তোমাদের উপর আমাদের আর আস্থা নেই। আমাদের স্বাধীনতা দাও, নাহলে এক টুকরো মানচিত্র দাও!


-পাকিস্তান শাসনামলে প্রগতিশীল লেখক-বুদ্ধিজীবী হত্যা।
-স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ-চেতনার ধারক বাহক আওয়ামিলীগ শাসনামলে প্রগতিশীল ব্লগার-নাস্তিক হত্যা।


-পাকিস্তান শাসনামলেও সংখ্যালঘু হিন্দুরা মুসলমানের অত্যাচারে শয়ে শয়ে দেশ ত্যাগ করেছে। সেই সময় ৭১-এর আগে এদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ২১%।
-স্বাধীন বাংলাদেশে বাঙালী মুসুলমানদের শাসনামলেও হিন্দুরা গনহারে এখনো দেশ ত্যাগ করছে। এখন হিন্দুদের জনসংখ্যা ৭%। বোধকরি আমরা একদিন হিন্দুদের ইতিহাসের পাতা উল্টিয়ে খুঁজবো- একদা এদেশে হিন্দু ছিল, মুসলমানদের অসহনীয় নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তারা দেশত্যাগ করেছিল।


-পাকিস্তান আমলেও পাক শাসন দ্বারা আদিবাসীরা জোর জুলুমের শিকার হতো।
-স্বাধীন বাংলাদেশে ঠিক একি কায়দায় বাঙালী মুসলিম শাসক ও সেটেলার দ্বারা আদিবাসীরা জোর-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।


-পাকিস্তানের মুসলমান শাসকরা জাতিগত ভাষাগত সংস্কৃতিগত তফাতের কারনে সমগ্র বাঙালীদের উপর বৈষম্যমুলক শাসন ব্যবস্থা বজায় রেখেছিল। বাঙালী মুসলমানদের তারা মুসলামান বলে স্বীকারই করতে চাইতো না। এটা ছিল অধিকাংশ বাঙালী মুসলমানদের প্রতি পাকিস্তানি মুসলমান শাসকদের কট্টর সাম্প্রদায়িকতার দৃষ্টিভঙ্গি।
-স্বাধীন বাংলাদেশ ঠিক একি ভাবে বাঙালী মুসলিম শাসক ও মুসলমান জনগন দ্বারা সংখ্যালঘু হিন্দু-আদিবাসীদের বৈষম্যমুলক আচরন করা হচ্ছে। তা আমরা ইসলামিত্ব রাষ্টীয় নীতি ও তার প্রয়োগ দেখে বুঝতে পারি। এদেশ হিন্দু-বৌদ্ধদের প্রতি বছরে নিয়মমাফিক গোটা গোটা মুর্তি, মন্দির-আশ্রম-উপসনালয় ভাঙ্গা হলে ধর্মানুভূতি আহত হয়না। এতে রাষ্টীয় প্রশাসনও এর বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেন না। কিন্তু এদেশে আল্লা ইসলাম ও নবীকে নিয়ে সমালোচনার একটি শব্দ ব্যয় করলে, ইসলামিষ্টরা তাকে হত্যা করার জন্য তার পেছন ছুটে বেড়ায়। আর রাষ্টীয় প্রশাসনও সেই সমালোচনাকারীর বিরূদ্ধে কঠোর আইন ব্যবস্থা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে!

