শূন্যঃ শূন্য, শূন্যতা, পূর্নতা, শূন্যানুভূতি, আপেক্ষিকতা ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

শূন্য কি?

=>শূন্য হলো কিছুইনা, অস্তিত্বহীনতা, অবাস্তবতা যা কোন নির্দিষ্ট মাত্রিক দেশ-কালিক মানদন্ডে বিচার্য্য।
গানিতিক অর্থে শূন্য হলো +১ ও -১ এই সংখ্যার মধ্যবর্তী সংখ্যা যা অঋণাত্বক, অধনাত্মক, নিরপেক্ষ, মূলদ, পূর্ন, জোড়, অমৌলিক এক রহস্যময় সংখ্যা।
শূন্য হলো দুটি সমমানের ধনাত্মক ও ঋনাত্মক সংখ্যার যোগফল কিংবা সমষ্টি।
শূন্য হলো নেগেটিভ-পজিটিভে পূর্ন।

=>বিভিন্ন অর্থে শূন্য ও শূন্যতা ব্যবহার্য্যঃ

♦১) অস্তিত্বঃ গ্লাসটিতে পানি নেই_গ্লাসটি পানি শূন্য। বাল্বটিতে বায়ু নেই_বাল্বটি বায়ু শূন্য। ঘরটিতে কেউ নেই_ঘরটি মানব শূন্য।

♦২) নিরপেক্ষঃ জায়মান হাইড্রোজেন(H+) ও জায়মান অক্সিজেন(O-) এর সংযোগে পানি(H2O). এখানে পানি চার্জ নিরপেক্ষ। অনুরূপে, অতি পারমানবিক নিউট্রন কনিকা চার্জ শূন্য কিংবা চার্জ নিরপেক্ষ। এখানে শূন্যতা মানে নিরপেক্ষতা।

♦৩) গনিতঃ (+১)+(-১)=০, (+২)+(-২)=০, (+৩)+(-৩)=০………., (+n)+(-n)=0.

♦৪) বিজ্ঞানঃ
১টি ইলেকট্রন +১টি পজিট্রন=০
১টি নিউট্রন+১টি এন্টি নিউট্রন=০
১টি প্রোটন+১টি এন্টি প্রোটন=০
১ একক মেটার+ ১ একক এন্টি মেটার=০
১টি মহাবিশ্ব+১টি প্রতি মহাবিশ্ব=০
১একক ভর-শক্তি+১ একক মহাকর্ষ বল শক্তি=০. ইত্যাদি, ইত্যাদি
=> মহাবিশ্বের মোট শক্তি, মোট চার্জ, মোট স্পিন সবই শূন্য।

♦৫) ধর্মঃ ঈশ্বর(+) + ইবলিশ শয়তান(-)=০
সুর(+)+অসুর(-)=০
শুভশক্তি+অশুভশক্তি=০
♦৬) দর্শনঃ
জগতের প্রতিটি সত্তা শর্তযুক্ত ও আপেক্ষিক; অতএব, শূন্য_শূন্যবাদ( বুদ্ধ দর্শন)।
জগতের সবকিছুই মায়া! মায়া! মায়া!_শূন্য (শঙ্করাচার্যের মায়াবাদ)।

=>সুখ(+)+দুঃখ(-)=সুখ-দুঃখ নিরপেক্ষ অনুভূতি=শূন্যানুভূতি।

সুখ+ দুঃখ=>শূন্যানুভূতি

১.১ পদার্থ বিজ্ঞান হতে, “প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে”/”Every action there is an equal & opposite reaction.”

১.২ অনুরূপে মানবিক বিদ্যায়, প্রত্যেক সুখানুভূতির সমান ও বিপরীত দুঃখানুভূতি ক্রিয়াশীল হয় যদি এবং কেবল যদি সুখ এবং দুঃখ বস্তুগত চাহিদার অভাব জনিত কারনে সৃষ্টি হয়।

১.৩ বস্তুগত সম্পত্তির অসম বন্টন সমপরিমান সুখের বিপরীতে সম পরিমান দুঃখের কারন ঘটায় যদি বস্তুগত চাহিদাটি দুষ্প্রাপ্য কিংবা সীমিত হয়।

১.৪ সুখ যদি পজিটিভ হয় দুঃখ নেগেটিভ। জগতে এক একক সুঃখের বিপরীতে এক একক দুঃখের উদ্ভব ঘটবেই।

