সাজেকে সেনাবাহিনীর কৃত্রিম দূর্ভিক্ষ সৃষ্টির পায়তারা

১.সাজেকের উজো বাজারকে ঘিরে শুরু হয়েছে সেনাবাহিনীর নতুন নীলনকশা।বাজারটি বন্ধ করতে নানা হীন তৎপরতা চালাচ্ছে।বাজারের পেছনের গল্পটা জানা যাক!

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নং সাজেক ইউনিয়নের(বর্তমানে সাজেক থানা) অন্যতম এলাকা বাঘাইহাট।আগে এখানে সেটলার বাঙ্গালির কোন বসবাস ছিলো না।২০০৬ সালে ৩২ টি সেটলার পরিবারকে পুশ করার মাধ্যমে শুরু হয় দ্বন্ধ। এর পরে বাঘাইহাটের চেহারা দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে।বছর দুই যেতে না যেতেই ২০০৮ সালের ২০ এপ্রিল সাজেকের চারটি গ্রামে সেনা সেটলারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এবং ৭৭ টি বসতবাড়ি,১টি গীর্জা, ২টি ইউনিসেফ পরিচালিত পাড়া কেন্দ্র পুড়িয়ে দেয়।এর কয়েকমাস পর আবার হামলা চালিয়ে লাদুমনি চাকমাকে খুন করা হয়।
যার নেতৃত্বে ছিল খোদ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল সাজিদ ইমতিয়াজ,মেজর হাফিজ ও বাঘাইহাট বাজারের ব্যবসায়ী গোলাম মওলা।
বাঘাইহাটকে কন্ট্রোল পয়েন্ট মনে করে সেনাবাহিনী, ফলে তারা চায় না সেখানে পাহাড়িরা থাকুক,যার ফলে তারা বার বার সাম্প্রদায়িক হামলা চালায়।২০০৮ সালের ঘটনার পর অনেকগুলো পাহাড়ি পরিবার চলে যায় এবং তাদের জায়গা জমি সেটলার বাঙ্গালিরা বেদখল করে নেয়।সেনারা আরো জোরদারভাবে মাঠে নামে তাদের হীন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য।

২০১০ সালের ১৯-২০ ফেব্রুয়ারি এ দুইদিন ধরে সেনা সেটলাররা হামলা, লুটপাট চালায় পাহাড়িদের গ্রামগুলোতে।বৌদ্ধ মন্দির সহ পাঁচশতাধিক ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছাই করিয়ে দেওয়া হয়।সেটলারদের ব্যাকআপ দিতে গিয়ে নিরস্ত্র পাহাড়ি জনগণের উপর গুলি চালিয়েছিল সেনারা এবং এতে লক্ষী বিজয় চাকমা (৩৫) ও বুদ্ধপতি চাকমা (৩০) নিহত হন ও অনেকে আহত হয়েছিল।এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় তখন খাগড়াছড়ি সদরেও সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো হয়েছিল।

ঘটনার প্রতিবাদসরূপ পাহাড়িরা ২০০৮ সাল হতে বাঘাইহাট বাজার বর্জন করে আসছে।এবং উক্ত ঘটনার যথাযথ বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে।বিকল্প হিসেবে ২০১০ সালে সাজেকের গঙ্গারাম এলাকায় গড়ে তোলা হয় “উজোবাজার।যা আজ অবদি চলছে।ইদানিং সেনাবাহিনী এ বাজারকে বন্ধ করে দেয়ার পায়তারা চালাচ্ছে।তারা বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীদের বাজারে যেতে বাধা প্রদান করছে,মালামাল নিতে দিচ্ছে না।বাঘাইহাট বাজার চালু করতে স্থানীয় দালালদের কাজে লাগিয়ে পাহাড়িদের উপর চাপ প্রয়োগ করছে এবং নানা প্রলোভন দেখাচ্ছে।কিন্তু অদম্য ও প্রতিবাদী পাহাড়িরা তাতে নত হয় নি,বরং ঘৃণা ভরে তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

২.গত সোমবার ২৬ ডিসেম্বর সাজেকের “উজোবাজার” এ ছিল হাটবার,কিন্তু
সেনাবাহিনীর
বাধার কারণে বাজার বসেনি!!

সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনে নিয়োজিত ৪ বেঙ্গলের কমান্ডিং অফিসার আলী হায়দার সিদ্দিকীর কড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে মাচালং ও উজোবাজার থেকে কোন মালামাল বাইরে নিতে পারেনি ব্যবসায়ীরা।বাইরে থেকেও কোন ব্যবসায়ীকে যেতে দেওয়া হয়নি।ফলে কাচামালগুলো পঁচে যাচ্ছে,নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব দেখা দিয়েছে।সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি করে কৃত্রিম দুর্ভিক্ষের সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে পাক হানাদারদের উত্তরসুরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

অবিলম্বে সেনাবাহিনীর এহেন নীতিবিরোধী,গণ বিরোধী কর্মকান্ড থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। না হয় জনগণ এসব কখনো বরদাশত করবে না।
এসব দেশের মূল মিডিয়ায় হয়তো জায়গা পাবেনা,কিন্তু সেনাবাহিনীর এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে রুঁখে দাঁড়াতে হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 1