এবার একটি সমীকরণঃ উপরের উল্লেখিত লেখাটি কোনো কাল্পনিক গালগল্প নয়, যা বাস্তব দেখা তাই লিখেছি। এটা পড়ে আমরা কি বুঝলাম? দাঁড়ান আমার দৃষ্টিকোন থেকে বলছি, -আসলে মুসলমান মুসলমানই। হোক সেই আরব, আফগান, পাকিস্তান কিংবা বাঙালী মুসলমান। দেশ ভিন্ন হলে চরিত্র ও স্বভাবে তারা এক। তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তাদের স্বভাবই হল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশগুলোতে দুর্বল অমুসলিমকে বিধর্মী বলে কাফের বলে তাদের উপর নির্যাতন করা, তাদের বাড়ি-ঘর লুট করা, তাদের মেয়েদের যুদ্ধবন্দিনী স্টাইলে ভোগ করা। যা প্রথম থেকে শুরু করেছিলেন ১৪০০ বছর আগের ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক, আল্লাহর প্রিয় রসুল ও পেয়ারের নবী মুহম্মদ! যার ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার আদর্শই ছিল, ভীন ধর্মীদের মেরে কেটে হত্যা করে, বাড়ি-ঘর লুট করে, তাদের স্ত্রী মা বোনদের জোরপুর্বক রাতের শয্যাসঙ্গি বানিয়ে ধর্ষন করে, ধর্ষিতা যুদ্ধবন্দিনীদের ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসা। মুহম্মদ এভাবেই ইসলাম প্রতিষ্টা করতেন। বর্তমান সারা বিশ্বের অধিকাংশ মুসলমানরা মুহম্মদের ঘাতক ও চরিত্রহীন নীতিটাই বেশি অনুসরণ করে। আগে পাকিস্তানি মুসলমান শাসকের কাছে বাঙালী মুসলমানরা দুর্বল ছিল, তাই পাকিস্তানী মুসলমান শাসকরা বাঙালী মুসলিমের উপর স্বৈরাচার করেছে। আর এখন স্বাধীন বাংলাদেশের বাঙালী মুসলমানরা (ব্যক্তি অর্থে নয়, জাতি অর্থে বুঝাচ্ছি। যেমন- সংবিধানে বিছমিল্লাহি…. রাষ্টধর্ম ইসলাম, ব্লাসফেমী সম ৫৭ ধারা আইন।) স্বাধীন। কিন্তু সংখ্যালঘু হিন্দু, আধিবাসী, মুক্তচিন্তার নাস্তিক ব্লগার প্রগতিশীল লেখকরা মোটেও স্বাধীন নয় এদেশে। প্রকৃত অর্থে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর ৩০ লক্ষ শহীদের আত্নদান ও ২ লক্ষ ধর্ষিতা মা-বোনের আর্ত চিৎকারের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি শুধু বাঙালী মুসলমানদের স্বাধীনতা। কিন্তু হিন্দু আদিবাসী ও মুক্তচিন্তার প্রগতিশীল লেখকদের জন্য স্বাধীনতা আমরা পায়নি।

