ইসলামধর্মের বারোটা বাজানোর জন্য সৌদিআরবের রাজপরিবার তথা সরকারই যথেষ্ট

ইসলামধর্মের বারোটা বাজানোর জন্য সৌদিআরবের রাজপরিবার তথা সরকারই যথেষ্ট
সাইয়িদ রফিকুল হক

মানুষের লজ্জাশরম আছে, থাকে, আর থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। আর মানুষ হওয়ার জন্য ন্যূনতম লজ্জাশরম থাকাটা খুবই জরুরি। শুনেছি, দেখেছি, অনেক পশুপাখিরও লজ্জাশরম থাকে। আর এরাও অনেক সময় মানুষের মতো মানবিক আর বিবেকবান হয়। কিন্তু মানুষ যদি সম্পূর্ণ পশুর মতো আচরণপ্রকাশ করে—তবে তাকে ‘মানুষ’ না বলে আর কী বলা যায়? নিশ্চয়ই তাকে পশু বলে পশুসমাজের অপমান করাটা ঠিক নয়। এই শ্রেণীর অমানুষগুলো পশুর চেয়েও অতিশয় নিকৃষ্ট ও ধিকৃত। আর তাই, এই ধিকৃত-শয়তানগুলোই যদি নিজেদের ধার্মিক বা মুসলমান বলে জনসমাজে বা এই পৃথিবীতে ধর্মপ্রচার ও এর প্রসার করতে থাকে—তবে তাকে কী বলে অভিহিত করা যায়? জানি, এই প্রশ্নের জবাব দিতে যেকোনো বিবেকবান মানুষেরই লজ্জা লাগবে। বর্তমান-বিশ্বে আজকাল এই শ্রেণীর পশুদের সংখ্যাই ক্রমাগত বাড়ছে।

এশিয়ার অন্যতম একটি দেশ সৌদিআরব। নানাকারণে দেশটি মানুষের কাছে পরিচিত। বিশেষতঃ মুসলমানদের কাছে এটি সুপরিচিত। কারণ, এখানকার মক্কা-নগরীতে রয়েছে মুসলমানদের কিবলা: কাবাঘর। আরও আছে এখানকারই মদীনা-নগরীতে ইসলামধর্মের প্রবর্তক হজরত মোহাম্মদ সা.-এর পবিত্র রওজাশরীফ। তা সত্ত্বেও সৌদিআরবে ইসলামের নামে কয়েক শ’ বছর যাবৎ বীভৎস অনাচার ও ব্যভিচার চলছে। এককথায় এ-কে ‘ব্যভিচার-উৎসব’ বলা যায়। আর সৌদিআরবের সমস্ত পাপ ও ব্যভিচারের মূলে রয়েছে বর্তমান-ক্ষমতাসীন-রাজপরিবার। এরা প্রত্যেকেই কম-বেশি সমস্ত অপকর্মে পারদর্শী। আর এদের মতো নির্লজ্জ-নরপশু এই পৃথিবীতে কমই আছে।

সৌদিরাজপরিবার ব্যভিচারের জন্য সারা পৃথিবীতে নিন্দিত ও নন্দিত! যারা ইসলাম বলতে সৌদিআরবকে বোঝে তারা সৌদিরাজপরিবারের সমস্ত অপকর্মকে জায়েজ ও হালাল বলে মনে করে থাকে। আর তারা সবসময় এও মনে করে থাকে যে, সৌদিরাজপরিবার যা করছে তা ইসলামসম্মত ও তারা ইসলামের স্বার্থেই সবকিছু করছে। তাই, মুসলমান-নামধারী এই পশু-শ্রেণীটি সৌদিরাজপরিবারের এহেন যাবতীয় শয়তানী ও অপকর্ম স্বচক্ষে দেখা সত্ত্বেও আজীবন-আমৃত্যু এদের প্রতি অবিচল-আস্থায় সদাসর্বদা আনুগত্যপ্রকাশ করে থাকে। আর এটাই বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশের মুসলমান-নামধারীদের ধর্মপ্রেম। এরা ইসলামধর্মকে ভালোবাসে না। এরা কায়মনোবাক্যে সবসময় ভালোবাসে শুধু সৌদিআরবকে।

