জননী ও জন্মভূমি একই সুতায় বাঁধা।

ছোট বেলায় পড়া একটি লাইন খুব মনে পড়ে। জননী ও জন্মভূমি স্বর্গের থেকেও মুল্যবান। একজন মা যেমন পুত পবিত্র ও জীবনের শ্রেষ্ঠ ধন তথাপি জন্মভূমি তার থেকেও অধিক মূল্যবান। একটি শিশু মাটিতে ভূমিষ্ঠ হয়েই যে আলো বাতাসে তার বেড়ে অথা সেটা আমাদের মাতৃভূমি।মা তার সন্তানের জন্য জীবনের যে কোন প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হতে পারে। শুধু তাই নয় মা জীবনের অনেক চরম খারাপ মুহূর্তকে হাসি মুখে বরণ করে নিতে পারে শুধুমাত্র তার নাড়ি ছেড়া ধন তার নয়নের মনি তার প্রিয় সন্তানের জন্য। তাই মায়ের তুলনা তুলনা হয় না। মা যেমন তার জীবনের সব কিছু দিয়ে তিলেতিলে গড়ে তলেন তার সন্তানকে , এখানে যেমন মায়ের সার্থকতা আছে ঠিক তেমনি সন্তান হিসাবে আমাদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। সেই দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হলে সন্তানের সার্থকতা নেই। তাই প্রতিটি মানুষের কাছে মা শব্দ একন একটি প্রিয় শব্দ এমন একটি প্রিয় বস্তু যা একটি ছাড়া দ্বিতীয়টি নেই।

মা ও মাতৃভূমি একই সুতায় বাঁধা। মা যেমন তার সন্তানকে মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার জন্য জীবন দিয়ে দিতেও পিছু পা হন না তেমনি মানুষ হিসাবে নিজেকে বিকাশিত করতে মাতৃভূমি মায়ের থেকে অনেক বেশি কাজ করে থাকে।তাই আমাদের মাত্রিভুমির প্রতিও দায়িত্ব ও কর্তব্য কম নেই। আমরা যে মাটিতে সেই ছোট থেকে আস্তে আস্তে বড় হয়ে ওঠা। যে দেশের বাতাসে নিঃশ্বাস ছেড়ে দিয়ে গ্রহন করি প্রশান্তি, যে দেশের নদী নালা আমার জীবনের চলার পথের প্রতিটি ক্ষেত্র পরিণত করে অবারিত শিখিয়েছে মহৎ সে মাম্র প্রিয় মাতৃভূমি, আমার জন্মভূমি।একজন মানুষ হিসাবে যতটুকু শ্রদ্ধা যতটুকু ভালাবাসা দিতে আপন করে নিতে হয় আমাদের মাকে তার অধিক ভালোবাসা তার অধিক শ্রদ্ধা দিয়ে আপন করতে হবে আমাদের দেশকে। তানাহলে মানুষ হিসাবে পরিপূর্ণতা আমাদের কখনও আসবেনা।
অনেক কঠিন ও কষ্ট হলেও সত্য এই যে আমরা আমাদের মায়ের জায়গাতে এখন মাতৃভূমিকে বসাতে পারি নি। আমরা আমাদীর মাকে যেমন ভাবে ভালবাসতে পারি ঠিক তেমন করে আমাদের জন্মভুমিকে ভালবাসতে পারি না।আর দেশকে ভালবাসতে পারি না বলেই আমরা প্রতিনিয়ত ধেশকে ঠেলে দিচ্ছি অন্ধকার থেকে আরও অধিক অন্ধকারে। আমরা নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছি আমরা বধির হয়ে যাচ্ছি আমরা হয়ে যাচ্ছি ধ্বংস। কিন্তু এখনও আমাদের ভাবনার জগত তৈরি হোল না, তৈরি হল না ভালোবাসার ও শ্রদ্ধা বোধের জগত।আমরা যতদিন আমাদের প্রিয় জন্মভুমিকে ভালবাসতে না পারবো তত দিন আমাদের এই অন্ধকার দূর হবে না, দূর হবেনা অশান্তির প্রগরতা।

আমরা এমন একটি দেশে বাস করি যে দেশ প্রতিষ্ঠা হয়ে অনেক ত্যাগ, অনেক রক্ত অনেক সম্ভ্রমের বিনিময়ে। আমরা এমন একটি জাতি যারা নিজের মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে নিজের বুকের তাজা রক্ত।জাতি হিসাবে আমাদের পুরনো অনেক ঐতিহ্য রয়েছে যে ঐতিহ্য পৃথিবীর অন্য কোন দেশের অন্য কোন জাতির নেই। এই দিক দিয়ে বলতে গেলে আমরা সকল দেশের রাজা।কিন্তু সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন আমাদের মুক্তি কামী মানুষের মত করে দেশকে ভালবাসতে পারি না, পারি তাদের দেখানো স্বপ্নকে বুকে লালন আকরে তিলতিল করে গড়ে তুলতে সাধের সোনার বাংলা। আমরা যখন দেখি যারা এই দেশকে বিদেশী শাসক শ্রেণীর কাজে বন্ধী করে রাখতে চেয়েছিল তারাই দেশের উঁচু তালাতে থেকে আবার চেষ্টা করে দেশকে অধজারে তলিয়ে দিতে। যখন যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির জন্য যারা দেশ জেগে উঠেছে তখন নীল নকশা নিয়ে ব্যাস্ত কিছু মহল। আমরা আমাদের স্বাধীন কামী মুক্তিযোদ্ধার সাধের সোনার বাংলা করতে পারি নি। পারি নি তাদের উপর ঘটে যাওয়া অত্যাচারের বিচার করতে। এই দুঃখে যারা দেশ আজ নিমজ্জিত।