১.৫ আপনি বাজারের সকল ইলিশ মাছ ক্রয় করে আপনার মনে একাই যদি সুখের স্পন্দন ঘটান বিপরীতে দুষ্প্রাপ্যতার কারনে যে বা যারা ইলিশ মাছ ক্রয় করতে সক্ষম হবেনা সে বা তাদের মনে সমপরিমান দুঃখের স্পন্দন ঘটবেই। আপনার অধিক সুখ অন্যের অধিক দুঃখের কারন ঘটাবেই।

১.৬ মানুষের চাহিদা দুই প্রকার :
১) বস্তুগত চাহিদা_ধন-সম্পত্তি-গাড়ি-বাড়ী ইত্যাদি।
২) অবস্তগত চাহিদা_প্রেম-ভালোবাসা-আদর-স্নেহ-মায়া-মমতা-সম্মান-শ্রদ্ধা ইত্যাদি।
অবস্তুগত চাহিদা আবার দুই প্রকার:
১) মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা_প্রেম-ভালোবাসা ইত্যাদি।
২) আধ্যাত্মিক চাহিদা_ঈশ্বর, শূন্য, অসীম এর প্রতি প্রেম-ভালোবাসা-আগ্রহ-অনুরাগ কিংবা জ্ঞানার্জনের চাহিদা।

১.৭ বস্তুগত সম্পদ সীমিত বিধায় উহার অসম বন্টনই দুঃখের মূল কারন। মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদাও বস্তুগত চাহিদা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বলে উহাও দুঃখের কারন ঘটায়।

১.৮ একমাত্র আধ্যাত্বিক চাহিদাই অন্যের দুঃখের কারন ঘটায়না। আধ্যাত্বিক চাহিদার পূর্নতায় মানব মনে শূন্যানুভূতির সৃষ্টি হয় যা সুখ-দুঃখ নিরপেক্ষ বিশেষ আনন্দানুভূতি।

♦৭) ধর্ম-দর্শন-আধ্যাত্মিকতাঃ
ধ্যান(meditation) /Spiritual practice => শূন্যানুভূতি=>নির্বান/যোগ-সমাধি/ফানাফিল্লাহ-বাকাবিল্লাহ।

♦৮)কোয়ান্টাম ভ্যাকুয়াম কিংবা কোয়ান্টাম শূন্যতাঃ

আমরা যাকে শূন্য বলি,
সে তো শূন্য নয়।
সে তো দেশ-কালময়।
দেশ নেই, কাল নেই
শুধুই শূন্যময়।
সে তো পজিটিভ-নেগেটিভময়।

মহাবিশ্ব শূন্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে। শূন্যময় কোয়ান্টাম ঘটনা থেকে জগতের সকল শক্তির সৃষ্টি। এক একক পজিটিভ(পরাশক্তি) ভরশক্তির বিপরীতে এক একক নেগেটিভ(অপরাশক্তি) মহাকর্ষ বল কিংবা ক্ষেত্রেরর সৃষ্টি। কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তার নিয়মে কোয়ান্টাম ভ্যাকুয়াম থেকে কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সকল শক্তির সৃৃষ্টি। মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমান শূণ্য। পজিটিভ ভরশক্তির বিপরীতে সম পরিমান নেগেটিভ মহাকর্ষ বল বা ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয় যার লব্ধি শূন্য।

১.১ মহাবিশ্ব কিংবা মহাজগতের কোথাও পরম শূন্যতা নেই।

১.২ আমরা শূন্য বলতে যা বুঝি তা শূন্য নয়। যেখানে কিছু নেই সেখানেও কিছু আছে এবং তা কোয়ান্টাম ভ্যাকুয়াম।

১.৩ কোয়ান্টাম শূন্যতা এমন এক শূন্যতা যেখানে সেকেন্ডের অসীম ক্ষুূদ্র ভগ্নাংশ সময়ে চলছে জোড়ায় জোড়ায় ভরহীন কাল্পনিক পরা ও অপরা কনিকার সৃষ্টি ও ধ্বংসের খেলা। এবং ইহা সংঘটিত হচ্ছে কাল্পনিক দেশ-কালে এবং কাল্পনিক মহাকর্ষ ক্ষেত্রে।

১.৪ কাল্পনিক(virtual) পরা-অপরা কণা, কাল্পনিক দেশ-কাল এবং কাল্পনিক মহাকর্ষ ক্ষেত্র এই নিয়ে কোয়ান্টাম গ্রাভিটি ফিল্ড যাতে অনিশ্চয়তার নিয়ম ক্রিয়শীল।

১.৫ অনিশ্চয়তা নিয়মেই কাল্পনিক কিংবা অবাস্তবতা থেকেই বাস্তবতার সৃষ্টি। বিমূর্ততাই মূর্ততার উৎস!