সৌদিসরকার তথা সৌদিরাজপরিবার আজ পর্যন্ত ইসলামের জন্য বা ইসলামের স্বার্থে কিছুই করেনি। বরং তারা ইসলামধর্মকে সবখানে ব্যবহার করে নিজেদের পাপতাপ ধামাচাপা দিয়ে আত্মস্বার্থের ভোগবিলাসের বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। মূলত তারা ধর্ম মানে শুধু ভোগবিলাসিতার জন্য। আর এগুলো তাদের মুখের বুলি মাত্র। আর তারা প্রতিনিয়ত ধর্মঅবমাননার অভিযোগে অহেতুক তাদের দেশে আগত বিভিন্ন দেশের সাধারণ খেটে-খাওয়া-মানুষদের (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ইত্যাদি দেশের মুসলিম-নাগরিকদের) শিরোচ্ছেদ করে থাকে। আরে, সৌদিআরবে যদি কাউকে শিরোচ্ছেদ করতেই হয়—আর যদি কাউকে শরীয়াআইনে শাস্তি দিতেই হয়—তাহলে, সবার আগে শিরোচ্ছেদ করতে হবে সৌদিআরবের রাজপরিবারের সকল পুরুষ-সদস্যকে। কারণ, এদের পাপের কোনো সীমারেখা নাই। আর এই ভূপৃষ্ঠে এদের মতো নির্লজ্জ আর আর অসভ্য পাপী আর-কোথাও নাই। এদের মতো ‘নারীপাগল’ আর ‘ব্যভিচারপ্রিয়’ অমানুষ পৃথিবীর আর-কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর এদের মতো অমানুষের পুরাপুরি পাপের কথা কেউ শুনলে সে লজ্জায় হার্টফেল করতে পারে। হ্যাঁ, তা-ই। আর এগুলো কোনো গল্প বা কিসসাকাহিনী নয়। এগুলো বাস্তব ঘটনা। আর এসব সৌদিরাজপরিবারের দীর্ঘদিনের পাপের ইতিহাস। এদের পাপের ইতিহাস এতো বেশি যে, তা শুনলে পৃথিবীর যেকোনো ‘সভ্য-মানুষ’ হঠাৎ মূর্ছা যেতে পারে।

কিছুদিন আগে সৌদিরাজপরিবারের অনুমোদনক্রমে সে-দেশের রাজসরকার বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশ থেকে ‘নারীশ্রমিক’ নেওয়ার কথা বলে। আর তারা এই নারীশ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে সমস্ত শর্ত শিথিল করে দেয়। এদের জন্য একটা ‘নামমাত্র-ফি’ নেওয়ার কথা বলা হয়। আর তাদের জন্য ‘ফ্রি-ভিসা’র ব্যবস্থাও করা হবে বলে প্রচার করা হয়। এক্ষেত্রে, নারীশ্রমিকদের বয়সনির্ধারণ করা হয়: ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। অবশ্য এরচেয়ে কমবয়সীরাও যেতে চাইলে তারা সেখানে যেতে পারবে। আশা করি কারও বুঝতে অসুবিধা নাই। বয়সটা ২৫-৩৫ বছর! শকুনের দৃষ্টি বটে। নামকরা-কুখ্যাত লম্পট ছাড়া এমন ভাবনা আর-কারও মাথায় আসার কথাও নয়। এই ঘোষণা শুনে আমাদের দেশের নারীশ্রমিকরা একটা সময় দেদারসে সৌদিআরবে গিয়ে এখন দেশে ফেরার জন্য কান্নাকাটি করছে। কারণ, এদের বলা হয়েছিলো: তাদের ‘গৃহপরিচারিকা’ হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হবে—আসলে, তা নয়—সৌদিআরবে নিয়ে এদের এখন জোরপূর্বক ‘যৌনদাসী’ বানানো হচ্ছে। এদের অমানুষিকতায় অনেক নারী লাঞ্ছনারশিকার হয়ে এখন দেশে ফিরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই তো সৌদিরাজপরিবারের ইসলাম। আর তাদের ধর্মবোধ। এই নরপশুরা এখনও আমাদের দেশের নারীশ্রমিকদের ‘গৃহপরিচারিকা’র কথা বলে তাদের সরাসরি ‘যৌনদাসী’ বানাচ্ছে। আর আমাদের দেশের বিদেশমন্ত্রী নাকে তেল দিয়ে এখনও বুঝি ঘুমিয়ে রয়েছে!
সৌদিসরকারের এই লাম্পট্য আগেভাগে আঁচ করতে পেরে এশিয়ার অন্য মুসলিম-দেশগুলো তাদের ডাকে তেমন একটা সাড়া দেয়নি। আর যে দুই-একটি দেশ সাড়া দিয়েছিলো তারা অতিদ্রুত তাদের ভুল বুঝে এই শয়তানদের লাম্পট্যের খপ্পর থেকে একদৌড়ে বেরিয়ে এসেছে।

