পতিতা ও পতিতালয় -১

শহরে ছেলেটি নতুন নয়, সে জন্মলগ্ন হতে সমুদ্রের পাড় ঘেষা শহরে বেড়ে উঠেছে। শহরটি হলো কক্সবাজার। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত । এইখানেই তার শৈশব কেটেছে এবং কি কিশোর বয়সের দূরন্ত সময়টা। ছেলেটির নামই তো বলা হলো না! তার নাম হচ্ছে জাহেদ (ছদ্মনাম)। তার বেড়ে উঠার মধ্য দিয়েই সে সহজে জানতে পারলো এই শহরে টাকা ওয়ালারা ভ্রমণে আসে, সে জানতে পারে এই শহরে বড় বড় কর্পোরেট ব্যাক্তিরা ভ্রমণে আসে। সে ছোট থেকেই দেখছিলো পূজিবাদী সমাজের বিলাশ বহুল হোটেল-মোটেল জোন, গেষ্ট হাউজ, রেষ্ট হাউজ, নাইট ক্লাব ও বিদেশী মদের বার তার আশে পাশেই অবস্থিত।

জাহেদের বয়স তখন ১৩-১৪, বুঝতে পারছেন ছেলেটি আদৌ বোঝার বোধ হয়েছে কিনা, এমন একটি শহরে বড় হয়েছে জাহেদ যে শহরে ইয়াবা বিক্রি করে কোটিপতি হয়েছেও নজিরস্বরূপ প্রমাণ আছে! সে কথা বাদ দেই চলুন গল্পে আসি……..

জাহেদ তখন ৭ম শ্রেণীতে পড়তো, খুবই চালাক ও চিন্তাশীল টাইপের ছেলে ছিলো। কিন্তু হত-দরিদ্র মানুষের প্রতি তার মানবিক দৃষ্টিকোণ ছিলো দূর্বল, কারণ সে বড় লোকের ছেলে নয় একটা নিম্ন পরিবারের ছেলে, যে পরিবারে পান্তা আনতে লবণ ফুরিয়ে যেত। তাদের নিজেস্ব কোন জায়গা সম্পত্তিও ছিলো না, ছিলো না গ্রামের বাড়িতে মাথা গোজার ঠাই। জাহেদ বুঝতো অভাব কি জিনিস। তাই দরিদ্র মানুষ ও পথ শিশুদের প্রতি তার ছিলো অপ্রতিরোধ্য ভালোবাসা।

৭ম শ্রেণীতে অধ্যায়নকালীন লেখাপড়ার পাশা পাশি জাহেদ একটি স্থানীয় লোকাল পত্রিকার অফিস সহকারীর কাজ করতো, ছোট বেলায় আরো বেশি পরিশ্রমী ছিলো যখন বয়স ৯-১০! তাদের পাড়ায় ছিলো প্লাষ্টিক ফ্যাক্টরি সেখানেও জাহেদ স্কুলে পড়ার পাশাপাশি সেখানে বেতনধারী কাজ করতো। জাহেদ ছিলো একটু বুদ্ধিমান ও পটু। লেখাপড়ায়ও বেশ ভালো রেজাল্ট করতো। স্কুলের প্রত্যেকটা শিক্ষক তাকে ভালোবাসতো।

রিয়াদ নামের এক বন্ধু ছিলো জাহেদের প্রাইমারী স্কুলেও একসাথে পড়েছে। রিয়াদের সাথে খুব নিবিড় ঘনিষ্ঠতা ছিলো তার। রিয়াদের বাবার একটি ছোট দোকান ছিলো শহরের বুকের উপর প্রধান সড়কে, পাবলিক লাইব্রেরীর দেয়াল ঘেসে যেটাকে এখন ( শহিদ দৌলত ময়দান) নামকরন করা হয়েছে।