আমাদের এই দেশের তরুনেরা দেশের চরম মুহূর্তে ঘরে বসে অলস সময় কাটায় নি তারা সব সময় দেশের পক্ষে, সত্যর পক্ষে অপ্রতিরদ্ধ কণ্ঠ স্বর। যুদ্ধাপরাধীর বিচারের নামে যে প্রহসন তৈরি হয়েছিল তার বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ জানিয়েছিল আমাদের তরুন সমাজ। কিন্তু এই তরুণ সমাজের তারুণ্যকে ভয় করে কিছু মহল বিভ্রান্ত মূলক কথা ছড়িয়ে দিতে শুরু করলো, তারা বলা শুরু করল যুদ্ধাপরাধীরই ফাঁসির দাবী অন্যায় দাবী।এই দাবী এদেশের মানুষের দাবী নয়।এতা বিপদ্গামি কিছু তরুণ নাস্তিকের দাবী। শুরু হয় বিভিন্ন মহলের নানা নাটক। এই নাটক কে কেন্দ্র করে ধর্মের রক্ষার জন্য হেফাজত নামে এক নব্য দিকপাল জন্ম হয়। তারা বলা শুরু করলো এই দেশের উপর আল্লার গজব নাযিল হয়েছে।আর এর দায় নাস্তিকের। তার ধর্মের হেফাজতের জন্য সংঘবদ্ধ হল। কিন্তু যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে হেফাহতের সৃষ্টি কিছুদিনের মধ্য সেটা পরিবর্তন হয়ে গেল। যদিও বলে আসছে এটা একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান কিন্তু তাদের কার্যকলাপ দেখে ময়ে হয় এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল।

আমরা প্রজন্ম চত্বরের কার্যকলাপ দেখেছি, আমরা হেফাজতের কার্যকলাপ দেখেছি। শুধু আমরা নয় দেখেছে সমগ্র দেশ, সমগ্র জাতি। প্রজন্ম চত্বর তৈরি হবার পর থেকে তাদের দ্বারা কোন আগুন জ্বলেনি কোথাও, ভাঙ্গে নি কোন দোকান, পুড়তে হয়নি গাড়ির চালক সহ যাত্রী। সংযমের সাথে যে কোন আন্দোলন করা যায় আমাদের দেশে এতার উদাহরন হিসাবে থাকতেই পারে মানুষের হৃদয়ে।
এবার যদি হেফাজতের কথা বলি তাহলে চোখ বন্ধ করে বলা যাবে ধর্মের নামে হেফাজত যা করছে সেতাকে ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই না। কোন ধর্ম মানুষের যান মালের ক্ষতি করাকে সমর্থন করে আমার জানা নেই। গত কাল হেফাজত রাজধানীর বুকে যেটা রচনা করলো সেটা কে কালরাত হিসাবে অনেক দিন মনে রাখবে জাতি।

আমরা তখনই আমাদের সোনার বাংলা রচনা করতে পারবো যখন আমরা যে যার জায়গা থেকে আমাদের সবটুকু দিয়ে দেশকে ভালবাসতে পারবো। তাহলেই আমাদের দেশ তৈরি হবে লাখ শহীদের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “জননী ও জন্মভূমি একই সুতায় বাঁধা।

  1. ভালোই লিখেছেন। আপনাদের
    ভালোই লিখেছেন। আপনাদের প্রতিবাদী লেখনীই পারবে একদিন প্রিয় মাতৃভুমিকে মায়ের মত সম্মান করতে সকলকে শিক্ষা দিতে।

  2. আমরা প্রজন্ম চত্বরের

    আমরা প্রজন্ম চত্বরের কার্যকলাপ দেখেছি, আমরা হেফাজতের কার্যকলাপ দেখেছি। শুধু আমরা নয় দেখেছে সমগ্র দেশ, সমগ্র জাতি। প্রজন্ম চত্বর তৈরি হবার পর থেকে তাদের দ্বারা কোন আগুন জ্বলেনি কোথাও, ভাঙ্গে নি কোন দোকান, পুড়তে হয়নি গাড়ির চালক সহ যাত্রী। সংযমের সাথে যে কোন আন্দোলন করা যায় আমাদের দেশে এতার উদাহরন হিসাবে থাকতেই পারে মানুষের হৃদয়ে।

    গণজাগরণের সফলতা এখানেই…..

  3. আমরা তখনই আমাদের সোনার বাংলা
    আমরা তখনই আমাদের সোনার বাংলা রচনা করতে পারবো যখন আমরা যে যার জায়গা থেকে আমাদের সবটুকু দিয়ে দেশকে ভালবাসতে পারবো
    :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

  4. চমৎকার লিখেছেন ভাই। চেতনাই
    চমৎকার লিখেছেন ভাই। চেতনাই আমাদের শক্তি। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 89 = 95