সম্প্রতি সৌদিআরবের রাজপরিবারের প্রভাবশালীসদস্য ও মক্কা-পুলিশের প্রধান পরিচালক মেজর জেনারেল নামধারী এক-কুলাঙ্গার আসাফ-আল-কোরাইশী দম্ভভরে ঘোষণা করেছে: সৌদিপুরুষদের বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, মিয়ানমার প্রভৃতি দেশের ‘প্রবাসী-মুসলিম-নারীদের’ বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ‘মক্কা-ডেইলি’ নামক একটি পত্রিকা এই খবরটি বিশ্ববাসীর জন্য নাজিল করেছে! সৌদিআরবের রাজপরিবার মনে করে: তারা যা বলবে তা-ই ইসলামধর্ম! তারা একেকজন এখন এমনই উন্নতজাতের শয়তান।
এতে সৌদিসরকারের লাম্পট্য, বেআদবি, ধৃষ্টতা, পশুত্ব, ব্যভিচারীমানসিকতা ও যাবতীয় শয়তানীর বহিঃপ্রকাশই ঘটেছে। কেননা, সৌদিসরকারের মতে: বিভিন্ন দেশের প্রবাসী-মুসলিম-নারীদের সঙ্গে সৌদিপুরুষরা অবাধে যৌনকর্মসহ ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ব্যভিচার ইত্যাদি অপকর্ম করতে পারবে। কিন্তু তাদের চেয়েও ভালোমানের মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও ‘প্রবাসী-মুসলিম-নারীদে’র বিবাহ করা যাবে না। এটি ইসলামীশরীয়তের কোথায় লেখা আছে? কোথাও লেখা নাই। আর এমনতর ‘জারজ-ফতোয়া’ আবিষ্কার করেছে সৌদিরাজপরিবারের শীর্ষস্থানীয় শয়তান-লম্পটগণ। এরা সবসময় অর্থের জোরে বিবাহবহির্ভূত অবাধযৌনাচারে বিশ্বাসী। আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে: ১৯৭১ সালে, পাকিস্তান-কর্তৃক অসহায় বাঙালি-হিন্দু-মুসলিম-নারীদের অবাধে ধর্ষণের-গণধর্ষণের পিছনেও এই শয়তানদের সায়, সমর্থন ও মদদ ছিল। এরা এখনও সেই অপকর্মটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেদের স্বার্থে ‘শয়তানী’র পক্ষে এভাবে জোরগলায় ফতোয়াবাজি করছে।
একটা বিষয় চিন্তা করলে সহজেই অনুমেয় হয় যে, এরা প্রবাসী-মুসলিম-নারীদের সঙ্গে অবাধে যৌনকর্ম করার জন্যই তাদের সৌদিআরবে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। তারা অবাধে রাত-দিন ব্যভিচার করতে পারবে কিন্তু বিয়ে করতে পারবে না! একবার ভেবে দেখুন তো, কতবড় শয়তান আর লম্পট হলে এমন জঘন্য চিন্তা কারও মাথায় আসতে পারে।

গত কয়েক শ’ বছর যাবৎ সৌদিআরবের জালিমশাহী-রাজপরিবার নিজেদের স্বার্থে প্রতিনিয়ত ইসলামধর্মের অপব্যাখ্যা, ভুলব্যাখ্যা, মনগড়াব্যাখ্যা, রাজপরিবারকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে অপব্যাখ্যা, বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের অপরাধের শাস্তিপ্রদানের নামে পক্ষপাতিত্বমূলক অবিচারের পক্ষে অপব্যাখ্যা ইত্যাদি করা সহ যাবতীয় শয়তানী-দুষ্কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। আর তাদের এই সকল অপকর্মের মূলহোতা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীঅপশক্তি এবং ওআইসিভুক্ত দেশসমূহ (মুসলিম দেশগুলোর শাসক ও নামধারী মুসলমানগণ)। এরা জেনেশুনে-দেখেশুনে সৌদিরাজপরিবারের মনগড়া, আবোলতাবোল, আলতুফালতু, উদ্ভট, কাল্পনিক ও শয়তানী কথাবার্তাকে এখনও ধর্মজ্ঞান করছে। এই আধুনিকযুগে এদের মধ্যে সামান্যতম বোধশক্তিও নাই। নইলে, সৌদিআরবের পশুসরকারকে কেউ জেনেশুনে-বুঝেশুনে কখনও সমর্থন করতে পারে? আসলে, এদের বিবেক বলতে কিছু নাই।

পাকিস্তানীদের মতো সবসময় ইসলামের জন্য মায়াকান্নাপ্রদর্শন করা সৌদিআরবের রাজসরকারের একটি অভিনব ধর্মব্যবসা মাত্র। এদের মধ্যে ইসলামের লেশমাত্র নাই। তাই, সৌদিআরবের রাজপরিবার তথা রাজসরকার ইসলামধর্মকে পুঁজি করে সমানে নিজেদের ফায়দা লুটে নিচ্ছে। আর এখন নিজেদের দেশে বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে ‘গৃহপরিচারিকা’সংগ্রহের নামে নিজেদের জন্য অবাধে যৌনকর্মীসংগ্রহের কাজে ব্যস্ত।

মানুষ এদের অপকর্ম দেখে ইসলাম থেকে আরও দূরে সরে যেতে পারে। এরা ইসলামের নামে আজ সমস্ত পাপকে নিজেদের জন্য হালাল করে হাসিমুখে দিনযাপন করছে! এর ফলে তারা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইসলামধর্ম। এদের স্বার্থের ভোগবিলাসের জীবনযাপন যে কখনও ইসলাম নয়—তা এখন প্রতিটি বিবেকবান মানুষই খুব সহজে উপলব্ধি করতে পারে। কারও অতিশয় পাপ প্রকৃতি কখনও বেশিদিন সহ্য করে না। আর প্রকৃতির একটা প্রতিশোধ আছে। তাই, এদের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ইসলামের নামে ইসলামধর্মের বারোটা বাজানোর জন্য এখন সৌদিআরবের রাজসরকার একাই যথেষ্ট। আর এব্যাপারে তাদের সহযোগী পাকিস্তান তো রয়েছেই।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২৯/১২/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 16 = 20