জাহেদ প্রতিদিন স্কুল ছুটি হলে রিয়াদের সাথে তার বাবার দোকানে যেতো, রিয়াদ দোকানে গেলেই তার বাবা বাসায় চলে যেত পরবর্তী বেচা-কেনা রিয়াদ করতো। রিয়াদের বাবার বয়স হয়েছিলো, তাই রিয়াদ তার বাবাকে ব্যাবসায়ীক কাজে হেল্প করে সংসার চালানোর দায়িত্বটা পালন করে বাবাকে সহযোগীতা করতো । রিয়াদও ছিলো ৭ম শ্রেণীর ছাত্র এবং পড়ালেখায় একটু কাচা ছিলো, কিন্তু টাকার হিসাবে নিকাশে দুরন্ত।

একদিন জাহেদ ও রিয়াদ তাদের দোকানে বসে দুই বন্ধু আড্ডা দিচ্ছিলো, হঠাৎ হিজাব পড়া এক মহিলা ওদের দোকানের সামনে এসে তার মুখ থেকে নেকাব সরিয়ে পানের ফিক ফেলে রিয়াদের দিকে তাকিয়ে, রিয়াদকে উদ্দেশ্যে করে বলছিলো- কিরে তোর বাবা কোথায় বুইড়া শালায়?

রিয়াদ- আব্বা তো অনেক্ষন হয়েছে বাসায় গেছে, কেন গো দিদি?

হিজাবী নারী- তোর জানার প্রয়োজন নাই, তুই তোর বাবাকে বলবি আমি আসছিলাম।

রিয়াদ মাথা ঝোকে বলে , হুম বলবো।

তখন জাহেদের প্রচন্ড রাগ হলো রিয়াদের বাবাকে বুইড়া বলায়, তারপরেও জাহেদ নিজেকে কন্ট্রেল করলো। নারী মানুষ কিছু বললে প্যাচালের শেষ হবে না।

ঐ হিজাবী মহিলাটি এতোক্ষনে চলে গেছে, অনেক্ষন দাড়িয়ে দাড়িয়ে মূখের ভেতর পান চিবাচ্ছিল আর পথের লোকদের কে টিটকারী এবং বিভিন্ন অঙ্গি ভঙ্গিমা দেখাচ্ছিলো।

মহিলাটি সেখান থেকে সরে যাওয়ার পর, জাহেদ রিয়াদকে প্রশ্ন করলো-

জাহেদ- এই হিজাব পড়া ভদ্র মহিলাটা কে? এইভাবে অভদ্রের মত আচরন করছিলো কেন?

রিয়াদ একটু হেসেই বলছিলো- দোস্ত এইসব মহিলা ভালো না খুব বাজে মহিলা।

জাহেদ- কি বাজে বলছিস, একজন পর্দানশীন নারী কিভাবে খারাপ হয়?

রিয়াদ- তোরে বুঝাইতে পারলাম না বোকা, ওরা মাগী (বেশ্যা)!

জাহেদ- কি বলছিস, কি রকম খারাপ আর মাগীরা (বেশ্যারা) কি করে?

রিয়াদ- ওরা, দেহ ব্যাবসা করে পর পুরুষদের সাথে যৌনমিলন করে! ওরা খুব খারাপ।

জাহেদ- হুম দোস্ত, তারা কেন এইসব খারাপ কাজ করছে?
রিয়াদ বিরক্ত হয় বললো- টাকার জন্য, টাকার জন্য ওরা পর পুরুষের সাথে শুতে যায়!

জাহেদ বিস্মিত হয়ে, চুপ হয়ে গেলো।

জাহেদ আর প্রশ্ন করলো না, রিয়াদদের দোকান থেকে ফিরে বাসায় এসে সে কেমন যেন মহিলাটি কে নিয়ে বাজে কল্পনা করছে আবার চিন্তা করছে কেন তারা এই নিকৃষ্ট পথে আসলো? সেই সব চিন্তা ও প্রশ্ন জাহেদের মনকে আরো কৌতুহলী করে তুলছিলো…….

পরবর্তী পর্বে জাহেদ কিভাবে পতিতাদের পতিতালয়ে গেল তার বর্ণনা লেখার চেষ্টা করবো।

চলবে

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “পতিতা ও পতিতালয় -১

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 1 = 3