১.৬ বাস্তবতা ও অবাস্তবতা একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।

১.৭ বাস্তবতা ও অবাস্তবতা কিংবা অস্তিত্ব ও অনিস্তিত্বের যোগফলই আমাদের এই জগত!

১.৮ মনে হয় ইহাই সঠিক যে, শূন্য জ্যামিতি থেকেই জগতে সৃষ্টি ধ্বংসের খেলা চলছে এবং এই খেলা চলবে অনন্ত কাল কিংবা কালহীনতায়!

মহাবিশ্ব সৃষ্টির জন্য ঈশ্বরের কোন কাঁচামালের দরকার হয়নি। এ পর্যন্ত গানিতিক ক্যালকুলেশনে ১০^৫০০টি( দশের উপরে ৫০০ শক্তি=পাশাপাশি ৫০০টি ১০ গুন করলে যে সংখ্যা) মহাবিশ্বের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে যা সম্পূর্ন শূন্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে!

♦৯)অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের ব্যকরণঃ

১.১ সকল বস্তু ও অবস্তুর বিপরীত সত্তার অস্তিত্ব বিদ্যমান। সকল বস্তু ও অবস্তুর সদৃশ সত্তার অস্তিত্বও বিদ্যমান।

১.২ তদ্রূপ, সকল চিন্তা ও ভাবের বিপরীত চিন্তা ও ভাবের অস্তিত্ব বিদ্যমান। অনুরূপভাবে, সদৃশ চিন্তা ও ভাবের অস্তিত্বও বিদ্যমান।

১.৩ বস্তুগত ও অবস্তুগত কিংবা ভাবগত সকল সত্তার অস্তিত্বই শূন্য মাত্রিক সত্তা থেকেই সৃষ্টি।

১.৪ দেশ-কালের ভিন্ন ভিন্ন মাত্রাই সত্তার অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের নির্ধারক ও নির্নায়ক।

♦১০. সৃষ্টিতত্ত্ব

কেউ আমার ব্যাপারে নিরব থাকল তারমানে এই নয় যে, সে আমাকে অবহেলা করল। অনেক সময় একজনের নিরব উপস্থিতিই পজিটিভ কিছু বয়ে আনতে পারে। এখানে নিরবতায় সরবতা।
তুমি আমাকে উপেক্ষা করবে তা কিরে হয়?

জগতের প্রতিটি অনু-পরমানু সে তো একসেলেই ছিল। সেই একই বিন্দুতে কেন্দ্রিভূত ছিল। তোমার-আমার শরীরের অনু-পরমানুতো একই ওয়েভ ফাংশনের এক অদৃশ্য সূতায় আবদ্ধ। সেই সূতার টান তুমি কি করে অস্বীকার করতে পার?
তোমার নিরবতা তো নিরারবতা নয়, সেতো সরবতার প্রস্তুতি।

তুমি-আমি উভয়ইতো মহাজাগতির মোসাফির। অসীমের পানে ছুটেছি আমরা কোন সে উদ্ধেশ্যে? আমরা কি অসীমকে খোঁজে পাব?

অসীম তো অসীমে নয়, সেতো অন্তরে,অন্তরে। সে তো শূন্য। শূন্যতো শূন্য নয়। সে তো পূর্ন। ইতি-নেতিতে পূর্ন। তুমি নেতি হলে আমি ইতি। তোমার-আমার মিলনে সৃষ্টি হবে আর এক নোতন ইতি কিংবা নেতি। ইহাই সৃষ্টিতত্ত্ব_ইহাই পূর্নতত্ত্ব।

♦১১.
আপেক্ষিকতাঃ

কোনটিই খাঁটি নয়!
কোনটিই ভেজাল নয়!!
কোনটিই ভুল নয়!
কোনটিই সঠিক নয়!!
সবকিছু ঘটে যাওয়া ঘটনা!
করি মোরা শূন্যের সাধনা!!

সময়ের সিদ্ধান্ত সময়ে নেয়!
যা সঠিক, তাই বেঠিক!!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 2 =