালীই আফগানিস্তানে সোভিয়েত বিরোধী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। সেখান থেকে ফিরে আসে তারা দেশে ইসলামী শাসন ব্যাবস্থা কায়েম করার স্বপ্ন নিয়ে। একদিকে তাদের তালেবানের প্রেরণা অন্যদিকে দেশীয় রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকে চালু হওয়া মৌলবাদীদের সক্রিয়তা – দুটোই জঙ্গি দল তৈরির জন্যে উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেয়।

১৯৯২ সালে জঙ্গি সংগঠন হুজি জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দল তৈরির ঘোষণা দেয়ার মাধ্যমেই প্রকাশ্যে বাংলাদেশ জঙ্গি উত্থান শুরু হয়। এরপর ২০০১ এর মধ্যেই মাত্র আট বছরে আরো অনেক গুলো সমমনা দল গড়ে উঠে। ৯৯ থেকেই শুরু হয় জঙ্গিদের বিস্তার ও বিকাশ পর্ব। এরপর থেকে জঙ্গি আক্রমণে ক্রমাগতভাবেই বাঙ্গালীর রক্ত ঝরছে। ১৯৯৯ থেকে ২০১০ পর্যন্ত বোমা হামলায় নিহত হয়েছে ১৩৬ জন, আহত হয়েছে ২ হাজার ৪৮৮ জন।

?oh=6d193306ac1aaa8f04822903b9570da0&oe=58EC0ECF” width=”500″ />
[তথ্যসূত্র: সুব্রত শুভ’র ব্লগ থেকে]

এটা স্পষ্ট যে, ১৯৯৯ – ২০০৫ পর্যন্ত জঙ্গি আক্রমণ চলছিল বেশ জোরশোরে; কুখ্যাত সেই সিরিজ বোমা হামলা, শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ও রমনার বটমূলের বোমা হামলা সহ আরো অনেক নৃশংস হামলা হয়েছিল সে সময়টায়। বি এন পি আমলের শেষের দিকে বাংলা ভাই ও শায়খ আব্দুর রহমানের ফাঁসির মাধ্যমে জঙ্গিদের কার্যকলাপ কমে গিয়েছিলো অনেকাংশে। ২০০৬ – ২০১২ সালকে জঙ্গি হামলার নিরবকাল বলে ধরে নেয়া যেতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ISIS এর উদ্ভবের মাধ্যমে ২০১৩ সাল থেকে আবারো শুরু হয় জঙ্গি হামলা ২য় পর্যায়। সেটা বেড়েই চলছে। ২০১৫ সালে ২২ টি আক্রমণ হয়েছিল এবং ২০১৬ এর মাঝামঝি অবস্থাতেই সেটা হয়ে গিয়েছে ১৯। সেটা যে বাড়বে এটা নিশ্চিত। উল্লেখ্য, জঙ্গি হামলার ধরণ, কার্যকলাপ, রিক্রুট সব দিক থেকেই প্রথম পর্যায়ের হামলা থেকে এটা ভিন্ন। প্রথম পর্যায়ের দিকের জঙ্গিরা, হুজি –জিএমবি ছিল মূলত মাদ্রাসা, বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসা কেন্দ্রিক। কিন্তু, ২য় পর্যায়ের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তারা শহরকেন্দ্রিক উচ্চ মধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেপেলে – যা কিনা আমাদের জন্যে খুবই এলার্মিং। এখানে জঙ্গি রিক্রুটের উপরোল্লিখিত চারটা গ্রুপের কথা স্মরণ করা প্রাসঙ্গিক।

দেশ, রাজনীতি, সমাজ ও ইতিহাস এই বিষয়গুলো সম্পর্কে উদাসীন ছাত্রদেরকে মগজধোলাই করা অপেক্ষাকৃত সহজ। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে নজর দিলে আমরা দেখি যে, মাদ্রাসা ও নামি দামি ইংলিশ/ভার্সন স্কুলগুলোর ছাত্রদের মধ্যে এ উদাসীনতার প্রবণতা মারাত্মক। (অবশ্যি, সবাই না)। ঘটনাবলী বিচার করলে দেখা যাচ্ছে, যেসকল ছেলে জঙ্গি-দলগুলোতে যোগ দিচ্ছে তাদের অধিকাংশই এই শিক্ষাব্যবস্থারই উৎপাদন।

পূর্বেই উল্লেখ করেছি জঙ্গিবাদের উত্থান পতনের সাথে সাম্রাজ্যবাদীদের ভূ- রাজনৈতিক রণকৌশল জড়িয়ে আছে। তারাই তাদের স্বার্থে জঙ্গিদের সৃষ্টি করছে, প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে ধ্বংস করছে; এবং ধ্বংসের পর নতুন করে আবারো তৈরি করছে। ‘অসুর’ সৃষ্টি ও ধ্বংসের এই চক্রে নিয়মিত প্রাণ যাচ্ছে পৃথিবীর জনসাধারণের। এর কতটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব সেটা গবেষণার বিষয়, কিন্তু আমার দেশে কারা ব্রেইনওয়াশ করছে এবং কারা ব্রেইনওয়াশড হচ্ছে সেটার দিকে আমাদের তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র ক্রসফায়ার কিংবা সামরিক মোকাবেলার মাধ্যমে জঙ্গি দমন করা যাবে না, সামাজিক ও আদর্শিক দিক থেকেও তাদের মোকাবেলা করতে হবে।
?oh=eb99fce217f62ce23bbd2a0cbf74ac99&oe=58E83EEA” width=”500″ />

[বিঃদ্রঃ জঙ্গি দলগুলোর আদর্শিক দিক নিয়ে সুব্রত শুভ সহ আরো অনেকেরই অসাধারণ কিছু লেখা আছে। ঐটা তাই আলোচনার বাইরেই রাখলাম]

সূত্রঃ
১) বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের উত্থান: একটি পর্যালোচনা –বিজন সরকার
২) কথকতা – আলি রিয়াজ
৩) Why Youth join Al Qaeda – United States Institute of Peace
৪) টাইমলাইন – বাংলাদেশের জঙ্গি বিস্তার – সুব্রত শুভ
৫) ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইট
৬) জানতে হবে জঙ্গিবাদ কি? – আনিস রায়হান

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “প্রসঙ্গ জঙ্গিবাদ ও কিছু গোষ্ঠী

  1. এই লেখাটার বক্তব্য একান্ত
    এই লেখাটার বক্তব্য একান্ত আমার নিজস্ব মতামত; সেটা যে ১০০ ভাগ সত্যি হবে এমন কিছু না। আমার যেমন চিন্তায় যেমন ভুল থাকতে পারে তেমনি আপনারও এ প্রসঙ্গে দ্বিমত থাকতেই পারে। সবই স্বাভাবিক!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

40 + = 45