জন্মান্তরবাদ/পূনর্জন্মঃ দুইটি বিশেষ পাঠ

১.১ জন্মের আবর্তন কিংবা মৃত্যুর পর পুন:জন্ম বিষয়টি মূলত সনাতন ধর্ম সম্পর্কিত। অবশ্য কোরানের একাধিক আয়াতেও পুনর্জন্মের ইঙ্গিত আছে। যাহোক পুনর্জন্ম বিষয়টি তখনই প্রযোজ্য হবে যখন আমরা আত্মানামীয় অদৃশ্য অশরীরী শ্বাশত কোন সত্তাকে স্বীকার করব। বিজ্ঞান যদিও অদৃশ্য অইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অতিপারমনবিক কনাকে স্বীকার করে_যা গানিতিক ও পরীক্ষালব্দভাবে প্রমানিত। কিন্তু শরীর বিহীন অদৃশ্য আত্মা নামীয় কোন সত্তার অস্তিত্ব পরীক্ষাগারে এখনও প্রমানিত হয়নি। যদিও বিজ্ঞান চারমাত্রার স্কেলে সবকিছু পরিমাপ করে। আত্মা যদি বহু মাত্রিক( পঞ্চম কিংবা পঞ্চম+) সত্তা হয় তবে তাকে চতুর্মাত্রিক স্কেলে পরিমাপ করা সম্ভব নাও হতে পারে।

তবে পরোক্ষ কোন পদ্ধতিতে আত্মার অস্তিত্ব আছে কিনা সে বিষয়টি প্রমান করা সম্ভব হলে আমরা জন্মান্তরবাদের/পুনর্জন্মের বিষয়টি সামনে আনতে পারি।

প্রাকৃতিক নিদর্শনঃ

১) পৃথিবী সূর্যের চারিদকে প্রদক্ষিণ করে। ১লা জানুয়ারী থেকে যাত্রা শুরু করে এক বছর পরে ১লা জানুয়ারীতে পুনরায় যাত্রাবিন্দুতে পৌছে। এটি একটি চক্র_একটি আবর্তন।

২)ফুল>ফল>বীজ>চারাগাছ>বৃক্ষ>ফুল_এটি উদ্ভিদের জীবনক্র_একটি আবর্তন।

৩)পানি চক্র: সমুদ্রের পানি>জলীয় বাষ্প>মেঘ>পানি>নদীর/ঝরনার পানি> পুনরায় সমুদ্রের পানি_এটি পানির আবর্তন।

অনুরুুপে,
৪)অক্সিজেনচক্র……………………………..
৫)কার্বনচক্র…………………………………..
৬)নাইট্রোজেনচক্র…………………………..
ইত্যাদি, ইত্যাদি চক্রাকারে আবর্তিত হয়__ একই জিনিস বার বার ফিরে আসে।

বিজ্ঞান থেকে নিদর্শনঃ

শূন্য থেকে সব কিছু সৃষ্টি হয়েছে=>

১টি ইলেকট্রনের বিপরীতে ১টি পজিট্রন কনিকা।
১ একক পরা শক্তির জন্য ১ একক অপরা শক্তি
১টি কনিকার জন্য ১টি প্রতি কনিকা
১ একক মেটারের জন্য ১ একক এন্টি মেটার
১টি মহাবিশ্বের জন্য ১টি প্রতি মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়।

অতএব, ১টি জন্মের জন্য ১টি মৃত্যু
এবং ১টি মৃত্যুর জন্য ১টি জন্ম থাকবে।
এটাই প্রাকৃতিক ভারসাম্য।
আমি কে? আমিতো সদা পরিবর্তনশীল আমি।

আমি যদি শুধু দেহ হই তাহলেও দেহের মৃত্যুতে আর একটি জীবন্ত দেহ আসতে হবে_এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম।

আর আমি যদি আত্মা হই মৃত্যুর পরে থিওরী অব ব্যালান্স অনুসারে আমি তো আর একটি জীবন্ত দেহ ধারন করবই।
একই জীবন বা আত্মার আবর্তনের বিধি লঙ্গন মানে শক্তি ও ভরের নিত্যতা বিধির লঙ্গন_সার্বজনীন প্রাকৃতিক নিয়ম থিওরী অব ব্যালেন্স এর লঙ্গন।

আমি বলছিনা যে জন্মান্তরবাদ বা পুনর্জন্ম মতবাদটি অবশ্যই সঠিক। আমি শুধু বলতে চাই যারা জন্মান্তর্বাদে বিশ্বাসী তাদের বিশ্বাসেরও একটি যৌক্তিক ভিত্তি আছে।

১.২ আবার, প্রকৃতির কোন ঘটনা কিংবা ঘটনাপুঞ্জ একবার ঘটেনা, বার বার ঘটে। প্রতিটি ঘটনা বা ঘটনাপুুঞ্জ অন্য কোন বৃহত্তর ঘটনাপুঞ্জে কিংবা ঘটনাচক্রের অংশ। সদৃশ কিংবা বা অনুরুপ ঘটনার পরবর্তী ঘটনা সমূহ সদৃশ কিংবা অনুরুপ। কোন ঘটনাচক্রের যেকোন ঘটনা পরবর্তী ঘটনার কারন হিসেবে বিবেচিত হয় কারনের পরবর্তী ঘটনা কার্য হিসেব পরিগনিত হয়। জগতে সাদৃশ্যপূর্ন ঘটনা চক্র বার বার সংঘটিত হয় বলেই আমরা জগতকে বুঝতে/উপলব্দি করতে পারি।

জগত ঘটনা দিয়ে তৈরি। ঘটনা সমূহ যদি কোন পুঞ্জ বা চক্র গঠন না করে একক ভাবে থাকত তাহলে জগতকে বুঝা আমাদের পক্ষে সম্ভব হতনা এবং আমাদের সৃষ্টিও অসম্ভব ছিল।

মানুষ মরতে চায়না। সে চায় অনন্ত জীবন। আর এই অনন্ত জীবনের তীব্র আকাঙ্খা/বাসনা থেকেই সে পুনর্জন্মে বিশ্বাসী হয়ে পড়ে।

আমাদের জানা সবচেয়ে বৃহত্তম ঘটনাপুঞ্জ হবে আমাদেরই এ মহাবিশ্ব। আরোহ যুক্তি থেকে আমরা বলতে পারি আমাদের এ মহাবিশ্বও অন্যকোন বৃহত্তর চক্রের অংশ। বিগ ব্যাঙ>>> বিগ ক্রাঞ্চ>>>বিগ ব্যাঙ>>>
এই ভাবে সৃষ্টি ও ধ্বংসের পুন:পুন: চক্রায়য়ন চলছে, চলতেই থাকবে………
এই সৃষ্টি ও ধ্বংসের চক্রায়নে আমি পূর্বেও অসংখ্যবার জন্ম গ্রহন করেছিলাম, ভবিষ্যতেও অসংখ্যবার জন্ম গ্রহন করবো।

আমি শুধু দেহ ত্যাগ করি। আমার মৃত্যু নেই, আমি অমর, আমি অনন্ত, আমি অসীম। আমি ছিলাম, আমি আছি, আমি থাকবো_বার বার ফিরে আসবো এই বাংলায়।

যুক্তি ও কল্পনার পাখায় বহু দূর যাওয়া যায় কিন্তু উহাই বিজ্ঞান নয়। বিজ্ঞান মানে পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতায় প্রমানিত সত্য।

তবে এটিও সত্য সকল সত্যকে অভিজ্ঞতায় আনা সম্ভব নয়।

__Abu Momin
https://www.facebook.com/abu.momin.319

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 6 = 1