এই কথাগুলো পড়ার আগে একটু শক্ত হোন! একটু নড়েচড়ে বসুন! ঠুনকো ধর্মানুভূতির মতো দলানুভুতি, নেতা-নেত্রী অনুভূতি থাকলে কিন্তু এখানে চরমভাবে আঘাত পাওয়ার সম্ভবনা আছে। আচ্ছা আমরা কি এই স্বাধীনতা চেয়েছিলাম? ফের ইসলাম ও মুসলমান তোষনের রাষ্টনীতি দেখার জন্যই কি এদেশের ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিল? দুই লক্ষ মা বোন ধর্ষিত হয়েছিল? তাহলে এই মুক্তিযুদ্ধেরই বা কি দরকার ছিল? কি দরকার ছিল ৩০ শহীদের আত্নদান? দুলক্ষ মা-বোনদের ধর্ষিতা হবার কিইবা প্রয়োজন ছিল? আবার বাঙালী মুসলসমান শাসক ও মুসলমান জনগন দ্বারা একি ভাবে সংখ্যালঘু হিন্দু-আধিবাসী ও মুক্তমনের প্রগতিশীল লেখকরা হত্যা-নির্যাতনের শিকার হবার জন্য? পাকিস্তান শাসনামলের মতো এই যদি স্বাধীন বাংলাদেশের চিত্র হয়, তাহলে পাকিস্তানি শাসনামল কোন দিক দিয়ে খারাপ ছিল? স্বাধীনতার যুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু থেকে জিয়া, এরশাদ থেকে খালেদা-হাসিনা, সব শালারাই সাম্প্রদায়িক। সব শালাদের অন্তরে ছিল মুসলমানিত্বের গর্ববোধ! কেউই সাম্প্রদায়িকতার উর্ব্ধে উঠে অসাম্প্রদায়িক নীতি গ্রহন করেনি। বঙ্গবন্ধু মননে ছিলেন কঠোর সাম্প্রদায়িক! আমি একজন স্বাধীন মুসলিম দেশের নেতা! তাই আমাকে ওআইসি সম্মেলনে বিশ্বের মুসলিম নেতাদের সাথে যোগ দিতে হবে। তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে! তিনি ৩০ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ ধর্ষিতা মা-বোনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ঐ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে হাত মিলান। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই তো প্রথম সাম্প্রদায়িক বীজ বপন হয়েছিল। জিয়া এসে ইসলামিক-সাম্প্রদায়িক নীতি সংবিধানে গেঁথে দেন। এরশাদ তো খত্না করে পুরো রাষ্টকে রাষ্টধর্ম ইসলাম বানিয়ে দিল! খালেদা গোলাম আযমদের নাগরিকত্ব দেন। হাসিনা তো ইসলামকে আরো বেশি হেফাজত করার জন্য শফী হুজুরকে ৩২ কোটি টাকার জমি দান করে দেন। ইসলামকে রক্ষা করার জন্য ৫৭ ধারা আইন পাশ করেন। তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামকে রক্ষার জন্য ব্লগার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো প্রগতিশীল নাস্তিক ব্লগারদের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন। আসলে আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজন ছিল মহান অসাম্প্রদায়িক নেতা তাজ উদ্দিন আহমেদকে। বঙ্গবন্ধুর জায়গায় তাজ উদ্দিন হলে দেশটা মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার পথ ধরে হাঁটতো না। আমাদের কি দুর্ভাগ্য! বঙ্গবন্ধু তাজ উদ্দিনকে বুঝলো না, শেখ হাসিনা সোহেল তাজকে বুঝলো না।
অবশেষে বলি, আওয়ামিলীগের উপর আস্তা রেখে আর লাভ নাই। তারা অনেক আগেই নষ্ট-পতিত হয়ে গেছে। ১৩ সালের আগের আদর্শ তাদের মধ্যে এখন ছিঁটেফোটাও নেই। পুর্বের পাকিস্তান শাসনামল আর বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী আওয়ামিলীগের শাসনে তেমন একটা অমিল খুঁজে পাচ্ছিনা। কি বিএনপি, কি আওয়ামিলীগ, কি জাতীয়পার্টি, ৩০ লক্ষ শহীদের আত্নদান ও কয়েক লক্ষ বীরাঙ্গনাদের আর্ত চিৎকারের কথা কেউ রাখেনি। শহীদদের মৃত লাশের উপর দাঁড়িয়ে তাদের তাজা রক্তে কেনা স্বাধীনতার মুলনীতিটির সাথে তারা সবাই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ঐ যে বললাম মুসলমান মুসলমানই। এদেশে দিনশেষে সবাই মুসলমান! দলিত-নিপীড়িত, হিন্দু-আদিবাসী ও মুক্তচিন্তাবিদদের পক্ষ হয়ে সেইসব পাকস্তানি শাসকের মতো বাঙালী মুসলমান শাসকদের চোখে চোখ রেখে, মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে আমার খুব বলতে ইচ্ছে করছে, -তোমাদের উপর আমাদের আর আস্থা নেই। আমাদের স্বাধীনতা দাও, নাহলে এক টুকরো মানচিত্র দাও!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “তোমাদের উপর আমাদের আর আস্থা নেই। আমাদের স্বাধীনতা দাও, নাহলে এক টুকরো মানচিত্র দাও!

  1. While I agree with some
    While I agree with some points in general ( like reduction in the percentage of minorities), but I have some doubt regarding the general picture you have depicted in Bangladesh about the condition of minorities. Please rfer the link: “www.youtube.com/watch?v=bhTHb3gH44U”
    The speaker here depicts a different picture.

    I personally believe that a strong humanist secular open minded civil force is still present in Bangladesh. There are so many blogging platform where anti establishment voice is being raised. Instead of voicing for seperatism, I think the correct action should be strengthening that force. Bangladesh is not just for people living in Bangladesh, but also for people who sing in Bengali, sob, laugh, cry dream in Bengali.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 1