ইসরাইলি অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে ওবামা প্রশাসনের অবস্থান ও সু-নীতির বিজয়

গত শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে “অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ইসরাইলের অব্যাহত বসতি স্থাপনের নিন্দা করে” যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র তথা ওবামা প্রশাসন ভেটো প্রদান না করে সে সততার পরিচয় দিয়েছেন তা সত্যি প্রশংসনীয় এবং এটা দিয়ে তারা প্রমাণ করেছেন ওবামা প্রশাসন সত্যপন্থী।

১৯১৭ সালের ২রা নভেম্বর বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বালফোর ঘোষণার মাধ্যমে ইহুদীদের ইসরাইল সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি দেন এবং তারাই ফলশ্রুতিতে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে বৃটিশ অধিকৃত অঞ্চলে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয়। যদি ও ঐ বৃটিশ অধিকৃত অঞ্চলের অনেক মোল্লা তখন ইসরাইল সৃষ্টি বন্ধ করার জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। শেষ পর্যন্ত সেই রক্তক্ষয়ী বিরোধীতা উপেক্ষা করে বৃটিশ প্রতিশ্রুত বৃটিশ অধিকৃত অঞ্চলের ৫৫% ভূখণ্ড নিয়ে স্বাধীন ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয়।তারপর অবশ্য অনেক আরব রাষ্ট্র ইসরাইল কে অস্বীকার করে ইসরাইল দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়, উপরন্তু নিজেদের ভূমি হারায়।মিশর অবশ্য ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইলের কাছ থেকে তাদের ভূ-ভাগ ফেরত নেয়।

সেই যুদ্ধকালীন সময়ে ইসরাইল ফিলিস্তিন এর কিছু অংশ দখল করে।এই দখনকৃত ভূ-ভাগ ইসরাইল যদি শান্তি চুক্তি স্থাপনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তো ভাল কথা।কিন্তু ইসরাইলিদের মনে রাখা উচিত এই অধিকৃত অঞ্চল তাদের নয়, এটা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড।অধিকৃত অঞ্চলে বসতি স্থাপণ করে যদি ইসরাইল ঐ অঞ্চল দখলের চেষ্টা করে তা সম্পূর্ণ অবৈধ ও অন্যায্য ও অন্যায় –এই অন্যায় কর্মের তীব্র প্রতিবাদ জানাই ওবামা প্রশাসনের মতই।

বালফোর ঘোষিত ৫৫% জমির এক ইঞ্চি জমি ও যেমন ইসরাইলিদের ছাড়া উচিত নয় তেমনি ঐ ৫৫% জমির এক ইঞ্চি বেশি ও তাদের নেয়া উচিৎ নয়।ইসরাইলিদের তো আর বেশি ভাল বোঝা উচিৎ নিজের ভূ-ভাগ হারানোর ব্যথা, কারণ তারাই এই অন্যায়ের সবচাইতে বড় ভুক্তভোগী। আশা করি ইসরাইলিরা নিজেদের দিয়ে অন্যের ব্যথা উপলব্ধি করতে পারবে এবং এই অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকবে এবং তাদের সরকারকে ও এই অন্যায় থেকে বিরত রাখবে।

শুধু ফিলিস্তিন কেন, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের অবৈধ আধিপত্য, রাশিয়ার ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়া দখল ও জাপানের কুড়িল দ্বীপসহ সকল অবৈধ দখলের প্রতিবাদ জানাই।

আশা করি সকল রাষ্ট্রই অন্যের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই ভূমি দখলের নষ্ট খেলা থেকে সরে এসে শান্তির পথে হাটবে। সর্বোপরি সাধুবাদ জানাই ওবামা প্রশাসন কে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের এই শক্তিশালী অবস্থানের জন্য।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

55 + = 57